ঢাকা ০৪:৫৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৬ জানুয়ারী ২০২৬, ১৩ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
শেখ হাসিনা পালিয়ে আমাদের বিপদে ফেলে গেছেন,তিনি থাকলে অন্তত একটা গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা চলত: মির্জা ফখরুল দুই হত্যা মামলায় হাসিনাসহ ৪১ জনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা আগামী নির্বাচন হবে মানুষের জীবন ও ভাগ্য বদলে দেওয়ার নির্বাচন : সালাহউদ্দিন চানখারপুলে ৬ হত্যা মামলার রায়ে অসন্তুষ্ট রাষ্ট্রপক্ষ, করা হবে আপিল গণভোট-সংসদ নির্বাচনের ফল হবে একসঙ্গে : ইসি সচিব পাকিস্তানকে বিশ্বকাপে খেলার অনুমতি দেবে না সরকার সাবেক ডিএমপি কমিশনার হাবিবসহ ৩ জনের মৃত্যুদণ্ড নির্বাচনে নিরপেক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালনে সশস্ত্র বাহিনীকে নির্দেশ প্রধান উপদেষ্টার ‘লাইলাতুল গুজব’ শেষে বিসিবিতেই দেখা গেল বুলবুলকে ঢাকা-১৮ আসনে এনসিপি প্রার্থীর ওপর বিএনপির হামলার অভিযোগ

রিজার্ভে টান পড়ায় বিদ্যুৎ সংকট : টুকু

আকাশ জাতীয় ডেস্ক: 

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেছেন, শতভাগ বিদ্যুৎ উৎপাদন সত্ত্বেও সরকারকে কেন এলাকাভিত্তিক লোডশেডিংয়ের সিদ্ধান্তে আসতে হলো? আসলে সরকার সংকট মোকাবেলা করার জন্য এলাকাভিত্তিক লোডশেডিং করেনি। এটা করেছে- বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে টান পড়ার কারণে। ডলার সংকটের কারণে তেল, গ্যাস আমদানি করতে পারছে না। ফলে কম বিদ্যুৎ খরচ হলে আমদানিও কম লাগবে। সেজন্যই এই লোডশেডিং।

সোমবার রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে সাবেক বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী এসব কথা বলেন। এসময় দলের মিডিয়া সেলের আহ্বায়ক জহির উদ্দিন স্বপন, সদস্য সচিব শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী, সদস্য শায়রুল কবির খান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

ইকবাল হাসান মাহমুদ বলেন, সরকার এতো ঢোল পেটালো সিঙ্গাপুর, ব্যাংকক-কেও ছাড়িয়ে গেছি আমরা, সেই রিজার্ভ এখন কোথায়? হঠাৎ করে নাই হয়ে গেল কেন? আজকে দেশ অর্থনৈতিক ক্রাইসিসে দাঁড়িয়ে গেছে। এটার জন্য সরকারই পুরোপুরি দায়ী।

এলাকাভিত্তিক লোডশেডিংয়ের সিদ্ধান্ত সম্পর্কে স্থায়ী কমিটির এই সদস্য বলেন, আগে লোডশেডিংয়ে মানুষকে পে করতে হয়নি। এখন মিউজিয়ামে যাওয়া লোডশেডিংকে ফেরত এনে জনগণকে পে করতে হচ্ছে। লোডশেডিং সত্ত্বেও কেন মানুষকে পেমেন্ট করতে হচ্ছে- সেটিই বড় প্রশ্ন।

সাবেক এই প্রতিমন্ত্রী বলেন, সরকারের পরিকল্পনায় বলা ছিল ৬৪ ভাগ বিদ্যুৎ উৎপাদন থাকবে সরকারের হাতে, আর ৩৬ ভাগ থাকবে বেসরকারি হাতে। কিন্তু সরকার তড়িঘড়ি করে বেজ প্লান্টগুলো বেসরকারি সেক্টরে দিয়ে দিল। সবকিছু মিলে আমি মনে করি এই পরিকল্পনা খারাপ ছিল। দূরভিসন্ধিমূলক ছিল এবং দুর্নীতিগ্রস্ত ছিল। যার ফলে আমাদের বিদ্যুতের যে আইন, সেগুলো জলাঞ্জলি দিয়ে সংসদে আইন পাশ করে যাকে ইচ্ছে তাকে পাওয়ার স্টেশন দিয়েছে। শতভাগ বিদ্যুতের দেশ বলে হাতিরঝিলে অনেক ফানুস উড়লো। কিন্তু আজকে এসে আমরা বিদ্যুৎ পাচ্ছি না।

ইকবাল হাসান বলেন, সরকার যদি বিদ্যুৎ উৎপাদন করতো তাহলে আজকের পরিস্থিতিতে পড়তে হতো না। অন্ধকারে থেকেও মানুষকে পেমেন্ট করতে হচ্ছে। যেটি অতীতে দিতে হয়নি। দুর্নীতিপুষ্ট প্রকল্পগুলো করে, আনন্দ-ফূর্তি করে সরকার সবাইকে দেখানোর চেষ্টা করছে। এটা এই সরকারের ‘প্রচারেই প্রসার’ পলিসি। যার ফলে আজ আমরা দুর্ভোগে পড়েছি। আমাদের সরকারি কোষাগার থেকে টাকা যাবে পাওয়ার স্টেশন মালিকদের কাছে। তারা পাওয়ার স্টেশন না চালিয়ে টাকা নিয়ে যাবে। আর শতভাগ ক্ষতিগ্রস্ত হবে দেশের জনগণ। এই যে সরকার অনিয়মটা করে গেল, এটা আমাদের দেশ ও জাতিকে অনেকদিন বহন করতে হবে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

শেখ হাসিনা পালিয়ে আমাদের বিপদে ফেলে গেছেন,তিনি থাকলে অন্তত একটা গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা চলত: মির্জা ফখরুল

রিজার্ভে টান পড়ায় বিদ্যুৎ সংকট : টুকু

আপডেট সময় ১১:২৯:২৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৮ জুলাই ২০২২

আকাশ জাতীয় ডেস্ক: 

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেছেন, শতভাগ বিদ্যুৎ উৎপাদন সত্ত্বেও সরকারকে কেন এলাকাভিত্তিক লোডশেডিংয়ের সিদ্ধান্তে আসতে হলো? আসলে সরকার সংকট মোকাবেলা করার জন্য এলাকাভিত্তিক লোডশেডিং করেনি। এটা করেছে- বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে টান পড়ার কারণে। ডলার সংকটের কারণে তেল, গ্যাস আমদানি করতে পারছে না। ফলে কম বিদ্যুৎ খরচ হলে আমদানিও কম লাগবে। সেজন্যই এই লোডশেডিং।

সোমবার রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে সাবেক বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী এসব কথা বলেন। এসময় দলের মিডিয়া সেলের আহ্বায়ক জহির উদ্দিন স্বপন, সদস্য সচিব শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী, সদস্য শায়রুল কবির খান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

ইকবাল হাসান মাহমুদ বলেন, সরকার এতো ঢোল পেটালো সিঙ্গাপুর, ব্যাংকক-কেও ছাড়িয়ে গেছি আমরা, সেই রিজার্ভ এখন কোথায়? হঠাৎ করে নাই হয়ে গেল কেন? আজকে দেশ অর্থনৈতিক ক্রাইসিসে দাঁড়িয়ে গেছে। এটার জন্য সরকারই পুরোপুরি দায়ী।

এলাকাভিত্তিক লোডশেডিংয়ের সিদ্ধান্ত সম্পর্কে স্থায়ী কমিটির এই সদস্য বলেন, আগে লোডশেডিংয়ে মানুষকে পে করতে হয়নি। এখন মিউজিয়ামে যাওয়া লোডশেডিংকে ফেরত এনে জনগণকে পে করতে হচ্ছে। লোডশেডিং সত্ত্বেও কেন মানুষকে পেমেন্ট করতে হচ্ছে- সেটিই বড় প্রশ্ন।

সাবেক এই প্রতিমন্ত্রী বলেন, সরকারের পরিকল্পনায় বলা ছিল ৬৪ ভাগ বিদ্যুৎ উৎপাদন থাকবে সরকারের হাতে, আর ৩৬ ভাগ থাকবে বেসরকারি হাতে। কিন্তু সরকার তড়িঘড়ি করে বেজ প্লান্টগুলো বেসরকারি সেক্টরে দিয়ে দিল। সবকিছু মিলে আমি মনে করি এই পরিকল্পনা খারাপ ছিল। দূরভিসন্ধিমূলক ছিল এবং দুর্নীতিগ্রস্ত ছিল। যার ফলে আমাদের বিদ্যুতের যে আইন, সেগুলো জলাঞ্জলি দিয়ে সংসদে আইন পাশ করে যাকে ইচ্ছে তাকে পাওয়ার স্টেশন দিয়েছে। শতভাগ বিদ্যুতের দেশ বলে হাতিরঝিলে অনেক ফানুস উড়লো। কিন্তু আজকে এসে আমরা বিদ্যুৎ পাচ্ছি না।

ইকবাল হাসান বলেন, সরকার যদি বিদ্যুৎ উৎপাদন করতো তাহলে আজকের পরিস্থিতিতে পড়তে হতো না। অন্ধকারে থেকেও মানুষকে পেমেন্ট করতে হচ্ছে। যেটি অতীতে দিতে হয়নি। দুর্নীতিপুষ্ট প্রকল্পগুলো করে, আনন্দ-ফূর্তি করে সরকার সবাইকে দেখানোর চেষ্টা করছে। এটা এই সরকারের ‘প্রচারেই প্রসার’ পলিসি। যার ফলে আজ আমরা দুর্ভোগে পড়েছি। আমাদের সরকারি কোষাগার থেকে টাকা যাবে পাওয়ার স্টেশন মালিকদের কাছে। তারা পাওয়ার স্টেশন না চালিয়ে টাকা নিয়ে যাবে। আর শতভাগ ক্ষতিগ্রস্ত হবে দেশের জনগণ। এই যে সরকার অনিয়মটা করে গেল, এটা আমাদের দেশ ও জাতিকে অনেকদিন বহন করতে হবে।