ঢাকা ০৫:২১ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারী ২০২৬, ২ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

দেশে কার হাতে ডলারের নিয়ন্ত্রণ!

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:   

দিন দিন বেড়েই চলেছে মার্কিন ডলারের বিনিময় হার। ডলার নিয়ে একধরনের লেজেগোবরে অবস্থায় পড়েছে দেশের আর্থিক খাতের নিয়ন্ত্রক প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ ব্যাংক। কোনোভাবেই ডলারের লাগাম টানা যাচ্ছে না। মার্কিন মুলুকের এই মুদ্রাকে বাগে আনতে গিয়ে দেশের ব্যাংক এবং এক্সচেঞ্জ হাউসগুলোও নাজেহাল হয়ে পড়ছে। এই মুদ্রার গতিপ্রকৃতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে থাকায় বাংলাদেশ ব্যাংক মার্কিন ডলারকে ‘বহুরূপী’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছে।

এদিকে সরকার দীর্ঘদিন ধরে নানা প্রক্রিয়ায় টাকার মূল্যমান ধরে রাখার চেষ্টা করলেও শেষ সময়ে তা আর পারছে না। সবশেষ গত মঙ্গলবার ডলারের বিপরীতে টাকার অবমূল্যায়ন হয়েছে ১০ টাকা ১৫ পয়সা, যা এ যাবৎকালের রেকর্ড। কিছুদিন আগেও ডলারের দাম এক টাকা বাড়ানোকে বড় সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখা হয়েছে। এখন সেই ডলারের দাম বাড়ছে লাফিয়ে লাফিয়ে।

চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে ১৩ সেপ্টেম্বর পর্যছন্ত সাড়ে আট মাসে ডলারের বিপরীতে ১১.৬০ শতাংশের বেশি মূল্য হারায় বাংলাদেশের মুদ্রা। এরপর এক দিনে প্রায় ১২ শতাংশ হারিয়ে মোট ২৩ শতাংশের ওপর কমল টপাকার মান।

গত সোমবার ব্যাংকগুলোর কাছে ৯৬ টাকা ধরে ডলার বিক্রি করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। পরদিন মঙ্গলবার ডলার বিক্রি করা হয় ১০৬ টাকায়।

ব্যাংকগুলোর বিক্রয়মূল্য বেড়ে হয় ১০৬ টাকা ৯০ পয়সা, যা গত মঙ্গলবার ছিল ১০৬ টাকা ১৫ পয়সা। তবে গতকাল বৃহস্পতিবার ডলারের গড় ক্রয়মূল্য ১০২ টাকা ৩৭ পয়সা থেকে বেড়ে হয় ১০৬ টাকা ৬০ পয়সা।

অন্যদিকে, মার্কিন এই মুদ্রার মূল্য একেক জায়গায় একেক রকম। প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্সে দাম দেওয়া হচ্ছে ১০৮ টাকা, রপ্তানির মাধ্যমে এলে ৯৯ টাকা, আমদানির জন্য দেওয়া হলে ১০৪ টাকা ৫০ পয়সা, বিদেশে চিকিৎসার জন্য ডলার কেনার ক্ষেত্রে খোলা বাজারে ১১৪ টাকা এবং ফ্রিল্যান্সারসহ বিদেশ থেকে আসা অন্যান্য আয়ে সর্বোচ্চ ৯৯ টাকা মূল্য নির্ধারণ করা হচ্ছে। যদিও ফ্রিল্যান্সার ও ডলার আয় করা অন্যান্য খাতের কর্মজীবীরা তাদের আয়ের জন্য আড়াই শতাংশ হারে সরকারি প্রণোদনা পাচ্ছেন।

অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স বাংলাদেশ (এবিবি) ও বাংলাদেশ ফরেন এক্সচেঞ্জ ডিলারস অ্যাসোসিয়েশনের (বাফেদা) শীর্ষ নেতারা বাংলাদেশ ব্যাংকের পরামর্শে গত রবিবার এক সভায় বিভিন্ন লেনদেনে ডলারের সর্বোচ্চ দাম নির্ধারণ করে দেন। অভিন্ন মূল্যে বৈদেশিক মুদ্রা বিনিময়ে বাফেদা ও এবিবির সিদ্ধান্ত পুরোপুরি বাস্তবায়ন করতে পারেনি অধিকাংশ ব্যাংক। ফলে নিয়ন্ত্রক সংস্থা হিসেবে বাংলাদেশ ব্যাংক কোণঠাসা হয়ে পড়েছে। এমন অবস্থায় বিশৃঙ্খলা বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে মত অর্থনীতিবিদদের।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের একজন কর্মকর্তা জানান, বাফেদার নির্ধারিত দরে ব্যাংকগুলো নিজেরা লেনদেন করবে যা আন্তঃব্যাংক লেনদেন হিসেবে বিবেচিত হবে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক প্রতিদিন ডলার বিক্রি না করে প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যাংকগুলোর কাছে ডলার বিক্রি করবে। তবে আন্তঃব্যাংকের রেট বাংলাদেশ ব্যাংকের ডলার বিক্রির রেট হবে না।

অর্থনীতিবিদরা বলছেন, ডলারের বিপরীতে টাকার মান কমে যাওয়ায় রেমিট্যান্স ঊর্ধ্বমুখী হলেও আমদানি পণ্যের দাম বেড়ে বাজারে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। আমদানি খরচ বেড়ে গেলে স্বাভাবিকভাবেই ঊর্ধ্বমুখী হবে উৎপাদন ব্যয়। তাতে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখা কঠিন হয়ে দাঁড়াবে। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, খাদ্যমূল্য, ভ্রমণ, শেয়ারবাজারসহ সব খাতেই এর সুদূরপ্রসারী প্রভাব পড়ার আশঙ্কা করছেন তারা। বাফেদার চেয়ারম্যান ও সোনালী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) আফজাল করিম জানান, রফতানিকারকরা প্রণোদনা পেয়ে থাকেন বলে লোকসানে পড়বেন না। তাছাড়া ডলারের এই দাম অবশ্যই বদলাবে। তখন আবার সংশোধন করা হবে।

আর্থিক প্রতিষ্ঠানের নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ ব্যাংকের হাতেই রয়েছে বৈদেশিক মুদ্রার দাম কত হবে, তা ঠিক করার দায়িত্ব। কিন্তু চলমান ডলার সংকটে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সে ক্ষমতা ব্যাংক ও ফরেন এক্সচেঞ্জ ডিলারদের কাছে খর্ব হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংককে পাশ কাটিয়ে ডলারের দাম নিয়ন্ত্রণ এখন অন্যের হাতে। ডলার ক্রয়-বিক্রয় সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, ব্যাংক এবং মানি এক্সচেঞ্জ হাউস ও ফরেন এক্সচেঞ্জগুলোতে ডলার কেনাবেচার ব্যবধান কমিয়ে আনতে না পারলে আগামী দিনে সিন্ডিকেটের আশঙ্কা রয়েছে।

অর্থনীতিবিদ ড. মাহফুজ কবির বলেন, বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হারের নিয়ন্ত্রক বাংলাদেশ ব্যাংক। কিন্তু এখন সিদ্ধান্ত অন্য জায়গা থেকে আসছে। এটি কিন্তু খুবই অনিশ্চয়তা তৈরি করছে। ঘন ঘন সিদ্ধান্ত পরিবর্তনের ফলে এক ধরনের অস্থিতিশীলতা তৈরি হয়। এতে রপ্তানিকারক ও আমদানিকারকদের মধ্যে এক ধরনের আতঙ্ক তৈরি হয়।

পিছন ফিরে দেখা যায়, চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে ডলারের দাম ছিল ৮৬ টাকা। ফেব্রুয়ারি মাসে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরু হওয়ার পরও ডলারের দাম স্থির ছিল বেশ কিছু দিন।

উল্লফন শুরু হয় মার্চ মাস থেকে। ওই মাসে ২০ পয়সা বেড়ে ডলারের দাম দাঁড়ায় ৮৬ টাকা ২০ পয়সা। এপ্রিল মাসে ডলারের দাম আরো ২৫ পয়সা বেড়ে ৮৬ টাকা ৪৫ পয়সা দাঁড়ায়।

ডলারের বিপরীতে টাকার সবচেয়ে বেশি ছন্দপতন ঘটে মে মাসে। ৯ মে ডলারের বিনিময়মূল্য ২৫ পয়সা বাড়িয়ে ৮৬ টাকা ৭০ পয়সা নির্ধারিত হয়। ১৬ মে ৮০ পয়সা বেড়ে ৮৭ টাকা ৫০ পয়সা হয়। এবং ২৩ মে আরও ৪০ পয়সা বেড়ে ডলারের দাম দাঁড়ায় ৮৭ টাকা ৯০ পয়সা।

এরপর ধারাবাহিকভাবে ডলারের মূল্যবৃদ্ধির মাত্রা চলতেই থাকে। জুন মাসে ডলারের দাম দাঁড়ায় ৯২ টাকা ৯৫ পয়সায়। জুন মাসে তা আবারও বাড়ে ৯৪ টাকা ৭০ পয়সা হয়।

পরবর্তী আগস্ট মাসে ডলারের দাম ছিল ৯৫ টাকা। সর্বশেষ সেপ্টেম্বর মাসে ডলারের দাম বাড়ে দুই দফায়, ৯৬ টাকা থেকে একলাফে উঠে যায় ১০৬ টাকা ১৫ পয়সায়।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

পোস্টাল ভোটে অনিয়ম করলে প্রবাসীদের দেশে ফেরত আনার হুঁশিয়ারি ইসির

দেশে কার হাতে ডলারের নিয়ন্ত্রণ!

আপডেট সময় ০১:০৪:৩৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২২

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:   

দিন দিন বেড়েই চলেছে মার্কিন ডলারের বিনিময় হার। ডলার নিয়ে একধরনের লেজেগোবরে অবস্থায় পড়েছে দেশের আর্থিক খাতের নিয়ন্ত্রক প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ ব্যাংক। কোনোভাবেই ডলারের লাগাম টানা যাচ্ছে না। মার্কিন মুলুকের এই মুদ্রাকে বাগে আনতে গিয়ে দেশের ব্যাংক এবং এক্সচেঞ্জ হাউসগুলোও নাজেহাল হয়ে পড়ছে। এই মুদ্রার গতিপ্রকৃতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে থাকায় বাংলাদেশ ব্যাংক মার্কিন ডলারকে ‘বহুরূপী’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছে।

এদিকে সরকার দীর্ঘদিন ধরে নানা প্রক্রিয়ায় টাকার মূল্যমান ধরে রাখার চেষ্টা করলেও শেষ সময়ে তা আর পারছে না। সবশেষ গত মঙ্গলবার ডলারের বিপরীতে টাকার অবমূল্যায়ন হয়েছে ১০ টাকা ১৫ পয়সা, যা এ যাবৎকালের রেকর্ড। কিছুদিন আগেও ডলারের দাম এক টাকা বাড়ানোকে বড় সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখা হয়েছে। এখন সেই ডলারের দাম বাড়ছে লাফিয়ে লাফিয়ে।

চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে ১৩ সেপ্টেম্বর পর্যছন্ত সাড়ে আট মাসে ডলারের বিপরীতে ১১.৬০ শতাংশের বেশি মূল্য হারায় বাংলাদেশের মুদ্রা। এরপর এক দিনে প্রায় ১২ শতাংশ হারিয়ে মোট ২৩ শতাংশের ওপর কমল টপাকার মান।

গত সোমবার ব্যাংকগুলোর কাছে ৯৬ টাকা ধরে ডলার বিক্রি করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। পরদিন মঙ্গলবার ডলার বিক্রি করা হয় ১০৬ টাকায়।

ব্যাংকগুলোর বিক্রয়মূল্য বেড়ে হয় ১০৬ টাকা ৯০ পয়সা, যা গত মঙ্গলবার ছিল ১০৬ টাকা ১৫ পয়সা। তবে গতকাল বৃহস্পতিবার ডলারের গড় ক্রয়মূল্য ১০২ টাকা ৩৭ পয়সা থেকে বেড়ে হয় ১০৬ টাকা ৬০ পয়সা।

অন্যদিকে, মার্কিন এই মুদ্রার মূল্য একেক জায়গায় একেক রকম। প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্সে দাম দেওয়া হচ্ছে ১০৮ টাকা, রপ্তানির মাধ্যমে এলে ৯৯ টাকা, আমদানির জন্য দেওয়া হলে ১০৪ টাকা ৫০ পয়সা, বিদেশে চিকিৎসার জন্য ডলার কেনার ক্ষেত্রে খোলা বাজারে ১১৪ টাকা এবং ফ্রিল্যান্সারসহ বিদেশ থেকে আসা অন্যান্য আয়ে সর্বোচ্চ ৯৯ টাকা মূল্য নির্ধারণ করা হচ্ছে। যদিও ফ্রিল্যান্সার ও ডলার আয় করা অন্যান্য খাতের কর্মজীবীরা তাদের আয়ের জন্য আড়াই শতাংশ হারে সরকারি প্রণোদনা পাচ্ছেন।

অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স বাংলাদেশ (এবিবি) ও বাংলাদেশ ফরেন এক্সচেঞ্জ ডিলারস অ্যাসোসিয়েশনের (বাফেদা) শীর্ষ নেতারা বাংলাদেশ ব্যাংকের পরামর্শে গত রবিবার এক সভায় বিভিন্ন লেনদেনে ডলারের সর্বোচ্চ দাম নির্ধারণ করে দেন। অভিন্ন মূল্যে বৈদেশিক মুদ্রা বিনিময়ে বাফেদা ও এবিবির সিদ্ধান্ত পুরোপুরি বাস্তবায়ন করতে পারেনি অধিকাংশ ব্যাংক। ফলে নিয়ন্ত্রক সংস্থা হিসেবে বাংলাদেশ ব্যাংক কোণঠাসা হয়ে পড়েছে। এমন অবস্থায় বিশৃঙ্খলা বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে মত অর্থনীতিবিদদের।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের একজন কর্মকর্তা জানান, বাফেদার নির্ধারিত দরে ব্যাংকগুলো নিজেরা লেনদেন করবে যা আন্তঃব্যাংক লেনদেন হিসেবে বিবেচিত হবে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক প্রতিদিন ডলার বিক্রি না করে প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যাংকগুলোর কাছে ডলার বিক্রি করবে। তবে আন্তঃব্যাংকের রেট বাংলাদেশ ব্যাংকের ডলার বিক্রির রেট হবে না।

অর্থনীতিবিদরা বলছেন, ডলারের বিপরীতে টাকার মান কমে যাওয়ায় রেমিট্যান্স ঊর্ধ্বমুখী হলেও আমদানি পণ্যের দাম বেড়ে বাজারে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। আমদানি খরচ বেড়ে গেলে স্বাভাবিকভাবেই ঊর্ধ্বমুখী হবে উৎপাদন ব্যয়। তাতে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখা কঠিন হয়ে দাঁড়াবে। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, খাদ্যমূল্য, ভ্রমণ, শেয়ারবাজারসহ সব খাতেই এর সুদূরপ্রসারী প্রভাব পড়ার আশঙ্কা করছেন তারা। বাফেদার চেয়ারম্যান ও সোনালী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) আফজাল করিম জানান, রফতানিকারকরা প্রণোদনা পেয়ে থাকেন বলে লোকসানে পড়বেন না। তাছাড়া ডলারের এই দাম অবশ্যই বদলাবে। তখন আবার সংশোধন করা হবে।

আর্থিক প্রতিষ্ঠানের নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ ব্যাংকের হাতেই রয়েছে বৈদেশিক মুদ্রার দাম কত হবে, তা ঠিক করার দায়িত্ব। কিন্তু চলমান ডলার সংকটে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সে ক্ষমতা ব্যাংক ও ফরেন এক্সচেঞ্জ ডিলারদের কাছে খর্ব হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংককে পাশ কাটিয়ে ডলারের দাম নিয়ন্ত্রণ এখন অন্যের হাতে। ডলার ক্রয়-বিক্রয় সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, ব্যাংক এবং মানি এক্সচেঞ্জ হাউস ও ফরেন এক্সচেঞ্জগুলোতে ডলার কেনাবেচার ব্যবধান কমিয়ে আনতে না পারলে আগামী দিনে সিন্ডিকেটের আশঙ্কা রয়েছে।

অর্থনীতিবিদ ড. মাহফুজ কবির বলেন, বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হারের নিয়ন্ত্রক বাংলাদেশ ব্যাংক। কিন্তু এখন সিদ্ধান্ত অন্য জায়গা থেকে আসছে। এটি কিন্তু খুবই অনিশ্চয়তা তৈরি করছে। ঘন ঘন সিদ্ধান্ত পরিবর্তনের ফলে এক ধরনের অস্থিতিশীলতা তৈরি হয়। এতে রপ্তানিকারক ও আমদানিকারকদের মধ্যে এক ধরনের আতঙ্ক তৈরি হয়।

পিছন ফিরে দেখা যায়, চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে ডলারের দাম ছিল ৮৬ টাকা। ফেব্রুয়ারি মাসে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরু হওয়ার পরও ডলারের দাম স্থির ছিল বেশ কিছু দিন।

উল্লফন শুরু হয় মার্চ মাস থেকে। ওই মাসে ২০ পয়সা বেড়ে ডলারের দাম দাঁড়ায় ৮৬ টাকা ২০ পয়সা। এপ্রিল মাসে ডলারের দাম আরো ২৫ পয়সা বেড়ে ৮৬ টাকা ৪৫ পয়সা দাঁড়ায়।

ডলারের বিপরীতে টাকার সবচেয়ে বেশি ছন্দপতন ঘটে মে মাসে। ৯ মে ডলারের বিনিময়মূল্য ২৫ পয়সা বাড়িয়ে ৮৬ টাকা ৭০ পয়সা নির্ধারিত হয়। ১৬ মে ৮০ পয়সা বেড়ে ৮৭ টাকা ৫০ পয়সা হয়। এবং ২৩ মে আরও ৪০ পয়সা বেড়ে ডলারের দাম দাঁড়ায় ৮৭ টাকা ৯০ পয়সা।

এরপর ধারাবাহিকভাবে ডলারের মূল্যবৃদ্ধির মাত্রা চলতেই থাকে। জুন মাসে ডলারের দাম দাঁড়ায় ৯২ টাকা ৯৫ পয়সায়। জুন মাসে তা আবারও বাড়ে ৯৪ টাকা ৭০ পয়সা হয়।

পরবর্তী আগস্ট মাসে ডলারের দাম ছিল ৯৫ টাকা। সর্বশেষ সেপ্টেম্বর মাসে ডলারের দাম বাড়ে দুই দফায়, ৯৬ টাকা থেকে একলাফে উঠে যায় ১০৬ টাকা ১৫ পয়সায়।