ঢাকা ০৬:১২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
উদ্ধার হলো সাবেক বিমান বাহিনী কর্মকর্তার মৃত অবস্থায় পাওয়া ব্যক্তি জাপানি বিনিয়োগের জন্য পাঁচ খাত চিহ্নিত করলেন প্রধানমন্ত্রী ড্যাবের বিরুদ্ধে: কার্যালয়ে ঢুকে আইইডিসিআরের পরিচালককে মারধরের দেশে হাম ও উপসর্গে আরও সাত শিশুর মৃত্যু পায়রা বন্দরে গমের সাইলো নির্মাণে রাশিয়াকে প্রস্তাব খাদ্যমন্ত্রীর প্রধানমন্ত্রীর পরিকল্পনা ভেস্তে দিতে ষড়যন্ত্র করছে গুপ্তরা: ডিএনসিসি প্রশাসক ডেঙ্গুতে একদিনে ১১ জনের মৃত্যু, শনাক্ত দুই হাজার ছাড়াল ক্রসফায়ার নিয়ে আইজিপির মন্তব্যে টিআইবি ও অধিকারের উদ্বেগ রূপপুরের জ্বালানি নিয়ে ঢাকায় পৌঁছাল রাশিয়ার কার্গো বিমান সরকার অনুমোদন দিলে ক্রসফায়ারও করবে পুলিশ: আইজিপি

শাপলা চত্বরের গণহত্যা আ.লীগের দেউলিয়াত্বের প্রমাণ: এহসান মাহবুব জোবায়ের

আকাশ জাতীয় ডেস্ক: 

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এডভোকেট এহসান মাহবুব জোবায়ের বলেছেন, ২০১৩ সালের ৫ মে শাপলা চত্বরে সংঘটিত ঘটনাকে আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক দেউলিয়াত্বের বহি:প্রকাশ।তিনি বলেন, এটি কেবল একটি সাধারণ ঘটনা ছিল না, বরং এটি ছিল একটি নিষ্ঠুর ও নির্দয় গণহত্যা। এই গণহত্যার মাধ্যমেই ফ্যাসিবাদের উত্থান চূড়ান্ত রূপ নিতে শুরু করেছিল।

মঙ্গলবার (৫ মে) রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের মাওলানা মোহাম্মদ আকরাম খাঁ হলে ৫ মে শাপলা চত্বর গণহত্যা দিবস উপলক্ষে সুশীল ফোরাম আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

এহসান মাহবুব জোবায়ের বলেন, হেফাজতে ইসলাম ছিল আলেম-ওলামাদের একটি অরাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম। তাদের ১৩ দফা দাবি আদায়ের শান্তিপূর্ণ ও নিয়মতান্ত্রিক কর্মসূচিকে তৎকালীন সরকার অত্যন্ত নিষ্ঠুরভাবে দমন করেছে।

তিনি অভিযোগ করে বলেন, আওয়ামী লীগের গত ১৬ বছরের শাসনামলে চারটি বড় ধরনের গণহত্যা সংগঠিত হয়েছে। ২০০৯ সালের পিলখানা হত্যাকাণ্ড, ২০১২ সালে আল্লামা সাঈদীর রায়ের পরবর্তী পরিস্থিতি, ২০১৩ সালের ৫ মে শাপলা চত্বর এবং সর্বশেষ ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার আন্দোলন।

তিনি বলেন, জুলাইয়ের আন্দোলনে শহীদদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত এই বাংলাদেশে ফ্যাসিবাদের আর কোনো স্থান নেই। ৫ আগস্টের পর বাংলাদেশ দ্বিতীয় স্বাধীনতা অর্জন করেছে এবং এদেশের সাধারণ মানুষ ও শ্রমজীবী মানুষই এই আন্দোলনের প্রকৃত ‘মাস্টারমাইন্ড’। কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তি এর কৃতিত্ব দাবি করতে পারে না।

জামায়াতের এই নেতা বলেন, ফ্যাসিবাদ রুখতে সংস্কারের প্রস্তাব হিসেবে ‘জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫’ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এটি কার্যকর করার জন্য জনগণের ম্যান্ডেট বা গণভোটের কোনো বিকল্প নেই। দেশের ৭০ শতাংশ মানুষ ইতোমধ্যে এই সংস্কারের পক্ষে রায় দিয়েছে। জুলাই বিপ্লবের শহীদদের সম্মান জানাতে জামায়াতে ইসলামী তাদের নির্ধারিত একটি সংরক্ষিত নারী আসনে শহীদ জাবেদ ইব্রাহিমের মা রোকেয়া বেগমকে মনোনয়ন দিয়েছে।

তিনি ভারত সরকারকে আহ্বান জানিয়ে বলেন, গণহত্যার দায়ে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের দ্রুত বাংলাদেশের হাতে তুলে দেওয়া উচিত, যাতে তাদের বিচার নিশ্চিত করা যায়।

তিনি সতর্ক করে বলেন, নির্বাচিত সরকারগুলো কীভাবে স্বৈরাচারী হয়ে ওঠে, তার ইতিহাস আমাদের জানা আছে। বর্তমান সরকারকেও সেই ভুল থেকে শিক্ষা নিতে হবে।

সভায় বক্তারা শাপলা চত্বরসহ সকল গণহত্যার নিরপেক্ষ তদন্ত ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।

এ সময় সুশীল ফোরামের সভাপতি মো. জাহিদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক ড. আল হাসান মোবারক, সহ-সভাপতি মো. ফজলুল করিম, সিনিয়র সহ-সভাপতি এস এম শহিদুল্লাহ প্রমুখ।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

ট্রাভেল এজেন্টদের জন্য ১০ শতাংশ ছাড় দিচ্ছে ইথিওপিয়ান এয়ারলাইন্স

শাপলা চত্বরের গণহত্যা আ.লীগের দেউলিয়াত্বের প্রমাণ: এহসান মাহবুব জোবায়ের

আপডেট সময় ১১:১০:১৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৫ মে ২০২৬

আকাশ জাতীয় ডেস্ক: 

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এডভোকেট এহসান মাহবুব জোবায়ের বলেছেন, ২০১৩ সালের ৫ মে শাপলা চত্বরে সংঘটিত ঘটনাকে আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক দেউলিয়াত্বের বহি:প্রকাশ।তিনি বলেন, এটি কেবল একটি সাধারণ ঘটনা ছিল না, বরং এটি ছিল একটি নিষ্ঠুর ও নির্দয় গণহত্যা। এই গণহত্যার মাধ্যমেই ফ্যাসিবাদের উত্থান চূড়ান্ত রূপ নিতে শুরু করেছিল।

মঙ্গলবার (৫ মে) রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের মাওলানা মোহাম্মদ আকরাম খাঁ হলে ৫ মে শাপলা চত্বর গণহত্যা দিবস উপলক্ষে সুশীল ফোরাম আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

এহসান মাহবুব জোবায়ের বলেন, হেফাজতে ইসলাম ছিল আলেম-ওলামাদের একটি অরাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম। তাদের ১৩ দফা দাবি আদায়ের শান্তিপূর্ণ ও নিয়মতান্ত্রিক কর্মসূচিকে তৎকালীন সরকার অত্যন্ত নিষ্ঠুরভাবে দমন করেছে।

তিনি অভিযোগ করে বলেন, আওয়ামী লীগের গত ১৬ বছরের শাসনামলে চারটি বড় ধরনের গণহত্যা সংগঠিত হয়েছে। ২০০৯ সালের পিলখানা হত্যাকাণ্ড, ২০১২ সালে আল্লামা সাঈদীর রায়ের পরবর্তী পরিস্থিতি, ২০১৩ সালের ৫ মে শাপলা চত্বর এবং সর্বশেষ ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার আন্দোলন।

তিনি বলেন, জুলাইয়ের আন্দোলনে শহীদদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত এই বাংলাদেশে ফ্যাসিবাদের আর কোনো স্থান নেই। ৫ আগস্টের পর বাংলাদেশ দ্বিতীয় স্বাধীনতা অর্জন করেছে এবং এদেশের সাধারণ মানুষ ও শ্রমজীবী মানুষই এই আন্দোলনের প্রকৃত ‘মাস্টারমাইন্ড’। কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তি এর কৃতিত্ব দাবি করতে পারে না।

জামায়াতের এই নেতা বলেন, ফ্যাসিবাদ রুখতে সংস্কারের প্রস্তাব হিসেবে ‘জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫’ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এটি কার্যকর করার জন্য জনগণের ম্যান্ডেট বা গণভোটের কোনো বিকল্প নেই। দেশের ৭০ শতাংশ মানুষ ইতোমধ্যে এই সংস্কারের পক্ষে রায় দিয়েছে। জুলাই বিপ্লবের শহীদদের সম্মান জানাতে জামায়াতে ইসলামী তাদের নির্ধারিত একটি সংরক্ষিত নারী আসনে শহীদ জাবেদ ইব্রাহিমের মা রোকেয়া বেগমকে মনোনয়ন দিয়েছে।

তিনি ভারত সরকারকে আহ্বান জানিয়ে বলেন, গণহত্যার দায়ে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের দ্রুত বাংলাদেশের হাতে তুলে দেওয়া উচিত, যাতে তাদের বিচার নিশ্চিত করা যায়।

তিনি সতর্ক করে বলেন, নির্বাচিত সরকারগুলো কীভাবে স্বৈরাচারী হয়ে ওঠে, তার ইতিহাস আমাদের জানা আছে। বর্তমান সরকারকেও সেই ভুল থেকে শিক্ষা নিতে হবে।

সভায় বক্তারা শাপলা চত্বরসহ সকল গণহত্যার নিরপেক্ষ তদন্ত ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।

এ সময় সুশীল ফোরামের সভাপতি মো. জাহিদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক ড. আল হাসান মোবারক, সহ-সভাপতি মো. ফজলুল করিম, সিনিয়র সহ-সভাপতি এস এম শহিদুল্লাহ প্রমুখ।