ঢাকা ০৯:০৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১৩ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সীমান্ত বাহিনীকে আরও আধুনিক ও সুসংহত করব: প্রধানমন্ত্রী রাষ্ট্রপতিকে অভিশংসনের পর গ্রেফতারের দাবি নাহিদ ইসলামের হাতিয়ায় এমপি হান্নান মাসউদের ওপর হামলার অভিযোগ বিএনপি যদি বিডিআর হত্যার বিচার করতে না পারে সেটি হবে তাদের চরম ব্যর্থতা: জামায়াত আমির মাকে অচেতন করে সাড়ে তিন মাসের শিশু চুরি ক্রীড়াঙ্গনের উন্নয়নে আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে এগিয়ে আসার আহ্বান প্রতিমন্ত্রীর আমি না থাকলে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী মারা যেতেন: ডোনাল্ড ট্রাম্প শুল্ক ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তি দেখে পরবর্তী করণীয় নির্ধারণ : বাণিজ্যমন্ত্রী শ্রীলঙ্কার সাবেক গোয়েন্দা প্রধান গ্রেফতার রাজধানীতে প্রকোপ বেড়েছে কিউলেক্স মশার, গবেষণায় উদ্বেগজনক চিত্র

মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রে ব্যাংক কর্মকর্তার মৃত্যু, পরিবারের দাবি হত্যা

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

বগুড়ার একটি মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রে সামিউল হাসান শুভ (৩৩) নামে এক ব্যাংক কর্মকর্তার রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে।

শরীরে আঘাতের চিহ্ন থাকায় পরিবারের সদস্যরা দাবি করছেন, চিকিৎসার নামে তাকে শারীরিক নির্যাতনে হত্যা করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) রাতে সদর উপজেলার সাবগ্রাম দ্বিতীয় বাইপাস মহাসড়ক সংলগ্ন মায়ের আশ্রয় মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রে এ ঘটনা ঘটে।

পুলিশ ও স্বজনরা জানান, সামিউল হাসান শুভ বগুড়ার কাহালু উপজেলার কাজীপাড়া গ্রামের শফি উল্লাহর ছেলে। তিনি জনতা ব্যাংক দুপচাঁচিয়া শাখার সিনিয়র কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত ছিলেন। শুভ দীর্ঘদিন ধরে মাদকাসক্ত ও মানসিক সমস্যায় ছিলেন। কিছুদিন আগে ছিনতাইয়ের ঘটনার পর থেকে তিনি মানসিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েন।

একজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শে গত ১৩ ফেব্রুয়ারি বগুড়া সদরের সাবগ্রাম দ্বিতীয় বাইপাস মহাসড়ক সংলগ্ন মায়ের আশ্রয় মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রে ভর্তি করা হয়। ১১ দিনের মাথায় মঙ্গলবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে নিরাময় কেন্দ্রের কর্মীরা তাকে অসুস্থ অবস্থায় বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

মৃত সামিউল হাসান শুভর শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখম থাকায় তার ভগ্নিপতি এটিএম ফরহাদ দাবি করেন, এটি হত্যাকাণ্ড। চিকিৎসার নামে তাকে পৈশাচিক নির্যাতনে হত্যা করা হয়েছে। এ ব্যাপারে তারা আইনগত ব্যবস্থা নিবেন।

এদিকে খবর পেয়ে সদর থানা পুলিশ ব্যাংকার শুভর লাশ উদ্ধার করে ওই হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর বগুড়ার উপ-পরিচালক জিললুর রহমান জানান, জেলায় নিবন্ধিত ১৩টি নিরাময় কেন্দ্রের মধ্যে মায়ের আশ্রয় মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্র একটি। এখানে তারা নিয়মিত তদারকি করে থাকেন। এ প্রতিষ্ঠানে কোনো অনিয়ম বা অবহেলা ছিল কিনা- তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

মায়ের আশ্রয় মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, ব্যাংকার সামিউল হাসান শুভকে শারীরিকভাবে কোন নির্যাতন করা হয়নি। তাকে নিয়ম অনুসারে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছিল। মঙ্গলবার সারাদিন খাবার গ্রহণ না করায় রক্তচাপ নেমে আসলে সন্ধ্যায় তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। মৃতের শরীরে কালো জখম প্রসঙ্গে দাবি করা হয়, মৃত্যুর পর এটা ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হতে পারে।

বুধবার দুপুরে বগুড়া সদর থানার ইন্সপেক্টর (তদন্ত) মাহফুজ আলম জানান, লাশ মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পেলে এটি হত্যা না স্বাভাবিক মৃত্যু সে ব্যাপারে নিশ্চিত হওয়া যাবে। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিরাময় কেন্দ্রের দুই কর্মচারিকে থানায় আনা হয়েছে। পরিবার থেকে মামলা দিলে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

সীমান্ত বাহিনীকে আরও আধুনিক ও সুসংহত করব: প্রধানমন্ত্রী

মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রে ব্যাংক কর্মকর্তার মৃত্যু, পরিবারের দাবি হত্যা

আপডেট সময় ০৩:৫০:৩৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

বগুড়ার একটি মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রে সামিউল হাসান শুভ (৩৩) নামে এক ব্যাংক কর্মকর্তার রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে।

শরীরে আঘাতের চিহ্ন থাকায় পরিবারের সদস্যরা দাবি করছেন, চিকিৎসার নামে তাকে শারীরিক নির্যাতনে হত্যা করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) রাতে সদর উপজেলার সাবগ্রাম দ্বিতীয় বাইপাস মহাসড়ক সংলগ্ন মায়ের আশ্রয় মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রে এ ঘটনা ঘটে।

পুলিশ ও স্বজনরা জানান, সামিউল হাসান শুভ বগুড়ার কাহালু উপজেলার কাজীপাড়া গ্রামের শফি উল্লাহর ছেলে। তিনি জনতা ব্যাংক দুপচাঁচিয়া শাখার সিনিয়র কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত ছিলেন। শুভ দীর্ঘদিন ধরে মাদকাসক্ত ও মানসিক সমস্যায় ছিলেন। কিছুদিন আগে ছিনতাইয়ের ঘটনার পর থেকে তিনি মানসিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েন।

একজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শে গত ১৩ ফেব্রুয়ারি বগুড়া সদরের সাবগ্রাম দ্বিতীয় বাইপাস মহাসড়ক সংলগ্ন মায়ের আশ্রয় মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রে ভর্তি করা হয়। ১১ দিনের মাথায় মঙ্গলবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে নিরাময় কেন্দ্রের কর্মীরা তাকে অসুস্থ অবস্থায় বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

মৃত সামিউল হাসান শুভর শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখম থাকায় তার ভগ্নিপতি এটিএম ফরহাদ দাবি করেন, এটি হত্যাকাণ্ড। চিকিৎসার নামে তাকে পৈশাচিক নির্যাতনে হত্যা করা হয়েছে। এ ব্যাপারে তারা আইনগত ব্যবস্থা নিবেন।

এদিকে খবর পেয়ে সদর থানা পুলিশ ব্যাংকার শুভর লাশ উদ্ধার করে ওই হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর বগুড়ার উপ-পরিচালক জিললুর রহমান জানান, জেলায় নিবন্ধিত ১৩টি নিরাময় কেন্দ্রের মধ্যে মায়ের আশ্রয় মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্র একটি। এখানে তারা নিয়মিত তদারকি করে থাকেন। এ প্রতিষ্ঠানে কোনো অনিয়ম বা অবহেলা ছিল কিনা- তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

মায়ের আশ্রয় মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, ব্যাংকার সামিউল হাসান শুভকে শারীরিকভাবে কোন নির্যাতন করা হয়নি। তাকে নিয়ম অনুসারে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছিল। মঙ্গলবার সারাদিন খাবার গ্রহণ না করায় রক্তচাপ নেমে আসলে সন্ধ্যায় তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। মৃতের শরীরে কালো জখম প্রসঙ্গে দাবি করা হয়, মৃত্যুর পর এটা ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হতে পারে।

বুধবার দুপুরে বগুড়া সদর থানার ইন্সপেক্টর (তদন্ত) মাহফুজ আলম জানান, লাশ মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পেলে এটি হত্যা না স্বাভাবিক মৃত্যু সে ব্যাপারে নিশ্চিত হওয়া যাবে। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিরাময় কেন্দ্রের দুই কর্মচারিকে থানায় আনা হয়েছে। পরিবার থেকে মামলা দিলে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।