ঢাকা ০৩:০৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬, ২০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
নেপালকে হারিয়ে টানা তৃতীয়বার সাফের ফাইনালে বাংলাদেশ ভারতের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক আদালতে মামলা করা উচিত: নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী রুমিন ফারহানার বক্তব্যের প্রতিবাদে বিক্ষোভ বরগুনায় ডাকবাংলো থেকে দুই শিশু ও মায়ের মরদেহ উদ্ধার মায়ের প্রতি অবহেলা: শাস্তি পাবেন সেই যুগ্ম সচিব বিদ্যুতের প্রিপেইড মিটারের মাসিক চার্জ প্রত্যাহার মুক্তিযোদ্ধাদের অসম্মান করলে আরেকটি গণঅভ্যুত্থান হবে: প্রতিমন্ত্রী ইশরাক এমপিদের সংসদের কার্যপ্রণালি বিধির জ্ঞান থাকা আবশ্যক : স্পিকার ইরানের সুপ্রিম লিডার মোজতবার সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে চান ট্রাম্প ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করবে না, দাবি ট্রাম্পের

অ্যান্টার্কটিকার ‘রক্তঝরা জলপ্রপাত’ নিয়ে নতুন রহস্য উন্মোচন

আকাশ নিউজ ডেস্ক:

অ্যান্টার্কটিকার বরফের দেশে আছে এক অদ্ভুত দৃশ্য। সাদা বরফের মাঝে হঠাৎ লাল রঙের পানি বেরিয়ে আসে। দূর থেকে দেখলে মনে হয়, বরফের গা বেয়ে রক্ত ঝরছে। এই জায়গার নাম ‘ব্লাড ফলস’। বিজ্ঞানীরা এবার এর সঙ্গে টেলর গ্লেসিয়ারের (বিশাল বরফ নদী) পরিবর্তনের সরাসরি সম্পর্ক খুঁজে পেয়েছেন।

ব্লাড ফলস অবস্থিত ম্যাকমার্ডো ড্রাই ভ্যালিতে, টেলর গ্লেসিয়ারের সামনে। ১৯১১ সালে টেরা নোভা অভিযানের সময় অস্ট্রেলীয় ভূতত্ত্ববিদ থমাস গ্রিফিথ টেলর প্রথম এটি দেখেন ও নথিভুক্ত করেন।

গবেষকেরা জানান, এই লাল পানি আসলে লৌহসমৃদ্ধ লবণাক্ত পানি বা ব্রাইন। এটি হিমবাহের নিচে আটকে থাকে। বরফের ভার ও ধীর গতির চাপে পানি ওপরে উঠে আসে। বাতাসের সংস্পর্শে এসে এতে অক্সিডেশন (লোহা জং ধরার প্রক্রিয়া) ঘটে। তখনই লাল দাগ তৈরি হয়। এই পানি বরফে ঢাকা লেক বনি’র পশ্চিম অংশের দিকে গড়িয়ে যায়।

লুইজিয়ানা স্টেট ইউনিভার্সিটির ভূতত্ত্ববিদ পিটার টি ডোরান ও তার দল দেখেছেন, এটি শুধু উপরের দাগ নয়। বরফের নিচে পানির চাপ কমা–বাড়ার সঙ্গে এর সম্পর্ক আছে। কয়েক সপ্তাহ ধরে তারা দেখেন, গ্লেসিয়ারের পৃষ্ঠ ধীরে ধীরে নিচে নামছে, আবার উঠছে।

২০১৮ সালের সেপ্টেম্বরে গবেষকেরা টেলর গ্লেসিয়ারে জিপিএস যন্ত্র বসান। টাইম-ল্যাপস ক্যামেরায় ১৯ সেপ্টেম্বর থেকে লাল দাগ ছড়াতে দেখা যায়। একই সময় লেক বনিতে বসানো থার্মিস্টর (তাপমাত্রা ও পানির গভীরতা মাপার যন্ত্র) পানির গভীরতা কমার তথ্য দেয়।

গবেষণায় দেখা গেছে, এই ঘটনার সময় গ্লেসিয়ারের পৃষ্ঠ ০.৬ ইঞ্চি নেমে যায়। সামনের দিকে চলার গতি প্রায় ১০ শতাংশ কমে। প্রায় এক মাস ধরে নিচ থেকে লবণাক্ত পানির ধাক্কা বের হওয়ায় চাপ কমে যায়। এর ফলেই বরফের পৃষ্ঠ নেমে যায় ও গতি কমে আসে।

বিজ্ঞানীদের মতে, এই ঘটনা হিমবাহের নিচে লুকানো পানির চলাচল বোঝার নতুন পথ খুলে দিল।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

অ্যান্টার্কটিকার ‘রক্তঝরা জলপ্রপাত’ নিয়ে নতুন রহস্য উন্মোচন

আপডেট সময় ১০:২৫:৫২ অপরাহ্ন, শনিবার, ২১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

আকাশ নিউজ ডেস্ক:

অ্যান্টার্কটিকার বরফের দেশে আছে এক অদ্ভুত দৃশ্য। সাদা বরফের মাঝে হঠাৎ লাল রঙের পানি বেরিয়ে আসে। দূর থেকে দেখলে মনে হয়, বরফের গা বেয়ে রক্ত ঝরছে। এই জায়গার নাম ‘ব্লাড ফলস’। বিজ্ঞানীরা এবার এর সঙ্গে টেলর গ্লেসিয়ারের (বিশাল বরফ নদী) পরিবর্তনের সরাসরি সম্পর্ক খুঁজে পেয়েছেন।

ব্লাড ফলস অবস্থিত ম্যাকমার্ডো ড্রাই ভ্যালিতে, টেলর গ্লেসিয়ারের সামনে। ১৯১১ সালে টেরা নোভা অভিযানের সময় অস্ট্রেলীয় ভূতত্ত্ববিদ থমাস গ্রিফিথ টেলর প্রথম এটি দেখেন ও নথিভুক্ত করেন।

গবেষকেরা জানান, এই লাল পানি আসলে লৌহসমৃদ্ধ লবণাক্ত পানি বা ব্রাইন। এটি হিমবাহের নিচে আটকে থাকে। বরফের ভার ও ধীর গতির চাপে পানি ওপরে উঠে আসে। বাতাসের সংস্পর্শে এসে এতে অক্সিডেশন (লোহা জং ধরার প্রক্রিয়া) ঘটে। তখনই লাল দাগ তৈরি হয়। এই পানি বরফে ঢাকা লেক বনি’র পশ্চিম অংশের দিকে গড়িয়ে যায়।

লুইজিয়ানা স্টেট ইউনিভার্সিটির ভূতত্ত্ববিদ পিটার টি ডোরান ও তার দল দেখেছেন, এটি শুধু উপরের দাগ নয়। বরফের নিচে পানির চাপ কমা–বাড়ার সঙ্গে এর সম্পর্ক আছে। কয়েক সপ্তাহ ধরে তারা দেখেন, গ্লেসিয়ারের পৃষ্ঠ ধীরে ধীরে নিচে নামছে, আবার উঠছে।

২০১৮ সালের সেপ্টেম্বরে গবেষকেরা টেলর গ্লেসিয়ারে জিপিএস যন্ত্র বসান। টাইম-ল্যাপস ক্যামেরায় ১৯ সেপ্টেম্বর থেকে লাল দাগ ছড়াতে দেখা যায়। একই সময় লেক বনিতে বসানো থার্মিস্টর (তাপমাত্রা ও পানির গভীরতা মাপার যন্ত্র) পানির গভীরতা কমার তথ্য দেয়।

গবেষণায় দেখা গেছে, এই ঘটনার সময় গ্লেসিয়ারের পৃষ্ঠ ০.৬ ইঞ্চি নেমে যায়। সামনের দিকে চলার গতি প্রায় ১০ শতাংশ কমে। প্রায় এক মাস ধরে নিচ থেকে লবণাক্ত পানির ধাক্কা বের হওয়ায় চাপ কমে যায়। এর ফলেই বরফের পৃষ্ঠ নেমে যায় ও গতি কমে আসে।

বিজ্ঞানীদের মতে, এই ঘটনা হিমবাহের নিচে লুকানো পানির চলাচল বোঝার নতুন পথ খুলে দিল।