ঢাকা ০৩:৪৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ৯ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
স্মরণকালের সেরা দুর্গাপূজা উপহার দিলেন দেশনায়ক  তারেক রহমান ঢাকার বাস টার্মিনাল ও অটোরিকশা নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর কাছে সোহেল গরিবের বিচার, ধনীর বিচার এক করতে হবে —এটাই তারেক রহমানের নতুন বাংলাদেশ আইএইচএফ নেশনস ট্রফিতে ভারতের কাছে হেরে রানার্সআপ বাংলাদেশ কাতার, তুরস্ক, পাকিস্তান ও ইন্দোনেশিয়ার ঐতিহাসিক বদর প্রতিরক্ষা চুক্তি দ্বিগুণ যাত্রী সামলাতে হিমশিম দেশের বিমানবন্দরগুলো মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তির মূল দলিল পেশ করলো তুরস্ক সাইবার আইনে মতপ্রকাশ ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতা হুমকিতে ফাঁসের ঘটনায় বিএআরসির সহকারী পরিচালক আটক: যুব উন্নয়নের ৪৫তম বিসিএসে গেজেট থেকে বাদ: অনিশ্চিত জীবনে ৫৬ মেধাবী

মালয়েশিয়ায় অভিবাসী পাচারের ‘সেফ হাউস’ থেকে ৭ বাংলাদেশি আটক

আকাশ নিউজ ডেস্ক :

অবৈধভাবে অভিবাসী পাচারের কাজে ব্যবহৃত একটি ‘সেফ হাউস’ থেকে সাত বাংলাদেশিকে আটক করেছে মালয়েশিয়ার ইমিগ্রেশন বিভাগ (জেআইএম)।

মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) রাজধানীর তামান মালুরি এলাকায় পরিচালিত এক বিশেষ অভিযানে তাদের আটক করা হয়।

মালয়েশিয়ার ইমিগ্রেশন বিভাগের মহাপরিচালক দাতুক জাকারিয়া শাবান জানান, মঙ্গলবার পরিচালিত ওই অভিযানে একটি সার্ভিসড অ্যাপার্টমেন্ট থেকে পাঁচ পুরুষকে আটক করা হয়, যাদের বয়স ২৭ থেকে ৪৪ বছরের মধ্যে। তারা সবাই পাচার হয়ে আসা অভিবাসী বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। এ ছাড়া আরও দুজনকে আটক করা হয়েছে, যাদের বয়স যথাক্রমে ৫৬ ও ২৮ বছর। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, এদের একজন ‘সেফ হাউস’-এর তত্ত্বাবধায়ক এবং অপরজন পাচারচক্রের পরিবহণ (ট্রান্সপোর্টার) হিসেবে কাজ করছিল।

ইমিগ্রেশন মহাপরিচালক জানান, আটক অভিবাসীদের পাসপোর্ট পরীক্ষা করে দেখা গেছে, সেগুলোতে মালয়েশিয়ায় বৈধভাবে প্রবেশের কোনো অনুমোদিত সিল বা প্রবেশের ছাপ নেই। ধারণা করা হচ্ছে, তারা কেলান্তান সীমান্ত দিয়ে অবৈধ পথ বা তথাকথিত ‘ইঁদুরপথ’ ব্যবহার করে মালয়েশিয়ায় প্রবেশ করেছে।

তিনি আরও বলেন, গোয়েন্দা তথ্যে জানা গেছে, আটক অভিবাসীদের সঙ্গে ‘সিন্ডিকেট ইকবাল’-এর সংশ্লিষ্টতা রয়েছে। সম্প্রতি কেলান্তানে এই চক্রের বিরুদ্ধে সফল অভিযান চালিয়ে ইমিগ্রেশন বিভাগ।

তদন্তে উঠে এসেছে, পাচারচক্রটি মূলত স্থলপথ ব্যবহার করে অভিবাসী পাচারের কাজ চালিয়ে আসছিল। তামান মালুরির ওই অ্যাপার্টমেন্টটি পূর্ব উপকূল দিয়ে সদ্য প্রবেশ করা অভিবাসীদের জন্য অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্র বা ‘সেফ হাউস’ হিসেবে ব্যবহৃত হতো। পরে তাদের মালয়েশিয়ার বিভিন্ন গন্তব্যে পাঠানো হতো।

আটক সবাইকে পরবর্তী তদন্তের জন্য পুত্রজায়ায় ইমিগ্রেশন বিভাগের সদর দপ্তরে নেওয়া হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে মানব পাচার ও অভিবাসী পাচারবিরোধী আইন ২০০৭ (এটিপিসম আইন ৬৭০) এবং ইমিগ্রেশন আইন ১৯৫৯/৬৩ (আইন ১৫৫)-এর আওতায় তদন্ত চলছে।

দাতুক জাকারিয়া শাবান জোর দিয়ে বলেন, অবৈধ অভিবাসী পাচার ও মানব পাচারের বিরুদ্ধে ইমিগ্রেশন বিভাগ কোনো আপস ছাড়াই কাজ করে যাবে। যারা অবৈধ অভিবাসীদের আশ্রয়, নিয়োগ বা সহায়তা দেবে—চক্র, নিয়োগকর্তা কিংবা সম্পত্তির মালিক—সবার বিরুদ্ধেই কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

চুয়াডাঙ্গায় দুই পাম্পে তেল সম্পদ সংক্রান্ত ঘটনায়: ধাওয়া করে

মালয়েশিয়ায় অভিবাসী পাচারের ‘সেফ হাউস’ থেকে ৭ বাংলাদেশি আটক

আপডেট সময় ১০:০০:১৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ জানুয়ারী ২০২৬

আকাশ নিউজ ডেস্ক :

অবৈধভাবে অভিবাসী পাচারের কাজে ব্যবহৃত একটি ‘সেফ হাউস’ থেকে সাত বাংলাদেশিকে আটক করেছে মালয়েশিয়ার ইমিগ্রেশন বিভাগ (জেআইএম)।

মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) রাজধানীর তামান মালুরি এলাকায় পরিচালিত এক বিশেষ অভিযানে তাদের আটক করা হয়।

মালয়েশিয়ার ইমিগ্রেশন বিভাগের মহাপরিচালক দাতুক জাকারিয়া শাবান জানান, মঙ্গলবার পরিচালিত ওই অভিযানে একটি সার্ভিসড অ্যাপার্টমেন্ট থেকে পাঁচ পুরুষকে আটক করা হয়, যাদের বয়স ২৭ থেকে ৪৪ বছরের মধ্যে। তারা সবাই পাচার হয়ে আসা অভিবাসী বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। এ ছাড়া আরও দুজনকে আটক করা হয়েছে, যাদের বয়স যথাক্রমে ৫৬ ও ২৮ বছর। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, এদের একজন ‘সেফ হাউস’-এর তত্ত্বাবধায়ক এবং অপরজন পাচারচক্রের পরিবহণ (ট্রান্সপোর্টার) হিসেবে কাজ করছিল।

ইমিগ্রেশন মহাপরিচালক জানান, আটক অভিবাসীদের পাসপোর্ট পরীক্ষা করে দেখা গেছে, সেগুলোতে মালয়েশিয়ায় বৈধভাবে প্রবেশের কোনো অনুমোদিত সিল বা প্রবেশের ছাপ নেই। ধারণা করা হচ্ছে, তারা কেলান্তান সীমান্ত দিয়ে অবৈধ পথ বা তথাকথিত ‘ইঁদুরপথ’ ব্যবহার করে মালয়েশিয়ায় প্রবেশ করেছে।

তিনি আরও বলেন, গোয়েন্দা তথ্যে জানা গেছে, আটক অভিবাসীদের সঙ্গে ‘সিন্ডিকেট ইকবাল’-এর সংশ্লিষ্টতা রয়েছে। সম্প্রতি কেলান্তানে এই চক্রের বিরুদ্ধে সফল অভিযান চালিয়ে ইমিগ্রেশন বিভাগ।

তদন্তে উঠে এসেছে, পাচারচক্রটি মূলত স্থলপথ ব্যবহার করে অভিবাসী পাচারের কাজ চালিয়ে আসছিল। তামান মালুরির ওই অ্যাপার্টমেন্টটি পূর্ব উপকূল দিয়ে সদ্য প্রবেশ করা অভিবাসীদের জন্য অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্র বা ‘সেফ হাউস’ হিসেবে ব্যবহৃত হতো। পরে তাদের মালয়েশিয়ার বিভিন্ন গন্তব্যে পাঠানো হতো।

আটক সবাইকে পরবর্তী তদন্তের জন্য পুত্রজায়ায় ইমিগ্রেশন বিভাগের সদর দপ্তরে নেওয়া হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে মানব পাচার ও অভিবাসী পাচারবিরোধী আইন ২০০৭ (এটিপিসম আইন ৬৭০) এবং ইমিগ্রেশন আইন ১৯৫৯/৬৩ (আইন ১৫৫)-এর আওতায় তদন্ত চলছে।

দাতুক জাকারিয়া শাবান জোর দিয়ে বলেন, অবৈধ অভিবাসী পাচার ও মানব পাচারের বিরুদ্ধে ইমিগ্রেশন বিভাগ কোনো আপস ছাড়াই কাজ করে যাবে। যারা অবৈধ অভিবাসীদের আশ্রয়, নিয়োগ বা সহায়তা দেবে—চক্র, নিয়োগকর্তা কিংবা সম্পত্তির মালিক—সবার বিরুদ্ধেই কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।