ঢাকা ০৩:৫৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬, ২ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
নির্বাচন ঘিরে একটি পক্ষ ইচ্ছাকৃত বিভ্রান্তি তৈরি করতে চাইছে,সতর্ক থাকার আহ্বান : মির্জা আব্বাস আবারও ঢাকায় শিক্ষার্থীদের অবরোধ, মানুষের ভোগান্তি ‘আগামীতে যারা ক্ষমতায় যাবেন তারা যেন প্রবাসীদের নিয়ে কাজ করেন’:নজরুল ইসলাম নির্বাচনে কোনও ব্যাঘাত ঘটলে দেশের গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন বিঘ্নিত হবে: শামসুজ্জামান দুদু নাজমুলের পদত্যাগের দাবিতে অনড় ক্রিকেটাররা, মাঠে যাননি কেউ ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই ইরানে হামলা হতে পারে: রয়টার্স আওয়ামী লীগ ভুল স্বীকার করলে রিকনসিলিয়েশন সম্ভব: প্রধান উপদেষ্টা নাজমুল পদত্যাগ না করলে খেলা বর্জনের হুমকি ক্রিকেটারদের চাঁদাবাজি-মাস্তানি করলে এখনই বিএনপি থেকে বের হয়ে যান: আমীর খসরু আগামী সপ্তাহ থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫ দেশের জন্য মার্কিন ভিসা কার্যক্রম স্থগিত

শ্বশুরবাড়ির নির্যাতনে গৃহবধূর মৃত্যুর অভিযোগ, স্বামী-শাশুড়ি আটক

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

গাজীপুরে যৌতুকের দাবিতে শ্বশুরবাড়ির সদস্যদের নির্যাতনে মর্জিনা (২২) নামে এক গৃহবধূর মৃত্যুর অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় নিহতের স্বামী রুবেলকে টঙ্গী থেকে এবং শাশুড়িকে শ্রীপুর থেকে আটক করেছে র‍্যাপিড এ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব-১) সদস্যরা। নিহত মর্জিনা কুমিল্লা জেলার দাউদকান্দি উপজেলার উত্তরটিলি এলাকার মানিক মিয়ার মেয়ে।

সোমবার বিকাল ৫টার দিকে গৃহবধূ মর্জিনাকে অসুস্থ অবস্থায় টঙ্গীর শহীদ আহসান উল্লাহ মাস্টার জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে আসে অজ্ঞাত পরিচয়ে এক রিকশাচালক। পরে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায় মর্জিনা। টঙ্গী পূর্ব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জাবেদ মাসুদ এ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

নিহতের বাবা মানিক মিয়া বলেন, আড়াই বছর আগে মুঠোফোনে গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার গোসিঙ্গা ইউনিয়নের পটকা গ্রামের রুবেলের সঙ্গে পরিচয় হয় মর্জিনার। মুঠোফোনে পরিচয় থেকে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। এরপর পারিবারিকভাবেই তাদের বিয়ে হয়। কিন্তু বিয়ের পর থেকেই মর্জিনার স্বামী রুবেল ও শাশুড়ি যৌতুকের দাবিতে নির্যাতন চালিয়ে আসছিল। বিভিন্ন অজুহাতে একাধিকবার টাকা চাইত তারা। টাকা না দিলেই মর্জিনার ওপর চালানো হতো পাশবিক নির্যাতন।

গত শুক্রবার (২ জুলাই) মর্জিনা মুঠোফোনে জানায় শ্বশুরবাড়ির ঘর মেরামতের জন্য টাকা দরকার। কিন্তু টাকা দিতে দেরি হওয়ায় মর্জিনাকে শারীরিকভাবে নির্যাতন চালায় স্বামী রুবেল ও তার মা। সোমবার দুপুরে মর্জিনা ফোন করে জানায়, ‘শ্বশুরবাড়ির লোকজনের নির্যাতন সইতে না পেরে সে ঘর থেকে বেরিয়ে এসেছে। এটাই হইতো তার শেষ কথা।’ এর কিছুক্ষণ পরে হাসপাতাল থেকে ফোনে মেয়ের মৃত্যুর সংবাদ পান মর্জিনার বাবা। মর্জিনার চার মাস বয়সী একটি মেয়ে সন্তান রয়েছে।

শহীদ আহসান উল্লাহ মাস্টার জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগের দায়িত্বরত নার্সিং ইনচার্জ মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, অসুস্থ অবস্থায় একজন রিকশাচালক গৃহবধূ মর্জিনাকে হাসপাতালে নিয়ে আসেন। হাসপাতালে আনার কিছুক্ষণ পরই তার মৃত্যু হয়। নিহতের ভ্যানিটি ব্যাগ থেকে চালের পোকা নিধনের কীটনাশক ওষুধ পাওয়া গেছে। ধারণা করা হচ্ছে কীটনাশক ট্যাবলেট খাওয়ার কারণে তার মৃত্যু হয়েছে।

টঙ্গী পূর্ব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জাবেদ মাসুদ বলেন, নিহতের শরীরে নির্যাতনের চিহ্ন রয়েছে। পুলিশ হাসপাতাল থেকে লাশ উদ্ধার করে গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

নির্বাচন ঘিরে একটি পক্ষ ইচ্ছাকৃত বিভ্রান্তি তৈরি করতে চাইছে,সতর্ক থাকার আহ্বান : মির্জা আব্বাস

শ্বশুরবাড়ির নির্যাতনে গৃহবধূর মৃত্যুর অভিযোগ, স্বামী-শাশুড়ি আটক

আপডেট সময় ০৬:২৩:২৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৬ জুলাই ২০২১

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

গাজীপুরে যৌতুকের দাবিতে শ্বশুরবাড়ির সদস্যদের নির্যাতনে মর্জিনা (২২) নামে এক গৃহবধূর মৃত্যুর অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় নিহতের স্বামী রুবেলকে টঙ্গী থেকে এবং শাশুড়িকে শ্রীপুর থেকে আটক করেছে র‍্যাপিড এ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব-১) সদস্যরা। নিহত মর্জিনা কুমিল্লা জেলার দাউদকান্দি উপজেলার উত্তরটিলি এলাকার মানিক মিয়ার মেয়ে।

সোমবার বিকাল ৫টার দিকে গৃহবধূ মর্জিনাকে অসুস্থ অবস্থায় টঙ্গীর শহীদ আহসান উল্লাহ মাস্টার জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে আসে অজ্ঞাত পরিচয়ে এক রিকশাচালক। পরে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায় মর্জিনা। টঙ্গী পূর্ব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জাবেদ মাসুদ এ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

নিহতের বাবা মানিক মিয়া বলেন, আড়াই বছর আগে মুঠোফোনে গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার গোসিঙ্গা ইউনিয়নের পটকা গ্রামের রুবেলের সঙ্গে পরিচয় হয় মর্জিনার। মুঠোফোনে পরিচয় থেকে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। এরপর পারিবারিকভাবেই তাদের বিয়ে হয়। কিন্তু বিয়ের পর থেকেই মর্জিনার স্বামী রুবেল ও শাশুড়ি যৌতুকের দাবিতে নির্যাতন চালিয়ে আসছিল। বিভিন্ন অজুহাতে একাধিকবার টাকা চাইত তারা। টাকা না দিলেই মর্জিনার ওপর চালানো হতো পাশবিক নির্যাতন।

গত শুক্রবার (২ জুলাই) মর্জিনা মুঠোফোনে জানায় শ্বশুরবাড়ির ঘর মেরামতের জন্য টাকা দরকার। কিন্তু টাকা দিতে দেরি হওয়ায় মর্জিনাকে শারীরিকভাবে নির্যাতন চালায় স্বামী রুবেল ও তার মা। সোমবার দুপুরে মর্জিনা ফোন করে জানায়, ‘শ্বশুরবাড়ির লোকজনের নির্যাতন সইতে না পেরে সে ঘর থেকে বেরিয়ে এসেছে। এটাই হইতো তার শেষ কথা।’ এর কিছুক্ষণ পরে হাসপাতাল থেকে ফোনে মেয়ের মৃত্যুর সংবাদ পান মর্জিনার বাবা। মর্জিনার চার মাস বয়সী একটি মেয়ে সন্তান রয়েছে।

শহীদ আহসান উল্লাহ মাস্টার জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগের দায়িত্বরত নার্সিং ইনচার্জ মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, অসুস্থ অবস্থায় একজন রিকশাচালক গৃহবধূ মর্জিনাকে হাসপাতালে নিয়ে আসেন। হাসপাতালে আনার কিছুক্ষণ পরই তার মৃত্যু হয়। নিহতের ভ্যানিটি ব্যাগ থেকে চালের পোকা নিধনের কীটনাশক ওষুধ পাওয়া গেছে। ধারণা করা হচ্ছে কীটনাশক ট্যাবলেট খাওয়ার কারণে তার মৃত্যু হয়েছে।

টঙ্গী পূর্ব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জাবেদ মাসুদ বলেন, নিহতের শরীরে নির্যাতনের চিহ্ন রয়েছে। পুলিশ হাসপাতাল থেকে লাশ উদ্ধার করে গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে।