ঢাকা ০৬:০২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৫ অগাস্ট ২০২৬, ৩১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ নতুন দলের আত্মপ্রকাশ, নেতৃত্বে যারা ইরানের সামনে এখন কেবল দুই পথ—চুক্তি অথবা আত্মসমর্পণ: ট্রাম্প পাঁচ দফা দাবিতে সরকারি কর্মচারীদের অবস্থান কর্মসূচি সরকার দমনে ব্যস্ত, দ্রব্যমূল্য-গ্যাস নিয়ে মাথাব্যথা নেই: গোলাম পরওয়ার দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে আশা বাণিজ্যমন্ত্রীর সম্পত্তি দানের পরও আজীবন ভোগদখলের সুযোগ, মন্ত্রিসভায় খসড়া পাশ শেখ হাসিনা যেন রাজনৈতিক বক্তব্য দিতে না পারেন, ভারতীয় হাইকমিশনারকে হুমায়ুন কবির রাষ্ট্র পরিচালনায় ‘নতুন মাত্রা’ যোগ করেছেন তারেক রহমান: চীনা রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশে কারিগরি ও ক্রীড়া শিক্ষায় সহযোগিতার আগ্রহ অস্ট্রেলিয়ার

পিটিয়ে ৬ বছরের শিশুর হাত ভেঙে দিলেন শিক্ষক

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

পড়া মুখস্ত করে দিতে না পারায় ছয় বছরের শিশু আব্দুল্লাহকে শিক্ষক হাফেজ আবু আক্কাস হেলালী গাছের গুঁড়ি দিয়ে পিটিয়ে হাত ভেঙে দিয়েছে। হাত ভেঙে দিয়েই খ্যান্ত হয়নি শিক্ষক আক্কাস, চার দিন শিশুটিকে মাদ্রাসায় আটকে রেখেও চিকিৎসা দেয়নি।

সোমবার শিশু আব্দুল্লাহকে মা পারুল বেগম উদ্ধার করে আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেছেন। এ ঘটনা ঘটেছে গত বৃহস্পতিবার আমতলী পৌর শহরের একে স্কুলসংলগ্ন দারুল আরকাম মডেল মহিলা মাদ্রাসায়।

জানা গেছে, উপজেলার বাঁশতলা গ্রামের প্রবাসী হারুন হাওলাদারের ছয় বছরের শিশুপুত্র আব্দুল্লাহকে আমতলী পৌর শহরের একে হাই স্কুল সংলগ্ন দারুল আরকাম মডেল মহিলা মাদ্রাসায় সেপ্টেম্বর মাসে নুরানী বিভাগে ভর্তি কর হয়। ওই থেকে শিশু আব্দুল্লাহ ওই মাদ্রাসায় থেকে লেখাপড়া করে আসছে।

গত বৃহস্পতিবার পড়া মুখস্ত করে দিতে পারেনি শিশু আব্দুল্লাহ। এতে শিশু আব্দুল্লাহকে শিক্ষক হাফেজ আবু আক্কাস হেলালী গাছের গুঁড়ি দিয়ে পিটিয়ে জখম করে। এতে শিশুর বাম হাত ভেঙে যায়। কিন্তু শিক্ষক আক্কাস এ বিষয়টি শিশুর পরিবারকে না জানিয়ে চার দিন মাদ্রাসায় আটকে রাখেন।

সোমবার সকালে শিশুর খোঁজ নিতে মা পারুল বেগম মাদ্রাসায় যান। ওই সময় শিশুর হাত ভাঙা দেখে তিনি মাদ্রাসার শিক্ষক আক্কাসের কাছে বিষয়টি জানতে চান। পরে শিশুটির মা শিশুটিকে উদ্ধার করে আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেছেন।

শিশু আব্দুল্লাহ কান্নাজড়িত কন্ঠে বলেন, মুই পড়া পারি নাই হেই লাই মোরা হুজুরে পিডাইছে।

শিশু আব্দুল্লাহর মা পারুল বেগম অভিযোগ করে বলেন, পড়া মুখস্ত করে দিতে না পারায় আমার শিশুপুত্রকে শিক্ষক আক্কাস গাছের গুঁড়ি (চলা) দিয়ে পিটিয়ে হাত ভেঙে চার দিন মাদ্রাসায় আটকে রেখেছে। আমি এ ঘটনার বিচার চাই।

এ বিষয়ে দারুল আরকাম মডেল মহিলা মাদ্রাসার শিক্ষক হাফেজ আবু আক্কাস হেলালী মোবাইল ফোনে পরিচয় না দিয়ে বিষয়টি মীমাংসা হয়েছে বলে জানান।

আমতলী থানার ওসি একেএম মিজানুর রহমান বলেন, অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ

পিটিয়ে ৬ বছরের শিশুর হাত ভেঙে দিলেন শিক্ষক

আপডেট সময় ১০:২৩:১৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৩ ডিসেম্বর ২০২১

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

পড়া মুখস্ত করে দিতে না পারায় ছয় বছরের শিশু আব্দুল্লাহকে শিক্ষক হাফেজ আবু আক্কাস হেলালী গাছের গুঁড়ি দিয়ে পিটিয়ে হাত ভেঙে দিয়েছে। হাত ভেঙে দিয়েই খ্যান্ত হয়নি শিক্ষক আক্কাস, চার দিন শিশুটিকে মাদ্রাসায় আটকে রেখেও চিকিৎসা দেয়নি।

সোমবার শিশু আব্দুল্লাহকে মা পারুল বেগম উদ্ধার করে আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেছেন। এ ঘটনা ঘটেছে গত বৃহস্পতিবার আমতলী পৌর শহরের একে স্কুলসংলগ্ন দারুল আরকাম মডেল মহিলা মাদ্রাসায়।

জানা গেছে, উপজেলার বাঁশতলা গ্রামের প্রবাসী হারুন হাওলাদারের ছয় বছরের শিশুপুত্র আব্দুল্লাহকে আমতলী পৌর শহরের একে হাই স্কুল সংলগ্ন দারুল আরকাম মডেল মহিলা মাদ্রাসায় সেপ্টেম্বর মাসে নুরানী বিভাগে ভর্তি কর হয়। ওই থেকে শিশু আব্দুল্লাহ ওই মাদ্রাসায় থেকে লেখাপড়া করে আসছে।

গত বৃহস্পতিবার পড়া মুখস্ত করে দিতে পারেনি শিশু আব্দুল্লাহ। এতে শিশু আব্দুল্লাহকে শিক্ষক হাফেজ আবু আক্কাস হেলালী গাছের গুঁড়ি দিয়ে পিটিয়ে জখম করে। এতে শিশুর বাম হাত ভেঙে যায়। কিন্তু শিক্ষক আক্কাস এ বিষয়টি শিশুর পরিবারকে না জানিয়ে চার দিন মাদ্রাসায় আটকে রাখেন।

সোমবার সকালে শিশুর খোঁজ নিতে মা পারুল বেগম মাদ্রাসায় যান। ওই সময় শিশুর হাত ভাঙা দেখে তিনি মাদ্রাসার শিক্ষক আক্কাসের কাছে বিষয়টি জানতে চান। পরে শিশুটির মা শিশুটিকে উদ্ধার করে আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেছেন।

শিশু আব্দুল্লাহ কান্নাজড়িত কন্ঠে বলেন, মুই পড়া পারি নাই হেই লাই মোরা হুজুরে পিডাইছে।

শিশু আব্দুল্লাহর মা পারুল বেগম অভিযোগ করে বলেন, পড়া মুখস্ত করে দিতে না পারায় আমার শিশুপুত্রকে শিক্ষক আক্কাস গাছের গুঁড়ি (চলা) দিয়ে পিটিয়ে হাত ভেঙে চার দিন মাদ্রাসায় আটকে রেখেছে। আমি এ ঘটনার বিচার চাই।

এ বিষয়ে দারুল আরকাম মডেল মহিলা মাদ্রাসার শিক্ষক হাফেজ আবু আক্কাস হেলালী মোবাইল ফোনে পরিচয় না দিয়ে বিষয়টি মীমাংসা হয়েছে বলে জানান।

আমতলী থানার ওসি একেএম মিজানুর রহমান বলেন, অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।