ঢাকা ১২:৪৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২০ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
বাংলাদেশের মানুষ পরিবর্তন চায়,দুর্নীতি ও সন্ত্রাসনির্ভর রাজনীতি আর চলবেনা: মামুনুল হক মব নিয়ন্ত্রণে সরকার ব্যর্থ হলে নির্বাচনে প্রভাব পড়বে: টিআইবি ইনসাফের বাংলাদেশ গড়তে দাঁড়িপাল্লার পাশাপাশি হ্যাঁ-তে ভোট দিতে হবে: সাদিক কায়েম চট্টগ্রাম বন্দরে এবার ২৪ ঘণ্টা কর্মবিরতির ডাক এবার কোথাও কোনো কেন্দ্র দখল হলে কেউ ছাড় পাবে না: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা দুর্নীতি-চাঁদাবাজ ও টেন্ডারবাজদের বিরুদ্ধে বলায় তাদের চান্দি গরম হয়ে গেছে: জামায়াত আমির প্রতিহিংসা বা প্রতিশোধের রাজনীতি দেখতে চান না তারেক রহমান: দুলু প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম ক্রয় ও চুক্তি চলমান প্রক্রিয়ার অংশ: নিরাপত্তা উপদেষ্টা মঙ্গলবার পবিত্র শবে বরাত তরুণদের সঙ্গে জাইমা রহমানের ‘চায়ের আড্ডা’

মালয়েশিয়ায় মানবপাচারে জড়িত নারীসহ ১৯ বাংলাদেশি আটক

আকাশ জাতীয় ডেস্ক : 

মালয়েশিয়ায় বিদেশি নাগরিক পাচারের সঙ্গে জড়িত গ্যাং সোজুল নামের একটি পাচারকারী চক্রের সন্ধান পেয়েছে ইমিগ্রেশন বিভাগ। এ চক্রের একজন স্থানীয় নাগরিক ও এক নারীসহ ১৯ বাংলাদেশিকে আটক করেছে মালয়েশিয়ার ইমিগ্রেশন বিভাগ (জেআইএম)।

ইমিগ্রেশন মহাপরিচালক দাতুক জাকারিয়া শাবান জানান, অনুসন্ধানের ভিত্তিতে রোববার কুয়ালালামপুরের জালান কুচাই লামা এলাকায় অভিযান চালানো হয়। এ সময় মানবপাচারে জড়িত ২০ বিদেশিকে আটক করা হয়। যারা আটক হয়েছে তারা অবৈধভাবে মালয়েশিয়ায় প্রবেশ করেছিল বলে তিনি জানান।

তিনি সংবাদমাধ্যমকে জানান, প্রথম অভিযানটি পরিচালিত হয় দুপুর ১টা ৩০ মিনিটে। এ সময় একটি সুপার মার্কেটের পার্কিং এলাকায় পাচারকৃত অভিবাসী বহনকারী একটি ফোর-হুইল ড্রাইভ যান ও একটি স্পোর্টস ইউটিলিটি ভেহিকল (এসইউভি) থামিয়ে তল্লাশি চালানো হয়। তল্লাশিতে ছয়জন বাংলাদেশি পুরুষ, একজন বাংলাদেশি নারী এবং একজন মিয়ানমারের পুরুষ নাগরিককে আটক করা হয়। এরপর তাদের কাছ থেকে তথ্য নিয়ে কুচাই লামা এলাকার একটি আবাসিক ভবনে অভিযান চালানো হয়। মানবপাচারকারী চক্র এ ভবনটি ট্রানজিট বা অস্থায়ী আশ্রয় কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করত। পরে সেখানে আরও ১২ জন বাংলাদেশি পুরুষকে আটক করা হয়।

তিনি বলেন, ধারণা করা হচ্ছে, তারা প্রতিবেশী দেশ থেকে সদ্য প্রবেশ করে দক্ষিণাঞ্চলীয় বিভিন্ন রাজ্য ও ক্লাং ভ্যালিতে পাঠানোর অপেক্ষায় ছিল। আটককৃতদের বয়স ১৮ থেকে ৪৯ বছরের মধ্যে বলে জানান ইমিগ্রেশন মহাপরিচালক।

জানা গেছে, অভিযানকালে দুটি যানবাহন, একাধিক বাংলাদেশি পাসপোর্ট, নগদ ৮২ হাজার ১০০ মালয়েশিয়ান রিঙ্গিত এবং ৩ হাজার ৭০০ মার্কিন ডলার জব্দ করা হয়। আটক ২০ জন বিদেশিকে পরবর্তী তদন্তের জন্য পুত্রজায়া ইমিগ্রেশন ডিপোতে পাঠানো হয়েছে।

জাকারিয়া শাবান আরও জানান, মামলাটি মানবপাচার ও অভিবাসী চোরাচালানবিরোধী আইন-২০০৭ (এটিপসোম), ইমিগ্রেশন আইন ১৯৫৯/৬৩, ইমিগ্রেশন বিধিমালা ১৯৬৩ এবং পাসপোর্ট আইন ১৯৬৬-এর আওতায় তদন্ত করা হচ্ছে।

এদিকে প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, চক্রটি ২০২৫ সালের ডিসেম্বর থেকে সক্রিয় ছিল। তারা তৃতীয় দেশের রুট ব্যবহার করে বিদেশি নাগরিকদের মালয়েশিয়ায় প্রবেশ করাত এবং কেলান্তান সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে ঢুকিয়ে সরাসরি ক্লাং ভ্যালিতে নিয়ে আসত। সেখান থেকে নির্দিষ্ট গন্তব্যে পাঠানো হতো।

চক্রটি জনপ্রতি ১২ হাজার রিঙ্গিত করে আদায় করত এবং এ পর্যন্ত প্রায় ১২ লাখ রিঙ্গিত অবৈধ মুনাফা করেছে বলে ধারণা করছে ইমিগ্রেশন বিভাগ।

ইমিগ্রেশন মহাপরিচালক আরও বলেন, দেশের অভিবাসন আইন লঙ্ঘনের সঙ্গে জড়িত যেকোনো ব্যক্তি বা চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা অব্যাহত থাকবে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

বাংলাদেশের মানুষ পরিবর্তন চায়,দুর্নীতি ও সন্ত্রাসনির্ভর রাজনীতি আর চলবেনা: মামুনুল হক

মালয়েশিয়ায় মানবপাচারে জড়িত নারীসহ ১৯ বাংলাদেশি আটক

আপডেট সময় ০৮:৩৫:২৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

আকাশ জাতীয় ডেস্ক : 

মালয়েশিয়ায় বিদেশি নাগরিক পাচারের সঙ্গে জড়িত গ্যাং সোজুল নামের একটি পাচারকারী চক্রের সন্ধান পেয়েছে ইমিগ্রেশন বিভাগ। এ চক্রের একজন স্থানীয় নাগরিক ও এক নারীসহ ১৯ বাংলাদেশিকে আটক করেছে মালয়েশিয়ার ইমিগ্রেশন বিভাগ (জেআইএম)।

ইমিগ্রেশন মহাপরিচালক দাতুক জাকারিয়া শাবান জানান, অনুসন্ধানের ভিত্তিতে রোববার কুয়ালালামপুরের জালান কুচাই লামা এলাকায় অভিযান চালানো হয়। এ সময় মানবপাচারে জড়িত ২০ বিদেশিকে আটক করা হয়। যারা আটক হয়েছে তারা অবৈধভাবে মালয়েশিয়ায় প্রবেশ করেছিল বলে তিনি জানান।

তিনি সংবাদমাধ্যমকে জানান, প্রথম অভিযানটি পরিচালিত হয় দুপুর ১টা ৩০ মিনিটে। এ সময় একটি সুপার মার্কেটের পার্কিং এলাকায় পাচারকৃত অভিবাসী বহনকারী একটি ফোর-হুইল ড্রাইভ যান ও একটি স্পোর্টস ইউটিলিটি ভেহিকল (এসইউভি) থামিয়ে তল্লাশি চালানো হয়। তল্লাশিতে ছয়জন বাংলাদেশি পুরুষ, একজন বাংলাদেশি নারী এবং একজন মিয়ানমারের পুরুষ নাগরিককে আটক করা হয়। এরপর তাদের কাছ থেকে তথ্য নিয়ে কুচাই লামা এলাকার একটি আবাসিক ভবনে অভিযান চালানো হয়। মানবপাচারকারী চক্র এ ভবনটি ট্রানজিট বা অস্থায়ী আশ্রয় কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করত। পরে সেখানে আরও ১২ জন বাংলাদেশি পুরুষকে আটক করা হয়।

তিনি বলেন, ধারণা করা হচ্ছে, তারা প্রতিবেশী দেশ থেকে সদ্য প্রবেশ করে দক্ষিণাঞ্চলীয় বিভিন্ন রাজ্য ও ক্লাং ভ্যালিতে পাঠানোর অপেক্ষায় ছিল। আটককৃতদের বয়স ১৮ থেকে ৪৯ বছরের মধ্যে বলে জানান ইমিগ্রেশন মহাপরিচালক।

জানা গেছে, অভিযানকালে দুটি যানবাহন, একাধিক বাংলাদেশি পাসপোর্ট, নগদ ৮২ হাজার ১০০ মালয়েশিয়ান রিঙ্গিত এবং ৩ হাজার ৭০০ মার্কিন ডলার জব্দ করা হয়। আটক ২০ জন বিদেশিকে পরবর্তী তদন্তের জন্য পুত্রজায়া ইমিগ্রেশন ডিপোতে পাঠানো হয়েছে।

জাকারিয়া শাবান আরও জানান, মামলাটি মানবপাচার ও অভিবাসী চোরাচালানবিরোধী আইন-২০০৭ (এটিপসোম), ইমিগ্রেশন আইন ১৯৫৯/৬৩, ইমিগ্রেশন বিধিমালা ১৯৬৩ এবং পাসপোর্ট আইন ১৯৬৬-এর আওতায় তদন্ত করা হচ্ছে।

এদিকে প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, চক্রটি ২০২৫ সালের ডিসেম্বর থেকে সক্রিয় ছিল। তারা তৃতীয় দেশের রুট ব্যবহার করে বিদেশি নাগরিকদের মালয়েশিয়ায় প্রবেশ করাত এবং কেলান্তান সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে ঢুকিয়ে সরাসরি ক্লাং ভ্যালিতে নিয়ে আসত। সেখান থেকে নির্দিষ্ট গন্তব্যে পাঠানো হতো।

চক্রটি জনপ্রতি ১২ হাজার রিঙ্গিত করে আদায় করত এবং এ পর্যন্ত প্রায় ১২ লাখ রিঙ্গিত অবৈধ মুনাফা করেছে বলে ধারণা করছে ইমিগ্রেশন বিভাগ।

ইমিগ্রেশন মহাপরিচালক আরও বলেন, দেশের অভিবাসন আইন লঙ্ঘনের সঙ্গে জড়িত যেকোনো ব্যক্তি বা চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা অব্যাহত থাকবে।