ঢাকা ১১:২২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
শেরেবাংলা নগরে সরছে সচিবালয়, অনুমোদন দিল মন্ত্রিসভা দেশ গড়ার কাজে শিক্ষার্থীদের সম্পৃক্ত হওয়ার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর মক্কা-মদিনায় হুমকি এলে বাংলাদেশ চুপ থাকবে না: শামা ওবায়েদ রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে সফল পারমাণবিক বিক্রিয়া সম্পন্ন চলতি অক্টোবরের শেষ দিকে জাপান সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বিদায়ী সাক্ষাৎ করলেন চীনা রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন উদ্বোধনের আগেই কক্সবাজার বিমানবন্দরের নতুন টার্মিনালে যাত্রীসেবা শুরু সাইবার সুরক্ষা আইন যেন নিপীড়নমূলক না হয়: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অক্টোবর-নভেম্বরে তিন দেশ সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাতিসংঘের সন্ত্রাস দমন তহবিলে কাতারের ১৪১ মিলিয়ন ডলার অনুদান

বড় কোম্পানিগুলোতে ভ্যাট বৃদ্ধি প্রয়োজন: রওশন এরশাদ

অাকাশ নিউজ ডেস্ক:

জাতীয় সংসদের বিরোধী দলের নেতা বেগম রওশন এরশাদ চলতি বাজেটের ঘাটতি পূরণে মোবাইল ফোন অপারেটরসহ বড় বড় কোম্পানিতে ভ্যাট বৃদ্ধির আহ্বান জানিয়েছেন।বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদ অধিবেশনের সমাপনী বক্তৃতায় তিনি এই আহ্বান জানান।রওশন এরশাদ বলেন, ‘খাদ্যে ভেজাল বন্ধ করতে না পারলে বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা গড়া সম্ভব হবে না। একমাত্র বঙ্গবন্ধুর কন্যা শেখ হাসিনাই পারবেন দেশকে খাদ্যে ভেজাল মুক্ত করতে। এজন্য যত কঠোর হতে হয় তা হতে হবে।

স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে দেশের আটটি বিভাগে আটটি হাইকোর্ট বেঞ্চ স্থাপনের দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, ‘এটা করলে ঢাকার ওপর চাপ অনেকখানি কমে যাবে। যেভাবে শিক্ষা বোর্ড করা হয়েছে, সেভাবে হাই কোর্টের বেঞ্চ করা হোক।’ তিনি এমপিদের জন্য ঢাকা নগরীতে একটি করে প্লট বরাদ্দের দাবি জানান।জনগণের দাবি অনুযায়ী প্রস্তাবিত বাজেট থেকে আবগারী শুল্ক ও ভ্যাট প্রত্যাহার করায় তিনি প্রধানমন্ত্রী ও অর্থমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, ‘মোবাইল ফোন কোম্পানি এবং বড় বড় কোম্পানির ওপর ভ্যাট আরোপ করলে রাজস্ব ঘাটতি পূরণ করা সম্ভব হবে।

তিনি বলেন, ‘কর্মসংস্থান দেশের বড় সমস্যা। তাই ছোট ছোট কোম্পানি থেকে পুরোপুরি ভ্যাট প্রত্যাহার করে দিন। রাজধানী ঢাকাকে বাঁচাতে হলে স্রোতের মতো মানুষ আসা বন্ধ করতে হবে। প্রতিদিন ৯৬০ জন লোক ঢাকায় প্রবেশ করছে। তিলোত্তমা ঢাকা নগরী এখন ময়লা ও দূষণের নগরীতে পরিণত হয়েছে। তাই রাজধানীকে বাঁচাতে ঢাকার বাইরে বড় বড় কল-করখানা তৈরি করে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে হবে।

স্বাস্থ্যমন্ত্রীকে উদ্দেশ্যে করে তিনি বলেন, ‘ঘরে ঘরে মানুষ চিকুনগুনিয়ায় আক্রান্ত হচ্ছে। মানুষকে সচেতন করুন এবং এডিস মশা নিধন করলে মানুষ বাঁচতে পারবে। ঢাকার দুই মেয়রকে আরও উদ্যোগী হতে হবে এ ব্যাপারে। কারণ, স্বাস্থ্যসেবা জনগণের অন্যতম মৌলিক চাহিদা। জনগণের এ চাহিদা অবশ্যই পূরণ করতে হবে। তিনি আরো বলেন, ‘এখনো কোন সুষ্ঠু বর্জ্য ব্যবস্থা গড়ে উঠেনি। ড্রেনেজ অবস্থা খারাপ বলেই একটু বৃষ্টি হলেই রাস্তা-ঘাট ডুবে যাচ্ছে।তিনি বলেন, দেশে এখন ১৫ কোটি মোবাইল ফোন ব্যবহার হচ্ছে,প্রতিবছর প্রায় ৩ কোটি মোবাইল ফোন অকেজো হলেও তা অপসারণের কোন ব্যবস্থা নেই। তাই ই-বর্জ্য ব্যবস্থার দিকেও নজর দিতে হবে।

বন্যা পরিস্থিতি প্রসঙ্গে রওশন এরশাদ বলেন, ‘দেশের প্রায় ৬ লাখ মানুষ বন্যায় দুর্ভোগ পোহাচ্ছে। কিন্তু ত্রাণ তৎপরতা অপ্রতুল। সঠিকভাবে ত্রাণ বণ্টন করতে হবে। বর্তমানে জনসংখ্যা ১৬ কোটি পেরিয়ে গেছে। জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ করতে না পারলে ২০৫০ সালে জনসংখ্যা ২০ কোটি পেরিয়ে যাবে। অধিক জনসংখ্যার কারণে কৃষি জমি কমে যাচ্ছে। এখনই নিয়ন্ত্রণ করতে না পারলে জনসংখ্যার ভারে দেশটাই ডুবে যাবে।

বিরোধী দলের নেতা বলেন, ‘খাদ্যদ্রব্যে ভেজাল এখনও কমেনি। ভেজাল খেতে খেতে এমন অবস্থা হয়েছে যে, সাপ আমাদের কামড় দিলে সাপই মরে যাবে, আমরা মরবো না। নতুন প্রজন্ম এমন ভেজাল খাদ্যে কীভাবে সোনার বাংলা গড়ে তুলবেন? একমাত্র প্রধানমন্ত্রী ছাড়া আর কেউ তা বন্ধ করতে পারবে না।গুলি করে কিংবা ছুরিকাঘাত করে হত্যা করা আর খাদ্যে বিষ দেওয়া একই অপরাধ।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

দেশে শোকের ছায়া: কিং খালিদ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় প্রবাসীর

বড় কোম্পানিগুলোতে ভ্যাট বৃদ্ধি প্রয়োজন: রওশন এরশাদ

আপডেট সময় ০৩:৩৯:২৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৪ জুলাই ২০১৭

অাকাশ নিউজ ডেস্ক:

জাতীয় সংসদের বিরোধী দলের নেতা বেগম রওশন এরশাদ চলতি বাজেটের ঘাটতি পূরণে মোবাইল ফোন অপারেটরসহ বড় বড় কোম্পানিতে ভ্যাট বৃদ্ধির আহ্বান জানিয়েছেন।বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদ অধিবেশনের সমাপনী বক্তৃতায় তিনি এই আহ্বান জানান।রওশন এরশাদ বলেন, ‘খাদ্যে ভেজাল বন্ধ করতে না পারলে বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা গড়া সম্ভব হবে না। একমাত্র বঙ্গবন্ধুর কন্যা শেখ হাসিনাই পারবেন দেশকে খাদ্যে ভেজাল মুক্ত করতে। এজন্য যত কঠোর হতে হয় তা হতে হবে।

স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে দেশের আটটি বিভাগে আটটি হাইকোর্ট বেঞ্চ স্থাপনের দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, ‘এটা করলে ঢাকার ওপর চাপ অনেকখানি কমে যাবে। যেভাবে শিক্ষা বোর্ড করা হয়েছে, সেভাবে হাই কোর্টের বেঞ্চ করা হোক।’ তিনি এমপিদের জন্য ঢাকা নগরীতে একটি করে প্লট বরাদ্দের দাবি জানান।জনগণের দাবি অনুযায়ী প্রস্তাবিত বাজেট থেকে আবগারী শুল্ক ও ভ্যাট প্রত্যাহার করায় তিনি প্রধানমন্ত্রী ও অর্থমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, ‘মোবাইল ফোন কোম্পানি এবং বড় বড় কোম্পানির ওপর ভ্যাট আরোপ করলে রাজস্ব ঘাটতি পূরণ করা সম্ভব হবে।

তিনি বলেন, ‘কর্মসংস্থান দেশের বড় সমস্যা। তাই ছোট ছোট কোম্পানি থেকে পুরোপুরি ভ্যাট প্রত্যাহার করে দিন। রাজধানী ঢাকাকে বাঁচাতে হলে স্রোতের মতো মানুষ আসা বন্ধ করতে হবে। প্রতিদিন ৯৬০ জন লোক ঢাকায় প্রবেশ করছে। তিলোত্তমা ঢাকা নগরী এখন ময়লা ও দূষণের নগরীতে পরিণত হয়েছে। তাই রাজধানীকে বাঁচাতে ঢাকার বাইরে বড় বড় কল-করখানা তৈরি করে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে হবে।

স্বাস্থ্যমন্ত্রীকে উদ্দেশ্যে করে তিনি বলেন, ‘ঘরে ঘরে মানুষ চিকুনগুনিয়ায় আক্রান্ত হচ্ছে। মানুষকে সচেতন করুন এবং এডিস মশা নিধন করলে মানুষ বাঁচতে পারবে। ঢাকার দুই মেয়রকে আরও উদ্যোগী হতে হবে এ ব্যাপারে। কারণ, স্বাস্থ্যসেবা জনগণের অন্যতম মৌলিক চাহিদা। জনগণের এ চাহিদা অবশ্যই পূরণ করতে হবে। তিনি আরো বলেন, ‘এখনো কোন সুষ্ঠু বর্জ্য ব্যবস্থা গড়ে উঠেনি। ড্রেনেজ অবস্থা খারাপ বলেই একটু বৃষ্টি হলেই রাস্তা-ঘাট ডুবে যাচ্ছে।তিনি বলেন, দেশে এখন ১৫ কোটি মোবাইল ফোন ব্যবহার হচ্ছে,প্রতিবছর প্রায় ৩ কোটি মোবাইল ফোন অকেজো হলেও তা অপসারণের কোন ব্যবস্থা নেই। তাই ই-বর্জ্য ব্যবস্থার দিকেও নজর দিতে হবে।

বন্যা পরিস্থিতি প্রসঙ্গে রওশন এরশাদ বলেন, ‘দেশের প্রায় ৬ লাখ মানুষ বন্যায় দুর্ভোগ পোহাচ্ছে। কিন্তু ত্রাণ তৎপরতা অপ্রতুল। সঠিকভাবে ত্রাণ বণ্টন করতে হবে। বর্তমানে জনসংখ্যা ১৬ কোটি পেরিয়ে গেছে। জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ করতে না পারলে ২০৫০ সালে জনসংখ্যা ২০ কোটি পেরিয়ে যাবে। অধিক জনসংখ্যার কারণে কৃষি জমি কমে যাচ্ছে। এখনই নিয়ন্ত্রণ করতে না পারলে জনসংখ্যার ভারে দেশটাই ডুবে যাবে।

বিরোধী দলের নেতা বলেন, ‘খাদ্যদ্রব্যে ভেজাল এখনও কমেনি। ভেজাল খেতে খেতে এমন অবস্থা হয়েছে যে, সাপ আমাদের কামড় দিলে সাপই মরে যাবে, আমরা মরবো না। নতুন প্রজন্ম এমন ভেজাল খাদ্যে কীভাবে সোনার বাংলা গড়ে তুলবেন? একমাত্র প্রধানমন্ত্রী ছাড়া আর কেউ তা বন্ধ করতে পারবে না।গুলি করে কিংবা ছুরিকাঘাত করে হত্যা করা আর খাদ্যে বিষ দেওয়া একই অপরাধ।