ঢাকা ০৫:১০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১২ জানুয়ারী ২০২৬, ২৮ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ট্রাম্পের হুঁশিয়ারির পাল্টা জবাব দিলেন কিউবার প্রেসিডেন্ট বনশ্রীতে স্কুলছাত্রী খুন,পুলিশের সন্দেহের তালিকায় পলাতক রেস্তোরাঁ কর্মী স্বৈরাচারের লোকেরা নির্বাচন ভণ্ডুলের চেষ্টা করবে: ড. মুহাম্মদ ইউনূস গাজীপুরে নবজাতকের লাশ নিয়ে কুকুরের টানাহ্যাঁচড়া, উদ্ধার করল পুলিশ ধর্মকে পুঁজি করে মানুষকে বিভ্রান্ত করা হচ্ছে, ধোঁকা দেওয়া হচ্ছে : খায়রুল কবির খোকন দলে বড় নাম থাকলেও জেতার জন্য সবাইকে আরও দায়িত্ব নিতে হবে: সোহান ২৫ জন বাংলাদেশিকে ক্ষমা করল আমিরাত দেশের ভবিষ্যত গড়ার জন্য গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয় নিশ্চিত করতে হবে : চরমোনাই পীর ব্যালটবাক্স ভরে কোনো নির্দিষ্ট প্রতীকের জয়ের সুযোগ নেই: রুমিন ফারহানা এইচএসসি পাসে নিউরো মেডিসিন বিশেষজ্ঞ , রোগী দেখেন দুই জেলায়

ধর্ম পরিবর্তন করে বিয়ে, স্ত্রীর মর্যাদা দিতে অস্বীকৃতি

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

নেত্রকোনার মদনে নিজের ধর্ম ও পরিচয় গোপন করে ইসলামী শরীয়াহ মোতাবেক এক গার্মেন্টসকর্মীকে বিয়ে করেন তাপস চন্দ্র বিশ্বাস। ৩ বছর সংসার করার পর এখন স্ত্রীর মর্যাদা দিতে অস্বীকৃতি জানানোয় আত্মহত্যার চেষ্টা চালান ওই নারী।

সোমবার সকালে উপজেলার কাইটাইল ইউনিয়নের কেশজানী গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। এদিকে ধর্ম পরিবর্তন করে মুসলিম মেয়েকে বিয়ে করায় এলাকায় আলোচনা সমালোচনা সৃষ্টি হয়েছে।

জানা যায়, উপজেলার কেশজানী গ্রামের সুধাংশু বিশ্বাসের ছেলে তাপস চন্দ্র বিশ্বাস গাজীপুরে কাঁচামালের ব্যবসা করার সুবাদে গার্মেন্টসকর্মী শেরপুর জেলার সদর উপজেলার এক তরুণীর (২০) সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তুলে। এক পর্যায়ে তাপস চন্দ্র বিশ্বাস নিজের পরিচয় আড়াল করে সুমন ইসলাম পরিচয় দিয়ে ২০১৮ সালে ১৩ ডিসেম্বর ইসলামিক শরীয়ত মোতাবেক মৌলভীর মাধ্যমে বিয়ে সম্পন্ন করে প্রায় তিন বছর ঘর সংসার করে।

৫ মাস আগে মেয়েটিকে কোনো কিছু না বলেই সে বাড়িতে চলে আসে। গত ৭ সেপ্টেম্বর সে দ্বিতীয় বিয়ে করে। এ সংবাদের প্রেক্ষিতে মেয়েটি বিয়ের একদিন পর স্বামীর গ্রামের বাড়িতে আসলে তাকে মানসিক রোগী বলে পুলিশ হেফাজতে পাঠায়। মদন থানার পুলিশ তাকে নেত্রকোনা সদর থানায় পাঠায়।

এদিকে স্বামী তাপস চন্দ্র বিশ্বাস তার ২য় স্ত্রী তাকে ছেড়ে চলে গেছে বলে আগের স্ত্রীকে মোবাইলে মেসেজ পাঠায়। এরই প্রেক্ষিতে রোববার ওই তরুণী কেশজানী স্বামীর বাড়িতে আসে। স্বামীসহ পরিবারের লোকজন তাকে গ্রহণ না করায় সে অনশনে বসে এবং এক পর্যায়ে আত্মহত্যার চেষ্টা চালায়।

অনশনরত ওই তরুণী জানান, মুসলিম পরিচয় দিয়ে আমার সঙ্গে ইসলামিক শরীয়ত মোতাবেক মৌলভীর মাধ্যমে বিবাহ সম্পন্ন হয়। দীর্ঘ ৩ বছর সংসার করার পর আমাকে ছেড়ে বাড়িতে এসে ২য় বিয়ে করে। বিয়ের খবর পেয়ে আমি আসলে আমাকে মানসিক রোগী বানিয়ে বিদায় করে দেয়। আমার মা বাবা এই খবর শুনে আমাকে বাবার সংসার থেকে তাড়িয়ে দেয়। আমি নিরুপায় হয়ে স্ত্রীর স্বীকৃতির দাবিতে এখানে এসেছি। আমাকে স্ত্রীর স্বীকৃতি না দিলে আমি যাব না, আমার লাশ যাবে। সে আমার গর্ভের ২টি সন্তানও নষ্ট করেছে।

২য় স্ত্রী সান্তা রানী নমদাস জানান, সে মুসলিম, আমি হিন্দু। আমাকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিয়ে করে এনেছে। আমি এখানেই থাকব।

অভিযুক্ত তাপস চন্দ্র বিশ্বাস বলেন, ওই তরুণীর সঙ্গে আমার প্রেমের সম্পর্ক ছিল। সে যদি বিয়ের কাগজপত্র দেখাতে পারে তাহলে আমি তাকে স্ত্রী হিসেবে গ্রহণ করব।

ওসি মুহাম্মদ ফেরদৌস আলম ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, সোমবার ছেলে এবং মেয়ে উভয়কেই জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। মেয়েটি লিখিত অভিযোগ দিলে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এর আগে মানসিক রোগী বানিয়ে সদর থানায় কেন প্রেরণ করা হয়েছিল বিষয়টি জানতে চাইলে তিনি বলেন বিষয়টি সত্য নয়। সদর থানা থেকে তার পরিবারের লোকজন তাকে নিয়ে গেছে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ট্রাম্পের হুঁশিয়ারির পাল্টা জবাব দিলেন কিউবার প্রেসিডেন্ট

ধর্ম পরিবর্তন করে বিয়ে, স্ত্রীর মর্যাদা দিতে অস্বীকৃতি

আপডেট সময় ০৭:৪৪:০০ অপরাহ্ন, সোমবার, ১ নভেম্বর ২০২১

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

নেত্রকোনার মদনে নিজের ধর্ম ও পরিচয় গোপন করে ইসলামী শরীয়াহ মোতাবেক এক গার্মেন্টসকর্মীকে বিয়ে করেন তাপস চন্দ্র বিশ্বাস। ৩ বছর সংসার করার পর এখন স্ত্রীর মর্যাদা দিতে অস্বীকৃতি জানানোয় আত্মহত্যার চেষ্টা চালান ওই নারী।

সোমবার সকালে উপজেলার কাইটাইল ইউনিয়নের কেশজানী গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। এদিকে ধর্ম পরিবর্তন করে মুসলিম মেয়েকে বিয়ে করায় এলাকায় আলোচনা সমালোচনা সৃষ্টি হয়েছে।

জানা যায়, উপজেলার কেশজানী গ্রামের সুধাংশু বিশ্বাসের ছেলে তাপস চন্দ্র বিশ্বাস গাজীপুরে কাঁচামালের ব্যবসা করার সুবাদে গার্মেন্টসকর্মী শেরপুর জেলার সদর উপজেলার এক তরুণীর (২০) সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তুলে। এক পর্যায়ে তাপস চন্দ্র বিশ্বাস নিজের পরিচয় আড়াল করে সুমন ইসলাম পরিচয় দিয়ে ২০১৮ সালে ১৩ ডিসেম্বর ইসলামিক শরীয়ত মোতাবেক মৌলভীর মাধ্যমে বিয়ে সম্পন্ন করে প্রায় তিন বছর ঘর সংসার করে।

৫ মাস আগে মেয়েটিকে কোনো কিছু না বলেই সে বাড়িতে চলে আসে। গত ৭ সেপ্টেম্বর সে দ্বিতীয় বিয়ে করে। এ সংবাদের প্রেক্ষিতে মেয়েটি বিয়ের একদিন পর স্বামীর গ্রামের বাড়িতে আসলে তাকে মানসিক রোগী বলে পুলিশ হেফাজতে পাঠায়। মদন থানার পুলিশ তাকে নেত্রকোনা সদর থানায় পাঠায়।

এদিকে স্বামী তাপস চন্দ্র বিশ্বাস তার ২য় স্ত্রী তাকে ছেড়ে চলে গেছে বলে আগের স্ত্রীকে মোবাইলে মেসেজ পাঠায়। এরই প্রেক্ষিতে রোববার ওই তরুণী কেশজানী স্বামীর বাড়িতে আসে। স্বামীসহ পরিবারের লোকজন তাকে গ্রহণ না করায় সে অনশনে বসে এবং এক পর্যায়ে আত্মহত্যার চেষ্টা চালায়।

অনশনরত ওই তরুণী জানান, মুসলিম পরিচয় দিয়ে আমার সঙ্গে ইসলামিক শরীয়ত মোতাবেক মৌলভীর মাধ্যমে বিবাহ সম্পন্ন হয়। দীর্ঘ ৩ বছর সংসার করার পর আমাকে ছেড়ে বাড়িতে এসে ২য় বিয়ে করে। বিয়ের খবর পেয়ে আমি আসলে আমাকে মানসিক রোগী বানিয়ে বিদায় করে দেয়। আমার মা বাবা এই খবর শুনে আমাকে বাবার সংসার থেকে তাড়িয়ে দেয়। আমি নিরুপায় হয়ে স্ত্রীর স্বীকৃতির দাবিতে এখানে এসেছি। আমাকে স্ত্রীর স্বীকৃতি না দিলে আমি যাব না, আমার লাশ যাবে। সে আমার গর্ভের ২টি সন্তানও নষ্ট করেছে।

২য় স্ত্রী সান্তা রানী নমদাস জানান, সে মুসলিম, আমি হিন্দু। আমাকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিয়ে করে এনেছে। আমি এখানেই থাকব।

অভিযুক্ত তাপস চন্দ্র বিশ্বাস বলেন, ওই তরুণীর সঙ্গে আমার প্রেমের সম্পর্ক ছিল। সে যদি বিয়ের কাগজপত্র দেখাতে পারে তাহলে আমি তাকে স্ত্রী হিসেবে গ্রহণ করব।

ওসি মুহাম্মদ ফেরদৌস আলম ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, সোমবার ছেলে এবং মেয়ে উভয়কেই জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। মেয়েটি লিখিত অভিযোগ দিলে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এর আগে মানসিক রোগী বানিয়ে সদর থানায় কেন প্রেরণ করা হয়েছিল বিষয়টি জানতে চাইলে তিনি বলেন বিষয়টি সত্য নয়। সদর থানা থেকে তার পরিবারের লোকজন তাকে নিয়ে গেছে।