ঢাকা ০২:৫৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৮ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ নতুন দলের আত্মপ্রকাশ, নেতৃত্বে যারা ইরানের সামনে এখন কেবল দুই পথ—চুক্তি অথবা আত্মসমর্পণ: ট্রাম্প পাঁচ দফা দাবিতে সরকারি কর্মচারীদের অবস্থান কর্মসূচি সরকার দমনে ব্যস্ত, দ্রব্যমূল্য-গ্যাস নিয়ে মাথাব্যথা নেই: গোলাম পরওয়ার দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে আশা বাণিজ্যমন্ত্রীর সম্পত্তি দানের পরও আজীবন ভোগদখলের সুযোগ, মন্ত্রিসভায় খসড়া পাশ শেখ হাসিনা যেন রাজনৈতিক বক্তব্য দিতে না পারেন, ভারতীয় হাইকমিশনারকে হুমায়ুন কবির রাষ্ট্র পরিচালনায় ‘নতুন মাত্রা’ যোগ করেছেন তারেক রহমান: চীনা রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশে কারিগরি ও ক্রীড়া শিক্ষায় সহযোগিতার আগ্রহ অস্ট্রেলিয়ার

জলাবদ্ধতা নিরসন ও ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে ব্যাপক কর্মপরিকল্পনা হাতে নিয়েছে সরকার: সংসদে মির্জা ফখরুল

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, আসন্ন বর্ষা মৌসুমে রাজধানী ঢাকার দুই সিটি কর্পোরেশনে জলাবদ্ধতা নিরসন এবং ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়ার মতো মশাবাহিত রোগ নিয়ন্ত্রণে সরকার ব্যাপক কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। এসব পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে নগরবাসী ভোগান্তি থেকে মুক্তি পাবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

সোমবার জাতীয় সংসদের অধিবেশনে সংসদ সদস্য মো. আবুল কালামের এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে তিনি এই তথ্য জানান। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে এই প্রশ্নোত্তর পর্বটি টেবিলে উপস্থাপিত হয়।

সংসদকে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী জানান, ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন প্রাক-বর্ষা ও বর্ষার সময়ের জন্য আলাদাভাবে কিউলেক্স ও এডিস মশা নিয়ন্ত্রণের পদক্ষেপ নিয়েছে। এর মধ্যে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা শনাক্তকরণ, সার্ভেইল্যান্স সিস্টেম জোরদার এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধির কার্যক্রম অন্যতম। উত্তর সিটিতে সকালে লার্ভিসাইডিং এবং সন্ধ্যায় ফগিং করার পাশাপাশি বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের সঙ্গে যৌথভাবে খাল-বিল ও ড্রেন পরিষ্কার করা হচ্ছে। বিশেষ করে ছয় হাজার বিঘা কচুরিপানা পূর্ণ জলাশয় পরিষ্কারের কাজ চলমান রয়েছে।

তিনি জানান, এছাড়া ‘শনিবারের অঙ্গীকার, নিজ নিজ বাসা-বাড়ি করি পরিষ্কার’ স্লোগানকে সামনে রেখে নির্দিষ্ট ঝুঁকিপূর্ণ ওয়ার্ডগুলোতে পরিচ্ছন্নতা অভিযান এবং ‘অপারেশন ক্লিন হোম’ কর্মসূচি পরিচালনা করা হচ্ছে। বর্তমানে ব্যবহৃত রাসায়নিক কীটনাশকের পাশাপাশি অধিকতর কার্যকর জৈব কীটনাশক বিটিআই পরীক্ষামূলক প্রয়োগ শেষে এখন ক্রয়ের প্রক্রিয়াধীন রয়েছে এবং কীটনাশকের মান যাচাইয়ে পাঁচটি প্রতিষ্ঠান কাজ করছে।

অন্যদিকে, ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের কার্যক্রম প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, সেখানে প্রতি সপ্তাহে প্রতিটি অঞ্চলে স্থানীয় জনগণকে সম্পৃক্ত করে বিশেষ পরিচ্ছন্নতা অভিযান ও মশক নিধন কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে গঠিত মনিটরিং টিম ঝুঁকিপূর্ণ স্থান চিহ্নিত করে বিশেষ ক্রাশ প্রোগ্রাম পরিচালনা করছে। পাশাপাশি এডিস মশার প্রজননস্থল নিয়ন্ত্রণে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে জরিমানা ও সচেতনতা বৃদ্ধির কাজ চলছে। জনবহুল এলাকায় লিফলেট বিতরণ ও মাইকিং করার পাশাপাশি জলাবদ্ধতা নিরসনে সেগুনবাগিচা বক্স কালভার্ট, জিয়া সরণি ও কাজলা খাল পরিষ্কারের কাজ শুরু হয়েছে।

জলাবদ্ধতা দ্রুত নিরসনের জন্য দক্ষিণ সিটি এরইমধ্যে ছয়টি পোর্টেবল পাম্প ক্রয় করেছে বলেও জানান স্থানীয় সরকার মন্ত্রী। তিনি বলেন, বর্তমানে তিনটি আউটলেটের মাধ্যমে পানি নিষ্কাশিত হচ্ছে এবং নতুন আরও একটি আউটলেট নির্মাণের কাজ চলছে। এছাড়া, বিশ্ব ব্যাংকের অর্থায়নে গুলিস্তান থেকে সদরঘাট পর্যন্ত একটি বৃহৎ নর্দমা বা আউটলেট নির্মাণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের অংশ হিসেবে পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে সমীক্ষা চালিয়ে প্রয়োজনীয় সংখ্যক আউটলেট তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

এসব সমন্বিত পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা গেলে আসন্ন বর্ষায় জলাবদ্ধতা লাঘব এবং মশাবাহিত রোগ কার্যকরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে বলে মন্ত্রী জানান।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

প্রেক্ষাপট: দুই দিনের সফরে আগামীকাল ঠাকুরগাঁও যাচ্ছেন রাষ্ট্রপতি

জলাবদ্ধতা নিরসন ও ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে ব্যাপক কর্মপরিকল্পনা হাতে নিয়েছে সরকার: সংসদে মির্জা ফখরুল

আপডেট সময় ০৪:৩৩:৪৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৭ এপ্রিল ২০২৬

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, আসন্ন বর্ষা মৌসুমে রাজধানী ঢাকার দুই সিটি কর্পোরেশনে জলাবদ্ধতা নিরসন এবং ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়ার মতো মশাবাহিত রোগ নিয়ন্ত্রণে সরকার ব্যাপক কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। এসব পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে নগরবাসী ভোগান্তি থেকে মুক্তি পাবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

সোমবার জাতীয় সংসদের অধিবেশনে সংসদ সদস্য মো. আবুল কালামের এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে তিনি এই তথ্য জানান। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে এই প্রশ্নোত্তর পর্বটি টেবিলে উপস্থাপিত হয়।

সংসদকে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী জানান, ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন প্রাক-বর্ষা ও বর্ষার সময়ের জন্য আলাদাভাবে কিউলেক্স ও এডিস মশা নিয়ন্ত্রণের পদক্ষেপ নিয়েছে। এর মধ্যে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা শনাক্তকরণ, সার্ভেইল্যান্স সিস্টেম জোরদার এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধির কার্যক্রম অন্যতম। উত্তর সিটিতে সকালে লার্ভিসাইডিং এবং সন্ধ্যায় ফগিং করার পাশাপাশি বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের সঙ্গে যৌথভাবে খাল-বিল ও ড্রেন পরিষ্কার করা হচ্ছে। বিশেষ করে ছয় হাজার বিঘা কচুরিপানা পূর্ণ জলাশয় পরিষ্কারের কাজ চলমান রয়েছে।

তিনি জানান, এছাড়া ‘শনিবারের অঙ্গীকার, নিজ নিজ বাসা-বাড়ি করি পরিষ্কার’ স্লোগানকে সামনে রেখে নির্দিষ্ট ঝুঁকিপূর্ণ ওয়ার্ডগুলোতে পরিচ্ছন্নতা অভিযান এবং ‘অপারেশন ক্লিন হোম’ কর্মসূচি পরিচালনা করা হচ্ছে। বর্তমানে ব্যবহৃত রাসায়নিক কীটনাশকের পাশাপাশি অধিকতর কার্যকর জৈব কীটনাশক বিটিআই পরীক্ষামূলক প্রয়োগ শেষে এখন ক্রয়ের প্রক্রিয়াধীন রয়েছে এবং কীটনাশকের মান যাচাইয়ে পাঁচটি প্রতিষ্ঠান কাজ করছে।

অন্যদিকে, ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের কার্যক্রম প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, সেখানে প্রতি সপ্তাহে প্রতিটি অঞ্চলে স্থানীয় জনগণকে সম্পৃক্ত করে বিশেষ পরিচ্ছন্নতা অভিযান ও মশক নিধন কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে গঠিত মনিটরিং টিম ঝুঁকিপূর্ণ স্থান চিহ্নিত করে বিশেষ ক্রাশ প্রোগ্রাম পরিচালনা করছে। পাশাপাশি এডিস মশার প্রজননস্থল নিয়ন্ত্রণে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে জরিমানা ও সচেতনতা বৃদ্ধির কাজ চলছে। জনবহুল এলাকায় লিফলেট বিতরণ ও মাইকিং করার পাশাপাশি জলাবদ্ধতা নিরসনে সেগুনবাগিচা বক্স কালভার্ট, জিয়া সরণি ও কাজলা খাল পরিষ্কারের কাজ শুরু হয়েছে।

জলাবদ্ধতা দ্রুত নিরসনের জন্য দক্ষিণ সিটি এরইমধ্যে ছয়টি পোর্টেবল পাম্প ক্রয় করেছে বলেও জানান স্থানীয় সরকার মন্ত্রী। তিনি বলেন, বর্তমানে তিনটি আউটলেটের মাধ্যমে পানি নিষ্কাশিত হচ্ছে এবং নতুন আরও একটি আউটলেট নির্মাণের কাজ চলছে। এছাড়া, বিশ্ব ব্যাংকের অর্থায়নে গুলিস্তান থেকে সদরঘাট পর্যন্ত একটি বৃহৎ নর্দমা বা আউটলেট নির্মাণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের অংশ হিসেবে পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে সমীক্ষা চালিয়ে প্রয়োজনীয় সংখ্যক আউটলেট তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

এসব সমন্বিত পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা গেলে আসন্ন বর্ষায় জলাবদ্ধতা লাঘব এবং মশাবাহিত রোগ কার্যকরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে বলে মন্ত্রী জানান।