ঢাকা ০৩:০৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৮ জানুয়ারী ২০২৬, ১৪ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
নির্বাচন সুষ্ঠু হওয়া উচিত, এতেই সবার মঙ্গল: মান্না প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীকে নিয়ে নাসীরুদ্দীনের ক্রমাগত মিথ্যাচার ভাইরাল হওয়ার কৌশল: মাহদী আমিন আমাদের ব্যবহার করতে চেয়েছিল, বের হয়েছি ইসলামের কল্যাণে: রেজাউল করীম ‘যারা দলের সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছে, তারা বেঈমান’:আজহারুল ইসলাম ১২ ফেব্রুয়ারি রাজনীতির চেহারা পাল্টে দিতে পারে: রুমিন ফারহানা তারেক রহমানের ওপর বিশ্বাসে করে দেখেন ইনশাআল্লাহ বাংলাদেশ ঠকবে না: পার্থ নির্বাচনে দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তারা গণভোটের পক্ষে–বিপক্ষে যাবেন না: ইসি আনোয়ারুল রাষ্ট্র পরিচালানার জন্য অভিজ্ঞতার দরকার আছে: নজরুল ইসলাম একটি দল ‘স্বৈরাচারী ভাষায়’ বিএনপির বিরুদ্ধে মিথ্যাচার করছে: তারেক রহমান নির্বাচনে পুলিশ নিরপেক্ষতা ও দায়িত্ববোধের প্রমাণ রাখবে: আইজিপি

যেভাবে জার্মানিতে পালালেন আফগান প্রথম নারী মেয়র জারিফা

আকাশ আর্ন্তজাতিক ডেস্ক: 

আফগানিস্তানে নির্বাচিত প্রথম নারী মেয়র জারিফা গাফারি তালেবানের চোখ ফাঁকি দিয়ে জার্মানিতে পাড়ি জমিয়েছেন।

কাবুল পতন তার জন্য ছিল এক অশনি সংকেত। তালেবান যোদ্ধারা যখন রাজধানী কাবুলে গিয়ে পৌঁছাল, তিনি বুঝতে পারলেন তার জীবনে এক চরম সংকট হাজির হয়েছে। খবর বিবিসির।

এর কয়েক দিন পরই তিনি পরিবারসহ পালিয়ে জার্মানিতে চলে যান। তার দেশত্যাগের সেই নাটকীয় ঘটনাগুলো বলছিলেন তিনি। ২৯ বছর বয়সি গাফারি ছিলেন একজন জনপ্রিয় নেত্রী এবং তিনি হয়ে উঠেছিলেন আফগানিস্তানের নারী অধিকারের এক জোরালো কণ্ঠস্বর।

তার বিশ্বাস, ঠিক এ জন্যই তালেবান তাকে হুমকি বলে মনে করত। অবিশ্বাস্য দ্রুতগতিতে তালেবানের ক্ষমতা দখলে প্রাণ হারানোর শঙ্কা থাকলেও জারিফা গাফারি প্রথম দিকে ব্যাপারটিকে মেনে নিতে চাননি।

কিন্তু কিছু দিনের মধ্যেই তার সব আশা ভরসা ধূলিসাৎ হয়ে যায়। তালেবান সারা দেশে নিয়ন্ত্রণ আরোপের পর গাফারিকে পরামর্শ দেওয়া হলো তার বাড়ি বদলে ফেলতে।

তার আশঙ্কা বাস্তবে পরিণত হলো যেদিন তিনি দেখলেন তার খোঁজে তালেবান যোদ্ধারা তার আগের বাড়িতে এসে হাজির হয়েছে এবং সেখানকার এক নিরাপত্তাকর্মীকে মারধর করেছে।

সম্প্রতি কয়েক বছর ধরেই জারিফা গাফারির জন্য নিরাপত্তাহীনতা একটা বড় ধরনের দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। তিনি ময়দান শাহর নামে যে শহরের মেয়র নির্বাচিত হন সেটি ছিল বেশ রক্ষণশীল। শহরে অনেক তালেবান সমর্থক ছিল।

গত ২০১৮ সাল থেকে বেশ কয়েকবার গাফারির প্রাণনাশের চেষ্টা হয়েছিল। গত বছরের শেষের দিকে তার বাবার হত্যার পর ঝুঁকি আরও বেড়ে যায়।

তার বাবা ছিলেন আফগান সামরিক বাহিনীর একজন ঊর্ধ্বতন অধিনায়ক। গাফারি বিশ্বাস করেন, তালেবানই তার বাবাকে হত্যা করেছে। আগস্টে তালেবান ক্ষমতা দখলের পর থেকেই তিনি সিদ্ধান্ত নেন যে বেঁচে থাকতে হলে তাকে দেশ ত্যাগ করতে হবে।

গত ১৮ অগাস্ট তিনি ও তার পরিবার একটি গাড়িতে চড়ে কাবুল বিমানবন্দরের দিকে রওনা হন। এই যাত্রার পুরো সময়টা তিনি গাড়ির সিটের পায়ের কাছে লুকিয়ে ছিলেন। তালেবানের তল্লাশিচৌকিতে প্রতিবার গাড়ি থামানো হলেও তিনি নিজেকে লুকিয়ে রেখেছিলেন।

জারিফা বলেন, যখন বিমানবন্দরে পৌঁছলাম তখন দেখলাম চারদিকে সব জায়গায় শুধু তালেবান যোদ্ধা, সেই সময় আমার পরিচয় গোপন রাখতে খুব কষ্ট করতে হয়েছিল।

কাবুল বিমানবন্দরে তুরস্কের রাষ্ট্রদূত জারিফা গাফারিকে ইস্তানবুলগামী একটি বিমানে উঠিয়ে দিতে সাহায্য করেন। সেখান থেকে তিনি জার্মানি চলে যান।

জারিফা বলেন, যখন আমার বাবার মৃত্যু হয়, তখন মনে হয়েছিল জীবনটা ওলটপালট হয়ে গেল, ওই বিমানে ওঠার পর নিজের দেশত্যাগ করার যে ব্যথা, সে রকম বেদনা বাবার মৃত্যুর সময়ও পাইনি।

কাবুলের পতন ছিল আমার জীবনের এক মর্মান্তিক দিন। এই ব্যথা কোনো দিন যাবে না। কোনো দিন যে আমাকে নিজের দেশ ছাড়তে হবে সেটি আমি মোটেও কল্পনা করিনি।

জার্মানির ডুসেলডর্ফ শহরে জারিফা গাফারির জীবন এখন নিরাপদ। তিনি স্বীকার করেন, কাবুল বিমানবন্দর বিপজ্জনক রূপ নেওয়ার পর যেসব মানুষ সেখানে গেছেন তাদের মধ্যে তিনি অনেক ভাগ্যবান।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

নির্বাচন সুষ্ঠু হওয়া উচিত, এতেই সবার মঙ্গল: মান্না

যেভাবে জার্মানিতে পালালেন আফগান প্রথম নারী মেয়র জারিফা

আপডেট সময় ১২:৫৮:০৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৮ অগাস্ট ২০২১

আকাশ আর্ন্তজাতিক ডেস্ক: 

আফগানিস্তানে নির্বাচিত প্রথম নারী মেয়র জারিফা গাফারি তালেবানের চোখ ফাঁকি দিয়ে জার্মানিতে পাড়ি জমিয়েছেন।

কাবুল পতন তার জন্য ছিল এক অশনি সংকেত। তালেবান যোদ্ধারা যখন রাজধানী কাবুলে গিয়ে পৌঁছাল, তিনি বুঝতে পারলেন তার জীবনে এক চরম সংকট হাজির হয়েছে। খবর বিবিসির।

এর কয়েক দিন পরই তিনি পরিবারসহ পালিয়ে জার্মানিতে চলে যান। তার দেশত্যাগের সেই নাটকীয় ঘটনাগুলো বলছিলেন তিনি। ২৯ বছর বয়সি গাফারি ছিলেন একজন জনপ্রিয় নেত্রী এবং তিনি হয়ে উঠেছিলেন আফগানিস্তানের নারী অধিকারের এক জোরালো কণ্ঠস্বর।

তার বিশ্বাস, ঠিক এ জন্যই তালেবান তাকে হুমকি বলে মনে করত। অবিশ্বাস্য দ্রুতগতিতে তালেবানের ক্ষমতা দখলে প্রাণ হারানোর শঙ্কা থাকলেও জারিফা গাফারি প্রথম দিকে ব্যাপারটিকে মেনে নিতে চাননি।

কিন্তু কিছু দিনের মধ্যেই তার সব আশা ভরসা ধূলিসাৎ হয়ে যায়। তালেবান সারা দেশে নিয়ন্ত্রণ আরোপের পর গাফারিকে পরামর্শ দেওয়া হলো তার বাড়ি বদলে ফেলতে।

তার আশঙ্কা বাস্তবে পরিণত হলো যেদিন তিনি দেখলেন তার খোঁজে তালেবান যোদ্ধারা তার আগের বাড়িতে এসে হাজির হয়েছে এবং সেখানকার এক নিরাপত্তাকর্মীকে মারধর করেছে।

সম্প্রতি কয়েক বছর ধরেই জারিফা গাফারির জন্য নিরাপত্তাহীনতা একটা বড় ধরনের দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। তিনি ময়দান শাহর নামে যে শহরের মেয়র নির্বাচিত হন সেটি ছিল বেশ রক্ষণশীল। শহরে অনেক তালেবান সমর্থক ছিল।

গত ২০১৮ সাল থেকে বেশ কয়েকবার গাফারির প্রাণনাশের চেষ্টা হয়েছিল। গত বছরের শেষের দিকে তার বাবার হত্যার পর ঝুঁকি আরও বেড়ে যায়।

তার বাবা ছিলেন আফগান সামরিক বাহিনীর একজন ঊর্ধ্বতন অধিনায়ক। গাফারি বিশ্বাস করেন, তালেবানই তার বাবাকে হত্যা করেছে। আগস্টে তালেবান ক্ষমতা দখলের পর থেকেই তিনি সিদ্ধান্ত নেন যে বেঁচে থাকতে হলে তাকে দেশ ত্যাগ করতে হবে।

গত ১৮ অগাস্ট তিনি ও তার পরিবার একটি গাড়িতে চড়ে কাবুল বিমানবন্দরের দিকে রওনা হন। এই যাত্রার পুরো সময়টা তিনি গাড়ির সিটের পায়ের কাছে লুকিয়ে ছিলেন। তালেবানের তল্লাশিচৌকিতে প্রতিবার গাড়ি থামানো হলেও তিনি নিজেকে লুকিয়ে রেখেছিলেন।

জারিফা বলেন, যখন বিমানবন্দরে পৌঁছলাম তখন দেখলাম চারদিকে সব জায়গায় শুধু তালেবান যোদ্ধা, সেই সময় আমার পরিচয় গোপন রাখতে খুব কষ্ট করতে হয়েছিল।

কাবুল বিমানবন্দরে তুরস্কের রাষ্ট্রদূত জারিফা গাফারিকে ইস্তানবুলগামী একটি বিমানে উঠিয়ে দিতে সাহায্য করেন। সেখান থেকে তিনি জার্মানি চলে যান।

জারিফা বলেন, যখন আমার বাবার মৃত্যু হয়, তখন মনে হয়েছিল জীবনটা ওলটপালট হয়ে গেল, ওই বিমানে ওঠার পর নিজের দেশত্যাগ করার যে ব্যথা, সে রকম বেদনা বাবার মৃত্যুর সময়ও পাইনি।

কাবুলের পতন ছিল আমার জীবনের এক মর্মান্তিক দিন। এই ব্যথা কোনো দিন যাবে না। কোনো দিন যে আমাকে নিজের দেশ ছাড়তে হবে সেটি আমি মোটেও কল্পনা করিনি।

জার্মানির ডুসেলডর্ফ শহরে জারিফা গাফারির জীবন এখন নিরাপদ। তিনি স্বীকার করেন, কাবুল বিমানবন্দর বিপজ্জনক রূপ নেওয়ার পর যেসব মানুষ সেখানে গেছেন তাদের মধ্যে তিনি অনেক ভাগ্যবান।