ঢাকা ১২:১৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬, ৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
প্রস্তাবিত বাজেট ব্যবসাবান্ধব: বিজিএমইএ অল্পতেই ধৈর্য হারালে দায়িত্ব কীভাবে পালন করবেন: ডা. শফিকুর রহমান ‘ব্রেন ড্রেন’ থেকে ‘ব্রেন সার্কুলেশন’ করতে চায় সরকার: মাহদী আমিন ধর্মান্তরিত হয়ে প্রবাসীকে বিয়ে, ছয় মাস পর তরুণীর রহস্যজনক মৃত্যু দেশের অর্থনীতি গভীর চাপে রয়েছে : নাহিদ ইসলাম শাহবাগে ছাত্রশিবিরের বিরুদ্ধে ছাত্রদলের বিক্ষোভ মেধাবী প্রকৌশলীদের বিদেশমুখী প্রবণতা কমাতে অনুকূল কর্মপরিবেশ সৃষ্টি করতে হবে: আইনমন্ত্রী আদ-দ্বীন হাসপাতাল কোটি কোটি টাকা নিয়ে ঘুরেছে, কিন্তু লাইসেন্স বাতিল করেছি: স্বাস্থ্যমন্ত্রী রাজনৈতিকভাবে দেশকে সামনে এগিয়ে নিতে হবে : জোনায়েদ সাকী নৌ ডাকাতির প্রস্তুতিকালে গ্রেফতার ১০

বরিশালে ইলিশ নিধনে বাঁধা দেয়ায় ইউপি চেয়ারম্যানকে হুমকি

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

প্রজনন মৌসুমে ইলিশ শিকার বন্ধে জেলার বিভিন্ন নদীতে একদিকে চলছে কর্তৃপক্ষের অভিযান, অন্যদিকে কতিপয় পুলিশ অফিসারের মদদে জেলেরা মাছ ধরে যাচ্ছে দেদারছে। ফলে মা ইলিশ নিধন বন্ধ হচ্ছেনা। মা ইলিশ রক্ষায় সরকারের নিষেধাজ্ঞা শতভাগ বাস্তবায়ন করতে জেলার মুলাদী উপজেলার জয়ন্তী ও আড়িয়াল খাঁ নদীতে এক ইউপি চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে অভিযান অব্যাহত থাকায় স্থানীয় একটি নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ প্রকাশ্যে ইউপি চেয়ারম্যান, পাঁচজন ইউপি সদস্য ও একজন সংবাদকর্মীকে গ্রেফতারের হুমকি দিয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

মুলাদী উপজেলার সফিপুর ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক ও ইউপি চেয়ারম্যান আবু মুসা হিমু মুন্সী জানান, মা ইলিশ রক্ষায় গত ১ থেকে আগামী ২২ অক্টোবর পর্যন্ত নদীতে মাছ ধরার ওপর সরকারের নিষেধাজ্ঞা চললেও তা মানা হচ্ছেনা মুলাদীর জয়ন্তী ও আড়িয়াল খাঁ নদীতে। তিনি আরও জানান, নাজিরপুর নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ উত্তম কুমারকে দৈনিক মোটা অংকের টাকা মাসোয়ারা দিয়ে কতিপয় অসাধু জেলেরা প্রকাশ্যে নদীতে ইলিশ নিধন করে চলেছে।

স্থানীয়দের অভিযোগের ভিত্তিতে গত ৩ অক্টোবর থেকে তিনি (চেয়ারম্যান), ইউপি সদস্য, গ্রামপুলিশ ও সংবাদকর্মীদের নিয়ে নদীর বিভিন্ন পয়েন্টে অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমান জাল জব্দ করে অগ্নিসংযোগ করেছেন। এতে ক্ষিপ্ত হয় মাসোয়ারা পাওয়া নাজিরপুর নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ উত্তম কুমার ও হাবিলদার ইব্রাহিম।

সোমবার সন্ধ্যায় ইউপি সদস্য, গ্রামপুলিশ ও সংবাদকর্মীরা গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ট্রলারযোগে জয়ন্তী নদী থেকে মাছ ধরার জাল উদ্ধার করেন। এ সময় ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে নদী থেকে মাছ ধরার জাল উত্তোলন করায় ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই উত্তম কুমার ও হাবিলদার ইব্রাহিম ট্রলারে থাকা পাঁচজন ইউপি সদস্য, তিনজন গ্রামপুলিশ ও একজন সংবাদকর্মীর সাথে বাগ্বিতন্ডায় লিপ্ত হন। একপর্যায়ে ইউপি চেয়ারম্যানের নির্দেশে এ জাল উত্তোলন করার কথা বললে তাকে (চেয়ারম্যান) সহ ইউপি সদস্য, গ্রামপুলিশ ও সংবাদকর্মীকে গ্রেফতারের হুমকি প্রদর্শন করেন এসআই উত্তম কুমার। বিষয়টি তাৎক্ষনিক উপজেলা নির্বাহী অফিসার জাকির হোসেনকে মোবাইল ফোনে জানানো হলে এসআই উত্তম কুমার ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।

একইভাবে মা ইলিশ রক্ষায় পুলিশের রহস্যজনক ভূমিকার অভিযোগে মুলাদীর বাটামারা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ শহিদুল ইসলামের নেতৃত্বে নদীতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। আগামী ২২ অক্টোবর পর্যন্ত এ অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও ইউপি চেয়ারম্যান উল্লেখ করেন।

অপরদিকে সোমবার সন্ধ্যায় গৌরনদী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাসুমা আক্তারের নেতৃত্বে আড়িয়াল খাঁ নদীর মিয়ারচর ও কুরিরচর এলাকায় অভিযান চালিয়ে জাল পেতে ইলিশ ধরার সময় নন্দিরবাজার এলাকার জেলে শাকিল বেপারী ও সাইদুল সরদারকে আটক করা হয়। তাৎক্ষনিক ভ্রাম্যমান আদালতের মাধ্যমে আটককৃতদের সাত দিনের কারাদন্ড প্রদান করা হয়। অভিযানে উদ্ধারকৃত প্রায় ১২শ’ মিটার জাল পুড়িয়ে ফেলা হয়েছে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

প্রস্তাবিত বাজেট ব্যবসাবান্ধব: বিজিএমইএ

বরিশালে ইলিশ নিধনে বাঁধা দেয়ায় ইউপি চেয়ারম্যানকে হুমকি

আপডেট সময় ০২:২৫:২৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ১১ অক্টোবর ২০১৭

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

প্রজনন মৌসুমে ইলিশ শিকার বন্ধে জেলার বিভিন্ন নদীতে একদিকে চলছে কর্তৃপক্ষের অভিযান, অন্যদিকে কতিপয় পুলিশ অফিসারের মদদে জেলেরা মাছ ধরে যাচ্ছে দেদারছে। ফলে মা ইলিশ নিধন বন্ধ হচ্ছেনা। মা ইলিশ রক্ষায় সরকারের নিষেধাজ্ঞা শতভাগ বাস্তবায়ন করতে জেলার মুলাদী উপজেলার জয়ন্তী ও আড়িয়াল খাঁ নদীতে এক ইউপি চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে অভিযান অব্যাহত থাকায় স্থানীয় একটি নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ প্রকাশ্যে ইউপি চেয়ারম্যান, পাঁচজন ইউপি সদস্য ও একজন সংবাদকর্মীকে গ্রেফতারের হুমকি দিয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

মুলাদী উপজেলার সফিপুর ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক ও ইউপি চেয়ারম্যান আবু মুসা হিমু মুন্সী জানান, মা ইলিশ রক্ষায় গত ১ থেকে আগামী ২২ অক্টোবর পর্যন্ত নদীতে মাছ ধরার ওপর সরকারের নিষেধাজ্ঞা চললেও তা মানা হচ্ছেনা মুলাদীর জয়ন্তী ও আড়িয়াল খাঁ নদীতে। তিনি আরও জানান, নাজিরপুর নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ উত্তম কুমারকে দৈনিক মোটা অংকের টাকা মাসোয়ারা দিয়ে কতিপয় অসাধু জেলেরা প্রকাশ্যে নদীতে ইলিশ নিধন করে চলেছে।

স্থানীয়দের অভিযোগের ভিত্তিতে গত ৩ অক্টোবর থেকে তিনি (চেয়ারম্যান), ইউপি সদস্য, গ্রামপুলিশ ও সংবাদকর্মীদের নিয়ে নদীর বিভিন্ন পয়েন্টে অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমান জাল জব্দ করে অগ্নিসংযোগ করেছেন। এতে ক্ষিপ্ত হয় মাসোয়ারা পাওয়া নাজিরপুর নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ উত্তম কুমার ও হাবিলদার ইব্রাহিম।

সোমবার সন্ধ্যায় ইউপি সদস্য, গ্রামপুলিশ ও সংবাদকর্মীরা গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ট্রলারযোগে জয়ন্তী নদী থেকে মাছ ধরার জাল উদ্ধার করেন। এ সময় ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে নদী থেকে মাছ ধরার জাল উত্তোলন করায় ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই উত্তম কুমার ও হাবিলদার ইব্রাহিম ট্রলারে থাকা পাঁচজন ইউপি সদস্য, তিনজন গ্রামপুলিশ ও একজন সংবাদকর্মীর সাথে বাগ্বিতন্ডায় লিপ্ত হন। একপর্যায়ে ইউপি চেয়ারম্যানের নির্দেশে এ জাল উত্তোলন করার কথা বললে তাকে (চেয়ারম্যান) সহ ইউপি সদস্য, গ্রামপুলিশ ও সংবাদকর্মীকে গ্রেফতারের হুমকি প্রদর্শন করেন এসআই উত্তম কুমার। বিষয়টি তাৎক্ষনিক উপজেলা নির্বাহী অফিসার জাকির হোসেনকে মোবাইল ফোনে জানানো হলে এসআই উত্তম কুমার ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।

একইভাবে মা ইলিশ রক্ষায় পুলিশের রহস্যজনক ভূমিকার অভিযোগে মুলাদীর বাটামারা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ শহিদুল ইসলামের নেতৃত্বে নদীতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। আগামী ২২ অক্টোবর পর্যন্ত এ অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও ইউপি চেয়ারম্যান উল্লেখ করেন।

অপরদিকে সোমবার সন্ধ্যায় গৌরনদী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাসুমা আক্তারের নেতৃত্বে আড়িয়াল খাঁ নদীর মিয়ারচর ও কুরিরচর এলাকায় অভিযান চালিয়ে জাল পেতে ইলিশ ধরার সময় নন্দিরবাজার এলাকার জেলে শাকিল বেপারী ও সাইদুল সরদারকে আটক করা হয়। তাৎক্ষনিক ভ্রাম্যমান আদালতের মাধ্যমে আটককৃতদের সাত দিনের কারাদন্ড প্রদান করা হয়। অভিযানে উদ্ধারকৃত প্রায় ১২শ’ মিটার জাল পুড়িয়ে ফেলা হয়েছে।