ঢাকা ০৯:৫৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬, ১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সৌদি আরবের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দলের সৌজন্য সাক্ষাৎ শতাধিক নেতাকর্মী নিয়ে আ.লীগ ছাড়লেন চেয়ারম্যানসহ ৯ ইউপি সদস্য ১৬ জুলাই ঘিরে গোপালগঞ্জে ৫ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন মালয়েশিয়ায় ইসরাইলি নাগরিক শনাক্ত হলে সঙ্গে সঙ্গেই বহিষ্কার আল্টিমেটাম দিয়ে শাহবাগ ছাড়লেন শিক্ষার্থীরা গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না করে সরকার জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করেছে: নাহিদ কোনোভাবেই উগ্রবাদকে প্রশ্রয় দেবে না সরকার:প্রধানমন্ত্রী অহংকারী মনোভাব বাদ দিয়ে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সরকারের বসা উচিত:নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ২৬ কার্যদিবসের বাজেট অধিবেশন সমাপ্ত, ১০ সরকারি বিল পাস এমপিরা পৃষ্ঠপোষক না হলে দুর্নীতি কানে ধরে বিদায় নেবে:সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা

ওরা দিনে কর্মজীবী, রাতে দুর্ধর্ষ ডাকাত!

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

রাজধানী ঢাকাসহ পার্শ্ববর্তী এলাকায় সংঘবদ্ধ আন্তঃজেলা ডাকাত দলের মূলহোতাসহ দশজনকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব। যারা দিনে বিভিন্ন পেশায় নিয়োজিত থাকতেন এবং রাতে দুর্ধর্ষ ডাকাতি করতেন।

সোমবার দিবাগত রাতে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ থানা এলাকার কাঞ্চনব্রিজ এলাকা থেকে মাইক্রোবাসসহ তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তারের সময় তাদের কাছ থেকে দুটি বিদেশি পিস্তল, একটি ওয়ান শুটারগান, একটি শর্টগান, একটি পাইপগান, দুটি ম্যাগাজিন, পাঁচ রাউন্ড গুলি ও নগদ ৩১ হাজার টাকা এবং দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে।

মঙ্গলবার দুপুরে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে র‌্যাবের মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান র‌্যাব-১ এর অধিনায়ক লে. কর্নেল আব্দুল্লাহ আল মোমেন।

গ্রেপ্তাররা হলেন- হিটু মিয়া, ফরহাদ আলী, লিটন শেখ, রিপন মৃধা ওরফে জামাই রিপন, স্বপন মিয়া, জাকির ব্যাপারী, জলিল খাঁন, শ্রী লক্ষণ চন্দ্র দাস, শ্রী অজিত চন্দ্র সূত্রধর ও ইখতিয়ার হোসেন।

র‌্যাব-১ এর অধিনায়ক লে. কর্নেল আব্দুল্লাহ আল মোমেন বলেন, আন্তঃজেলা ডাকাত দলের সদস্যরা দিনের বেলায় বিভিন্ন পেশায় নিয়োজিত থাকলেও সন্ধ্যায় ভয়ঙ্কর হয়ে ওঠে। এই চক্রের সদস্যরা বিভিন্ন স্বর্ণের দোকান, শিল্পকারখানা এবং ব্যাংকে ডাকাতি করত। গতরাতে ডাকাতির প্রস্তুতিকালে র‌্যাব-১ এর একটি দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে অভিযান চালায়। এ সময় ডাকাতির উদ্দেশ্যে মাইক্রোবাসে অবস্থান করা দশ ডাকাতকে গ্রেপ্তার করা হয়।

র‌্যাব কর্মকর্তা মোমেন আরও জানান, চক্রের সদস্যরা দেশের ভিন্ন ভিন্ন জেলায় বসবাস করে। ডাকাতির পূর্বে তারা পরিকল্পনা অনুযায়ী নির্ধারিত স্থানে একত্রিত মিলত হতো। ছদ্মবেশে ব্যাংক, স্বর্ণের দোকান, শিল্পকারখানার বাইরে অবস্থান করে ২/৩ জন ভেতরে প্রবেশ করে এবং মূল দলটি মাইক্রোবাসসহ সুবিধাজনক স্থানে অপেক্ষা করতে থাকে। এই চক্রের সদস্যরা একে অপরের যোগসাজশে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় ইতোপূর্বে ১১টি ডাকাতি করেছে। তাদের বিরুদ্ধে ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ, কেরানীগঞ্জ মডেল ও সাভার থানা, ডিএমপির শাহআলী, মতিঝিল ও ডেমরা থানা, নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁও ও সিদ্ধিরগঞ্জ থানা, গাজীপুরের কালিয়াকৈর থানা, টাঙ্গাইলের মির্জাপুর থানা, মানিকগঞ্জের ঘিওর থানাসহ বিভিন্ন থানায় ডাকাতি মামলা রয়েছে।

এক প্রশ্নের জবাবে র‌্যাব-১ এর এই কর্মকর্তা বলেন, ডাকাতদলের অন্যতম হোতা ফরহাদ হোসেন। তাদের কথোপকথনের মধ্যে আমরা দেখেছি, ফরহাদ বলেছেন- অনেক তো ডাকাতি করেছি। এটাই শেষ ডাকাতি। সে দীর্ঘদিন ধরে এই ডাকাতি পেশায় জড়িত ছিল।

আরেক প্রশ্নের জবাবে র‌্যাবের এই কর্মকর্তা বলেন, এই চক্রের মধ্যে কেউ সবজি বিক্রেতা, কেউ দোকানদার ছিল। মূলত তারা ডাকাতি করেই জীবিকা নির্বাহ করত। আমরা যেসব দেশি-বিদেশি অস্ত্র উদ্ধার করেছি সেগুলো তারা ঢাকা থেকেই সংগ্রহ করেছে। ফরহাদ ও হিটু মিয়া তাদের কাছ থেকেই অস্ত্রগুলো পাওয়া গেছে। তারাই মূলত অস্ত্রের যোগানদাতা।

ডাকাতির বাইরে নাশকতার কোনো পরিকল্পনা ছিল কিনা জানতে চাইলে র‌্যাব-১ এর অধিনায়ক বলেন, ডাকাতির বাইরে নাশকতার কোনো পরিকল্পনা আমরা পায়নি। তাদের প্রধান পেশায় হলো ডাকাতি করা। এর আগে তারা ১১টি ডাকাতি করেছে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সৌদি আরবের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দলের সৌজন্য সাক্ষাৎ

ওরা দিনে কর্মজীবী, রাতে দুর্ধর্ষ ডাকাত!

আপডেট সময় ০৩:৪৪:২৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ ডিসেম্বর ২০২১

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

রাজধানী ঢাকাসহ পার্শ্ববর্তী এলাকায় সংঘবদ্ধ আন্তঃজেলা ডাকাত দলের মূলহোতাসহ দশজনকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব। যারা দিনে বিভিন্ন পেশায় নিয়োজিত থাকতেন এবং রাতে দুর্ধর্ষ ডাকাতি করতেন।

সোমবার দিবাগত রাতে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ থানা এলাকার কাঞ্চনব্রিজ এলাকা থেকে মাইক্রোবাসসহ তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তারের সময় তাদের কাছ থেকে দুটি বিদেশি পিস্তল, একটি ওয়ান শুটারগান, একটি শর্টগান, একটি পাইপগান, দুটি ম্যাগাজিন, পাঁচ রাউন্ড গুলি ও নগদ ৩১ হাজার টাকা এবং দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে।

মঙ্গলবার দুপুরে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে র‌্যাবের মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান র‌্যাব-১ এর অধিনায়ক লে. কর্নেল আব্দুল্লাহ আল মোমেন।

গ্রেপ্তাররা হলেন- হিটু মিয়া, ফরহাদ আলী, লিটন শেখ, রিপন মৃধা ওরফে জামাই রিপন, স্বপন মিয়া, জাকির ব্যাপারী, জলিল খাঁন, শ্রী লক্ষণ চন্দ্র দাস, শ্রী অজিত চন্দ্র সূত্রধর ও ইখতিয়ার হোসেন।

র‌্যাব-১ এর অধিনায়ক লে. কর্নেল আব্দুল্লাহ আল মোমেন বলেন, আন্তঃজেলা ডাকাত দলের সদস্যরা দিনের বেলায় বিভিন্ন পেশায় নিয়োজিত থাকলেও সন্ধ্যায় ভয়ঙ্কর হয়ে ওঠে। এই চক্রের সদস্যরা বিভিন্ন স্বর্ণের দোকান, শিল্পকারখানা এবং ব্যাংকে ডাকাতি করত। গতরাতে ডাকাতির প্রস্তুতিকালে র‌্যাব-১ এর একটি দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে অভিযান চালায়। এ সময় ডাকাতির উদ্দেশ্যে মাইক্রোবাসে অবস্থান করা দশ ডাকাতকে গ্রেপ্তার করা হয়।

র‌্যাব কর্মকর্তা মোমেন আরও জানান, চক্রের সদস্যরা দেশের ভিন্ন ভিন্ন জেলায় বসবাস করে। ডাকাতির পূর্বে তারা পরিকল্পনা অনুযায়ী নির্ধারিত স্থানে একত্রিত মিলত হতো। ছদ্মবেশে ব্যাংক, স্বর্ণের দোকান, শিল্পকারখানার বাইরে অবস্থান করে ২/৩ জন ভেতরে প্রবেশ করে এবং মূল দলটি মাইক্রোবাসসহ সুবিধাজনক স্থানে অপেক্ষা করতে থাকে। এই চক্রের সদস্যরা একে অপরের যোগসাজশে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় ইতোপূর্বে ১১টি ডাকাতি করেছে। তাদের বিরুদ্ধে ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ, কেরানীগঞ্জ মডেল ও সাভার থানা, ডিএমপির শাহআলী, মতিঝিল ও ডেমরা থানা, নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁও ও সিদ্ধিরগঞ্জ থানা, গাজীপুরের কালিয়াকৈর থানা, টাঙ্গাইলের মির্জাপুর থানা, মানিকগঞ্জের ঘিওর থানাসহ বিভিন্ন থানায় ডাকাতি মামলা রয়েছে।

এক প্রশ্নের জবাবে র‌্যাব-১ এর এই কর্মকর্তা বলেন, ডাকাতদলের অন্যতম হোতা ফরহাদ হোসেন। তাদের কথোপকথনের মধ্যে আমরা দেখেছি, ফরহাদ বলেছেন- অনেক তো ডাকাতি করেছি। এটাই শেষ ডাকাতি। সে দীর্ঘদিন ধরে এই ডাকাতি পেশায় জড়িত ছিল।

আরেক প্রশ্নের জবাবে র‌্যাবের এই কর্মকর্তা বলেন, এই চক্রের মধ্যে কেউ সবজি বিক্রেতা, কেউ দোকানদার ছিল। মূলত তারা ডাকাতি করেই জীবিকা নির্বাহ করত। আমরা যেসব দেশি-বিদেশি অস্ত্র উদ্ধার করেছি সেগুলো তারা ঢাকা থেকেই সংগ্রহ করেছে। ফরহাদ ও হিটু মিয়া তাদের কাছ থেকেই অস্ত্রগুলো পাওয়া গেছে। তারাই মূলত অস্ত্রের যোগানদাতা।

ডাকাতির বাইরে নাশকতার কোনো পরিকল্পনা ছিল কিনা জানতে চাইলে র‌্যাব-১ এর অধিনায়ক বলেন, ডাকাতির বাইরে নাশকতার কোনো পরিকল্পনা আমরা পায়নি। তাদের প্রধান পেশায় হলো ডাকাতি করা। এর আগে তারা ১১টি ডাকাতি করেছে।