ঢাকা ১০:৩১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ১৮ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
প্রকাশ হলো এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফল উদ্ধার হলো সাবেক বিমান বাহিনী কর্মকর্তার মৃত অবস্থায় পাওয়া ব্যক্তি জাপানি বিনিয়োগের জন্য পাঁচ খাত চিহ্নিত করলেন প্রধানমন্ত্রী ড্যাবের বিরুদ্ধে: কার্যালয়ে ঢুকে আইইডিসিআরের পরিচালককে মারধরের দেশে হাম ও উপসর্গে আরও সাত শিশুর মৃত্যু পায়রা বন্দরে গমের সাইলো নির্মাণে রাশিয়াকে প্রস্তাব খাদ্যমন্ত্রীর প্রধানমন্ত্রীর পরিকল্পনা ভেস্তে দিতে ষড়যন্ত্র করছে গুপ্তরা: ডিএনসিসি প্রশাসক ডেঙ্গুতে একদিনে ১১ জনের মৃত্যু, শনাক্ত দুই হাজার ছাড়াল ক্রসফায়ার নিয়ে আইজিপির মন্তব্যে টিআইবি ও অধিকারের উদ্বেগ রূপপুরের জ্বালানি নিয়ে ঢাকায় পৌঁছাল রাশিয়ার কার্গো বিমান

সিইসি শপথ ভঙ্গ ও সংবিধান লঙ্ঘন করেছেন: সালাহউদ্দিন আহমদ

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশকে অন্তর্বর্তী সরকারের অন্তহীন প্রতারণার দলিল বলে আখ্যা দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেছেন, রাষ্ট্রপতির আদেশ জারির ক্ষমতাই ছিল না। অন্তর্বর্তী সরকারের আদেশ জারি অবৈধ ছিল।

মঙ্গলবার জাতীয় সংসদে গণভোটে অনুমোদিত ‘জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ’ অনুযায়ী সংবিধান সংস্কার পরিষদের অধিবেশন আহ্বানে বিরোধী দলের মূলতবি নোটিশের আলোচনায় এসব কথা বলেন সালাহউদ্দিন। তিনি বলেন, নোট অব ডিসেন্ট ছাড়া গণভোট ছিল প্রতারণা। বিএনপিই গণভোটের প্রস্তাব করেছিল। গণভোট হয়েছে জুলাই সনদের ওপর।

প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) সংবিধানের বাইরে গিয়ে ‘সংবিধান সংস্কার পরিষদ’-এর সদস্য হিসেবে শপথ নেওয়ার ফরম বিতরণ করে শপথ ভঙ্গ এবং সংবিধান লঙ্ঘন করেছেন বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সংবিধানের বিভিন্ন অনুচ্ছেদ ও তফশিল উদ্ধৃত করে গত বছরের জারি করা সংবিধান সংস্কার বাস্তবায়ন আদেশ-২০২৫ কে আইনীভাবে অসার আখ্যা দেন। তিনি বলেন, প্রধান নির্বাচন কমিশনার সংবিধান সংরক্ষণের জন্য ১৪৮ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী শপথ নিয়েছেন। কিন্তু তিনি কোন আইন বলে ‘সংবিধান সংস্কার পরিষদ’-এর সদস্য হিসেবে শপথ নেওয়ার ফরম জাতীয় সংসদ সচিবালয়ে পাঠালেন? এই ফরম দাখিল করার কোনো এখতিয়ার তার নেই। তিনি এটি করে শপথ ভঙ্গ ও সংবিধান লঙ্ঘন করেছেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, নির্বাচন কমিশন সংসদ সদস্যদের নির্বাচনের একটি ব্যালট দিয়েছিল। সেখানে সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হওয়ার জন্য কোনো আলাদা ব্যালট ছিল না। জনগণ সংসদ সদস্য হিসেবে আমাদের ম্যান্ডেট দিয়েছে, অস্তিত্বহীন কোনো পরিষদের সদস্য হিসেবে নয়।

বিগত সরকারের জারি করা আদেশটিকে শুরু থেকেই বাতিল আখ্যা দিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ১৯৭৩ সালের ৭ এপ্রিলের পর থেকে রাষ্ট্রপতির আদেশ জারির কোনো ক্ষমতা নেই। সংবিধানের চতুর্থ তফশিলের ১৭ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির সেই ক্ষমতা রহিত করা হয়েছে। সুতরাং যে আদেশের জন্মই অবৈধ, তার ভিত্তিতে কোনো অধিবেশন আহ্বান করা যায় না। এই আদেশটি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের একটি প্রতারণার দলিল। এটি না অধ্যাদেশ, না আইন। এটি সার্বভৌম পার্লামেন্টের অধিকার ক্ষুণ্ন করার একটি ব্যর্থ চেষ্টা বলে জানান তিনি।

গণভোটের মাধ্যমে প্রাপ্ত জনরায় প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, জনগণ জুলাই জাতীয় সনদের পক্ষে আছে কি না, তা জানার জন্য আমরাই প্রস্তাব দিয়েছিলাম। কিন্তু গণভোটের ব্যালটে যেভাবে প্রশ্ন সাজানো হয়েছে, তা জনগণকে বিভ্রান্ত করার শামিল। কুইনাইন ট্যাবলেট কলার ভেতরে ঢুকিয়ে খাওয়ানোর মতো করে তিনটি ভালো প্রশ্নের সঙ্গে একটি বিতর্কিত আদেশ চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে।

সালাহউদ্দিন প্রশ্ন তোলেন, সংবিধানে ৯৩ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি অধ্যাদেশ জারি করতে পারলেও সংবিধানের কোনো বিধান রহিত বা পরিবর্তন করার ক্ষমতা তার নেই। অথচ এই আদেশের মাধ্যমে পরবর্তী সংসদের (বর্তমান সংসদ) সার্বভৌম এখতিয়ার খর্ব করার চেষ্টা করা হয়েছে, যা পৃথিবীর কোথাও নেই।

বিএনপি সংস্কার চায় না—এমন প্রচারণাকে বিভ্রান্তিকর উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে যে, বিএনপি জুলাই জাতীয় সনদ মানে না। স্বাক্ষরিত জুলাই জাতীয় সনদের প্রতিটি অক্ষর ও বাক্য আমরা ধারণ করি। তবে আমরা সেই সংস্কার চাই, যা সংবিধানসম্মত এবং জনগণের সার্বভৌমত্ব অক্ষুণ্ণ রাখে।

সংবিধান সংশোধনে বিশেষ কমিটি গঠনে প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে প্রস্তাব করেন সালাহউদ্দিন। তিনি বলেন, সব দল এবং স্বতন্ত্র সদস্যদের নিয়ে কমিটি হবে। জুলাই জাতীয় সনদের ৪৭টি বিষয়ে যে ঐকমত্য হয়েছে, তা আগামীতে সংসদে বিস্তারিত আলোচনা করা হবে এবং জনগণের ম্যানডেট অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

দূষিত শহরের তালিকায় আজ পঞ্চম অবস্থানে ঢাকা

সিইসি শপথ ভঙ্গ ও সংবিধান লঙ্ঘন করেছেন: সালাহউদ্দিন আহমদ

আপডেট সময় ১১:২৮:৪১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ ২০২৬

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশকে অন্তর্বর্তী সরকারের অন্তহীন প্রতারণার দলিল বলে আখ্যা দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেছেন, রাষ্ট্রপতির আদেশ জারির ক্ষমতাই ছিল না। অন্তর্বর্তী সরকারের আদেশ জারি অবৈধ ছিল।

মঙ্গলবার জাতীয় সংসদে গণভোটে অনুমোদিত ‘জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ’ অনুযায়ী সংবিধান সংস্কার পরিষদের অধিবেশন আহ্বানে বিরোধী দলের মূলতবি নোটিশের আলোচনায় এসব কথা বলেন সালাহউদ্দিন। তিনি বলেন, নোট অব ডিসেন্ট ছাড়া গণভোট ছিল প্রতারণা। বিএনপিই গণভোটের প্রস্তাব করেছিল। গণভোট হয়েছে জুলাই সনদের ওপর।

প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) সংবিধানের বাইরে গিয়ে ‘সংবিধান সংস্কার পরিষদ’-এর সদস্য হিসেবে শপথ নেওয়ার ফরম বিতরণ করে শপথ ভঙ্গ এবং সংবিধান লঙ্ঘন করেছেন বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সংবিধানের বিভিন্ন অনুচ্ছেদ ও তফশিল উদ্ধৃত করে গত বছরের জারি করা সংবিধান সংস্কার বাস্তবায়ন আদেশ-২০২৫ কে আইনীভাবে অসার আখ্যা দেন। তিনি বলেন, প্রধান নির্বাচন কমিশনার সংবিধান সংরক্ষণের জন্য ১৪৮ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী শপথ নিয়েছেন। কিন্তু তিনি কোন আইন বলে ‘সংবিধান সংস্কার পরিষদ’-এর সদস্য হিসেবে শপথ নেওয়ার ফরম জাতীয় সংসদ সচিবালয়ে পাঠালেন? এই ফরম দাখিল করার কোনো এখতিয়ার তার নেই। তিনি এটি করে শপথ ভঙ্গ ও সংবিধান লঙ্ঘন করেছেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, নির্বাচন কমিশন সংসদ সদস্যদের নির্বাচনের একটি ব্যালট দিয়েছিল। সেখানে সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হওয়ার জন্য কোনো আলাদা ব্যালট ছিল না। জনগণ সংসদ সদস্য হিসেবে আমাদের ম্যান্ডেট দিয়েছে, অস্তিত্বহীন কোনো পরিষদের সদস্য হিসেবে নয়।

বিগত সরকারের জারি করা আদেশটিকে শুরু থেকেই বাতিল আখ্যা দিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ১৯৭৩ সালের ৭ এপ্রিলের পর থেকে রাষ্ট্রপতির আদেশ জারির কোনো ক্ষমতা নেই। সংবিধানের চতুর্থ তফশিলের ১৭ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির সেই ক্ষমতা রহিত করা হয়েছে। সুতরাং যে আদেশের জন্মই অবৈধ, তার ভিত্তিতে কোনো অধিবেশন আহ্বান করা যায় না। এই আদেশটি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের একটি প্রতারণার দলিল। এটি না অধ্যাদেশ, না আইন। এটি সার্বভৌম পার্লামেন্টের অধিকার ক্ষুণ্ন করার একটি ব্যর্থ চেষ্টা বলে জানান তিনি।

গণভোটের মাধ্যমে প্রাপ্ত জনরায় প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, জনগণ জুলাই জাতীয় সনদের পক্ষে আছে কি না, তা জানার জন্য আমরাই প্রস্তাব দিয়েছিলাম। কিন্তু গণভোটের ব্যালটে যেভাবে প্রশ্ন সাজানো হয়েছে, তা জনগণকে বিভ্রান্ত করার শামিল। কুইনাইন ট্যাবলেট কলার ভেতরে ঢুকিয়ে খাওয়ানোর মতো করে তিনটি ভালো প্রশ্নের সঙ্গে একটি বিতর্কিত আদেশ চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে।

সালাহউদ্দিন প্রশ্ন তোলেন, সংবিধানে ৯৩ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি অধ্যাদেশ জারি করতে পারলেও সংবিধানের কোনো বিধান রহিত বা পরিবর্তন করার ক্ষমতা তার নেই। অথচ এই আদেশের মাধ্যমে পরবর্তী সংসদের (বর্তমান সংসদ) সার্বভৌম এখতিয়ার খর্ব করার চেষ্টা করা হয়েছে, যা পৃথিবীর কোথাও নেই।

বিএনপি সংস্কার চায় না—এমন প্রচারণাকে বিভ্রান্তিকর উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে যে, বিএনপি জুলাই জাতীয় সনদ মানে না। স্বাক্ষরিত জুলাই জাতীয় সনদের প্রতিটি অক্ষর ও বাক্য আমরা ধারণ করি। তবে আমরা সেই সংস্কার চাই, যা সংবিধানসম্মত এবং জনগণের সার্বভৌমত্ব অক্ষুণ্ণ রাখে।

সংবিধান সংশোধনে বিশেষ কমিটি গঠনে প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে প্রস্তাব করেন সালাহউদ্দিন। তিনি বলেন, সব দল এবং স্বতন্ত্র সদস্যদের নিয়ে কমিটি হবে। জুলাই জাতীয় সনদের ৪৭টি বিষয়ে যে ঐকমত্য হয়েছে, তা আগামীতে সংসদে বিস্তারিত আলোচনা করা হবে এবং জনগণের ম্যানডেট অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।