ঢাকা ১০:০৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬, ৯ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
তনু হত্যা মামলা: ১০ বছর পর সাবেক সেনাসদস্য গ্রেফতার, ৩ দিনের রিমান্ডে গণমাধ্যম ও রাজনীতিতে জবাবদিহিতার সংস্কৃতি নিশ্চিত করতে হবে: তথ্যমন্ত্রী স্ত্রীকে ভিডিও কলে রেখে গ্রামপুলিশের আত্মহত্যা চীন বাংলাদেশের সবচেয়ে পুরনো ও বিশ্বস্ত বন্ধু: স্পিকার জনগণের কাছে যান, শহর ঘুরে দেখুন: সিটি প্রশাসকদের প্রতি প্রতিমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী হলেন জিয়াউদ্দিন হায়দার পাচার হওয়া অর্থ ফেরত আনতে ২৩ দেশে এমএলএআর পাঠিয়েছে সরকার:সংসদে অর্থমন্ত্রী তীব্র বিতর্কের মুখে পদত্যাগ করলেন নেপালের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ‘স্মার্ট কৃষি’ কার্যক্রম বাস্তবায়নে একগুচ্ছ মহাপরিকল্পনা গ্রহণ করেছে সরকার: প্রধানমন্ত্রী ট্রাম্পের ভুয়া প্রতিশ্রুতিতে বিভ্রান্ত হয়েছে ইরান: রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী

হত্যাকাণ্ডের পর আত্মগোপনে ৮ বছর, অবশেষে ধরা!

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:   

মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার বুদুটি বানীবন এলাকার বাসিন্দা মবজেল। দুই ভাই ও দুই বোনের মধ্যে সবার ছোট তিনি। প্রাতিষ্ঠানিক কোনো শিক্ষা নেই তার। হালিম খান নামে এক ব্যক্তিকে হত্যার পর আট বছর আত্মগোপনে ছিলেন। তিনি ঢাকার ধামরাই উপজেলার ইসলামপুরে পরিবার নিয়ে বসবাস করে আসছিলেন। অবশেষে র‌্যাবের হাতে মবজেল ধরা পড়েছেন!

হালিম হত্যা মামলায় মবজেলসহ অন্য তিনজন আসামি সবাই এলাকার বখাটে স্বভাবের ছিল। তাদের সঙ্গে ভুক্তভোগী হালিমের মোটরসাইকেলের ভাড়া নিয়ে কথাকাটাকাটি ও মারামারি হয়। এতেই ক্ষিপ্ত হয়ে হালিমকে হত্যার পরিকল্পনা সাজায় তারা।

বৃহস্পতিবার রাতে ধামরাইয়ের ইসলামপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে হালিম হত্যা মামলায় যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত আসামি মবজেলকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব-৪। শুক্রবার দুপুরে র‌্যাব-৪ এর স্টাফ অফিসার (মিডিয়া) সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) মাজহারুল ইসলাম এসব তথ্য জানান।

র‌্যাবের এই কর্মকর্তা বলেন, হত্যাকাণ্ডের পরে নিজেকে আড়াল করতে চলে আসেন ঢাকায়। গত আট বছর ধরে আসামি মবজেল ঢাকা, সাভার, আশুলিয়া ও ধামরাইসহ বিভিন্ন এলাকায় আত্মগোপন করেন। এ সময়ের মধ্যে নিজের পরিচয় ও পেশা পরিবর্তন করেছে। বেশিরভাগ সময় ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় শ্রমিকের কাজ করত। কিছুদিন যাবৎ ধামরাই ইসলামপুর একটি গার্মেন্টসে পোশাক শ্রমিক হিসেবে কাজ করছিল। আর পরিবার নিয়ে থাকতেন পাশেই।

পূর্বপরিকল্পনা মতো ২০১৪ সালের ১৪ মার্চ আসামি মবজেল ও ছমির মানিকগঞ্জ সদর বলড়া এলাকা থেকে হরিরামপুর উপজেলায় ওয়াজ-মাহফিলে যাওয়ার কথা বলে ভুক্তভোগী হালিমের মোটরসাইকেল ভাড়া করে। এরপর ওয়াজ মাহফিল শুনে হালিমের মোটরসাইকেলে বাড়ি ফিরে যাওয়ার কথা বলে হালিমকে অপেক্ষা করাতে থাকে। গভীর রাতে মবজেল ও ছমির হালিমের মোটরসাইকেলে বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হয়। হরিরামপুর সদর থেকে কিছুদূর আসার পর পূর্ব থেকে অপেক্ষারত অন্যান্য আসামিরা পথ রোধ করে হালিমের গাড়ি থামায়।

মোটরসাইকেল থামা মাত্রই হালিমের মুখ চেপে ধরে পদ্মা নদীর চরে নিয়ে যায়। পরে তারা হালিমের গলায় গামছা পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করে নির্মমভাবে হত্যা করে। হালিমের হত্যা নিশ্চিত করার জন্য তারা হালিমের হাতের ও পায়ের রগ কেটে ফেলে। এরপর হালিমকে পদ্মার চরে ঝোপের মধ্যে লুকিয়ে মোটরসাইকেল নিয়ে আসামিরা পালিয়ে যায়।

ওই ঘটনার দিন রাতে হালিম বাড়িতে ফিরে না আসায় পরিবারের লোকজন হালিমকে খোঁজাখুঁজি করতে থাকে। না পেয়ে পরের দিন ২০১৪ সালের ১৫ মার্চ ভিকটিমের স্ত্রী ফরিদা হরিরামপুর থানায় একটি সাধারণ ডায়রী (জিডি) করে।

হরিরামপুর থানায় করা নিখোঁজ জিডির তদন্ত করতে গিয়ে ঘটনার তিনদিন পরে ছমিরকে হালিমের মোটরসাইকেলসহ আটক করে হরিরামপুর থানা পুলিশ। পরে তার দেখানো জায়গা থেকে হালিমের লাশও উদ্ধার করে পুলিশ। এছাড়া মবজেল জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে হত্যার সহযোগী ছমির। পরে ওই ঘটনায় ১৮ মার্চ হালিমের স্ত্রী ফরিদা বাদী হয়ে আসামি মবজেল, ছমির ও বাতেনসহ আরও কয়েকজনের নাম উল্লেখ করে হরিরামপুর থানায় একটি হত্যা মামলা করে।

ওই মামলার আসামি ছমিরকে জেলহাজতে পাঠায় আদালত। আর দুজন পলাতক দেখানো হয়। ঘটনার কিছুদিন পর বৈদ্যুতিক দুর্ঘটনায় পলাতক থাকা অবস্থায় আসামি বাতেনের মৃত্যু হয়। পরে ওই ঘটনায় রাজ্জাক নামে আরও একজনকে গ্রেপ্তার করে জেলহাজতে পাঠায় পুলিশ। কিন্তু ঘটনার পর থেকে আসামি মবজেল পলাতক ছিল।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মবজেলসহ অন্যান্য আসামিদের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দেন। পরে হালিমকে হত্যাকাণ্ডে সরাসরি সম্পৃক্ত থাকার অপরাধে ২০১৭ সালের এপ্রিল মাসে চার্জশিটে অভিযুক্ত আসামি মবজেলকে যাবজ্জীবন সাজা দেন আদালত। ওই হত্যাকাণ্ডের পরে আসামি মবজলে দীর্ঘ আট বছর পলাতক ছিল।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

হত্যাকাণ্ডের পর আত্মগোপনে ৮ বছর, অবশেষে ধরা!

আপডেট সময় ০৬:১৩:৩৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৯ অগাস্ট ২০২২

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:   

মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার বুদুটি বানীবন এলাকার বাসিন্দা মবজেল। দুই ভাই ও দুই বোনের মধ্যে সবার ছোট তিনি। প্রাতিষ্ঠানিক কোনো শিক্ষা নেই তার। হালিম খান নামে এক ব্যক্তিকে হত্যার পর আট বছর আত্মগোপনে ছিলেন। তিনি ঢাকার ধামরাই উপজেলার ইসলামপুরে পরিবার নিয়ে বসবাস করে আসছিলেন। অবশেষে র‌্যাবের হাতে মবজেল ধরা পড়েছেন!

হালিম হত্যা মামলায় মবজেলসহ অন্য তিনজন আসামি সবাই এলাকার বখাটে স্বভাবের ছিল। তাদের সঙ্গে ভুক্তভোগী হালিমের মোটরসাইকেলের ভাড়া নিয়ে কথাকাটাকাটি ও মারামারি হয়। এতেই ক্ষিপ্ত হয়ে হালিমকে হত্যার পরিকল্পনা সাজায় তারা।

বৃহস্পতিবার রাতে ধামরাইয়ের ইসলামপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে হালিম হত্যা মামলায় যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত আসামি মবজেলকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব-৪। শুক্রবার দুপুরে র‌্যাব-৪ এর স্টাফ অফিসার (মিডিয়া) সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) মাজহারুল ইসলাম এসব তথ্য জানান।

র‌্যাবের এই কর্মকর্তা বলেন, হত্যাকাণ্ডের পরে নিজেকে আড়াল করতে চলে আসেন ঢাকায়। গত আট বছর ধরে আসামি মবজেল ঢাকা, সাভার, আশুলিয়া ও ধামরাইসহ বিভিন্ন এলাকায় আত্মগোপন করেন। এ সময়ের মধ্যে নিজের পরিচয় ও পেশা পরিবর্তন করেছে। বেশিরভাগ সময় ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় শ্রমিকের কাজ করত। কিছুদিন যাবৎ ধামরাই ইসলামপুর একটি গার্মেন্টসে পোশাক শ্রমিক হিসেবে কাজ করছিল। আর পরিবার নিয়ে থাকতেন পাশেই।

পূর্বপরিকল্পনা মতো ২০১৪ সালের ১৪ মার্চ আসামি মবজেল ও ছমির মানিকগঞ্জ সদর বলড়া এলাকা থেকে হরিরামপুর উপজেলায় ওয়াজ-মাহফিলে যাওয়ার কথা বলে ভুক্তভোগী হালিমের মোটরসাইকেল ভাড়া করে। এরপর ওয়াজ মাহফিল শুনে হালিমের মোটরসাইকেলে বাড়ি ফিরে যাওয়ার কথা বলে হালিমকে অপেক্ষা করাতে থাকে। গভীর রাতে মবজেল ও ছমির হালিমের মোটরসাইকেলে বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হয়। হরিরামপুর সদর থেকে কিছুদূর আসার পর পূর্ব থেকে অপেক্ষারত অন্যান্য আসামিরা পথ রোধ করে হালিমের গাড়ি থামায়।

মোটরসাইকেল থামা মাত্রই হালিমের মুখ চেপে ধরে পদ্মা নদীর চরে নিয়ে যায়। পরে তারা হালিমের গলায় গামছা পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করে নির্মমভাবে হত্যা করে। হালিমের হত্যা নিশ্চিত করার জন্য তারা হালিমের হাতের ও পায়ের রগ কেটে ফেলে। এরপর হালিমকে পদ্মার চরে ঝোপের মধ্যে লুকিয়ে মোটরসাইকেল নিয়ে আসামিরা পালিয়ে যায়।

ওই ঘটনার দিন রাতে হালিম বাড়িতে ফিরে না আসায় পরিবারের লোকজন হালিমকে খোঁজাখুঁজি করতে থাকে। না পেয়ে পরের দিন ২০১৪ সালের ১৫ মার্চ ভিকটিমের স্ত্রী ফরিদা হরিরামপুর থানায় একটি সাধারণ ডায়রী (জিডি) করে।

হরিরামপুর থানায় করা নিখোঁজ জিডির তদন্ত করতে গিয়ে ঘটনার তিনদিন পরে ছমিরকে হালিমের মোটরসাইকেলসহ আটক করে হরিরামপুর থানা পুলিশ। পরে তার দেখানো জায়গা থেকে হালিমের লাশও উদ্ধার করে পুলিশ। এছাড়া মবজেল জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে হত্যার সহযোগী ছমির। পরে ওই ঘটনায় ১৮ মার্চ হালিমের স্ত্রী ফরিদা বাদী হয়ে আসামি মবজেল, ছমির ও বাতেনসহ আরও কয়েকজনের নাম উল্লেখ করে হরিরামপুর থানায় একটি হত্যা মামলা করে।

ওই মামলার আসামি ছমিরকে জেলহাজতে পাঠায় আদালত। আর দুজন পলাতক দেখানো হয়। ঘটনার কিছুদিন পর বৈদ্যুতিক দুর্ঘটনায় পলাতক থাকা অবস্থায় আসামি বাতেনের মৃত্যু হয়। পরে ওই ঘটনায় রাজ্জাক নামে আরও একজনকে গ্রেপ্তার করে জেলহাজতে পাঠায় পুলিশ। কিন্তু ঘটনার পর থেকে আসামি মবজেল পলাতক ছিল।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মবজেলসহ অন্যান্য আসামিদের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দেন। পরে হালিমকে হত্যাকাণ্ডে সরাসরি সম্পৃক্ত থাকার অপরাধে ২০১৭ সালের এপ্রিল মাসে চার্জশিটে অভিযুক্ত আসামি মবজেলকে যাবজ্জীবন সাজা দেন আদালত। ওই হত্যাকাণ্ডের পরে আসামি মবজলে দীর্ঘ আট বছর পলাতক ছিল।