ঢাকা ০৬:৪৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ১২ জানুয়ারী ২০২৬, ২৯ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
‘ভারতে গিয়ে খেলার পরিবেশ নেই বাংলাদেশের :আসিফ নজরুল ‘ইরান যুদ্ধ চায় না, তবে যুদ্ধের জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত’: আব্বাস আরাঘচি চট্টগ্রামে পুলিশ সদস্য কাইয়ুম হত্যা মামলায়, ১০ জনের যাবজ্জীবন ট্রেনের ধাক্কায় দুমড়ে-মুচড়ে গেল পিকআপ, দুই ভাইসহ নিহত ৩ দেশ গড়ার ক্ষেত্রে শ্রমিকদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ : মঈন খান মোস্তাফিজকে বাদ দিয়ে বিশ্বকাপ দল গঠনের সুপারিশ আইসিসির আমরা মা-বোনদের নিরাপত্তার ব্যাপারে অত্যন্ত এটেন্টিভ : ডা. শফিকুর রহমান আন্তর্জাতিক আদালতে সাক্ষ্য দিতে যাচ্ছেন তিন রোহিঙ্গা নির্বাচনে ৫ লাখ ৫৫ হাজার আনসার-ভিডিপি দায়িত্ব পালন করবে: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা কুড়িগ্রামের রৌমারী সীমান্তে গুলি ছুড়ে যুবককে ধরে নিয়ে গেল বিএসএফ

স্ত্রীকে পিটিয়ে হত্যা, স্বামীসহ ৩ জনের মৃত্যুদণ্ড

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:  

যৌতুকের দাবিতে কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জে হেনা আক্তার নামে এক গৃহবধূকে পিটিয়ে হত্যা মামলায় স্বামীসহ তিনজনকে মৃত্যুদণ্ড এবং অর্থদণ্ড দিয়েছেন আদালত। বৃহস্পতিবার দুপুরে কিশোরগঞ্জের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১ এর বিচারক মো. হাবিবুল্লাহ জনাকীর্ণ আদালতে এ রায় ঘোষণা করেন।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হচ্ছেন- নিহত গৃহবধূ হেনা আক্তারের স্বামী খোকন মিয়া, তার বোন জরিনা খাতুন এবং মামাতো ভাই জালাল মিয়া। একই সঙ্গে খোকন মিয়াকে ৫০ হাজার টাকা, জরিনাকে ২০ হাজার টাকা এবং জালালকে ৩০ হাজার টাকা অর্থদণ্ডও প্রদান করা হয়।

অন্যদিকে, অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় খোকনের বাবা-মাসহ তিনজনকে বেকসুর খালাস দেন আদালত।

মামলার সংক্ষিপ্ত বিবরণে জানা গেছে, কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জ উপজেলার গুজাদিয়া পাথারিয়াপাড়া গ্রামের খোকন মিয়ার সঙ্গে বিয়ে হয় পার্শ্ববর্তী কৈলাকুড়ি গ্রামের আব্দুল কদ্দুসের মেয়ে ফেনা ওরফে হেনা আক্তারের। বিয়ের পর যৌতুকের জন্য স্ত্রীকে অত্যাচার নির্যাতন শুরু করেন স্বামী খোকনসহ শ্বশুরবাড়ির লোকজন। একপর্যায়ে হেনার বাবার বাড়ি থেকে খোকনকে নগদ ৪০ হাজার টাকা, গাভি ও নতুন ঘর তৈরি করে দেওয়া হয়। এরপর আরও এক লাখ টাকা যৌতুক দাবি করেন খোকন।

এ নিয়ে কলহের জের ধরে ২০১৫ সালের ৪ অক্টোবর গভীর রাতে গৃহবধূ ফেনা ওরফে হেনা আক্তারকে পিটিয়ে ও শ্বাসরোধে হত্যা করেন খোকন ও তার স্বজনরা। এ ঘটনায় পরদিন হেনা আক্তারের ছোটভাই মো. সাইকুল ইসলাম বাদী হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে ৮ জনকে আসামি করে করিমগঞ্জ থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।

পুলিশ তদন্ত শেষে ২০১৬ সালের ১৫ মার্চ ৬ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে। আদালতে দীর্ঘ বিচার প্রক্রিয়া শেষে আজ আসামিদের উপস্থিতিতে রায় ঘোষণা করা হয়।

এ রায়ে খুশি রাষ্ট্রপক্ষ। এটি একটি অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত বলে মনে করেন ট্রাইব্যুনালের পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট এম এ আফজল।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

হাসপাতালে নিয়ে গৃহবধূকে ধর্ষণের অভিযোগ, দুই আনসার সদস্য আটক

স্ত্রীকে পিটিয়ে হত্যা, স্বামীসহ ৩ জনের মৃত্যুদণ্ড

আপডেট সময় ০৯:৩০:২০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২২

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:  

যৌতুকের দাবিতে কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জে হেনা আক্তার নামে এক গৃহবধূকে পিটিয়ে হত্যা মামলায় স্বামীসহ তিনজনকে মৃত্যুদণ্ড এবং অর্থদণ্ড দিয়েছেন আদালত। বৃহস্পতিবার দুপুরে কিশোরগঞ্জের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১ এর বিচারক মো. হাবিবুল্লাহ জনাকীর্ণ আদালতে এ রায় ঘোষণা করেন।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হচ্ছেন- নিহত গৃহবধূ হেনা আক্তারের স্বামী খোকন মিয়া, তার বোন জরিনা খাতুন এবং মামাতো ভাই জালাল মিয়া। একই সঙ্গে খোকন মিয়াকে ৫০ হাজার টাকা, জরিনাকে ২০ হাজার টাকা এবং জালালকে ৩০ হাজার টাকা অর্থদণ্ডও প্রদান করা হয়।

অন্যদিকে, অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় খোকনের বাবা-মাসহ তিনজনকে বেকসুর খালাস দেন আদালত।

মামলার সংক্ষিপ্ত বিবরণে জানা গেছে, কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জ উপজেলার গুজাদিয়া পাথারিয়াপাড়া গ্রামের খোকন মিয়ার সঙ্গে বিয়ে হয় পার্শ্ববর্তী কৈলাকুড়ি গ্রামের আব্দুল কদ্দুসের মেয়ে ফেনা ওরফে হেনা আক্তারের। বিয়ের পর যৌতুকের জন্য স্ত্রীকে অত্যাচার নির্যাতন শুরু করেন স্বামী খোকনসহ শ্বশুরবাড়ির লোকজন। একপর্যায়ে হেনার বাবার বাড়ি থেকে খোকনকে নগদ ৪০ হাজার টাকা, গাভি ও নতুন ঘর তৈরি করে দেওয়া হয়। এরপর আরও এক লাখ টাকা যৌতুক দাবি করেন খোকন।

এ নিয়ে কলহের জের ধরে ২০১৫ সালের ৪ অক্টোবর গভীর রাতে গৃহবধূ ফেনা ওরফে হেনা আক্তারকে পিটিয়ে ও শ্বাসরোধে হত্যা করেন খোকন ও তার স্বজনরা। এ ঘটনায় পরদিন হেনা আক্তারের ছোটভাই মো. সাইকুল ইসলাম বাদী হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে ৮ জনকে আসামি করে করিমগঞ্জ থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।

পুলিশ তদন্ত শেষে ২০১৬ সালের ১৫ মার্চ ৬ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে। আদালতে দীর্ঘ বিচার প্রক্রিয়া শেষে আজ আসামিদের উপস্থিতিতে রায় ঘোষণা করা হয়।

এ রায়ে খুশি রাষ্ট্রপক্ষ। এটি একটি অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত বলে মনে করেন ট্রাইব্যুনালের পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট এম এ আফজল।