ঢাকা ০২:২২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০৮ নভেম্বর ২০২৬, ২৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
প্রকাশ হলো এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফল উদ্ধার হলো সাবেক বিমান বাহিনী কর্মকর্তার মৃত অবস্থায় পাওয়া ব্যক্তি জাপানি বিনিয়োগের জন্য পাঁচ খাত চিহ্নিত করলেন প্রধানমন্ত্রী ড্যাবের বিরুদ্ধে: কার্যালয়ে ঢুকে আইইডিসিআরের পরিচালককে মারধরের দেশে হাম ও উপসর্গে আরও সাত শিশুর মৃত্যু পায়রা বন্দরে গমের সাইলো নির্মাণে রাশিয়াকে প্রস্তাব খাদ্যমন্ত্রীর প্রধানমন্ত্রীর পরিকল্পনা ভেস্তে দিতে ষড়যন্ত্র করছে গুপ্তরা: ডিএনসিসি প্রশাসক ডেঙ্গুতে একদিনে ১১ জনের মৃত্যু, শনাক্ত দুই হাজার ছাড়াল ক্রসফায়ার নিয়ে আইজিপির মন্তব্যে টিআইবি ও অধিকারের উদ্বেগ রূপপুরের জ্বালানি নিয়ে ঢাকায় পৌঁছাল রাশিয়ার কার্গো বিমান

পিটিয়ে ৬ বছরের শিশুর হাত ভেঙে দিলেন শিক্ষক

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

পড়া মুখস্ত করে দিতে না পারায় ছয় বছরের শিশু আব্দুল্লাহকে শিক্ষক হাফেজ আবু আক্কাস হেলালী গাছের গুঁড়ি দিয়ে পিটিয়ে হাত ভেঙে দিয়েছে। হাত ভেঙে দিয়েই খ্যান্ত হয়নি শিক্ষক আক্কাস, চার দিন শিশুটিকে মাদ্রাসায় আটকে রেখেও চিকিৎসা দেয়নি।

সোমবার শিশু আব্দুল্লাহকে মা পারুল বেগম উদ্ধার করে আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেছেন। এ ঘটনা ঘটেছে গত বৃহস্পতিবার আমতলী পৌর শহরের একে স্কুলসংলগ্ন দারুল আরকাম মডেল মহিলা মাদ্রাসায়।

জানা গেছে, উপজেলার বাঁশতলা গ্রামের প্রবাসী হারুন হাওলাদারের ছয় বছরের শিশুপুত্র আব্দুল্লাহকে আমতলী পৌর শহরের একে হাই স্কুল সংলগ্ন দারুল আরকাম মডেল মহিলা মাদ্রাসায় সেপ্টেম্বর মাসে নুরানী বিভাগে ভর্তি কর হয়। ওই থেকে শিশু আব্দুল্লাহ ওই মাদ্রাসায় থেকে লেখাপড়া করে আসছে।

গত বৃহস্পতিবার পড়া মুখস্ত করে দিতে পারেনি শিশু আব্দুল্লাহ। এতে শিশু আব্দুল্লাহকে শিক্ষক হাফেজ আবু আক্কাস হেলালী গাছের গুঁড়ি দিয়ে পিটিয়ে জখম করে। এতে শিশুর বাম হাত ভেঙে যায়। কিন্তু শিক্ষক আক্কাস এ বিষয়টি শিশুর পরিবারকে না জানিয়ে চার দিন মাদ্রাসায় আটকে রাখেন।

সোমবার সকালে শিশুর খোঁজ নিতে মা পারুল বেগম মাদ্রাসায় যান। ওই সময় শিশুর হাত ভাঙা দেখে তিনি মাদ্রাসার শিক্ষক আক্কাসের কাছে বিষয়টি জানতে চান। পরে শিশুটির মা শিশুটিকে উদ্ধার করে আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেছেন।

শিশু আব্দুল্লাহ কান্নাজড়িত কন্ঠে বলেন, মুই পড়া পারি নাই হেই লাই মোরা হুজুরে পিডাইছে।

শিশু আব্দুল্লাহর মা পারুল বেগম অভিযোগ করে বলেন, পড়া মুখস্ত করে দিতে না পারায় আমার শিশুপুত্রকে শিক্ষক আক্কাস গাছের গুঁড়ি (চলা) দিয়ে পিটিয়ে হাত ভেঙে চার দিন মাদ্রাসায় আটকে রেখেছে। আমি এ ঘটনার বিচার চাই।

এ বিষয়ে দারুল আরকাম মডেল মহিলা মাদ্রাসার শিক্ষক হাফেজ আবু আক্কাস হেলালী মোবাইল ফোনে পরিচয় না দিয়ে বিষয়টি মীমাংসা হয়েছে বলে জানান।

আমতলী থানার ওসি একেএম মিজানুর রহমান বলেন, অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ফ্যাসিবাদী আওয়ামী লীগকে আর রাজনীতি করতে দেওয়া হবে না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

পিটিয়ে ৬ বছরের শিশুর হাত ভেঙে দিলেন শিক্ষক

আপডেট সময় ১০:২৩:১৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৩ ডিসেম্বর ২০২১

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

পড়া মুখস্ত করে দিতে না পারায় ছয় বছরের শিশু আব্দুল্লাহকে শিক্ষক হাফেজ আবু আক্কাস হেলালী গাছের গুঁড়ি দিয়ে পিটিয়ে হাত ভেঙে দিয়েছে। হাত ভেঙে দিয়েই খ্যান্ত হয়নি শিক্ষক আক্কাস, চার দিন শিশুটিকে মাদ্রাসায় আটকে রেখেও চিকিৎসা দেয়নি।

সোমবার শিশু আব্দুল্লাহকে মা পারুল বেগম উদ্ধার করে আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেছেন। এ ঘটনা ঘটেছে গত বৃহস্পতিবার আমতলী পৌর শহরের একে স্কুলসংলগ্ন দারুল আরকাম মডেল মহিলা মাদ্রাসায়।

জানা গেছে, উপজেলার বাঁশতলা গ্রামের প্রবাসী হারুন হাওলাদারের ছয় বছরের শিশুপুত্র আব্দুল্লাহকে আমতলী পৌর শহরের একে হাই স্কুল সংলগ্ন দারুল আরকাম মডেল মহিলা মাদ্রাসায় সেপ্টেম্বর মাসে নুরানী বিভাগে ভর্তি কর হয়। ওই থেকে শিশু আব্দুল্লাহ ওই মাদ্রাসায় থেকে লেখাপড়া করে আসছে।

গত বৃহস্পতিবার পড়া মুখস্ত করে দিতে পারেনি শিশু আব্দুল্লাহ। এতে শিশু আব্দুল্লাহকে শিক্ষক হাফেজ আবু আক্কাস হেলালী গাছের গুঁড়ি দিয়ে পিটিয়ে জখম করে। এতে শিশুর বাম হাত ভেঙে যায়। কিন্তু শিক্ষক আক্কাস এ বিষয়টি শিশুর পরিবারকে না জানিয়ে চার দিন মাদ্রাসায় আটকে রাখেন।

সোমবার সকালে শিশুর খোঁজ নিতে মা পারুল বেগম মাদ্রাসায় যান। ওই সময় শিশুর হাত ভাঙা দেখে তিনি মাদ্রাসার শিক্ষক আক্কাসের কাছে বিষয়টি জানতে চান। পরে শিশুটির মা শিশুটিকে উদ্ধার করে আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেছেন।

শিশু আব্দুল্লাহ কান্নাজড়িত কন্ঠে বলেন, মুই পড়া পারি নাই হেই লাই মোরা হুজুরে পিডাইছে।

শিশু আব্দুল্লাহর মা পারুল বেগম অভিযোগ করে বলেন, পড়া মুখস্ত করে দিতে না পারায় আমার শিশুপুত্রকে শিক্ষক আক্কাস গাছের গুঁড়ি (চলা) দিয়ে পিটিয়ে হাত ভেঙে চার দিন মাদ্রাসায় আটকে রেখেছে। আমি এ ঘটনার বিচার চাই।

এ বিষয়ে দারুল আরকাম মডেল মহিলা মাদ্রাসার শিক্ষক হাফেজ আবু আক্কাস হেলালী মোবাইল ফোনে পরিচয় না দিয়ে বিষয়টি মীমাংসা হয়েছে বলে জানান।

আমতলী থানার ওসি একেএম মিজানুর রহমান বলেন, অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।