ঢাকা ১২:২০ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০৬ মার্চ ২০২৬, ২১ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
নির্ভুল ও দায়িত্বশীল তথ্য পরিবেশন নিশ্চিত করতে হবে: তথ্যমন্ত্রী তীরে গিয়ে তরী ডুবাল ইংল্যান্ড, ফাইনালে ভারত রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানগুলোকে দলীয়করণ করছে সরকার: নাহিদ ইসলাম আমাকে না বলে সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচন করলে ইরানে আবার যুদ্ধ হবে : ট্রাম্প খাদ্যে বিষক্রিয়ায় ইরাকে ৩ বাংলাদে‌শির মৃত্যু যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের হামলায় যুক্ত না হওয়ার সিদ্ধান্তে অটল ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বাগেরহাট-১ আসনের ভোট পুনর্গণনার নির্দেশ চালককে নেশাজাতীয় দ্রব্য খাইয়ে অটোরিকশা ছিনতাই, আটক ৩ জাঁকজমকপূর্ণ ইফতার মাহফিল না করার সিদ্ধান্ত প্রধানমন্ত্রীর গাজীপুরে সুজনের সহ-সভাপতি খুন, হাত-পা বাঁধা লাশ উদ্ধার

রো‌হিঙ্গা‌দের ২৬ লাখ মার্কিন ডলার সহায়তা দি‌চ্ছে জাপান

আকাশ জাতীয় ডেস্ক: 

রোহিঙ্গা শরণার্থীদের জন্য ২৬ লাখ মার্কিন ডলারের সহায়তা চুক্তি স্বাক্ষর করেছে জাপান ও জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা-ইউএনএইচসিআর।

বৃহস্প‌তিবার (৫ মার্চ) ইউএনএইচসিআর এক সংবাদ বিজ্ঞ‌প্তি‌তে জা‌নি‌য়ে‌ছে, জাপান সরকার আজ বাংলাদেশে অবস্থানরত রোহিঙ্গা শরণার্থীদের প্রতি তাদের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছে এবং আশ্রয় নির্মাণসামগ্রী, প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা ও পরিচ্ছন্ন রান্নার চুলা সরবরাহের জন্য ২৬ লাখ মার্কিন ডলার সহায়তার ঘোষণা দিয়েছে।

বাংলাদেশে জাপানের রাষ্ট্রদূত সাইদা শিনইচি এবং বাংলাদেশে ইউএনএইচসিআর-এর রিপ্রেজেন্টেটিভ ইভো ফ্রেইসেনের মধ্যে চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে।

জাপানের সহায়তায় ইউএনএইচসিআর বিশ্বের সবচেয়ে ঘনবসতিপূর্ণ শরণার্থী শিবিরগুলোর একটিতে জরুরি সেবা চালিয়ে যেতে পারছে। সেখানে ১১ লাখ ৮০ হাজারের বেশি রাষ্ট্রহীন রোহিঙ্গা অনিশ্চয়তার মধ্যে বসবাস করছে।

মিয়ানমারে লক্ষ্যভিত্তিক নিপীড়ন ও সংঘাতের কারণে বাস্তুচ্যুত হওয়ার নয় বছর পরও রোহিঙ্গা পরিবারগুলো নিরাপত্তা, সুরক্ষা ও টিকে থাকার জন্য ব্যাপকভাবে মানবিক সহায়তার ওপর নির্ভরশীল।

মৌসুমভিত্তিক ভারী বর্ষণ, ঝড়ো হাওয়া ও খরার ঝুঁকিতে থাকা ঘনবসতিপূর্ণ শিবিরগুলোতে অধিকাংশ রোহিঙ্গা আশ্রয়কেন্দ্র বাঁশ ও ত্রিপল দিয়ে নির্মিত, যা নিয়মিতভাবে জরুরি মেরামতের প্রয়োজন হয়। জাপানের সহায়তায় প্রায় ৩৩০০টি পরিবারের জন্য প্রয়োজনীয় মেরামত উপকরণ সরবরাহ করা হবে এবং রোহিঙ্গা সম্প্রদায় থেকে ৩০০ জন আশ্রয় স্বেচ্ছাসেবককে প্রশিক্ষণ ও সম্পৃক্ত করা হবে। পাশাপাশি প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্র ও স্বাস্থ্য পোস্টের মাধ্যমে স্বাস্থ্যসেবা জোরদার করা হবে এবং ১৬২ জন শরণার্থীকে কমিউনিটি স্বাস্থ্যকর্মী হিসেবে সম্পৃক্ত করা হবে।

এ ধরনের গুরুত্বপূর্ণ জীবিকাভিত্তিক সুযোগ আত্মনির্ভরশীলতা ও সম্প্রদায়ের অংশগ্রহণমূলক মালিকানা বোধ জোরদার করে এবং আশার সঞ্চার করে।

ফ্রেইসেন বলেন, রোহিঙ্গাদের বাস্তুচ্যুতির নবম বছরে প্রবেশের প্রাক্কালে জাপানের জনগণের ধারাবাহিক সহায়তা সত্যিই প্রশংসনীয়। বৈশ্বিক সহায়তায় বড় ধরনের কাটছাঁট জীবনরক্ষাকারী কর্মসূচিকে হুমকির মুখে ফেলছে এবং অর্জিত গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। বাংলাদেশের উদার আতিথেয়তাপূর্ণ জনগোষ্ঠীর সঙ্গে অংশীদারত্বে আমাদের শরণার্থীদের মর্যাদা ও কল্যাণ রক্ষা ও উন্নত করতে হবে, যতক্ষণ না মিয়ানমার প্রসঙ্গে রাজনৈতিক অগ্রগতি নিরাপদ ও স্বেচ্ছায় প্রত্যাবর্তনের অনুকূল পরিবেশ তৈরি করে।

রাষ্ট্রদূত সাইদা আশা প্রকাশ করেন যে জাপান সরকারের এই সহায়তা রোহিঙ্গা শরণার্থীদের জীবনমান উন্নত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের জরুরি সহায়তার জন্য ইউএনএইচসিআরে জাপানের অতিরিক্ত তহবিল ঘোষণা করতে পেরে আমি আনন্দিত।

তিনি আরও ব‌লেন, আমরা বিশ্বাস করি, ইউএনএইচসিআরের স‌ঙ্গে এই অংশীদারিত্ব বাস্তব ও ইতিবাচক পরিবর্তন আনবে। রোহিঙ্গা সম্প্রদায়ের আরও নিরাপদ ও স্থিতিশীল ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতে জাপান অঙ্গীকারবদ্ধ।

এই অনুদানের মাধ্যমে ৩২০০০ রোহিঙ্গা পরিবারের জন্য চুলা সেটও সরবরাহ করা হবে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

নির্ভুল ও দায়িত্বশীল তথ্য পরিবেশন নিশ্চিত করতে হবে: তথ্যমন্ত্রী

রো‌হিঙ্গা‌দের ২৬ লাখ মার্কিন ডলার সহায়তা দি‌চ্ছে জাপান

আপডেট সময় ০৭:৫০:৫৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ মার্চ ২০২৬

আকাশ জাতীয় ডেস্ক: 

রোহিঙ্গা শরণার্থীদের জন্য ২৬ লাখ মার্কিন ডলারের সহায়তা চুক্তি স্বাক্ষর করেছে জাপান ও জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা-ইউএনএইচসিআর।

বৃহস্প‌তিবার (৫ মার্চ) ইউএনএইচসিআর এক সংবাদ বিজ্ঞ‌প্তি‌তে জা‌নি‌য়ে‌ছে, জাপান সরকার আজ বাংলাদেশে অবস্থানরত রোহিঙ্গা শরণার্থীদের প্রতি তাদের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছে এবং আশ্রয় নির্মাণসামগ্রী, প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা ও পরিচ্ছন্ন রান্নার চুলা সরবরাহের জন্য ২৬ লাখ মার্কিন ডলার সহায়তার ঘোষণা দিয়েছে।

বাংলাদেশে জাপানের রাষ্ট্রদূত সাইদা শিনইচি এবং বাংলাদেশে ইউএনএইচসিআর-এর রিপ্রেজেন্টেটিভ ইভো ফ্রেইসেনের মধ্যে চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে।

জাপানের সহায়তায় ইউএনএইচসিআর বিশ্বের সবচেয়ে ঘনবসতিপূর্ণ শরণার্থী শিবিরগুলোর একটিতে জরুরি সেবা চালিয়ে যেতে পারছে। সেখানে ১১ লাখ ৮০ হাজারের বেশি রাষ্ট্রহীন রোহিঙ্গা অনিশ্চয়তার মধ্যে বসবাস করছে।

মিয়ানমারে লক্ষ্যভিত্তিক নিপীড়ন ও সংঘাতের কারণে বাস্তুচ্যুত হওয়ার নয় বছর পরও রোহিঙ্গা পরিবারগুলো নিরাপত্তা, সুরক্ষা ও টিকে থাকার জন্য ব্যাপকভাবে মানবিক সহায়তার ওপর নির্ভরশীল।

মৌসুমভিত্তিক ভারী বর্ষণ, ঝড়ো হাওয়া ও খরার ঝুঁকিতে থাকা ঘনবসতিপূর্ণ শিবিরগুলোতে অধিকাংশ রোহিঙ্গা আশ্রয়কেন্দ্র বাঁশ ও ত্রিপল দিয়ে নির্মিত, যা নিয়মিতভাবে জরুরি মেরামতের প্রয়োজন হয়। জাপানের সহায়তায় প্রায় ৩৩০০টি পরিবারের জন্য প্রয়োজনীয় মেরামত উপকরণ সরবরাহ করা হবে এবং রোহিঙ্গা সম্প্রদায় থেকে ৩০০ জন আশ্রয় স্বেচ্ছাসেবককে প্রশিক্ষণ ও সম্পৃক্ত করা হবে। পাশাপাশি প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্র ও স্বাস্থ্য পোস্টের মাধ্যমে স্বাস্থ্যসেবা জোরদার করা হবে এবং ১৬২ জন শরণার্থীকে কমিউনিটি স্বাস্থ্যকর্মী হিসেবে সম্পৃক্ত করা হবে।

এ ধরনের গুরুত্বপূর্ণ জীবিকাভিত্তিক সুযোগ আত্মনির্ভরশীলতা ও সম্প্রদায়ের অংশগ্রহণমূলক মালিকানা বোধ জোরদার করে এবং আশার সঞ্চার করে।

ফ্রেইসেন বলেন, রোহিঙ্গাদের বাস্তুচ্যুতির নবম বছরে প্রবেশের প্রাক্কালে জাপানের জনগণের ধারাবাহিক সহায়তা সত্যিই প্রশংসনীয়। বৈশ্বিক সহায়তায় বড় ধরনের কাটছাঁট জীবনরক্ষাকারী কর্মসূচিকে হুমকির মুখে ফেলছে এবং অর্জিত গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। বাংলাদেশের উদার আতিথেয়তাপূর্ণ জনগোষ্ঠীর সঙ্গে অংশীদারত্বে আমাদের শরণার্থীদের মর্যাদা ও কল্যাণ রক্ষা ও উন্নত করতে হবে, যতক্ষণ না মিয়ানমার প্রসঙ্গে রাজনৈতিক অগ্রগতি নিরাপদ ও স্বেচ্ছায় প্রত্যাবর্তনের অনুকূল পরিবেশ তৈরি করে।

রাষ্ট্রদূত সাইদা আশা প্রকাশ করেন যে জাপান সরকারের এই সহায়তা রোহিঙ্গা শরণার্থীদের জীবনমান উন্নত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের জরুরি সহায়তার জন্য ইউএনএইচসিআরে জাপানের অতিরিক্ত তহবিল ঘোষণা করতে পেরে আমি আনন্দিত।

তিনি আরও ব‌লেন, আমরা বিশ্বাস করি, ইউএনএইচসিআরের স‌ঙ্গে এই অংশীদারিত্ব বাস্তব ও ইতিবাচক পরিবর্তন আনবে। রোহিঙ্গা সম্প্রদায়ের আরও নিরাপদ ও স্থিতিশীল ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতে জাপান অঙ্গীকারবদ্ধ।

এই অনুদানের মাধ্যমে ৩২০০০ রোহিঙ্গা পরিবারের জন্য চুলা সেটও সরবরাহ করা হবে।