আকাশ বিনোদন ডেস্ক :
রায়হান রাফী। বর্তমান সময়ের তারকা নির্মাতা। ঈদে মুক্তি পাচ্ছে তাঁর নির্মিত নতুন সিনেমা প্রেশার কুকার। মূলত চার নারীর গল্প নিয়ে এই সিনেমা। শুধু নির্মাণ না, এই সিনেমার প্রযোজকও তিনি। সবাই যখন নায়কনির্ভর সিনেমা নির্মাণ করে এগিয়ে চলেছেন; ঠিক সে সময়ে নায়িকানির্ভর সিনেমা বানিয়ে, তা আবার ঈদের–ঘোষণা দিয়ে কী বার্তা দিলেন তিনি। সিনেমাটি কেন বানালেন, কী নতুনতত্ব থাকছে এবং প্রাসঙ্গিক নানা বিষয় নিয়ে তাঁর সঙ্গে কথা বলেছেন অনিন্দ্য মামুন।
শুরুতেই জানতে চাই, সিনেমাটির নাম ‘প্রেশার কুকার’ কেন?
সিনেমার গল্পের সঙ্গে এই নামটিই সবচেয়ে যথাযথ মনে হয়েছে। একটু বিস্তারিত বললে বলব, নামটি প্রতীকীভাবে দেওয়া। এই ঢাকা শহর আসলে মেয়েদের জন্য অনেকটা প্রেশার কুকারের মতো। প্রতিনিয়ত নানা চাপের মধ্যে দিয়ে তাদের চলতে হয়। সেটিই বোঝানোর চেষ্টা করেছি। বাকিটা দর্শক সিনেমা দেখার পর বুঝতে পারবেন। আরেকটা মজার বিষয় আছে–‘পি’ বা ‘প’ বর্ণটি আমার জন্য লাকি। যেমন ‘পোড়ামন ২’, ‘পরাণ’–এই ধারাবাহিকতায় ‘প্রেশার কুকার’ নামটি রাখা।
সিনেমা হিট হওয়ার ক্ষেত্রে তাহলে ভাগ্যে আপনার বিশ্বাস আছে?
অবশ্যই। আমি ভাগ্যে প্রচণ্ড বিশ্বাসী। বিশেষ করে বাবা-মায়ের দোয়ায়। আজ আমি যে জায়গায় এসেছি, যে সাফল্য পেয়েছি–তার বড় অংশই বাবা-মায়ের দোয়ার কারণে। সঙ্গে অবশ্যই শুভাকাঙ্ক্ষীদের ভালোবাসা ও সমর্থন আছে।
সবাই যখন নায়কনির্ভর সিনেমা বানাচ্ছে, তখন আপনি নায়িকাকেন্দ্রিক গল্পে সিনেমা বানালেন কেন?
আমার কাছে নায়ক বা নায়িকানির্ভর বিষয়টা মুখ্য নয়, মুখ্য বিষয় গল্প। অনেকদিন ধরেই এমন একটি গল্প বলতে চেয়েছি। সবাই জানে, আমি তারেক মাসুদ স্যারকে আমার গুরু মনে করি। তাঁর ভাবনা ও আদর্শের সঙ্গে আমার অনেকটাই মিল আছে। আমি বলতে পারি, এতদিন যে সিনেমাগুলো বানিয়েছি, সেগুলো যেন এই ধরনের গল্প বলার পূর্বপ্রস্তুতি ছিল। ‘প্রেশার কুকার’ আসলে আমার গল্প, আমাদের সমাজের গল্প। আমি এমন গল্পই বলতে চাই। সেই ভাবনা থেকে এই সিনেমা বানানো।
তার মানে ট্রেন্ডে আর গা ভাসাবেন না?
আমি সবসময় নতুন কিছু করতে পছন্দ করি। লক্ষ্য করলে দেখবেন, আমি খুব একটা ট্রেন্ড অনুসরণ করিনি। ‘পোড়ামন ২’ এক ধরনের ছবি, এরপর ‘দহন’, ‘দামাল’, ‘পরান’–সবই আলাদা ধরনের গল্প। কোনো সিনেমা হিট হওয়ার পর আমি সেই একই ধাঁচে পরের সিনেমা বানাইনি। ‘পরাণ’ হিট করার পর ‘দামাল’ করেছি ভিন্ন গল্পে। এরপর ‘সুড়ঙ্গ’, তারপর ‘তাণ্ডব’–প্রতিটি সিনেমাই আলাদা। গল্পের ধরন যেমন আলাদা, উপস্থাপনাও আলাদা। এবার ‘প্রেশার কুকার’ বানিয়েছি, যেটি আগের সব গল্পের চেয়েও ভিন্ন। উপস্থাপনাতেও নতুনত্ব থাকবে।
‘প্রেশার কুকার’কে কি বাণিজ্যিক সিনেমা বলবেন?
নিশ্চয়ই। এটি শতভাগ বাণিজ্যিক সিনেমা। বরং বলতে পারেন, বাণিজ্যিক সিনেমার নতুন এক যাত্রা এই ছবি। আমরা অনেক সময় বাণিজ্যিক সিনেমা বলতে শুধু মারামারি বা গান বুঝি। বাণিজ্যিক সিনেমা মানে শুধু সেটিই নয়। সম্প্রতি আমি টানা দুটি অ্যাকশন সিনেমা করেছি। এখন একটা ট্রেন্ড চলছে–অনেকে সেই ট্রেন্ড ফলো করছে। আমি সেই ট্রেন্ড দুই বছর আগেই শুরু করেছি। ‘তুফান’ সিনেমায় সেই ট্রেন্ডকে সর্বোচ্চ পর্যায়ে নেওয়া হয়েছিল। অ্যাকশন, আইটেম গান–সবই ছিল। ‘দুষ্টু কোকিল’ গানটি এখনও জনপ্রিয়। তাই বলব, ট্রেন্ডি আর বাণিজ্যিক দুটি আলাদা বিষয়। ‘তুফান’ বা ‘তাণ্ডব’ ট্রেন্ডি মাসালা সিনেমা, আবার বাণিজ্যিকও। ‘প্রেশার কুকার’ও বাণিজ্যিক, তবে ভিন্ন ধরনের।
হুট করে এমন গল্প বেছে নেওয়ার কারণ কী?
আমি শুধু কমার্শিয়াল সিনেমা বানানোর জন্য এই ইন্ডাস্ট্রিতে আসিনি। এখন আমার পরিচয় হয়ে গেছে, রায়হান রাফী একজন কমার্শিয়াল পরিচালক। কারণ, আমার সিনেমাগুলো সফল হয়েছে।
আমার একটা বড় ভিশন আছে। আমি আন্তর্জাতিক মানের সিনেমা বানাতে চাই–সারা পৃথিবীর দর্শকের জন্য। ‘প্রেশার কুকার’ সেই যাত্রার শুরু বলতে পারেন।
তাহলে কি শাকিব খান বা নিশোকে নিয়ে আর ট্রেন্ডি সিনেমা বানাবেন না?
না, আমি তো এমনটা বলিনি। আমি শুধু ‘প্রেশার কুকার’ নিয়ে কথা বলছিলাম। ভবিষ্যতে ‘তুফান ২’, ‘সুড়ঙ্গ ৩’–এসবও আসতে পারে। শাকিব খান ও নিশো ভাইকে নিয়ে নতুন সিনেমার পরিকল্পনাও চলছে। সিয়ামকে নিয়ে ‘আন্ধার’ বানিয়েছি। পাইপলাইনে আরও বেশ কয়েকটি সিনেমা আছে। আমি সব ধরনের গল্পেই সিনেমা বানাতে চাই।
‘প্রেশার কুকার’-এর পরিচালক হওয়ার পাশাপাশি আপনি প্রযোজকও-
হ্যাঁ, সিনেমাটি যৌথভাবে আমি ও ইমপ্রেস টেলিফিল্ম প্রযোজনা করেছি। বলতে পারেন, অনেকটা সাহস করেই প্রযোজনায় এসেছি। এটি আমার জন্য এক ধরনের বাজি। ‘প্রেশার কুকার’ সফল হলে সামনে আরও সিনেমা প্রযোজনা করব। তখন আমার প্রযোজনায় অন্য নির্মাতারাও কাজ করবেন। তাই এই সিনেমার সফল হওয়াটা খুবই দরকার। এই সিনেমা সফল হলে অন্য নির্মাতারাও এমন গল্প নিয়ে সিনেমা বানাতে উৎসাহ পাবেন। প্রযোজকরাও নতুন ধরনের গল্পে বিনিয়োগ করতে আগ্রহী হবেন। ইমপ্রেস টেলিফিল্ম অনেক কালজয়ী সিনেমার সাক্ষী। কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদ থেকে শুরু করে মোস্তফা সরয়ার ফারুকী–অনেক বড় বড় নির্মাতার গুরুত্বপূর্ণ কাজ তাদের হাত ধরে এসেছে। আমি সত্যিই গর্বিত যে আমার প্রথম প্রযোজিত সিনেমাটি তাদের সঙ্গে করতে পারছি।
‘প্রেশার কুকার’-এ নতুন কী আছে?
প্রথমত, নামের মধ্যেই নতুনত্ব আছে। গল্পটাও নতুন, আর গল্প বলার ধরনও একেবারে আলাদা। দর্শক এই সিনেমায় যেন এক টিকিটে চারটি সিনেমার অভিজ্ঞতা পাবেন। ‘পরাণ’, ‘তুফান’, ‘সুড়ঙ্গ’, ‘তাণ্ডব’–এই চার সিনেমার নামও রয়েছে ‘প্রেশার কুকার’-এ। কেন আছে, সেটা দেখলে দর্শক মুগ্ধ হবেন।
আকাশ নিউজ ডেস্ক 























