আকাশ জাতীয় ডেস্ক :
দেশের অর্থনীতিকে চাঙা করতে পাচারকৃত অর্থ ফেরত আনতে অবিলম্বে ‘মুক্ত বিনিয়োগ নীতি’ ঘোষণার দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ জাতীয় আইনজীবী সমিতি।
সমিতির সভাপতি ও জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের সাবেক সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট শাহ মো. খসরুজ্জামান শনিবার দুপুরে এক সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানান।
তিনি বলেন, ‘মুক্ত বিনিয়োগ নীতি’ ঘোষণা ছাড়া বর্তমান অর্থনীতিকে বিপর্যয়ের হাত থেকে রক্ষা করার বিকল্প নেই। এতে বিদেশে পাচার করা এবং দেশে লুকায়িত অর্থ উৎপাদন খাতে বিনিয়োগের সুযোগ তৈরি হবে। তা অর্থনীতিকে চাঙা করতে বিশেষ ভূমিকা রাখতে পারে।
সংবাদ সম্মেলনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিশাল জয়ে বিএনপির চেয়ারম্যান ও সম্ভাব্য প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানান তিনি। বলেন, তারেক রহমানের বলিষ্ঠ নেতৃত্ব সমৃদ্ধশালী একটি দেশ গঠনে সহায়ক হবে। প্রসঙ্গত, বাংলাদেশ জাতীয় আইনজীবী সমিতি দেশের সমগ্র বার অ্যাসোসিয়েশনের নির্দলীয় ফেডারেশন।
শাহ মো. খসরুজ্জামান বলেন, দেশের অর্থবাজার থেকে লক্ষ-কোটি টাকা উধাও এবং অনুৎপাদন খাতে বিনিয়োগ হওয়ার কারণে দেশ আজ অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে। বর্তমান প্রেক্ষাপটে এ অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসতে হলে এবং দেশের অর্থনীতিকে চাঙা করতে বিদেশি ঋণের ওপর নির্ভরতা হ্রাস করতে হবে। এছাড়া করদাতাদের ওপর চাপ না দিয়ে সরকারের অভ্যন্তরীণ রাজস্ব আহরণ বৃদ্ধি করার পথ বের করতে হবে।
এ লক্ষ্যে দেশের বিত্তশালী ব্যক্তি এবং করদাতাদের শিল্প, কৃষি, স্বাস্থ্য ও গৃহায়ণ সম্পর্কিত সব ধরনের ব্যবসাসহ আমদানি ও রপ্তানি খাতে চলতি অর্থবছরের জন্য বিনিয়োগ তথা ব্যবসায়িক নতুন মূলধনের ওপর কর মওকুফ করতে হবে।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ড কর্তৃক বিনা প্রশ্নে বিনিয়োগকৃত মূলধন মেনে নিলে বিদেশে পাচারকৃত এবং এ দেশে লুকায়িত অর্থ ব্যবসার বিভিন্ন খাতে বিনিয়োগ হবে। এছাড়া বিনিয়োগকৃত অর্থ কর কর্তৃপক্ষের দৃষ্টিতে বৈধ হওয়ার সুযোগ গ্রহণ করার জন্য দেশের বিত্তশালী ব্যক্তিরা দারুণভাবে উৎসাহী হবেন। নতুন বিনিয়োগের ফলে দেশের উৎপাদন বাড়বে, ডলারের মূল্য হ্রাস পাবে, আমদানি ও রপ্তানি বাড়বে। নিত্যপণ্যের মূল্য ক্রমশ কমে আসবে এবং জনগণ হতাশামুক্ত হবে। ফলে সরকারের ওপর নাগরিকের প্রত্যাশা পূরণ হবে।
তিনি আরও বলেন, কর আহরণ বৃদ্ধি করার লক্ষ্যে বর্তমান কর সংগ্রহের পদ্ধতি ঢেলে সাজাতে হবে এবং দেশের প্রত্যেক উপজেলায় ‘কর অফিসার’ নিয়োগ করে সরকারের অভ্যন্তরীণ সম্পদ বাড়াতে হবে।
তিনি আরও বলেন, দেশের ধ্বংসপ্রাপ্ত শিক্ষা ব্যবস্থাকে বাঁচানোর জন্য অবিলম্বে শিক্ষা কমিশন গঠন করে আশু সংস্কার করতে হবে।
শাহ মো. খসরুজ্জামান বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশে ব্যবসায় বিনিয়োগ ক্রমশ সীমিত হওয়ায় দেশের অর্থনীতি দুর্বল হয়ে পড়ছে। পণ্যের মূল্যস্ফীতিও বৃদ্ধি পেয়েছে। অন্তর্বর্তী সরকার দেশের স্থবির অর্থনীতি হাতে নিয়েই ক্ষমতা গ্রহন করেন। গোটা অর্থনৈতিক পরিস্থিতি খাদের কিনারা থেকে সরিয়ে আনার জন্য জোর চেষ্টা করেন। কিন্তু আর্থিক বছরে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের রাজস্ব ঘাটতি ৪৬ হাজার কোটি টাকা হওয়ায় নির্বাচিত সরকার অর্থনৈতিক দিকে ভয়ানক চাপের মুখে পড়তে পারে। তাই অর্থনীতিকে চাঙা করতে হলে বিদেশ থেকে পাচারকৃত অর্থ এদেশে ফেরত এনে মুদ্রা বাজারে অর্থ সরবরাহ বৃদ্ধি করে অর্থ সংকট কমানো ছাড়া অর্থনীতিকে সবল করার অন্য কোনো বিকল্প পথ নেই।
সভায় উপস্থিত ছিলেন অ্যাডভোকেট সামছুল জালাল চৌধুরী, শেখ রেজাউল করিম, অ্যাডভোকেট গোলাম মোর্শেদ, অ্যাডভোকেট কামাল হোসেন প্রমুখ।
আকাশ নিউজ ডেস্ক 

























