ঢাকা ১০:২১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬, ১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সৌদি আরবের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দলের সৌজন্য সাক্ষাৎ শতাধিক নেতাকর্মী নিয়ে আ.লীগ ছাড়লেন চেয়ারম্যানসহ ৯ ইউপি সদস্য ১৬ জুলাই ঘিরে গোপালগঞ্জে ৫ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন মালয়েশিয়ায় ইসরাইলি নাগরিক শনাক্ত হলে সঙ্গে সঙ্গেই বহিষ্কার আল্টিমেটাম দিয়ে শাহবাগ ছাড়লেন শিক্ষার্থীরা গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না করে সরকার জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করেছে: নাহিদ কোনোভাবেই উগ্রবাদকে প্রশ্রয় দেবে না সরকার:প্রধানমন্ত্রী অহংকারী মনোভাব বাদ দিয়ে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সরকারের বসা উচিত:নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ২৬ কার্যদিবসের বাজেট অধিবেশন সমাপ্ত, ১০ সরকারি বিল পাস এমপিরা পৃষ্ঠপোষক না হলে দুর্নীতি কানে ধরে বিদায় নেবে:সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা

শাপলা চত্বরের গণহত্যা আ.লীগের দেউলিয়াত্বের প্রমাণ: এহসান মাহবুব জোবায়ের

আকাশ জাতীয় ডেস্ক: 

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এডভোকেট এহসান মাহবুব জোবায়ের বলেছেন, ২০১৩ সালের ৫ মে শাপলা চত্বরে সংঘটিত ঘটনাকে আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক দেউলিয়াত্বের বহি:প্রকাশ।তিনি বলেন, এটি কেবল একটি সাধারণ ঘটনা ছিল না, বরং এটি ছিল একটি নিষ্ঠুর ও নির্দয় গণহত্যা। এই গণহত্যার মাধ্যমেই ফ্যাসিবাদের উত্থান চূড়ান্ত রূপ নিতে শুরু করেছিল।

মঙ্গলবার (৫ মে) রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের মাওলানা মোহাম্মদ আকরাম খাঁ হলে ৫ মে শাপলা চত্বর গণহত্যা দিবস উপলক্ষে সুশীল ফোরাম আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

এহসান মাহবুব জোবায়ের বলেন, হেফাজতে ইসলাম ছিল আলেম-ওলামাদের একটি অরাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম। তাদের ১৩ দফা দাবি আদায়ের শান্তিপূর্ণ ও নিয়মতান্ত্রিক কর্মসূচিকে তৎকালীন সরকার অত্যন্ত নিষ্ঠুরভাবে দমন করেছে।

তিনি অভিযোগ করে বলেন, আওয়ামী লীগের গত ১৬ বছরের শাসনামলে চারটি বড় ধরনের গণহত্যা সংগঠিত হয়েছে। ২০০৯ সালের পিলখানা হত্যাকাণ্ড, ২০১২ সালে আল্লামা সাঈদীর রায়ের পরবর্তী পরিস্থিতি, ২০১৩ সালের ৫ মে শাপলা চত্বর এবং সর্বশেষ ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার আন্দোলন।

তিনি বলেন, জুলাইয়ের আন্দোলনে শহীদদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত এই বাংলাদেশে ফ্যাসিবাদের আর কোনো স্থান নেই। ৫ আগস্টের পর বাংলাদেশ দ্বিতীয় স্বাধীনতা অর্জন করেছে এবং এদেশের সাধারণ মানুষ ও শ্রমজীবী মানুষই এই আন্দোলনের প্রকৃত ‘মাস্টারমাইন্ড’। কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তি এর কৃতিত্ব দাবি করতে পারে না।

জামায়াতের এই নেতা বলেন, ফ্যাসিবাদ রুখতে সংস্কারের প্রস্তাব হিসেবে ‘জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫’ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এটি কার্যকর করার জন্য জনগণের ম্যান্ডেট বা গণভোটের কোনো বিকল্প নেই। দেশের ৭০ শতাংশ মানুষ ইতোমধ্যে এই সংস্কারের পক্ষে রায় দিয়েছে। জুলাই বিপ্লবের শহীদদের সম্মান জানাতে জামায়াতে ইসলামী তাদের নির্ধারিত একটি সংরক্ষিত নারী আসনে শহীদ জাবেদ ইব্রাহিমের মা রোকেয়া বেগমকে মনোনয়ন দিয়েছে।

তিনি ভারত সরকারকে আহ্বান জানিয়ে বলেন, গণহত্যার দায়ে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের দ্রুত বাংলাদেশের হাতে তুলে দেওয়া উচিত, যাতে তাদের বিচার নিশ্চিত করা যায়।

তিনি সতর্ক করে বলেন, নির্বাচিত সরকারগুলো কীভাবে স্বৈরাচারী হয়ে ওঠে, তার ইতিহাস আমাদের জানা আছে। বর্তমান সরকারকেও সেই ভুল থেকে শিক্ষা নিতে হবে।

সভায় বক্তারা শাপলা চত্বরসহ সকল গণহত্যার নিরপেক্ষ তদন্ত ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।

এ সময় সুশীল ফোরামের সভাপতি মো. জাহিদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক ড. আল হাসান মোবারক, সহ-সভাপতি মো. ফজলুল করিম, সিনিয়র সহ-সভাপতি এস এম শহিদুল্লাহ প্রমুখ।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সৌদি আরবের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দলের সৌজন্য সাক্ষাৎ

শাপলা চত্বরের গণহত্যা আ.লীগের দেউলিয়াত্বের প্রমাণ: এহসান মাহবুব জোবায়ের

আপডেট সময় ১১:১০:১৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৫ মে ২০২৬

আকাশ জাতীয় ডেস্ক: 

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এডভোকেট এহসান মাহবুব জোবায়ের বলেছেন, ২০১৩ সালের ৫ মে শাপলা চত্বরে সংঘটিত ঘটনাকে আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক দেউলিয়াত্বের বহি:প্রকাশ।তিনি বলেন, এটি কেবল একটি সাধারণ ঘটনা ছিল না, বরং এটি ছিল একটি নিষ্ঠুর ও নির্দয় গণহত্যা। এই গণহত্যার মাধ্যমেই ফ্যাসিবাদের উত্থান চূড়ান্ত রূপ নিতে শুরু করেছিল।

মঙ্গলবার (৫ মে) রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের মাওলানা মোহাম্মদ আকরাম খাঁ হলে ৫ মে শাপলা চত্বর গণহত্যা দিবস উপলক্ষে সুশীল ফোরাম আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

এহসান মাহবুব জোবায়ের বলেন, হেফাজতে ইসলাম ছিল আলেম-ওলামাদের একটি অরাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম। তাদের ১৩ দফা দাবি আদায়ের শান্তিপূর্ণ ও নিয়মতান্ত্রিক কর্মসূচিকে তৎকালীন সরকার অত্যন্ত নিষ্ঠুরভাবে দমন করেছে।

তিনি অভিযোগ করে বলেন, আওয়ামী লীগের গত ১৬ বছরের শাসনামলে চারটি বড় ধরনের গণহত্যা সংগঠিত হয়েছে। ২০০৯ সালের পিলখানা হত্যাকাণ্ড, ২০১২ সালে আল্লামা সাঈদীর রায়ের পরবর্তী পরিস্থিতি, ২০১৩ সালের ৫ মে শাপলা চত্বর এবং সর্বশেষ ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার আন্দোলন।

তিনি বলেন, জুলাইয়ের আন্দোলনে শহীদদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত এই বাংলাদেশে ফ্যাসিবাদের আর কোনো স্থান নেই। ৫ আগস্টের পর বাংলাদেশ দ্বিতীয় স্বাধীনতা অর্জন করেছে এবং এদেশের সাধারণ মানুষ ও শ্রমজীবী মানুষই এই আন্দোলনের প্রকৃত ‘মাস্টারমাইন্ড’। কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তি এর কৃতিত্ব দাবি করতে পারে না।

জামায়াতের এই নেতা বলেন, ফ্যাসিবাদ রুখতে সংস্কারের প্রস্তাব হিসেবে ‘জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫’ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এটি কার্যকর করার জন্য জনগণের ম্যান্ডেট বা গণভোটের কোনো বিকল্প নেই। দেশের ৭০ শতাংশ মানুষ ইতোমধ্যে এই সংস্কারের পক্ষে রায় দিয়েছে। জুলাই বিপ্লবের শহীদদের সম্মান জানাতে জামায়াতে ইসলামী তাদের নির্ধারিত একটি সংরক্ষিত নারী আসনে শহীদ জাবেদ ইব্রাহিমের মা রোকেয়া বেগমকে মনোনয়ন দিয়েছে।

তিনি ভারত সরকারকে আহ্বান জানিয়ে বলেন, গণহত্যার দায়ে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের দ্রুত বাংলাদেশের হাতে তুলে দেওয়া উচিত, যাতে তাদের বিচার নিশ্চিত করা যায়।

তিনি সতর্ক করে বলেন, নির্বাচিত সরকারগুলো কীভাবে স্বৈরাচারী হয়ে ওঠে, তার ইতিহাস আমাদের জানা আছে। বর্তমান সরকারকেও সেই ভুল থেকে শিক্ষা নিতে হবে।

সভায় বক্তারা শাপলা চত্বরসহ সকল গণহত্যার নিরপেক্ষ তদন্ত ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।

এ সময় সুশীল ফোরামের সভাপতি মো. জাহিদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক ড. আল হাসান মোবারক, সহ-সভাপতি মো. ফজলুল করিম, সিনিয়র সহ-সভাপতি এস এম শহিদুল্লাহ প্রমুখ।