ঢাকা ০২:২১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৩ জুন ২০২৬, ১৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
‘বাংলাদেশে একটা বড় খুন হয়েছিল, কাকে দিয়ে করিয়েছিলেন সবটাই জানি’:মমতা ব্যানার্জি রামিসা হত্যা মামলার বিচার দ্রুত সম্পন্ন হবে আশা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ছাত্রশিবিরকে তরুণ সমাজ গঠনে ভূমিকা রাখতে হবে: ডা. শফিকুর রহমান সন্তানেরা যুগ্মসচিব-বুয়েট শিক্ষক, তবুও একা ঘরে মরতে হলো বৃদ্ধ মাকে ‘ইরান সরকারের ভিত্তি নড়ে গেছে, এটি ভেঙে পড়তে বাধ্য’ খলিলুর রহমান জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি নির্বাচিত ঈদের দিন স্ত্রীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ, স্বামী আটক হামের উপসর্গে আরও ৫ শিশুর মৃত্যু, আক্রান্ত ৮৭৭ বর্তমান সরকার সব মানুষের ধর্মের স্বাধীনতায় বিশ্বাসী: মঈন খান জাতীয় ঐক্য ও দেশ গড়ার প্রত্যয়ে কাজ করছে সরকার: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রে ব্যাংক কর্মকর্তার মৃত্যু, পরিবারের দাবি হত্যা

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

বগুড়ার একটি মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রে সামিউল হাসান শুভ (৩৩) নামে এক ব্যাংক কর্মকর্তার রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে।

শরীরে আঘাতের চিহ্ন থাকায় পরিবারের সদস্যরা দাবি করছেন, চিকিৎসার নামে তাকে শারীরিক নির্যাতনে হত্যা করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) রাতে সদর উপজেলার সাবগ্রাম দ্বিতীয় বাইপাস মহাসড়ক সংলগ্ন মায়ের আশ্রয় মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রে এ ঘটনা ঘটে।

পুলিশ ও স্বজনরা জানান, সামিউল হাসান শুভ বগুড়ার কাহালু উপজেলার কাজীপাড়া গ্রামের শফি উল্লাহর ছেলে। তিনি জনতা ব্যাংক দুপচাঁচিয়া শাখার সিনিয়র কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত ছিলেন। শুভ দীর্ঘদিন ধরে মাদকাসক্ত ও মানসিক সমস্যায় ছিলেন। কিছুদিন আগে ছিনতাইয়ের ঘটনার পর থেকে তিনি মানসিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েন।

একজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শে গত ১৩ ফেব্রুয়ারি বগুড়া সদরের সাবগ্রাম দ্বিতীয় বাইপাস মহাসড়ক সংলগ্ন মায়ের আশ্রয় মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রে ভর্তি করা হয়। ১১ দিনের মাথায় মঙ্গলবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে নিরাময় কেন্দ্রের কর্মীরা তাকে অসুস্থ অবস্থায় বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

মৃত সামিউল হাসান শুভর শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখম থাকায় তার ভগ্নিপতি এটিএম ফরহাদ দাবি করেন, এটি হত্যাকাণ্ড। চিকিৎসার নামে তাকে পৈশাচিক নির্যাতনে হত্যা করা হয়েছে। এ ব্যাপারে তারা আইনগত ব্যবস্থা নিবেন।

এদিকে খবর পেয়ে সদর থানা পুলিশ ব্যাংকার শুভর লাশ উদ্ধার করে ওই হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর বগুড়ার উপ-পরিচালক জিললুর রহমান জানান, জেলায় নিবন্ধিত ১৩টি নিরাময় কেন্দ্রের মধ্যে মায়ের আশ্রয় মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্র একটি। এখানে তারা নিয়মিত তদারকি করে থাকেন। এ প্রতিষ্ঠানে কোনো অনিয়ম বা অবহেলা ছিল কিনা- তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

মায়ের আশ্রয় মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, ব্যাংকার সামিউল হাসান শুভকে শারীরিকভাবে কোন নির্যাতন করা হয়নি। তাকে নিয়ম অনুসারে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছিল। মঙ্গলবার সারাদিন খাবার গ্রহণ না করায় রক্তচাপ নেমে আসলে সন্ধ্যায় তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। মৃতের শরীরে কালো জখম প্রসঙ্গে দাবি করা হয়, মৃত্যুর পর এটা ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হতে পারে।

বুধবার দুপুরে বগুড়া সদর থানার ইন্সপেক্টর (তদন্ত) মাহফুজ আলম জানান, লাশ মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পেলে এটি হত্যা না স্বাভাবিক মৃত্যু সে ব্যাপারে নিশ্চিত হওয়া যাবে। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিরাময় কেন্দ্রের দুই কর্মচারিকে থানায় আনা হয়েছে। পরিবার থেকে মামলা দিলে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

‘বাংলাদেশে একটা বড় খুন হয়েছিল, কাকে দিয়ে করিয়েছিলেন সবটাই জানি’:মমতা ব্যানার্জি

মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রে ব্যাংক কর্মকর্তার মৃত্যু, পরিবারের দাবি হত্যা

আপডেট সময় ০৩:৫০:৩৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

বগুড়ার একটি মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রে সামিউল হাসান শুভ (৩৩) নামে এক ব্যাংক কর্মকর্তার রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে।

শরীরে আঘাতের চিহ্ন থাকায় পরিবারের সদস্যরা দাবি করছেন, চিকিৎসার নামে তাকে শারীরিক নির্যাতনে হত্যা করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) রাতে সদর উপজেলার সাবগ্রাম দ্বিতীয় বাইপাস মহাসড়ক সংলগ্ন মায়ের আশ্রয় মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রে এ ঘটনা ঘটে।

পুলিশ ও স্বজনরা জানান, সামিউল হাসান শুভ বগুড়ার কাহালু উপজেলার কাজীপাড়া গ্রামের শফি উল্লাহর ছেলে। তিনি জনতা ব্যাংক দুপচাঁচিয়া শাখার সিনিয়র কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত ছিলেন। শুভ দীর্ঘদিন ধরে মাদকাসক্ত ও মানসিক সমস্যায় ছিলেন। কিছুদিন আগে ছিনতাইয়ের ঘটনার পর থেকে তিনি মানসিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েন।

একজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শে গত ১৩ ফেব্রুয়ারি বগুড়া সদরের সাবগ্রাম দ্বিতীয় বাইপাস মহাসড়ক সংলগ্ন মায়ের আশ্রয় মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রে ভর্তি করা হয়। ১১ দিনের মাথায় মঙ্গলবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে নিরাময় কেন্দ্রের কর্মীরা তাকে অসুস্থ অবস্থায় বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

মৃত সামিউল হাসান শুভর শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখম থাকায় তার ভগ্নিপতি এটিএম ফরহাদ দাবি করেন, এটি হত্যাকাণ্ড। চিকিৎসার নামে তাকে পৈশাচিক নির্যাতনে হত্যা করা হয়েছে। এ ব্যাপারে তারা আইনগত ব্যবস্থা নিবেন।

এদিকে খবর পেয়ে সদর থানা পুলিশ ব্যাংকার শুভর লাশ উদ্ধার করে ওই হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর বগুড়ার উপ-পরিচালক জিললুর রহমান জানান, জেলায় নিবন্ধিত ১৩টি নিরাময় কেন্দ্রের মধ্যে মায়ের আশ্রয় মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্র একটি। এখানে তারা নিয়মিত তদারকি করে থাকেন। এ প্রতিষ্ঠানে কোনো অনিয়ম বা অবহেলা ছিল কিনা- তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

মায়ের আশ্রয় মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, ব্যাংকার সামিউল হাসান শুভকে শারীরিকভাবে কোন নির্যাতন করা হয়নি। তাকে নিয়ম অনুসারে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছিল। মঙ্গলবার সারাদিন খাবার গ্রহণ না করায় রক্তচাপ নেমে আসলে সন্ধ্যায় তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। মৃতের শরীরে কালো জখম প্রসঙ্গে দাবি করা হয়, মৃত্যুর পর এটা ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হতে পারে।

বুধবার দুপুরে বগুড়া সদর থানার ইন্সপেক্টর (তদন্ত) মাহফুজ আলম জানান, লাশ মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পেলে এটি হত্যা না স্বাভাবিক মৃত্যু সে ব্যাপারে নিশ্চিত হওয়া যাবে। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিরাময় কেন্দ্রের দুই কর্মচারিকে থানায় আনা হয়েছে। পরিবার থেকে মামলা দিলে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।