ঢাকা ০৯:০৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ০২ অগাস্ট ২০২৬, ১৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
তরুণ উদ্ভাবকরাই দেশের ভবিষ্যৎ: প্রধানমন্ত্রী আমরা ফ্যাসিস্ট ব্যবস্থা থেকে বেরিয়ে আসতে সক্ষম হয়েছি : মির্জা ফখরুল জুলাইয়ে দেশে এলো ৩৫ হাজার ৪০০ কোটি টাকার রেমিট্যান্স স্বাক্ষরিত জুলাই সনদ বাস্তবায়ন ও গণহত্যার বিচার নিশ্চিত করবে সরকার সৌদি জোটে যোগদান ইরানকে আঘাত করা নয়: প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র উপদেষ্টা ১৬ বছরের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে জুলাইয়ের ভিত্তি রচিত হয় : পানিসম্পদমন্ত্রী বেনজিরকে ফেরাতে ল’ফার্ম নিয়োগ করেছে সরকার: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর বক্তব্যের প্রতিবাদে যাত্রাবাড়ীতে বিএনপির বিক্ষোভ ডিএনসিসি প্রশাসক ও এমপির ওপর হামলার অভিযোগ প্রধানমন্ত্রী যুবক ও যুব নারীদের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করতে চান: ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী

১৭ আগস্টের বোমা হামলার মাস্টারমাইন্ড বিএনপি: কাদের

আকাশ জাতীয় ডেস্ক: 

তৎকালীন বিএনপি-জামায়াত সরকারের আশ্রয়-প্রশ্রয়ে ২০০৫ সালের ১৭ আগস্ট জেএমবি সারাদেশে সিরিজ বোমা হামলা চালিয়েছিল বলে অভিযোগ করেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সড়ক পরিবহন মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। বলেছেন, এই দেশের রাজনীতিতে ১৫ আগস্টের হত্যাকাণ্ড, ১৭ আগস্টের সিরিজ বোমা হামলা ও ২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলা অভিন্ন ষড়যন্ত্রের অংশ। এগুলোর মাস্টারমাইন্ড হলো বিএনপি। সব ঘটনায় প্রমাণ হয় বাংলাদেশের সাম্প্রদায়িক ও ষড়যন্ত্রের রাজনীতির নির্ভরযোগ্য ঠিকানা হচ্ছে তারা।

মঙ্গলবার বঙ্গবন্ধু এভিনিউস্থ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সিরিজ বোমা হামলা দিবস উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। ঢাকা মহানগর দক্ষিণ ও উত্তর আওয়ামী লীগ এ আলোচনা সভার আয়োজন করে।

২০০৫ সালের ১৭ আগস্ট মুন্সীগঞ্জ জেলা ছাড়া দেশের ৬৩ জেলার ৫০০ স্থানে বোমা হামলা চালিয়ে নিজের অবস্থান জানান দিয়েছিল জঙ্গি সংগঠন জামাতুল মুজাহিদীন বাংলাদেশ (জেএমবি)। এতে দুজন নিহত ও শতাধিক ব্যক্তি আহত হয়েছিলেন।

সিরিজ বোমা হামলাকারীদের তৎকালীন বিএনপি সরকার সহায়তা করেছিল দাবি করে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘একযোগে বোমা হামলার জন্য দীর্ঘ প্রস্তুতি ও জনবল একদিনে জোগাড় করা হয়নি। তৎকালীন সরকার নীরব ছিল কেন? নিশ্চয় তারা এই ঘটনার আশ্রয়-প্রশ্রয় দাতা ও পৃষ্ঠপোষক। তারা এটা করেছিল ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্য। মুক্তচিন্তাকে নিশ্চিহ্ন ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে মুছে দেওয়ার জন্য। তাদের কাছে রাষ্ট্র ও স্বাধীনতা কখনোই নিরাপদ ছিল না। এখনো নেই।’

আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘১৭ আগস্টের বোমা হামলা ছিল উগ্র সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠীর শক্তি পরীক্ষা। একযোগে তারা শক্তি জানান দিয়েছিল। এর মাধ্যমে প্রকাশ্যে আসে এই দেশে জঙ্গি কার্যক্রম। তখন সামনে এসেছিল বাংলা ভাই। রাজশাহীর একটি অংশ তার দখলেই ছিল। রাজশাহী শহরে প্রকাশ্য মিছিল করেছিল তারা। এর ধারাবাহিকতায় অনেকগুলো বোমা হামলা হয়েছিল।

বিএনপি মহাসচিবের সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘মির্জা ফখরুল সাহেব বলেছেন আমাদের নাকি রাজনীতির শিষ্ঠাচার ও সৌজন্যতাবোধ নেই। কারণ আমি বলেছি বেগম জিয়ার জন্মদিন ছয় দিন। তার কাছে জানতে চাই- একজন সাবেক প্রধানমন্ত্রীর ছয় দিন জন্মদিবস কেন? আগে ছিল পাঁচটা। সর্বশেষ করোনা পরীক্ষার সময় দেখলাম আরেকটা। ফখরুল সাহেব এখানে শিষ্টাচার ও সৌজন্যতার বিরুদ্ধে কী করলাম? সত্য তুলে ধরলাম। এসব জন্মদিবস আপনাদেরই সৃষ্টি। আওয়ামী লীগের সাজানো কিংবা বানানো কিছু নয়। করোনা পরীক্ষার সময় জন্মদিবসটা কে লিখেছিল তার উত্তর জানতে চাই।’

কাদের বলেন, ‘এবারও জন্মদিবস পালন করেছেন। প্রতিশোধ ও প্রতিহিংসার মানসিকতা এখনো এখান থেকে সরে যায়নি। কেক কাটেননি, কিন্তু ফুলতো দিয়েছেন। মিলাদ মাহফিল করেছেন। মানে হলো ১৫ আগস্ট জন্মদিবস। আপনারা এটাই করবেন। শিষ্টাচার আমাদেরকে শেখাতে আসবেন না।’

সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী বলেন, ‘একটি বিদেশি গণমাধ্যমে দেখলাম হিউম্যান রাইটস ওয়াচ জাতিসংঘের কাছে আহ্বান করেছে বাংলাদেশে এই আমলে যত গুম হয়েছে। এখনো ৬৮ জনকে (৮৬ হবে) পাওয়া যায়নি। এটা বাংলাদেশকে অপমান করার শামিল। চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব জোসিকে সরকারকে গুম করেছে বলে অভিযোগ করেছিলেন মির্জা ফখরুল ইসলাম। কিন্তু থলের বিড়াল বের হয়ে এসেছে। সে অস্ত্রসহ গ্রেপ্তার হয়েছে। অস্ত্র ব্যবসার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। তাদের এরকম গুমের অনেক সাজানো নাটক রয়েছে।’

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

৯ ম্যাচ নিষিদ্ধ হতে পারেন আর্জেন্টাইন তারকা

১৭ আগস্টের বোমা হামলার মাস্টারমাইন্ড বিএনপি: কাদের

আপডেট সময় ০৪:৪৯:১০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৭ অগাস্ট ২০২১

আকাশ জাতীয় ডেস্ক: 

তৎকালীন বিএনপি-জামায়াত সরকারের আশ্রয়-প্রশ্রয়ে ২০০৫ সালের ১৭ আগস্ট জেএমবি সারাদেশে সিরিজ বোমা হামলা চালিয়েছিল বলে অভিযোগ করেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সড়ক পরিবহন মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। বলেছেন, এই দেশের রাজনীতিতে ১৫ আগস্টের হত্যাকাণ্ড, ১৭ আগস্টের সিরিজ বোমা হামলা ও ২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলা অভিন্ন ষড়যন্ত্রের অংশ। এগুলোর মাস্টারমাইন্ড হলো বিএনপি। সব ঘটনায় প্রমাণ হয় বাংলাদেশের সাম্প্রদায়িক ও ষড়যন্ত্রের রাজনীতির নির্ভরযোগ্য ঠিকানা হচ্ছে তারা।

মঙ্গলবার বঙ্গবন্ধু এভিনিউস্থ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সিরিজ বোমা হামলা দিবস উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। ঢাকা মহানগর দক্ষিণ ও উত্তর আওয়ামী লীগ এ আলোচনা সভার আয়োজন করে।

২০০৫ সালের ১৭ আগস্ট মুন্সীগঞ্জ জেলা ছাড়া দেশের ৬৩ জেলার ৫০০ স্থানে বোমা হামলা চালিয়ে নিজের অবস্থান জানান দিয়েছিল জঙ্গি সংগঠন জামাতুল মুজাহিদীন বাংলাদেশ (জেএমবি)। এতে দুজন নিহত ও শতাধিক ব্যক্তি আহত হয়েছিলেন।

সিরিজ বোমা হামলাকারীদের তৎকালীন বিএনপি সরকার সহায়তা করেছিল দাবি করে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘একযোগে বোমা হামলার জন্য দীর্ঘ প্রস্তুতি ও জনবল একদিনে জোগাড় করা হয়নি। তৎকালীন সরকার নীরব ছিল কেন? নিশ্চয় তারা এই ঘটনার আশ্রয়-প্রশ্রয় দাতা ও পৃষ্ঠপোষক। তারা এটা করেছিল ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্য। মুক্তচিন্তাকে নিশ্চিহ্ন ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে মুছে দেওয়ার জন্য। তাদের কাছে রাষ্ট্র ও স্বাধীনতা কখনোই নিরাপদ ছিল না। এখনো নেই।’

আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘১৭ আগস্টের বোমা হামলা ছিল উগ্র সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠীর শক্তি পরীক্ষা। একযোগে তারা শক্তি জানান দিয়েছিল। এর মাধ্যমে প্রকাশ্যে আসে এই দেশে জঙ্গি কার্যক্রম। তখন সামনে এসেছিল বাংলা ভাই। রাজশাহীর একটি অংশ তার দখলেই ছিল। রাজশাহী শহরে প্রকাশ্য মিছিল করেছিল তারা। এর ধারাবাহিকতায় অনেকগুলো বোমা হামলা হয়েছিল।

বিএনপি মহাসচিবের সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘মির্জা ফখরুল সাহেব বলেছেন আমাদের নাকি রাজনীতির শিষ্ঠাচার ও সৌজন্যতাবোধ নেই। কারণ আমি বলেছি বেগম জিয়ার জন্মদিন ছয় দিন। তার কাছে জানতে চাই- একজন সাবেক প্রধানমন্ত্রীর ছয় দিন জন্মদিবস কেন? আগে ছিল পাঁচটা। সর্বশেষ করোনা পরীক্ষার সময় দেখলাম আরেকটা। ফখরুল সাহেব এখানে শিষ্টাচার ও সৌজন্যতার বিরুদ্ধে কী করলাম? সত্য তুলে ধরলাম। এসব জন্মদিবস আপনাদেরই সৃষ্টি। আওয়ামী লীগের সাজানো কিংবা বানানো কিছু নয়। করোনা পরীক্ষার সময় জন্মদিবসটা কে লিখেছিল তার উত্তর জানতে চাই।’

কাদের বলেন, ‘এবারও জন্মদিবস পালন করেছেন। প্রতিশোধ ও প্রতিহিংসার মানসিকতা এখনো এখান থেকে সরে যায়নি। কেক কাটেননি, কিন্তু ফুলতো দিয়েছেন। মিলাদ মাহফিল করেছেন। মানে হলো ১৫ আগস্ট জন্মদিবস। আপনারা এটাই করবেন। শিষ্টাচার আমাদেরকে শেখাতে আসবেন না।’

সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী বলেন, ‘একটি বিদেশি গণমাধ্যমে দেখলাম হিউম্যান রাইটস ওয়াচ জাতিসংঘের কাছে আহ্বান করেছে বাংলাদেশে এই আমলে যত গুম হয়েছে। এখনো ৬৮ জনকে (৮৬ হবে) পাওয়া যায়নি। এটা বাংলাদেশকে অপমান করার শামিল। চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব জোসিকে সরকারকে গুম করেছে বলে অভিযোগ করেছিলেন মির্জা ফখরুল ইসলাম। কিন্তু থলের বিড়াল বের হয়ে এসেছে। সে অস্ত্রসহ গ্রেপ্তার হয়েছে। অস্ত্র ব্যবসার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। তাদের এরকম গুমের অনেক সাজানো নাটক রয়েছে।’