ঢাকা ০৫:৪৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৫ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ নতুন দলের আত্মপ্রকাশ, নেতৃত্বে যারা ইরানের সামনে এখন কেবল দুই পথ—চুক্তি অথবা আত্মসমর্পণ: ট্রাম্প পাঁচ দফা দাবিতে সরকারি কর্মচারীদের অবস্থান কর্মসূচি সরকার দমনে ব্যস্ত, দ্রব্যমূল্য-গ্যাস নিয়ে মাথাব্যথা নেই: গোলাম পরওয়ার দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে আশা বাণিজ্যমন্ত্রীর সম্পত্তি দানের পরও আজীবন ভোগদখলের সুযোগ, মন্ত্রিসভায় খসড়া পাশ শেখ হাসিনা যেন রাজনৈতিক বক্তব্য দিতে না পারেন, ভারতীয় হাইকমিশনারকে হুমায়ুন কবির রাষ্ট্র পরিচালনায় ‘নতুন মাত্রা’ যোগ করেছেন তারেক রহমান: চীনা রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশে কারিগরি ও ক্রীড়া শিক্ষায় সহযোগিতার আগ্রহ অস্ট্রেলিয়ার

শ্বশুরবাড়ির নির্যাতনে গৃহবধূর মৃত্যুর অভিযোগ, স্বামী-শাশুড়ি আটক

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

গাজীপুরে যৌতুকের দাবিতে শ্বশুরবাড়ির সদস্যদের নির্যাতনে মর্জিনা (২২) নামে এক গৃহবধূর মৃত্যুর অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় নিহতের স্বামী রুবেলকে টঙ্গী থেকে এবং শাশুড়িকে শ্রীপুর থেকে আটক করেছে র‍্যাপিড এ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব-১) সদস্যরা। নিহত মর্জিনা কুমিল্লা জেলার দাউদকান্দি উপজেলার উত্তরটিলি এলাকার মানিক মিয়ার মেয়ে।

সোমবার বিকাল ৫টার দিকে গৃহবধূ মর্জিনাকে অসুস্থ অবস্থায় টঙ্গীর শহীদ আহসান উল্লাহ মাস্টার জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে আসে অজ্ঞাত পরিচয়ে এক রিকশাচালক। পরে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায় মর্জিনা। টঙ্গী পূর্ব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জাবেদ মাসুদ এ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

নিহতের বাবা মানিক মিয়া বলেন, আড়াই বছর আগে মুঠোফোনে গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার গোসিঙ্গা ইউনিয়নের পটকা গ্রামের রুবেলের সঙ্গে পরিচয় হয় মর্জিনার। মুঠোফোনে পরিচয় থেকে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। এরপর পারিবারিকভাবেই তাদের বিয়ে হয়। কিন্তু বিয়ের পর থেকেই মর্জিনার স্বামী রুবেল ও শাশুড়ি যৌতুকের দাবিতে নির্যাতন চালিয়ে আসছিল। বিভিন্ন অজুহাতে একাধিকবার টাকা চাইত তারা। টাকা না দিলেই মর্জিনার ওপর চালানো হতো পাশবিক নির্যাতন।

গত শুক্রবার (২ জুলাই) মর্জিনা মুঠোফোনে জানায় শ্বশুরবাড়ির ঘর মেরামতের জন্য টাকা দরকার। কিন্তু টাকা দিতে দেরি হওয়ায় মর্জিনাকে শারীরিকভাবে নির্যাতন চালায় স্বামী রুবেল ও তার মা। সোমবার দুপুরে মর্জিনা ফোন করে জানায়, ‘শ্বশুরবাড়ির লোকজনের নির্যাতন সইতে না পেরে সে ঘর থেকে বেরিয়ে এসেছে। এটাই হইতো তার শেষ কথা।’ এর কিছুক্ষণ পরে হাসপাতাল থেকে ফোনে মেয়ের মৃত্যুর সংবাদ পান মর্জিনার বাবা। মর্জিনার চার মাস বয়সী একটি মেয়ে সন্তান রয়েছে।

শহীদ আহসান উল্লাহ মাস্টার জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগের দায়িত্বরত নার্সিং ইনচার্জ মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, অসুস্থ অবস্থায় একজন রিকশাচালক গৃহবধূ মর্জিনাকে হাসপাতালে নিয়ে আসেন। হাসপাতালে আনার কিছুক্ষণ পরই তার মৃত্যু হয়। নিহতের ভ্যানিটি ব্যাগ থেকে চালের পোকা নিধনের কীটনাশক ওষুধ পাওয়া গেছে। ধারণা করা হচ্ছে কীটনাশক ট্যাবলেট খাওয়ার কারণে তার মৃত্যু হয়েছে।

টঙ্গী পূর্ব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জাবেদ মাসুদ বলেন, নিহতের শরীরে নির্যাতনের চিহ্ন রয়েছে। পুলিশ হাসপাতাল থেকে লাশ উদ্ধার করে গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

প্রেক্ষাপট: দুই দিনের সফরে আগামীকাল ঠাকুরগাঁও যাচ্ছেন রাষ্ট্রপতি

শ্বশুরবাড়ির নির্যাতনে গৃহবধূর মৃত্যুর অভিযোগ, স্বামী-শাশুড়ি আটক

আপডেট সময় ০৬:২৩:২৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৬ জুলাই ২০২১

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

গাজীপুরে যৌতুকের দাবিতে শ্বশুরবাড়ির সদস্যদের নির্যাতনে মর্জিনা (২২) নামে এক গৃহবধূর মৃত্যুর অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় নিহতের স্বামী রুবেলকে টঙ্গী থেকে এবং শাশুড়িকে শ্রীপুর থেকে আটক করেছে র‍্যাপিড এ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব-১) সদস্যরা। নিহত মর্জিনা কুমিল্লা জেলার দাউদকান্দি উপজেলার উত্তরটিলি এলাকার মানিক মিয়ার মেয়ে।

সোমবার বিকাল ৫টার দিকে গৃহবধূ মর্জিনাকে অসুস্থ অবস্থায় টঙ্গীর শহীদ আহসান উল্লাহ মাস্টার জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে আসে অজ্ঞাত পরিচয়ে এক রিকশাচালক। পরে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায় মর্জিনা। টঙ্গী পূর্ব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জাবেদ মাসুদ এ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

নিহতের বাবা মানিক মিয়া বলেন, আড়াই বছর আগে মুঠোফোনে গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার গোসিঙ্গা ইউনিয়নের পটকা গ্রামের রুবেলের সঙ্গে পরিচয় হয় মর্জিনার। মুঠোফোনে পরিচয় থেকে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। এরপর পারিবারিকভাবেই তাদের বিয়ে হয়। কিন্তু বিয়ের পর থেকেই মর্জিনার স্বামী রুবেল ও শাশুড়ি যৌতুকের দাবিতে নির্যাতন চালিয়ে আসছিল। বিভিন্ন অজুহাতে একাধিকবার টাকা চাইত তারা। টাকা না দিলেই মর্জিনার ওপর চালানো হতো পাশবিক নির্যাতন।

গত শুক্রবার (২ জুলাই) মর্জিনা মুঠোফোনে জানায় শ্বশুরবাড়ির ঘর মেরামতের জন্য টাকা দরকার। কিন্তু টাকা দিতে দেরি হওয়ায় মর্জিনাকে শারীরিকভাবে নির্যাতন চালায় স্বামী রুবেল ও তার মা। সোমবার দুপুরে মর্জিনা ফোন করে জানায়, ‘শ্বশুরবাড়ির লোকজনের নির্যাতন সইতে না পেরে সে ঘর থেকে বেরিয়ে এসেছে। এটাই হইতো তার শেষ কথা।’ এর কিছুক্ষণ পরে হাসপাতাল থেকে ফোনে মেয়ের মৃত্যুর সংবাদ পান মর্জিনার বাবা। মর্জিনার চার মাস বয়সী একটি মেয়ে সন্তান রয়েছে।

শহীদ আহসান উল্লাহ মাস্টার জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগের দায়িত্বরত নার্সিং ইনচার্জ মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, অসুস্থ অবস্থায় একজন রিকশাচালক গৃহবধূ মর্জিনাকে হাসপাতালে নিয়ে আসেন। হাসপাতালে আনার কিছুক্ষণ পরই তার মৃত্যু হয়। নিহতের ভ্যানিটি ব্যাগ থেকে চালের পোকা নিধনের কীটনাশক ওষুধ পাওয়া গেছে। ধারণা করা হচ্ছে কীটনাশক ট্যাবলেট খাওয়ার কারণে তার মৃত্যু হয়েছে।

টঙ্গী পূর্ব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জাবেদ মাসুদ বলেন, নিহতের শরীরে নির্যাতনের চিহ্ন রয়েছে। পুলিশ হাসপাতাল থেকে লাশ উদ্ধার করে গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে।