আকাশ আন্তর্জাতিক ডেস্ক :
যুক্তরাষ্ট্রের মিনিয়াপলিসে টাউন হল সভা চলাকালীন কংগ্রেস সদস্য ইলহান ওমর এক আকস্মিক হামলার শিকার হয়েছেন।
মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় উত্তর মিনিয়াপলিসে আয়োজিত এই জনসভায় এক ব্যক্তি সিরিঞ্জের মাধ্যমে ইলহান ওমরের দিকে একটি অজ্ঞাত তরল পদার্থ স্প্রে করেন।
তবে এই ঘটনায় তিনি শারীরিকভাবে আঘাতপ্রাপ্ত হননি এবং অত্যন্ত সাহসিকতার সঙ্গে সভা চালিয়ে গেছেন। ওয়াশিংটন পোস্টের প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ইলহান ওমর যখন অভিবাসন সংস্থা ‘আইসিই’ বিলোপ এবং হোমল্যান্ড সিকিউরিটি সেক্রেটারি ক্রিস্টি নোয়েমের পদত্যাগের দাবিতে বক্তব্য রাখছিলেন, ঠিক তখনই সামনের সারিতে থাকা এক ব্যক্তি হঠাৎ দাঁড়িয়ে তাঁর দিকে তেড়ে আসেন। ৫৫ বছর বয়সি ওই আততায়ী একটি সিরিঞ্জ দিয়ে ইলহানের দিকে বাদামী রঙের তীব্র গন্ধযুক্ত তরল ছিটিয়ে দেন। উপস্থিত নিরাপত্তা কর্মীরা তাৎক্ষণিকভাবে ওই ব্যক্তিকে জাপটে ধরেন এবং পুলিশ তাকে তৃতীয় মাত্রার লাঞ্ছনার অভিযোগে গ্রেফতার করে কাউন্টি জেলে পাঠায়।
ঘটনার পর সভাস্থলে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়লেও ইলহান ওমর শান্ত থেকে পুনরায় পোডিয়ামে ফিরে আসেন। তিনি উপস্থিত সমর্থকদের উদ্দেশ্যে বলেন, এই ধরনের ভীরু আচরণের কাছে তিনি মাথা নত করবেন না এবং মিনেসোটার মানুষ যে কোনো ভয়ভীতি মোকাবিলায় শক্তিশালী।
পরবর্তীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স-এ তিনি জানান যে তিনি ভালো আছেন এবং একজন ‘সারভাইভার’ হিসেবে এ ধরনের উসকানি তাঁকে তাঁর কাজ থেকে বিচ্যুত করতে পারবে না।
মিনিয়াপলিসের মেয়র জ্যাকব ফ্রে এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেছেন যে রাজনীতিতে মতপার্থক্য থাকতে পারে কিন্তু সহিংসতা ও ভীতি প্রদর্শনের কোনো স্থান নেই।
অন্যদিকে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ওই দিনই আইওয়াতে এক সভায় ইলহান ওমরের কড়া সমালোচনা করায় ডেমোক্র্যাট নেতারা এই হামলার পেছনে উসকানিমূলক রাজনৈতিক বক্তৃতাকে দায়ী করছেন। সম্প্রতি মিনিয়াপলিসে ফেডারেল এজেন্টদের গুলিতে এক নার্স নিহতের ঘটনায় সৃষ্ট চরম উত্তেজনার মধ্যেই ইলহান ওমরের ওপর এই হামলার ঘটনাটি ঘটল।
আকাশ নিউজ ডেস্ক 



















