ঢাকা ০৪:২১ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ নতুন দলের আত্মপ্রকাশ, নেতৃত্বে যারা ইরানের সামনে এখন কেবল দুই পথ—চুক্তি অথবা আত্মসমর্পণ: ট্রাম্প পাঁচ দফা দাবিতে সরকারি কর্মচারীদের অবস্থান কর্মসূচি সরকার দমনে ব্যস্ত, দ্রব্যমূল্য-গ্যাস নিয়ে মাথাব্যথা নেই: গোলাম পরওয়ার দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে আশা বাণিজ্যমন্ত্রীর সম্পত্তি দানের পরও আজীবন ভোগদখলের সুযোগ, মন্ত্রিসভায় খসড়া পাশ শেখ হাসিনা যেন রাজনৈতিক বক্তব্য দিতে না পারেন, ভারতীয় হাইকমিশনারকে হুমায়ুন কবির রাষ্ট্র পরিচালনায় ‘নতুন মাত্রা’ যোগ করেছেন তারেক রহমান: চীনা রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশে কারিগরি ও ক্রীড়া শিক্ষায় সহযোগিতার আগ্রহ অস্ট্রেলিয়ার

রুটি গ্রামের বাল্যবিয়ে বন্ধ করে দিলেন ইউএনও

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

কনে অষ্টম শ্রেণিতে পড়ে। বর পড়ে ১০ম শ্রেণিতে। দুজনই একই বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। সেই সুবাদেই পরিচয়, ভালো লাগা এবং প্রেম। সেই প্রেমের মধুর পরিনতি দিতে দুই পরিবারের সম্মতিতে তাদের বিয়ের আয়োজন করা হয়।

কনেকে সাজানো হয় নববধূর সাজে। যাত্রীসহ বর নিয়ে কনের বাড়িতে হাজির হন বরপক্ষের অর্ধশতাধিক অতিথি। বিয়ে বাড়িতে তখন আনন্দঘন মুহূর্ত। ভূরিভোজ করাতে বরযাত্রীকে বসানো হয় খাবার টেবিলে। বরকেও দেয়া হয় খাবারের বিশাল সমাহার। ঠিক তখনই ঘটে বিপত্তি।

খবর পেয়ে আখাউড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রোমানা আক্তার ঘটনাস্থলে পৌঁছেন। প্রশাসনের লোক দেখে বরযাত্রীসহ কনেপক্ষের লোকজন দ্বিগবিদিক ছুটাছুটি করে সটকে পড়ে। বর-কনের বিয়ের বয়স উপযুক্ত না হওয়ায় বাল্যবিয়ে বন্ধ করে দেন ইউএনও ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রুমানা আক্তার।

বাল্যবিয়ের আয়োজন করায় উভয় পক্ষকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। সোমবার দুপুরে এ ঘটনা ঘটেছে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া উপজেলার ধরখার ইউনিয়নের রুটি গ্রামে।

আখাউড়া উপজেলার ধরখার ইউনিয়নের রুটি গ্রামের দুবাই প্রবাসী সুহেল মিয়ার অষ্টম শ্রেণি পড়ুয়া মেয়ের সঙ্গে একই গ্রামের আব্দুর রউফ মিয়ার ছেলে জুনায়েদ বাবুর বিয়ের আয়োজন করা হয়। বেলা দেড়টার দিকে বর নিয়ে কনের বাড়িতে আসেন বরপক্ষের লোকজন। বরযাত্রীদের খাবার টেবিলে বসানো হয় ভুরিভোজের জন্য। বিয়ের প্রস্তুতি যখন চূড়ান্ত এমন সময় পুলিশ নিয়ে কনের বাড়িতে পৌঁছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রুমানা আক্তার।

পরে তিনি স্থানীয় ইউপি সদস্য আমিনুল ইসলাম এবং ওই বিদ্যালয় ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি মো. আশরাফুল আলমের উপস্থিতিতে বর-কনের জন্মনিবন্ধন যাচাই করে বয়স না হওয়ায় বিয়ে বন্ধ করে দেন। সঠিক বয়স না হওয়া পর্যন্ত বিয়ে দিবে না বলে মুচলেকা দেন বর-কনের অভিভাবকরা।

কনের মা বিউটি আক্তার বলেন, ‘মেয়ে-ছেলে একে অন্যকে পছন্দ করেছে, তাই বিয়ে দিতে চেয়েছি।’

ইউএনও রুমানা আক্তার বলেন, ‘লকডাউনের মধ্যে বিয়ের আয়োজনের খবর পেয়ে কনের বাড়িতে এসে জিজ্ঞাসাবাদ করি। পরে জানতে পারি বর-কনের বিয়ের বয়স হয়নি। তাই উভয়পক্ষকে বুঝিয়ে বিয়ে বন্ধ করে দিয়েছি। প্রাপ্ত বয়স্ক না হওয়া পর্যন্ত বিয়ে দেবে না মর্মে মুচলেকা দেয় অভিভাবকরা। লকডাউনের মধ্যে বিয়ের আয়োজন করায় উভয় পক্ষকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।’

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

প্রেক্ষাপট: দুই দিনের সফরে আগামীকাল ঠাকুরগাঁও যাচ্ছেন রাষ্ট্রপতি

রুটি গ্রামের বাল্যবিয়ে বন্ধ করে দিলেন ইউএনও

আপডেট সময় ১০:১১:৫১ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৬ জুলাই ২০২১

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

কনে অষ্টম শ্রেণিতে পড়ে। বর পড়ে ১০ম শ্রেণিতে। দুজনই একই বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। সেই সুবাদেই পরিচয়, ভালো লাগা এবং প্রেম। সেই প্রেমের মধুর পরিনতি দিতে দুই পরিবারের সম্মতিতে তাদের বিয়ের আয়োজন করা হয়।

কনেকে সাজানো হয় নববধূর সাজে। যাত্রীসহ বর নিয়ে কনের বাড়িতে হাজির হন বরপক্ষের অর্ধশতাধিক অতিথি। বিয়ে বাড়িতে তখন আনন্দঘন মুহূর্ত। ভূরিভোজ করাতে বরযাত্রীকে বসানো হয় খাবার টেবিলে। বরকেও দেয়া হয় খাবারের বিশাল সমাহার। ঠিক তখনই ঘটে বিপত্তি।

খবর পেয়ে আখাউড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রোমানা আক্তার ঘটনাস্থলে পৌঁছেন। প্রশাসনের লোক দেখে বরযাত্রীসহ কনেপক্ষের লোকজন দ্বিগবিদিক ছুটাছুটি করে সটকে পড়ে। বর-কনের বিয়ের বয়স উপযুক্ত না হওয়ায় বাল্যবিয়ে বন্ধ করে দেন ইউএনও ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রুমানা আক্তার।

বাল্যবিয়ের আয়োজন করায় উভয় পক্ষকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। সোমবার দুপুরে এ ঘটনা ঘটেছে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া উপজেলার ধরখার ইউনিয়নের রুটি গ্রামে।

আখাউড়া উপজেলার ধরখার ইউনিয়নের রুটি গ্রামের দুবাই প্রবাসী সুহেল মিয়ার অষ্টম শ্রেণি পড়ুয়া মেয়ের সঙ্গে একই গ্রামের আব্দুর রউফ মিয়ার ছেলে জুনায়েদ বাবুর বিয়ের আয়োজন করা হয়। বেলা দেড়টার দিকে বর নিয়ে কনের বাড়িতে আসেন বরপক্ষের লোকজন। বরযাত্রীদের খাবার টেবিলে বসানো হয় ভুরিভোজের জন্য। বিয়ের প্রস্তুতি যখন চূড়ান্ত এমন সময় পুলিশ নিয়ে কনের বাড়িতে পৌঁছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রুমানা আক্তার।

পরে তিনি স্থানীয় ইউপি সদস্য আমিনুল ইসলাম এবং ওই বিদ্যালয় ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি মো. আশরাফুল আলমের উপস্থিতিতে বর-কনের জন্মনিবন্ধন যাচাই করে বয়স না হওয়ায় বিয়ে বন্ধ করে দেন। সঠিক বয়স না হওয়া পর্যন্ত বিয়ে দিবে না বলে মুচলেকা দেন বর-কনের অভিভাবকরা।

কনের মা বিউটি আক্তার বলেন, ‘মেয়ে-ছেলে একে অন্যকে পছন্দ করেছে, তাই বিয়ে দিতে চেয়েছি।’

ইউএনও রুমানা আক্তার বলেন, ‘লকডাউনের মধ্যে বিয়ের আয়োজনের খবর পেয়ে কনের বাড়িতে এসে জিজ্ঞাসাবাদ করি। পরে জানতে পারি বর-কনের বিয়ের বয়স হয়নি। তাই উভয়পক্ষকে বুঝিয়ে বিয়ে বন্ধ করে দিয়েছি। প্রাপ্ত বয়স্ক না হওয়া পর্যন্ত বিয়ে দেবে না মর্মে মুচলেকা দেয় অভিভাবকরা। লকডাউনের মধ্যে বিয়ের আয়োজন করায় উভয় পক্ষকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।’