ঢাকা ০৫:০৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২১ জানুয়ারী ২০২৬, ৭ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
বাগেরহাটে প্রার্থিতা প্রত্যাহার করলেন মামুনুল হক ক্ষমতায় গেলে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খনন হবে: তারেক রহমান বাংলাদেশের পরিবর্তনে গনভোটে হ্যাঁ ভোট জরুরি: সাখাওয়াত হোসেন পোস্টাল ভোট সফল করতে পারলে বাংলাদেশের নাম ওয়ার্ল্ড হিস্ট্রিতে থাকবে: সিইসি ঢাকায় ফ্ল্যাট পাচ্ছে ওসমান হাদির পরিবার ইসির আচরণ ও কর্মকাণ্ড সন্দেহজনক : রিজভী নির্বাচনের আগেই লুট হওয়া অস্ত্র উদ্ধার করতে হবে: প্রধান উপদেষ্টা ‘না’ ভোট দেওয়া মানেই স্বৈরাচারের পক্ষে দাঁড়ানো: শারমীন মুরশিদ নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করার যেকোনো অপচেষ্টা মোকাবিলায় প্রশাসনকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে হবে : পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বস্তিবাসীদের জন্য উন্নত শিক্ষা ও চিকিৎসা নিশ্চিত করা হবে: তারেক রহমান

নাইজেরিয়ায় গির্জায় হামলা চালিয়ে ১৬৩ জনকে অপহরণ

আকাশ আন্তর্জাতিক ডেস্ক :

নাইজেরিয়ার উত্তরাঞ্চলীয় কাদুনা রাজ্যে দুটি গির্জায় হামলা চালিয়ে অন্তত ১৬৩ জন পুণ্যার্থীকে অপহরণ করেছে সশস্ত্র বন্দুকধারীরা। গত রোববার সাপ্তাহিক প্রার্থনা চলাকালে এই অপহরণের ঘটনা ঘটে।

সোমবার (১৯ জানুয়ারি) এক যাজক বার্তা সংস্থা এএফপিকে এ তথ্য জানিয়েছেন। খবর ডয়চে ভেলে’র।

নাইজেরিয়ার উত্তরের খ্রিষ্টান অ্যাসোসিয়েশনের প্রধান রেভারেন্ড জোসেফ হায়াব বলেন, ‘হামলাকারীরা বিপুল সংখ্যায় এসে গির্জার প্রবেশপথগুলো বন্ধ করে দেয় এবং পুণ্যার্থীদের জোর করে পাশের ঝোপঝাড়ের দিকে নিয়ে যায়।’

জোসেফ হায়াব বলেন, মোট ১৭২ জনকে ধরে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। তবে ৯ জন পালিয়ে আসতে সক্ষম হন। বর্তমানে ১৬৩ জন অপহরণকারীদের জিম্মায় রয়েছেন।

ইশাকু দানআজুমি নামের স্থানীয় এক গ্রামপ্রধান জানিয়েছেন, ওই দিন কুরমিন ওয়ালি গ্রামের তিনটি গির্জা থেকে মোট ১৬৬ জনকে ধরে নিয়ে যাওয়া হয়। তিনি অভিযোগ করে, ‘কেবল রাজনীতিবিদেরাই আমাদের লোকজনকে অপহরণের বিষয়টি অস্বীকার করছেন।’

তবে কাদুনা রাজ্য পুলিশ ও নিরাপত্তা কর্মকর্তারা এই অপহরণের দাবি প্রত্যাখ্যান করেছেন। রাজ্য পুলিশ কমিশনার মুহাম্মদ রাবিউ স্থানীয় একটি টিভি চ্যানেলে বলেন, এখন পর্যন্ত অপহরণের কোনো প্রমাণ তাঁদের কাছে নেই। রাজ্যের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা কমিশনার সুলে শাউইবু এই ঘটনাকে ‘সম্পূর্ণ মিথ্যা’ বলে অভিহিত করেছেন।

গ্রামপ্রধান ইশাকু জানান, তার এলাকার মানুষ দীর্ঘদিন ধরে বন্দুকধারীদের আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন। অপহরণের ভয়ে চাষাবাদও কমে গেছে। তিনি বলেন, ‘আগে ১০ থেকে ২০ জন অপহৃত হলে আমরা নিজেরাই মুক্তিপণের টাকা তুলে তাদের ছাড়িয়ে আনতাম। কিন্তু এবার অপহৃতের সংখ্যা এত বেশি যে আমাদের আর কিছু করার নেই। তাই আমরা কর্তৃপক্ষের দ্বারস্থ হয়েছি।’

বিশেষজ্ঞদের মতে, নাইজেরিয়ায় অপহরণ এখন একটি ‘লাভজনক পেশায়’ পরিণত হয়েছে। সম্প্রতি এক প্রতিবেদনে দেখা গেছে, ২০২৪ সালের জুলাই থেকে ২০২৫ সালের জুনের মধ্যে দেশটিতে সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো প্রায় ১৬ লাখ ৬০ হাজার ডলার মুক্তিপণ আদায় করেছে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

নাইজেরিয়ায় গির্জায় হামলা চালিয়ে ১৬৩ জনকে অপহরণ

আপডেট সময় ০১:৪৯:৫৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ জানুয়ারী ২০২৬

আকাশ আন্তর্জাতিক ডেস্ক :

নাইজেরিয়ার উত্তরাঞ্চলীয় কাদুনা রাজ্যে দুটি গির্জায় হামলা চালিয়ে অন্তত ১৬৩ জন পুণ্যার্থীকে অপহরণ করেছে সশস্ত্র বন্দুকধারীরা। গত রোববার সাপ্তাহিক প্রার্থনা চলাকালে এই অপহরণের ঘটনা ঘটে।

সোমবার (১৯ জানুয়ারি) এক যাজক বার্তা সংস্থা এএফপিকে এ তথ্য জানিয়েছেন। খবর ডয়চে ভেলে’র।

নাইজেরিয়ার উত্তরের খ্রিষ্টান অ্যাসোসিয়েশনের প্রধান রেভারেন্ড জোসেফ হায়াব বলেন, ‘হামলাকারীরা বিপুল সংখ্যায় এসে গির্জার প্রবেশপথগুলো বন্ধ করে দেয় এবং পুণ্যার্থীদের জোর করে পাশের ঝোপঝাড়ের দিকে নিয়ে যায়।’

জোসেফ হায়াব বলেন, মোট ১৭২ জনকে ধরে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। তবে ৯ জন পালিয়ে আসতে সক্ষম হন। বর্তমানে ১৬৩ জন অপহরণকারীদের জিম্মায় রয়েছেন।

ইশাকু দানআজুমি নামের স্থানীয় এক গ্রামপ্রধান জানিয়েছেন, ওই দিন কুরমিন ওয়ালি গ্রামের তিনটি গির্জা থেকে মোট ১৬৬ জনকে ধরে নিয়ে যাওয়া হয়। তিনি অভিযোগ করে, ‘কেবল রাজনীতিবিদেরাই আমাদের লোকজনকে অপহরণের বিষয়টি অস্বীকার করছেন।’

তবে কাদুনা রাজ্য পুলিশ ও নিরাপত্তা কর্মকর্তারা এই অপহরণের দাবি প্রত্যাখ্যান করেছেন। রাজ্য পুলিশ কমিশনার মুহাম্মদ রাবিউ স্থানীয় একটি টিভি চ্যানেলে বলেন, এখন পর্যন্ত অপহরণের কোনো প্রমাণ তাঁদের কাছে নেই। রাজ্যের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা কমিশনার সুলে শাউইবু এই ঘটনাকে ‘সম্পূর্ণ মিথ্যা’ বলে অভিহিত করেছেন।

গ্রামপ্রধান ইশাকু জানান, তার এলাকার মানুষ দীর্ঘদিন ধরে বন্দুকধারীদের আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন। অপহরণের ভয়ে চাষাবাদও কমে গেছে। তিনি বলেন, ‘আগে ১০ থেকে ২০ জন অপহৃত হলে আমরা নিজেরাই মুক্তিপণের টাকা তুলে তাদের ছাড়িয়ে আনতাম। কিন্তু এবার অপহৃতের সংখ্যা এত বেশি যে আমাদের আর কিছু করার নেই। তাই আমরা কর্তৃপক্ষের দ্বারস্থ হয়েছি।’

বিশেষজ্ঞদের মতে, নাইজেরিয়ায় অপহরণ এখন একটি ‘লাভজনক পেশায়’ পরিণত হয়েছে। সম্প্রতি এক প্রতিবেদনে দেখা গেছে, ২০২৪ সালের জুলাই থেকে ২০২৫ সালের জুনের মধ্যে দেশটিতে সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো প্রায় ১৬ লাখ ৬০ হাজার ডলার মুক্তিপণ আদায় করেছে।