ঢাকা ১০:২০ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৬ অগাস্ট ২০২৬, ১১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ নতুন দলের আত্মপ্রকাশ, নেতৃত্বে যারা ইরানের সামনে এখন কেবল দুই পথ—চুক্তি অথবা আত্মসমর্পণ: ট্রাম্প পাঁচ দফা দাবিতে সরকারি কর্মচারীদের অবস্থান কর্মসূচি সরকার দমনে ব্যস্ত, দ্রব্যমূল্য-গ্যাস নিয়ে মাথাব্যথা নেই: গোলাম পরওয়ার দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে আশা বাণিজ্যমন্ত্রীর সম্পত্তি দানের পরও আজীবন ভোগদখলের সুযোগ, মন্ত্রিসভায় খসড়া পাশ শেখ হাসিনা যেন রাজনৈতিক বক্তব্য দিতে না পারেন, ভারতীয় হাইকমিশনারকে হুমায়ুন কবির রাষ্ট্র পরিচালনায় ‘নতুন মাত্রা’ যোগ করেছেন তারেক রহমান: চীনা রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশে কারিগরি ও ক্রীড়া শিক্ষায় সহযোগিতার আগ্রহ অস্ট্রেলিয়ার

স্ত্রীকে পিটিয়ে হত্যা, স্বামীসহ ৩ জনের মৃত্যুদণ্ড

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:  

যৌতুকের দাবিতে কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জে হেনা আক্তার নামে এক গৃহবধূকে পিটিয়ে হত্যা মামলায় স্বামীসহ তিনজনকে মৃত্যুদণ্ড এবং অর্থদণ্ড দিয়েছেন আদালত। বৃহস্পতিবার দুপুরে কিশোরগঞ্জের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১ এর বিচারক মো. হাবিবুল্লাহ জনাকীর্ণ আদালতে এ রায় ঘোষণা করেন।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হচ্ছেন- নিহত গৃহবধূ হেনা আক্তারের স্বামী খোকন মিয়া, তার বোন জরিনা খাতুন এবং মামাতো ভাই জালাল মিয়া। একই সঙ্গে খোকন মিয়াকে ৫০ হাজার টাকা, জরিনাকে ২০ হাজার টাকা এবং জালালকে ৩০ হাজার টাকা অর্থদণ্ডও প্রদান করা হয়।

অন্যদিকে, অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় খোকনের বাবা-মাসহ তিনজনকে বেকসুর খালাস দেন আদালত।

মামলার সংক্ষিপ্ত বিবরণে জানা গেছে, কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জ উপজেলার গুজাদিয়া পাথারিয়াপাড়া গ্রামের খোকন মিয়ার সঙ্গে বিয়ে হয় পার্শ্ববর্তী কৈলাকুড়ি গ্রামের আব্দুল কদ্দুসের মেয়ে ফেনা ওরফে হেনা আক্তারের। বিয়ের পর যৌতুকের জন্য স্ত্রীকে অত্যাচার নির্যাতন শুরু করেন স্বামী খোকনসহ শ্বশুরবাড়ির লোকজন। একপর্যায়ে হেনার বাবার বাড়ি থেকে খোকনকে নগদ ৪০ হাজার টাকা, গাভি ও নতুন ঘর তৈরি করে দেওয়া হয়। এরপর আরও এক লাখ টাকা যৌতুক দাবি করেন খোকন।

এ নিয়ে কলহের জের ধরে ২০১৫ সালের ৪ অক্টোবর গভীর রাতে গৃহবধূ ফেনা ওরফে হেনা আক্তারকে পিটিয়ে ও শ্বাসরোধে হত্যা করেন খোকন ও তার স্বজনরা। এ ঘটনায় পরদিন হেনা আক্তারের ছোটভাই মো. সাইকুল ইসলাম বাদী হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে ৮ জনকে আসামি করে করিমগঞ্জ থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।

পুলিশ তদন্ত শেষে ২০১৬ সালের ১৫ মার্চ ৬ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে। আদালতে দীর্ঘ বিচার প্রক্রিয়া শেষে আজ আসামিদের উপস্থিতিতে রায় ঘোষণা করা হয়।

এ রায়ে খুশি রাষ্ট্রপক্ষ। এটি একটি অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত বলে মনে করেন ট্রাইব্যুনালের পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট এম এ আফজল।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ

স্ত্রীকে পিটিয়ে হত্যা, স্বামীসহ ৩ জনের মৃত্যুদণ্ড

আপডেট সময় ০৯:৩০:২০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২২

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:  

যৌতুকের দাবিতে কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জে হেনা আক্তার নামে এক গৃহবধূকে পিটিয়ে হত্যা মামলায় স্বামীসহ তিনজনকে মৃত্যুদণ্ড এবং অর্থদণ্ড দিয়েছেন আদালত। বৃহস্পতিবার দুপুরে কিশোরগঞ্জের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১ এর বিচারক মো. হাবিবুল্লাহ জনাকীর্ণ আদালতে এ রায় ঘোষণা করেন।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হচ্ছেন- নিহত গৃহবধূ হেনা আক্তারের স্বামী খোকন মিয়া, তার বোন জরিনা খাতুন এবং মামাতো ভাই জালাল মিয়া। একই সঙ্গে খোকন মিয়াকে ৫০ হাজার টাকা, জরিনাকে ২০ হাজার টাকা এবং জালালকে ৩০ হাজার টাকা অর্থদণ্ডও প্রদান করা হয়।

অন্যদিকে, অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় খোকনের বাবা-মাসহ তিনজনকে বেকসুর খালাস দেন আদালত।

মামলার সংক্ষিপ্ত বিবরণে জানা গেছে, কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জ উপজেলার গুজাদিয়া পাথারিয়াপাড়া গ্রামের খোকন মিয়ার সঙ্গে বিয়ে হয় পার্শ্ববর্তী কৈলাকুড়ি গ্রামের আব্দুল কদ্দুসের মেয়ে ফেনা ওরফে হেনা আক্তারের। বিয়ের পর যৌতুকের জন্য স্ত্রীকে অত্যাচার নির্যাতন শুরু করেন স্বামী খোকনসহ শ্বশুরবাড়ির লোকজন। একপর্যায়ে হেনার বাবার বাড়ি থেকে খোকনকে নগদ ৪০ হাজার টাকা, গাভি ও নতুন ঘর তৈরি করে দেওয়া হয়। এরপর আরও এক লাখ টাকা যৌতুক দাবি করেন খোকন।

এ নিয়ে কলহের জের ধরে ২০১৫ সালের ৪ অক্টোবর গভীর রাতে গৃহবধূ ফেনা ওরফে হেনা আক্তারকে পিটিয়ে ও শ্বাসরোধে হত্যা করেন খোকন ও তার স্বজনরা। এ ঘটনায় পরদিন হেনা আক্তারের ছোটভাই মো. সাইকুল ইসলাম বাদী হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে ৮ জনকে আসামি করে করিমগঞ্জ থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।

পুলিশ তদন্ত শেষে ২০১৬ সালের ১৫ মার্চ ৬ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে। আদালতে দীর্ঘ বিচার প্রক্রিয়া শেষে আজ আসামিদের উপস্থিতিতে রায় ঘোষণা করা হয়।

এ রায়ে খুশি রাষ্ট্রপক্ষ। এটি একটি অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত বলে মনে করেন ট্রাইব্যুনালের পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট এম এ আফজল।