ঢাকা ১১:৫৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ নতুন দলের আত্মপ্রকাশ, নেতৃত্বে যারা ইরানের সামনে এখন কেবল দুই পথ—চুক্তি অথবা আত্মসমর্পণ: ট্রাম্প পাঁচ দফা দাবিতে সরকারি কর্মচারীদের অবস্থান কর্মসূচি সরকার দমনে ব্যস্ত, দ্রব্যমূল্য-গ্যাস নিয়ে মাথাব্যথা নেই: গোলাম পরওয়ার দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে আশা বাণিজ্যমন্ত্রীর সম্পত্তি দানের পরও আজীবন ভোগদখলের সুযোগ, মন্ত্রিসভায় খসড়া পাশ শেখ হাসিনা যেন রাজনৈতিক বক্তব্য দিতে না পারেন, ভারতীয় হাইকমিশনারকে হুমায়ুন কবির রাষ্ট্র পরিচালনায় ‘নতুন মাত্রা’ যোগ করেছেন তারেক রহমান: চীনা রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশে কারিগরি ও ক্রীড়া শিক্ষায় সহযোগিতার আগ্রহ অস্ট্রেলিয়ার

যমজ ছেলেকে এসপি অফিসে ফেলে গেলেন মা!

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

চিকিৎসার ব্যয়ভার বহন না করায় আরাফ ও আয়ান নামে ১৬ মাসের দুই যমজ শিশুকে ঝালকাঠি জেলা পুলিশ সুপারের (এসপি) কার্যালয়ের সামনে ফেলে গিয়েছেন এক পুলিশ কনস্টেবলের স্ত্রী।

 বিকেলে শিশু দুটিকে রেখে চলে যান মা সুমাইয়া আক্তার।

পুলিশ ও শিশুদের মা কাছ থেকে জানা যায়, শিশু দুটির বাবা ইমরান হোসেন কাঁঠালিয়া থানায় পুলিশ কনস্টেবল। এখন তিনি এক মাসের প্রশিক্ষণের জন্য জামালপুরে আছেন। ২০১৯ সালের মে মাসে ঝালকাঠি সদরের খাওক্ষির গ্রামের সুমাইয়া আক্তারের সঙ্গে বিয়ে হয় কনস্টেবল ইমরানের। চলতি বছরের মার্চ মাসে স্ত্রীকে তালাক নোটিশ পাঠান ইমরান।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রোববার বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে এক নারী তার দুই ছেলেকে নিয়ে এসপি অফিসের চেকপোস্টের সামনে আসেন। এ সময় সেখানে দায়িত্বে থাকা পুলিশ সদস্যদের সামনে ছেলে দুটিকে রেখে ওই নারী চলে যান।

সুমাইয়া আক্তার মোবাইল ফোনে জানান, গত ১২ সেপ্টেম্বর থেকে টাইফয়েড জ্বরে আক্রান্ত হয়ে শিশু আরাফ ও আয়ান ঝালকাঠি সদর হাসপাতালে ভর্তি ছিল। চিকিৎসকরা শিশু দুটির বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য প্রায় ৬ হাজার টাকা লাগবে বলে জানান। বিষয়টি সুমাইয়া তার স্বামীকে জানালেও তিনি টাকা দিতে অপারগতা প্রকাশ করেন। তাই বাধ্য হয়ে শিশু দুটিকে নিয়ে পুলিশ সুপার (এসপি) ফাতিহা ইয়াসমিনের সঙ্গে দেখা করতে যাই। কিন্তু নিরাপত্তা কর্মীরা আমাকে ভেতরে প্রবেশ করতে দেয়নি। তাই বাধ্য হয়ে সন্তানদের পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের সামনে রেখে চলে এসেছি।

এ বিষয়ে সুমাইয়া আক্তারের স্বামী ইমরান মোবাইলে বলেন, প্রতি মাসে শিশু দুটির ভরণপোষণের জন্য তিন হাজার টাকা সুমাইয়াকে পাঠাই। কিন্তু মা হয়ে তিনি কিভাবে সন্তানদের পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের সামনে ফেলে গেল?

ঝালকাঠি সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. খলিলুর রহমান বলেন, আমরা বিষয়টি দুই পরিবারের সঙ্গে কথা বলে মিটিয়ে ফেলার চেষ্টা করছি। শিশুদের মা না আসায় তাদের দাদিকে খবর দিয়ে রাতেই শিশু দুটিকে তাদের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ

যমজ ছেলেকে এসপি অফিসে ফেলে গেলেন মা!

আপডেট সময় ০৬:৩৩:৪১ অপরাহ্ন, সোমবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২১

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

চিকিৎসার ব্যয়ভার বহন না করায় আরাফ ও আয়ান নামে ১৬ মাসের দুই যমজ শিশুকে ঝালকাঠি জেলা পুলিশ সুপারের (এসপি) কার্যালয়ের সামনে ফেলে গিয়েছেন এক পুলিশ কনস্টেবলের স্ত্রী।

 বিকেলে শিশু দুটিকে রেখে চলে যান মা সুমাইয়া আক্তার।

পুলিশ ও শিশুদের মা কাছ থেকে জানা যায়, শিশু দুটির বাবা ইমরান হোসেন কাঁঠালিয়া থানায় পুলিশ কনস্টেবল। এখন তিনি এক মাসের প্রশিক্ষণের জন্য জামালপুরে আছেন। ২০১৯ সালের মে মাসে ঝালকাঠি সদরের খাওক্ষির গ্রামের সুমাইয়া আক্তারের সঙ্গে বিয়ে হয় কনস্টেবল ইমরানের। চলতি বছরের মার্চ মাসে স্ত্রীকে তালাক নোটিশ পাঠান ইমরান।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রোববার বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে এক নারী তার দুই ছেলেকে নিয়ে এসপি অফিসের চেকপোস্টের সামনে আসেন। এ সময় সেখানে দায়িত্বে থাকা পুলিশ সদস্যদের সামনে ছেলে দুটিকে রেখে ওই নারী চলে যান।

সুমাইয়া আক্তার মোবাইল ফোনে জানান, গত ১২ সেপ্টেম্বর থেকে টাইফয়েড জ্বরে আক্রান্ত হয়ে শিশু আরাফ ও আয়ান ঝালকাঠি সদর হাসপাতালে ভর্তি ছিল। চিকিৎসকরা শিশু দুটির বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য প্রায় ৬ হাজার টাকা লাগবে বলে জানান। বিষয়টি সুমাইয়া তার স্বামীকে জানালেও তিনি টাকা দিতে অপারগতা প্রকাশ করেন। তাই বাধ্য হয়ে শিশু দুটিকে নিয়ে পুলিশ সুপার (এসপি) ফাতিহা ইয়াসমিনের সঙ্গে দেখা করতে যাই। কিন্তু নিরাপত্তা কর্মীরা আমাকে ভেতরে প্রবেশ করতে দেয়নি। তাই বাধ্য হয়ে সন্তানদের পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের সামনে রেখে চলে এসেছি।

এ বিষয়ে সুমাইয়া আক্তারের স্বামী ইমরান মোবাইলে বলেন, প্রতি মাসে শিশু দুটির ভরণপোষণের জন্য তিন হাজার টাকা সুমাইয়াকে পাঠাই। কিন্তু মা হয়ে তিনি কিভাবে সন্তানদের পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের সামনে ফেলে গেল?

ঝালকাঠি সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. খলিলুর রহমান বলেন, আমরা বিষয়টি দুই পরিবারের সঙ্গে কথা বলে মিটিয়ে ফেলার চেষ্টা করছি। শিশুদের মা না আসায় তাদের দাদিকে খবর দিয়ে রাতেই শিশু দুটিকে তাদের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে।