ঢাকা ০৭:৫৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ জানুয়ারী ২০২৬, ৩০ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
১২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত দেশে সব ধরনের সংগঠনের নির্বাচন বন্ধের নির্দেশ দিয়েছে ইসি এমপি যদি সৎ হন, ঠিকাদারের বাপের সাধ্য নেই চুরি করার: রুমিন ফারহানা ‘ধর্মের নামে ব্যবসা করে যারা নির্বাচনে জিততে চায়, তারা এ দেশে আর কখনো গ্রহণযোগ্যতা পাবে না’:ফারুক পার্থকে ছেড়ে দিলেন বিএনপির প্রার্থী গোলাম নবী গণহত্যার বিচারে ধরনের কম্প্রোমাইজ নয়: প্রসিকিউটর তামিম স্ত্রীর কোনো স্বর্ণ নেই, তাহেরির আছে ৩১ ভরি স্বর্ণ নির্বাচনে ভোট ডাকাতি যেন আর কখনো না ঘটে, সে ব্যবস্থা করতে হবে : প্রধান উপদেষ্টা ইরানে অর্ধশতাধিক মসজিদ-১৮০ অ্যাম্বুলেন্সে আগুন দিয়েছে বিক্ষোভকারীরা নির্বাচনে ৩০ আসনে লড়বে এনসিপি: আসিফ মাহমুদ নির্বাচন বানচালে দেশবিরোধী শক্তি অপচেষ্টা ও সহিংসতা চালাচ্ছে : মির্জা আব্বাস

স্ত্রীকে পিটিয়ে হত্যা, স্বামীসহ ৩ জনের মৃত্যুদণ্ড

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:  

যৌতুকের দাবিতে কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জে হেনা আক্তার নামে এক গৃহবধূকে পিটিয়ে হত্যা মামলায় স্বামীসহ তিনজনকে মৃত্যুদণ্ড এবং অর্থদণ্ড দিয়েছেন আদালত। বৃহস্পতিবার দুপুরে কিশোরগঞ্জের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১ এর বিচারক মো. হাবিবুল্লাহ জনাকীর্ণ আদালতে এ রায় ঘোষণা করেন।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হচ্ছেন- নিহত গৃহবধূ হেনা আক্তারের স্বামী খোকন মিয়া, তার বোন জরিনা খাতুন এবং মামাতো ভাই জালাল মিয়া। একই সঙ্গে খোকন মিয়াকে ৫০ হাজার টাকা, জরিনাকে ২০ হাজার টাকা এবং জালালকে ৩০ হাজার টাকা অর্থদণ্ডও প্রদান করা হয়।

অন্যদিকে, অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় খোকনের বাবা-মাসহ তিনজনকে বেকসুর খালাস দেন আদালত।

মামলার সংক্ষিপ্ত বিবরণে জানা গেছে, কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জ উপজেলার গুজাদিয়া পাথারিয়াপাড়া গ্রামের খোকন মিয়ার সঙ্গে বিয়ে হয় পার্শ্ববর্তী কৈলাকুড়ি গ্রামের আব্দুল কদ্দুসের মেয়ে ফেনা ওরফে হেনা আক্তারের। বিয়ের পর যৌতুকের জন্য স্ত্রীকে অত্যাচার নির্যাতন শুরু করেন স্বামী খোকনসহ শ্বশুরবাড়ির লোকজন। একপর্যায়ে হেনার বাবার বাড়ি থেকে খোকনকে নগদ ৪০ হাজার টাকা, গাভি ও নতুন ঘর তৈরি করে দেওয়া হয়। এরপর আরও এক লাখ টাকা যৌতুক দাবি করেন খোকন।

এ নিয়ে কলহের জের ধরে ২০১৫ সালের ৪ অক্টোবর গভীর রাতে গৃহবধূ ফেনা ওরফে হেনা আক্তারকে পিটিয়ে ও শ্বাসরোধে হত্যা করেন খোকন ও তার স্বজনরা। এ ঘটনায় পরদিন হেনা আক্তারের ছোটভাই মো. সাইকুল ইসলাম বাদী হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে ৮ জনকে আসামি করে করিমগঞ্জ থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।

পুলিশ তদন্ত শেষে ২০১৬ সালের ১৫ মার্চ ৬ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে। আদালতে দীর্ঘ বিচার প্রক্রিয়া শেষে আজ আসামিদের উপস্থিতিতে রায় ঘোষণা করা হয়।

এ রায়ে খুশি রাষ্ট্রপক্ষ। এটি একটি অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত বলে মনে করেন ট্রাইব্যুনালের পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট এম এ আফজল।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

১২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত দেশে সব ধরনের সংগঠনের নির্বাচন বন্ধের নির্দেশ দিয়েছে ইসি

স্ত্রীকে পিটিয়ে হত্যা, স্বামীসহ ৩ জনের মৃত্যুদণ্ড

আপডেট সময় ০৯:৩০:২০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২২

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:  

যৌতুকের দাবিতে কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জে হেনা আক্তার নামে এক গৃহবধূকে পিটিয়ে হত্যা মামলায় স্বামীসহ তিনজনকে মৃত্যুদণ্ড এবং অর্থদণ্ড দিয়েছেন আদালত। বৃহস্পতিবার দুপুরে কিশোরগঞ্জের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১ এর বিচারক মো. হাবিবুল্লাহ জনাকীর্ণ আদালতে এ রায় ঘোষণা করেন।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হচ্ছেন- নিহত গৃহবধূ হেনা আক্তারের স্বামী খোকন মিয়া, তার বোন জরিনা খাতুন এবং মামাতো ভাই জালাল মিয়া। একই সঙ্গে খোকন মিয়াকে ৫০ হাজার টাকা, জরিনাকে ২০ হাজার টাকা এবং জালালকে ৩০ হাজার টাকা অর্থদণ্ডও প্রদান করা হয়।

অন্যদিকে, অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় খোকনের বাবা-মাসহ তিনজনকে বেকসুর খালাস দেন আদালত।

মামলার সংক্ষিপ্ত বিবরণে জানা গেছে, কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জ উপজেলার গুজাদিয়া পাথারিয়াপাড়া গ্রামের খোকন মিয়ার সঙ্গে বিয়ে হয় পার্শ্ববর্তী কৈলাকুড়ি গ্রামের আব্দুল কদ্দুসের মেয়ে ফেনা ওরফে হেনা আক্তারের। বিয়ের পর যৌতুকের জন্য স্ত্রীকে অত্যাচার নির্যাতন শুরু করেন স্বামী খোকনসহ শ্বশুরবাড়ির লোকজন। একপর্যায়ে হেনার বাবার বাড়ি থেকে খোকনকে নগদ ৪০ হাজার টাকা, গাভি ও নতুন ঘর তৈরি করে দেওয়া হয়। এরপর আরও এক লাখ টাকা যৌতুক দাবি করেন খোকন।

এ নিয়ে কলহের জের ধরে ২০১৫ সালের ৪ অক্টোবর গভীর রাতে গৃহবধূ ফেনা ওরফে হেনা আক্তারকে পিটিয়ে ও শ্বাসরোধে হত্যা করেন খোকন ও তার স্বজনরা। এ ঘটনায় পরদিন হেনা আক্তারের ছোটভাই মো. সাইকুল ইসলাম বাদী হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে ৮ জনকে আসামি করে করিমগঞ্জ থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।

পুলিশ তদন্ত শেষে ২০১৬ সালের ১৫ মার্চ ৬ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে। আদালতে দীর্ঘ বিচার প্রক্রিয়া শেষে আজ আসামিদের উপস্থিতিতে রায় ঘোষণা করা হয়।

এ রায়ে খুশি রাষ্ট্রপক্ষ। এটি একটি অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত বলে মনে করেন ট্রাইব্যুনালের পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট এম এ আফজল।