ঢাকা ০৪:২১ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ নতুন দলের আত্মপ্রকাশ, নেতৃত্বে যারা ইরানের সামনে এখন কেবল দুই পথ—চুক্তি অথবা আত্মসমর্পণ: ট্রাম্প পাঁচ দফা দাবিতে সরকারি কর্মচারীদের অবস্থান কর্মসূচি সরকার দমনে ব্যস্ত, দ্রব্যমূল্য-গ্যাস নিয়ে মাথাব্যথা নেই: গোলাম পরওয়ার দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে আশা বাণিজ্যমন্ত্রীর সম্পত্তি দানের পরও আজীবন ভোগদখলের সুযোগ, মন্ত্রিসভায় খসড়া পাশ শেখ হাসিনা যেন রাজনৈতিক বক্তব্য দিতে না পারেন, ভারতীয় হাইকমিশনারকে হুমায়ুন কবির রাষ্ট্র পরিচালনায় ‘নতুন মাত্রা’ যোগ করেছেন তারেক রহমান: চীনা রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশে কারিগরি ও ক্রীড়া শিক্ষায় সহযোগিতার আগ্রহ অস্ট্রেলিয়ার

প্রেমিকের খোঁজে কক্সবাজার গিয়ে ধর্ষণের শিকার, বাড়ি ফিরে আত্মহত্যা

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

প্রেমিকের সঙ্গে দেখা করতে চট্টগ্রাম থেকে এক বান্ধবীকে নিয়ে কক্সবাজারে ছুটে গিয়েছিল দশম শ্রেণির স্কুল শিক্ষার্থী সামিহা আফরিন মৌ (১৬)। কিন্তু প্রতারক সেই প্রেমিক মৌর সঙ্গে দেখা করলেন না। সেখানে তার অসহায়ত্বের সুযোগ নিয়ে একটি হোটেলে তোলে সেখানকার টমটম চালক। হোটেলে ধর্ষণের শিকার হয় মেয়েটি।

পরদিন মৌকে চট্টগ্রামের বাসে তুলে দেওয়া হয়। বিষয়টি নিয়ে পরিবারের সদস্যরা তাকে বকাঝকা করে। আর এসব ঘটনা সহ্য করতে না পেরে শেষ পর্যন্ত নিজের ঘরে ফ্যানের সঙ্গে ওড়না পেঁচিয়ে আত্মহত্যার পথ বেছে নেয় মেয়েটি। শুক্রবার সকালে নগরের বায়েজিদ বোস্তামী থানাধীন টেপটাইল এলাকায় পরিবারের সঙ্গে থাকত মৌ। আত্মহত্যার আগে একটি সুইসাইড নোটও লিখে যায় সে। তাতে ঘটনার শিকার হওয়া ও নিজের অসহায়ত্বের চিত্র তুলে ধরে সে। মৌ ওই এলাকার নুর আলমের মেয়ে। সে ডা. মাজহারুল হক উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী।

মৌর প্রেম, ধর্ষণের শিকার হওয়া ও আত্মহত্যার বিস্তারিত তথ্য জানিয়েছেন তার বোন মুক্তা আকতার। তিনি সমকালকে জানান, বায়েজিদ বোস্তামীর টেপটাইল এলাকায় ফুলকলি মিষ্টি কারখানার পাশেই তাদের বাসা। সেই কারখানায় কাজ করত জিসান নামে এক যুবক। তার সঙ্গে মৌয়ের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। ছেলেটির বাড়ি চট্টগ্রামের বাঁশখালী বলে শুনেছি। সেই ছেলে এক সময় চট্টগ্রাম থেকে কক্সবাজারে চলে গেলেও মৌয়ের সঙ্গে যোগাযোগ ছিল। কাউকে না জানিয়ে ৩১ মে মৌ তার স্কুল বান্ধবী মাহমুদা মুক্তাকে নিয়ে ওই ছেলের সঙ্গে দেখা করতে কক্সবাজারে যান। সেখানে যাওয়ার পর জিসান মৌয়ের সঙ্গে দেখা করতে অস্বীকৃতি জানায়। মৌ টমটম নিয়ে তাকে খুঁজতে থাকে। শেষ পর্যন্ত খোঁজ পায়নি সে। এক পর্যায়ে সঙ্গে যাওয়া বান্ধবী চট্টগ্রামে ফিরে আসে। আর এই সুযোগটি নেয় টমটম চালক রুবেল (২২)। সে রাতে মৌকে একটি হোটেলে রেখে ধর্ষণ করে। পরদিন ১ জুন মৌকে সে চট্টগ্রামের একটি বাসে তুলে দেয়। বাড়িতে ফিরে শুক্রবার সকালে আত্মহত্যা করে মৌ। মৌ ধর্ষণ ও আত্মহত্যায় যারা প্ররোচনা দিয়েছে তাদের শাস্তি দাবি করেন মুক্তা আকতার।

চট্টগ্রামের বায়েজিদ বোস্তামী থানার ওসি মো. কামরুজ্জামান বলেন, ‘বায়েজিদ নগর আবাসিক এলাকার একটি ভবন থেকে ওই শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। ওই শিক্ষার্থী আত্মহত্যা করেছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। ‘

একই প্রসঙ্গে কক্সবাজা সদর থানার ওসি শেখ মুনীর-উল গিয়াস সমকালকে বলেন, গত ১ জুন মেয়েটিকে খুঁজতে তার স্বজনরা কক্সবাজারে এসেছিলেন। যে বান্ধবীকে নিয়ে সে কক্সবাজারে এসেছিল তাকে নিয়ে আমরা সারাদিন কক্সবাজারে খুঁজেছি, কিন্তু পাইনি। রাতে পরিবারের পক্ষ থেকে আমাদের জানানো হয়েছে, মেয়েটি ঘরে ফিরে গেছে। আজকে (শুক্রবার) আমাকে ফোন করে জানানো হলো মেয়েটি আত্মহত্যা করেছে। ধর্ষিত হওয়ার বিষয়টিও জানানো হয়েছে। আমরা বলেছি, ময়নাতদন্তে এই ধরনের কোনো আলামত মিললে আইনানুগ ব্যবস্থা নেব। টমটম চালক রুবেলকেও খোজা হচ্ছে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

প্রেক্ষাপট: দুই দিনের সফরে আগামীকাল ঠাকুরগাঁও যাচ্ছেন রাষ্ট্রপতি

প্রেমিকের খোঁজে কক্সবাজার গিয়ে ধর্ষণের শিকার, বাড়ি ফিরে আত্মহত্যা

আপডেট সময় ১১:০৪:৩২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩ জুন ২০২২

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

প্রেমিকের সঙ্গে দেখা করতে চট্টগ্রাম থেকে এক বান্ধবীকে নিয়ে কক্সবাজারে ছুটে গিয়েছিল দশম শ্রেণির স্কুল শিক্ষার্থী সামিহা আফরিন মৌ (১৬)। কিন্তু প্রতারক সেই প্রেমিক মৌর সঙ্গে দেখা করলেন না। সেখানে তার অসহায়ত্বের সুযোগ নিয়ে একটি হোটেলে তোলে সেখানকার টমটম চালক। হোটেলে ধর্ষণের শিকার হয় মেয়েটি।

পরদিন মৌকে চট্টগ্রামের বাসে তুলে দেওয়া হয়। বিষয়টি নিয়ে পরিবারের সদস্যরা তাকে বকাঝকা করে। আর এসব ঘটনা সহ্য করতে না পেরে শেষ পর্যন্ত নিজের ঘরে ফ্যানের সঙ্গে ওড়না পেঁচিয়ে আত্মহত্যার পথ বেছে নেয় মেয়েটি। শুক্রবার সকালে নগরের বায়েজিদ বোস্তামী থানাধীন টেপটাইল এলাকায় পরিবারের সঙ্গে থাকত মৌ। আত্মহত্যার আগে একটি সুইসাইড নোটও লিখে যায় সে। তাতে ঘটনার শিকার হওয়া ও নিজের অসহায়ত্বের চিত্র তুলে ধরে সে। মৌ ওই এলাকার নুর আলমের মেয়ে। সে ডা. মাজহারুল হক উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী।

মৌর প্রেম, ধর্ষণের শিকার হওয়া ও আত্মহত্যার বিস্তারিত তথ্য জানিয়েছেন তার বোন মুক্তা আকতার। তিনি সমকালকে জানান, বায়েজিদ বোস্তামীর টেপটাইল এলাকায় ফুলকলি মিষ্টি কারখানার পাশেই তাদের বাসা। সেই কারখানায় কাজ করত জিসান নামে এক যুবক। তার সঙ্গে মৌয়ের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। ছেলেটির বাড়ি চট্টগ্রামের বাঁশখালী বলে শুনেছি। সেই ছেলে এক সময় চট্টগ্রাম থেকে কক্সবাজারে চলে গেলেও মৌয়ের সঙ্গে যোগাযোগ ছিল। কাউকে না জানিয়ে ৩১ মে মৌ তার স্কুল বান্ধবী মাহমুদা মুক্তাকে নিয়ে ওই ছেলের সঙ্গে দেখা করতে কক্সবাজারে যান। সেখানে যাওয়ার পর জিসান মৌয়ের সঙ্গে দেখা করতে অস্বীকৃতি জানায়। মৌ টমটম নিয়ে তাকে খুঁজতে থাকে। শেষ পর্যন্ত খোঁজ পায়নি সে। এক পর্যায়ে সঙ্গে যাওয়া বান্ধবী চট্টগ্রামে ফিরে আসে। আর এই সুযোগটি নেয় টমটম চালক রুবেল (২২)। সে রাতে মৌকে একটি হোটেলে রেখে ধর্ষণ করে। পরদিন ১ জুন মৌকে সে চট্টগ্রামের একটি বাসে তুলে দেয়। বাড়িতে ফিরে শুক্রবার সকালে আত্মহত্যা করে মৌ। মৌ ধর্ষণ ও আত্মহত্যায় যারা প্ররোচনা দিয়েছে তাদের শাস্তি দাবি করেন মুক্তা আকতার।

চট্টগ্রামের বায়েজিদ বোস্তামী থানার ওসি মো. কামরুজ্জামান বলেন, ‘বায়েজিদ নগর আবাসিক এলাকার একটি ভবন থেকে ওই শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। ওই শিক্ষার্থী আত্মহত্যা করেছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। ‘

একই প্রসঙ্গে কক্সবাজা সদর থানার ওসি শেখ মুনীর-উল গিয়াস সমকালকে বলেন, গত ১ জুন মেয়েটিকে খুঁজতে তার স্বজনরা কক্সবাজারে এসেছিলেন। যে বান্ধবীকে নিয়ে সে কক্সবাজারে এসেছিল তাকে নিয়ে আমরা সারাদিন কক্সবাজারে খুঁজেছি, কিন্তু পাইনি। রাতে পরিবারের পক্ষ থেকে আমাদের জানানো হয়েছে, মেয়েটি ঘরে ফিরে গেছে। আজকে (শুক্রবার) আমাকে ফোন করে জানানো হলো মেয়েটি আত্মহত্যা করেছে। ধর্ষিত হওয়ার বিষয়টিও জানানো হয়েছে। আমরা বলেছি, ময়নাতদন্তে এই ধরনের কোনো আলামত মিললে আইনানুগ ব্যবস্থা নেব। টমটম চালক রুবেলকেও খোজা হচ্ছে।