ঢাকা ০৫:০০ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৫ জুলাই ২০২৬, ১০ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
অবশেষে ভারতের শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ সাংবাদিকের কাজ তথ্য দেওয়া, অ্যাক্টিভিস্ট হওয়া নয়: তথ্যমন্ত্রী রাজনৈতিক বিতর্ক নয়, গবেষণা ও উদ্ভাবনে গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান স্থানীয় সরকার মন্ত্রীর নওগাঁর ছাত্রাবাসে মিললো কলেজ শিক্ষার্থীর ঝুলন্ত মরদেহ জুলাই অভ্যুত্থানে পেশাজীবীদের সক্রিয় ভুমিকা ছিল: দুদু ইসলামী আন্দোলনকে ধ্বংসের ষড়যন্ত্র করা হয়েছিলো: গাজী আতাউর রহমান পরবর্তী রাষ্ট্রপতি কে হবেন, সিদ্ধান্ত বিএনপির নীতিনির্ধারণী ফোরামে: রিজভী সেমিকন্ডাক্টর শিল্পই হতে পারে নতুন অর্থনৈতিক সম্ভাবনাময় খাত: প্রধানমন্ত্রী রাশিয়ার ড্রোন হামলায় ইউক্রেনে নিহত ২ সব বাধা অতিক্রম করে দেশকে এগিয়ে নিতে চায় সরকার: প্রধানমন্ত্রী

যে গ্রামে দোকান চলে দোকানদার ছাড়াই

আকাশ নিউজ ডেস্ক :

নাগাল্যান্ডের পাহাড়ঘেরা খোনোমা গ্রাম বিশেষভাবে নজর কাড়ে মানুষের জীবনধারা ও পারস্পরিক বিশ্বাসের কারণে। এখানে এমন দোকান আছে, যেখানে কোনো দোকানদার নেই, তবু দিনের পর দিন ঠিকঠাক চলে।

খোনোমা কোনো পরিচিত পর্যটন স্পট নয়। শহরের কোলাহল বা আধুনিক পর্যটনকেন্দ্রের ঝলমলে পরিবেশ নেই। তবে যারা প্রকৃতির কাছাকাছি থাকতে চান এবং দায়িত্বশীল জীবনযাপনের উদাহরণ দেখতে চান, তাদের জন্য খোনোমা ভিন্নরকম অভিজ্ঞতা দিতে পারে।

গ্রামটি সবুজ, পরিচ্ছন্ন এবং শান্ত। এখানে চুরি বা অসৎ আচরণের ভয় নেই। ১৯৯৮ সালে খোনোমা নেচার কনজারভেশন অ্যান্ড ট্র্যাগোপান স্যাংচুয়ারি প্রতিষ্ঠার পর এটি ভারতের প্রথম সবুজ গ্রাম হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে।

প্রায় ২০ বর্গকিলোমিটার এলাকায় বিস্তৃত এই গ্রামে প্রধানত আংগামি নাগা জনগোষ্ঠীর বসবাস। শিকার নিষিদ্ধ হওয়ার পর মানুষ বন সংরক্ষণ, কৃষিকাজ ও পশুপালনে বেশি মনোযোগ দেয়। ২০১১ সালের আদমশুমারি অনুযায়ী, গ্রামে প্রায় এক হাজার ৯০০ জন বাস করেন।

খোনোমার সবচেয়ে আলোচিত বিষয় হলো দোকান ব্যবস্থা। এখানে অনেক দোকানেই কোনো দোকানদার নেই। ক্রেতারা প্রয়োজন অনুযায়ী পণ্য নিয়ে নির্ধারিত টাকা রেখে যায়। গ্রামবাসীর মধ্যে পারস্পরিক আস্থা এতটাই দৃঢ় যে কেউ প্রতারণার কথা ভাবতেই পারে না। অনেক বাড়িতেই তালা থাকে না, এবং কমিউনিটি লাইব্রেরি থেকে যে কেউ বই নিয়ে পড়তে পারে।

পর্যটকদের জন্য খোনোমা দেখার মতো অনেক কিছু রয়েছে। পাহাড়ি প্রকৃতি, সবুজ বন এবং নিরিবিলি পরিবেশে হাঁটা বা ট্রেকিং করা যায়। খোনোমা ফোর্ট ঐতিহাসিক দিক থেকেও গুরুত্বপূর্ণ। উনিশ শতকে আংগামি নাগারা ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিলেন।

খোনোমা গ্রাম দেখিয়ে দেয়, বিশ্বাস, সততা এবং সামাজিক দায়বদ্ধতা থাকলে সমাজকে কত সুন্দরভাবে এগিয়ে নেওয়া যায়। দোকানদার ছাড়াই দোকান, পরিবেশ সংরক্ষণ বা কমিউনিটি উদ্যোগ—প্রতিটি ক্ষেত্রে খোনোমা ব্যতিক্রমী উদাহরণ। ব্যস্ত আধুনিক জীবনে যখন মানবিক মূল্যবোধ ক্রমে হারিয়ে যাচ্ছে, তখন খোনোমা নতুন করে ভাবতে শেখায় যে উন্নয়ন মানে কেবল কংক্রিটের শহর নয়।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

অবশেষে ভারতের শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ

যে গ্রামে দোকান চলে দোকানদার ছাড়াই

আপডেট সময় ১০:২৭:০৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৯ জানুয়ারী ২০২৬

আকাশ নিউজ ডেস্ক :

নাগাল্যান্ডের পাহাড়ঘেরা খোনোমা গ্রাম বিশেষভাবে নজর কাড়ে মানুষের জীবনধারা ও পারস্পরিক বিশ্বাসের কারণে। এখানে এমন দোকান আছে, যেখানে কোনো দোকানদার নেই, তবু দিনের পর দিন ঠিকঠাক চলে।

খোনোমা কোনো পরিচিত পর্যটন স্পট নয়। শহরের কোলাহল বা আধুনিক পর্যটনকেন্দ্রের ঝলমলে পরিবেশ নেই। তবে যারা প্রকৃতির কাছাকাছি থাকতে চান এবং দায়িত্বশীল জীবনযাপনের উদাহরণ দেখতে চান, তাদের জন্য খোনোমা ভিন্নরকম অভিজ্ঞতা দিতে পারে।

গ্রামটি সবুজ, পরিচ্ছন্ন এবং শান্ত। এখানে চুরি বা অসৎ আচরণের ভয় নেই। ১৯৯৮ সালে খোনোমা নেচার কনজারভেশন অ্যান্ড ট্র্যাগোপান স্যাংচুয়ারি প্রতিষ্ঠার পর এটি ভারতের প্রথম সবুজ গ্রাম হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে।

প্রায় ২০ বর্গকিলোমিটার এলাকায় বিস্তৃত এই গ্রামে প্রধানত আংগামি নাগা জনগোষ্ঠীর বসবাস। শিকার নিষিদ্ধ হওয়ার পর মানুষ বন সংরক্ষণ, কৃষিকাজ ও পশুপালনে বেশি মনোযোগ দেয়। ২০১১ সালের আদমশুমারি অনুযায়ী, গ্রামে প্রায় এক হাজার ৯০০ জন বাস করেন।

খোনোমার সবচেয়ে আলোচিত বিষয় হলো দোকান ব্যবস্থা। এখানে অনেক দোকানেই কোনো দোকানদার নেই। ক্রেতারা প্রয়োজন অনুযায়ী পণ্য নিয়ে নির্ধারিত টাকা রেখে যায়। গ্রামবাসীর মধ্যে পারস্পরিক আস্থা এতটাই দৃঢ় যে কেউ প্রতারণার কথা ভাবতেই পারে না। অনেক বাড়িতেই তালা থাকে না, এবং কমিউনিটি লাইব্রেরি থেকে যে কেউ বই নিয়ে পড়তে পারে।

পর্যটকদের জন্য খোনোমা দেখার মতো অনেক কিছু রয়েছে। পাহাড়ি প্রকৃতি, সবুজ বন এবং নিরিবিলি পরিবেশে হাঁটা বা ট্রেকিং করা যায়। খোনোমা ফোর্ট ঐতিহাসিক দিক থেকেও গুরুত্বপূর্ণ। উনিশ শতকে আংগামি নাগারা ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিলেন।

খোনোমা গ্রাম দেখিয়ে দেয়, বিশ্বাস, সততা এবং সামাজিক দায়বদ্ধতা থাকলে সমাজকে কত সুন্দরভাবে এগিয়ে নেওয়া যায়। দোকানদার ছাড়াই দোকান, পরিবেশ সংরক্ষণ বা কমিউনিটি উদ্যোগ—প্রতিটি ক্ষেত্রে খোনোমা ব্যতিক্রমী উদাহরণ। ব্যস্ত আধুনিক জীবনে যখন মানবিক মূল্যবোধ ক্রমে হারিয়ে যাচ্ছে, তখন খোনোমা নতুন করে ভাবতে শেখায় যে উন্নয়ন মানে কেবল কংক্রিটের শহর নয়।