ঢাকা ১০:২৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ১২ জুলাই ২০২৬, ২৮ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে স্বর্ণপদকজয়ী শিক্ষার্থীদের সাক্ষাৎ শেখ হাসিনার ১ বছরে খাওয়া-দাওয়ার খরচ হয়েছে ৩৫ কোটি টাকা : অর্থমন্ত্রী নাটোরে নবজাতকের মৃত্যু, চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগ আমরা সরকার গঠন করে শেখ হাসিনাকে ফাঁসিতে ঝুলাব: নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী দরজা খুলেই দেখলেন শাশুড়ির রক্তাক্ত লাশ, পাশের কক্ষে কাঁদছিল দুই বছরের মেয়ে ট্রাকের ধাক্কায় প্রাণ গেল মা ও দুই সন্তানসহ ৪ জনের দেশে ফেরা মাত্রই শেখ হাসিনা কারাগারে যাবেন: চিফ প্রসিকিউটর খামেনি হত্যার প্রতিশোধ নিতে ইরানি গণমাধ্যমে ১৩ বিদেশি নেতার ছবি প্রকাশ হাম ও উপসর্গে আরও ৫ শিশুর মৃত্যু অতীতের ভুল থেকে বেরিয়ে মানসম্মত পাঠ্যবই তৈরির আহ্বান শিক্ষামন্ত্রীর

৪৮ ঘণ্টা হাজতবাসের অভিজ্ঞতা সম্পর্কে যা বললেন নুসরাত

আকাশ বিনোদন ডেস্ক :  

২০২৪ সালের বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর ‘হত্যাচেষ্টা’র অভিযোগে ঢালিউড অভিনেত্রী নুসরাত ফারিয়ার বিরুদ্ধে ভাটারা থানায় একটি মামলা করা হয়েছিল। যেখানে অভিনেত্রীকে আসামি করা হয়। মামলার নথিতে তাকে আওয়ামী লীগের রাজনীতির অন্যতম অর্থ জোগানদাতা হিসেবেও উল্লেখ করা হয়। এরপর ২০২৫ সালের ১৮ মে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে নুসরাত ফারিয়াকে আটক করা হয়। বাংলাদেশ বিমানের একটি ফ্লাইটে থাইল্যান্ড যাওয়ার সময় ইমিগ্রেশন পুলিশ তাকে আটক করে ভাটারা থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে।

গ্রেফতারের পর তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়। ৪৮ ঘণ্টা কারাবাসের পর অবশেষে সেই অভিজ্ঞতার কথা সামনে আনলেন অভিনেত্রী নুসরাত ফারিয়া। সম্প্রতি রুম্মান রশিদ খানের পডকাস্টে অংশ নিয়ে বিমানবন্দর থেকে নাটকীয়ভাবে গ্রেফতার হওয়া এবং পরবর্তী দুদিনের জেলজীবন তার জীবনের অনেক চেনা মানুষকে নতুন করে চিনিয়েছে বলে জানান অভিনেত্রী।

নুসরাত ফারিয়া বলেন, তার বিরুদ্ধে একটি মামলা হয়েছে— এমন খবর তিনি আগেই শুনেছিলেন। তবে সেই সময় দেশের বাইরে থাকায় বিষয়টি নিয়ে খুব একটা গুরুত্ব দেননি। শুটিংয়ের উদ্দেশ্যে থাইল্যান্ড যাওয়ার সময় বিমানবন্দরে গিয়েই তিনি প্রথম পরিস্থিতির ভয়াবহতা টের পান।

তিনি বলেন, গানের শুটিংয়ের জন্য থাইল্যান্ড যাচ্ছিলাম। ইমিগ্রেশনে যাওয়ার আগ পর্যন্ত ভাবিনি এমন কিছু হতে পারে। পুলিশ যখন আমাকে আটকে দিল, আমি ভেবেছিলাম হয়তো কোনো ভুল হচ্ছে। কিন্তু তারা যখন আমাকে ডিটেনশন রুমে নিয়ে গেল, তখন বুঝতে পারলাম আমি গ্রেফতার হতে যাচ্ছি। মুহূর্তের মধ্যে আমার পৃথিবীটা যেন থমকে গিয়েছিল।

নুসরাত ফারিয়া বলেন, জেলে কাটানো মাত্র দুদিনেই তিনি জীবনের বড় শিক্ষা পেয়েছেন। সবচেয়ে বড় ধাক্কাটি ছিল তার চারপাশের মানুষের আচরণে। এ ঘটনার পর সবচেয়ে কাছের বন্ধুরাও সামাজিক মাধ্যম থেকে তার সঙ্গে থাকা ছবি সরিয়ে ফেলেন।

তিনি বলেন, তারা যেন স্পষ্ট করে দিতে চান— এ মুহূর্তে তার সঙ্গে কোনোভাবে যুক্ত থাকতে চান না। অনেকে যোগাযোগ বন্ধ করে দেন। কারণ তিনি তখন ঝামেলায় ছিলেন। এই মাত্র ৪৮ ঘণ্টাই আমাকে বুঝিয়ে দিয়েছে— কে আমার আপন, আর কে পর।

নুসরাত ফারিয়া বলেন, যাদের জন্য বছরের পর বছর নিঃস্বার্থভাবে সবকিছু উজাড় করে দিয়েছি, সেই মানুষগুলোর অস্তিত্বও নতুন করে চিনেছি। আজ তারা ফিরতে চাইলেও তাদের গ্রহণ করা সম্ভব হবে না। সম্পর্ক, বন্ধুত্ব, আত্মীয়তা— সবখানেই বড় পরিবর্তন দেখেছি।

অভিনেত্রী বলেন, এ ঘটনার পর যাদের সঙ্গেই আমার দেখা হয়েছে, বয়স্ক মানুষ থেকে শুরু করে বাচ্চা পর্যন্ত— সবার চোখেই আমি সেই দৃষ্টি দেখেছি। যেন তারা বলতে চেয়েছে— আমরা তোমার জন্য দোয়া করেছিলাম, আমরা চাইছিলাম তুমি ফিরে এসো। আমরা বুঝতে পেরেছিলাম, সবকিছু ভুল দিকে যাচ্ছে।

একদিন একরাত জেলে থাকা প্রসঙ্গে নুসরাত ফারিয়া বলেন, ইভেন ইনসাইড দেম জেলের ভেতরে জেলারের থেকে শুরু করে সবাই যে সহানুভূতি আর ভালোবাসা দিয়ে আমাকে ট্রিট করেছে, আমি বলব— আমি ভেরি ব্লেসড। এটা পুরোপুরি আলাদা এক অভিজ্ঞতা।

তিনি আরও বলেন, এটা খুব কনফিডেনশিয়াল। তবে সবাই জানুক তা আমি চাই না। কিন্তু আমি রেসপেক্টেড ছিলাম, আমাকে নাইসভাবে ট্রিট করা হয়েছে। কোনো ধরনের ডিসরেসপেক্ট ছিল না, বরং আমি ভালোবাসাই পেয়েছি।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে স্বর্ণপদকজয়ী শিক্ষার্থীদের সাক্ষাৎ

৪৮ ঘণ্টা হাজতবাসের অভিজ্ঞতা সম্পর্কে যা বললেন নুসরাত

আপডেট সময় ০৯:৫১:৫৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

আকাশ বিনোদন ডেস্ক :  

২০২৪ সালের বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর ‘হত্যাচেষ্টা’র অভিযোগে ঢালিউড অভিনেত্রী নুসরাত ফারিয়ার বিরুদ্ধে ভাটারা থানায় একটি মামলা করা হয়েছিল। যেখানে অভিনেত্রীকে আসামি করা হয়। মামলার নথিতে তাকে আওয়ামী লীগের রাজনীতির অন্যতম অর্থ জোগানদাতা হিসেবেও উল্লেখ করা হয়। এরপর ২০২৫ সালের ১৮ মে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে নুসরাত ফারিয়াকে আটক করা হয়। বাংলাদেশ বিমানের একটি ফ্লাইটে থাইল্যান্ড যাওয়ার সময় ইমিগ্রেশন পুলিশ তাকে আটক করে ভাটারা থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে।

গ্রেফতারের পর তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়। ৪৮ ঘণ্টা কারাবাসের পর অবশেষে সেই অভিজ্ঞতার কথা সামনে আনলেন অভিনেত্রী নুসরাত ফারিয়া। সম্প্রতি রুম্মান রশিদ খানের পডকাস্টে অংশ নিয়ে বিমানবন্দর থেকে নাটকীয়ভাবে গ্রেফতার হওয়া এবং পরবর্তী দুদিনের জেলজীবন তার জীবনের অনেক চেনা মানুষকে নতুন করে চিনিয়েছে বলে জানান অভিনেত্রী।

নুসরাত ফারিয়া বলেন, তার বিরুদ্ধে একটি মামলা হয়েছে— এমন খবর তিনি আগেই শুনেছিলেন। তবে সেই সময় দেশের বাইরে থাকায় বিষয়টি নিয়ে খুব একটা গুরুত্ব দেননি। শুটিংয়ের উদ্দেশ্যে থাইল্যান্ড যাওয়ার সময় বিমানবন্দরে গিয়েই তিনি প্রথম পরিস্থিতির ভয়াবহতা টের পান।

তিনি বলেন, গানের শুটিংয়ের জন্য থাইল্যান্ড যাচ্ছিলাম। ইমিগ্রেশনে যাওয়ার আগ পর্যন্ত ভাবিনি এমন কিছু হতে পারে। পুলিশ যখন আমাকে আটকে দিল, আমি ভেবেছিলাম হয়তো কোনো ভুল হচ্ছে। কিন্তু তারা যখন আমাকে ডিটেনশন রুমে নিয়ে গেল, তখন বুঝতে পারলাম আমি গ্রেফতার হতে যাচ্ছি। মুহূর্তের মধ্যে আমার পৃথিবীটা যেন থমকে গিয়েছিল।

নুসরাত ফারিয়া বলেন, জেলে কাটানো মাত্র দুদিনেই তিনি জীবনের বড় শিক্ষা পেয়েছেন। সবচেয়ে বড় ধাক্কাটি ছিল তার চারপাশের মানুষের আচরণে। এ ঘটনার পর সবচেয়ে কাছের বন্ধুরাও সামাজিক মাধ্যম থেকে তার সঙ্গে থাকা ছবি সরিয়ে ফেলেন।

তিনি বলেন, তারা যেন স্পষ্ট করে দিতে চান— এ মুহূর্তে তার সঙ্গে কোনোভাবে যুক্ত থাকতে চান না। অনেকে যোগাযোগ বন্ধ করে দেন। কারণ তিনি তখন ঝামেলায় ছিলেন। এই মাত্র ৪৮ ঘণ্টাই আমাকে বুঝিয়ে দিয়েছে— কে আমার আপন, আর কে পর।

নুসরাত ফারিয়া বলেন, যাদের জন্য বছরের পর বছর নিঃস্বার্থভাবে সবকিছু উজাড় করে দিয়েছি, সেই মানুষগুলোর অস্তিত্বও নতুন করে চিনেছি। আজ তারা ফিরতে চাইলেও তাদের গ্রহণ করা সম্ভব হবে না। সম্পর্ক, বন্ধুত্ব, আত্মীয়তা— সবখানেই বড় পরিবর্তন দেখেছি।

অভিনেত্রী বলেন, এ ঘটনার পর যাদের সঙ্গেই আমার দেখা হয়েছে, বয়স্ক মানুষ থেকে শুরু করে বাচ্চা পর্যন্ত— সবার চোখেই আমি সেই দৃষ্টি দেখেছি। যেন তারা বলতে চেয়েছে— আমরা তোমার জন্য দোয়া করেছিলাম, আমরা চাইছিলাম তুমি ফিরে এসো। আমরা বুঝতে পেরেছিলাম, সবকিছু ভুল দিকে যাচ্ছে।

একদিন একরাত জেলে থাকা প্রসঙ্গে নুসরাত ফারিয়া বলেন, ইভেন ইনসাইড দেম জেলের ভেতরে জেলারের থেকে শুরু করে সবাই যে সহানুভূতি আর ভালোবাসা দিয়ে আমাকে ট্রিট করেছে, আমি বলব— আমি ভেরি ব্লেসড। এটা পুরোপুরি আলাদা এক অভিজ্ঞতা।

তিনি আরও বলেন, এটা খুব কনফিডেনশিয়াল। তবে সবাই জানুক তা আমি চাই না। কিন্তু আমি রেসপেক্টেড ছিলাম, আমাকে নাইসভাবে ট্রিট করা হয়েছে। কোনো ধরনের ডিসরেসপেক্ট ছিল না, বরং আমি ভালোবাসাই পেয়েছি।