ঢাকা ০৭:৪৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারী ২০২৬, ৩ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

আফগানিস্তানে আইএস কে মদদ দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র: হামিদ কারজাই

অাকাশ আর্ন্তজাতিক ডেস্ক:

যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থার নজরদারির মধ্যেই গত তিন/চার বছরে আফগানিস্তানে ইসলামিক স্টেটের (আইএস) উত্থান হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক আফগান প্রেসিডেন্ট হামিদ কারজাই। শুধু উত্থান নয় বরং আফগানিস্তানে অবস্থিত মার্কিন সেনাঘাঁটি থেকে দেশটির আইএস’কে মদদ দেওয়া হচ্ছে বলেও সন্দেহ প্রকাশ করেছেন তিনি।

লন্ডনে ‘রাশিয়া টুডে’ কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে কারজাই বলেন, “আমি আফগান জনগণের কাছ থেকে প্রতিদিনের খবরাখবর পাই। তারা জানিয়েছে, আফগানিস্তানের কয়েকটি এলাকায় অজ্ঞাত সামরিক হেলিকপ্টার থেকে আইএস’কে রসদ সরবরাহ করা হচ্ছে।”

“জঙ্গি প্রতিরোধে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার খরচ করার পরও নাইন-ইলেভেন থেকে আজ পর্যন্ত আফগানিস্তানে চরমপন্থির সংখ্যা শুধু বেড়েছে।” বিষয়টি নিয়ে আফগানিস্তানের জনগণ উদ্বিগ্ন জানিয়ে তিনি আরও বলেন, “জনগণের মনে এখন এই প্রশ্নই ঘুরপাক খাচ্ছে, যদি সন্ত্রাস প্রতিরোধেই যুক্তরাষ্ট্র আফানিস্তানেআসে তবে কেন আজ আমাদের দেশে এত বেশি জঙ্গি?” “আমরা আমাদের দেশে মারাত্মক প্রাণঘাতী অস্ত্রের বিস্ফোরণ হতে দেখতে চাই না। আমরা শান্তি চাই।”

কারজাই বলেন, নিজেদের শক্তি প্রদর্শনের জন্য যুক্তরাষ্ট্র উত্তর কোরিয়াকে এমওএবি ব্যবহারের ইঙ্গিত দিয়েছে। অথচ আফগান জনগণকে এ নিষ্ঠুরতার মধ্য দিয়ে যেতেহয়েছে। এ বছর ১৩ এপ্রিল আফগানিস্তানের পূর্বাঞ্চলে একটি সুড়ঙ্গে অপারমাণবিক বোমা এমওএবির (মাদার অব অল বোম্বস) বিস্ফোরণ ঘটায় যুক্তরাষ্ট্র। তাদের দাবি আইএসজঙ্গিরা ওই সুড়ঙ্গটি ব্যবহার করত। কোনও যুদ্ধক্ষেত্রে এ ধরনের অস্ত্রের ব্যবহার এটাই প্রথম।

“সামরিক অভিযান, বিশেষ করে বিদেশি সেনাদের অভিযান শান্তি আনতে পারবে না। আফগান সংকটের সমাধানে এখন সকলের কাছে পৌঁছাতে সক্ষম এমন একটিঐক্যমতের পরিস্থিতি সৃষ্টি করা প্রয়োজন। এমনকি ‘দেশের সন্তান’ তালেবানের কাছেও।”

আফগানিস্তানে শান্তি আনতে চীন, রাশিয়া, পাকিস্তান ও ভারতের সঙ্গে মিলে যুক্তরাষ্ট্রকে ওই অঞ্চলে সহযোগিতামূলক আচরণ করতে হবে বলেও পরামর্শ দেন কারজাই। পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়ে তিনি বলেন, “আমাদেরকে পাকিস্তানের সঙ্গে মিলেই বাঁচতে হবে। যদিও তাদের সঙ্গে আমাদের সম্পর্কের বৈপরীত্যের শক্ত দুইটি কারণআছে।” “যখন আমরা শরণার্থী হয়েছিলাম তখন পাকিস্তানের জনগণ আমাদের স্বাগত জানিয়েছিল। কিন্তু তারা একই সঙ্গে (সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নের বিরুদ্ধে) মুজাহিদদেরভয়ঙ্কর কর্মকাণ্ডের সমর্থন দিয়ে আমাদের সমাজের ভিত দুর্বল করে দিয়েছে।”

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

পোস্টাল ভোটে অনিয়ম করলে প্রবাসীদের দেশে ফেরত আনার হুঁশিয়ারি ইসির

আফগানিস্তানে আইএস কে মদদ দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র: হামিদ কারজাই

আপডেট সময় ১২:১১:৩৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৯ অক্টোবর ২০১৭

অাকাশ আর্ন্তজাতিক ডেস্ক:

যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থার নজরদারির মধ্যেই গত তিন/চার বছরে আফগানিস্তানে ইসলামিক স্টেটের (আইএস) উত্থান হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক আফগান প্রেসিডেন্ট হামিদ কারজাই। শুধু উত্থান নয় বরং আফগানিস্তানে অবস্থিত মার্কিন সেনাঘাঁটি থেকে দেশটির আইএস’কে মদদ দেওয়া হচ্ছে বলেও সন্দেহ প্রকাশ করেছেন তিনি।

লন্ডনে ‘রাশিয়া টুডে’ কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে কারজাই বলেন, “আমি আফগান জনগণের কাছ থেকে প্রতিদিনের খবরাখবর পাই। তারা জানিয়েছে, আফগানিস্তানের কয়েকটি এলাকায় অজ্ঞাত সামরিক হেলিকপ্টার থেকে আইএস’কে রসদ সরবরাহ করা হচ্ছে।”

“জঙ্গি প্রতিরোধে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার খরচ করার পরও নাইন-ইলেভেন থেকে আজ পর্যন্ত আফগানিস্তানে চরমপন্থির সংখ্যা শুধু বেড়েছে।” বিষয়টি নিয়ে আফগানিস্তানের জনগণ উদ্বিগ্ন জানিয়ে তিনি আরও বলেন, “জনগণের মনে এখন এই প্রশ্নই ঘুরপাক খাচ্ছে, যদি সন্ত্রাস প্রতিরোধেই যুক্তরাষ্ট্র আফানিস্তানেআসে তবে কেন আজ আমাদের দেশে এত বেশি জঙ্গি?” “আমরা আমাদের দেশে মারাত্মক প্রাণঘাতী অস্ত্রের বিস্ফোরণ হতে দেখতে চাই না। আমরা শান্তি চাই।”

কারজাই বলেন, নিজেদের শক্তি প্রদর্শনের জন্য যুক্তরাষ্ট্র উত্তর কোরিয়াকে এমওএবি ব্যবহারের ইঙ্গিত দিয়েছে। অথচ আফগান জনগণকে এ নিষ্ঠুরতার মধ্য দিয়ে যেতেহয়েছে। এ বছর ১৩ এপ্রিল আফগানিস্তানের পূর্বাঞ্চলে একটি সুড়ঙ্গে অপারমাণবিক বোমা এমওএবির (মাদার অব অল বোম্বস) বিস্ফোরণ ঘটায় যুক্তরাষ্ট্র। তাদের দাবি আইএসজঙ্গিরা ওই সুড়ঙ্গটি ব্যবহার করত। কোনও যুদ্ধক্ষেত্রে এ ধরনের অস্ত্রের ব্যবহার এটাই প্রথম।

“সামরিক অভিযান, বিশেষ করে বিদেশি সেনাদের অভিযান শান্তি আনতে পারবে না। আফগান সংকটের সমাধানে এখন সকলের কাছে পৌঁছাতে সক্ষম এমন একটিঐক্যমতের পরিস্থিতি সৃষ্টি করা প্রয়োজন। এমনকি ‘দেশের সন্তান’ তালেবানের কাছেও।”

আফগানিস্তানে শান্তি আনতে চীন, রাশিয়া, পাকিস্তান ও ভারতের সঙ্গে মিলে যুক্তরাষ্ট্রকে ওই অঞ্চলে সহযোগিতামূলক আচরণ করতে হবে বলেও পরামর্শ দেন কারজাই। পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়ে তিনি বলেন, “আমাদেরকে পাকিস্তানের সঙ্গে মিলেই বাঁচতে হবে। যদিও তাদের সঙ্গে আমাদের সম্পর্কের বৈপরীত্যের শক্ত দুইটি কারণআছে।” “যখন আমরা শরণার্থী হয়েছিলাম তখন পাকিস্তানের জনগণ আমাদের স্বাগত জানিয়েছিল। কিন্তু তারা একই সঙ্গে (সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নের বিরুদ্ধে) মুজাহিদদেরভয়ঙ্কর কর্মকাণ্ডের সমর্থন দিয়ে আমাদের সমাজের ভিত দুর্বল করে দিয়েছে।”