ঢাকা ০১:২২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০১ জুলাই ২০২৬, ১৬ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
এখন কি বলা যাবে উনি ঋণখেলাপি ছিলেন, আসলাম চৌধুরী প্রসঙ্গে জামায়াত এমপি বাবাকে অপমানের ক্ষোভে ৫ বছরের শিশুকে হত্যা করেন নিহা ‘রিফাইন্ড’ বা অন্য নামেও আওয়ামী লীগ কর্মসূচি করতে পারবে না : তথ্য উপদেষ্টা গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূতি উপলক্ষে জামায়াতের মাসব্যাপী কর্মসূচি প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে বাজেট পরবর্তী নৈশভোজ বাতিল রাজধানীর তিন সরকারি হাসপাতালে র‍্যাবের অভিযান, আটক ১৩ পাকিস্তানে কোচিং সেন্টারের ছাদ ধসে ১৪ শিশু নিহত ছাঁটাই প্রস্তাবের আলোচনা প্রত্যাহার করল বিরোধী দল ১১ বছর পর রায়, বাকপ্রতিবন্ধী কিশোরীকে ধর্ষণের দায়ে যাবজ্জীবন প্যারোলে মুক্তি পেয়ে মায়ের জানাজায় স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা

ঘুষ নিয়েও সরকারি ঘর দিল না ভূমি কর্মকর্তা

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

দুই প্রতিবন্ধীর কাছ থেকে পর্যায়ক্রমে ২৫ হাজার টাকা ঘুষ নিয়েও তাদেরকে সরকারি আশ্রয়ণ প্রকল্পে ঘর বরাদ্দ না দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে এক ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তার (তহলিশদার) বিরুদ্ধে।

তারা ভিক্ষা করে, সাহায্যের বাছুর বিক্রি করে একটি স্থায়ী ঠিকানা পাওয়ার আশায় টাকা প্রদান করেছিলেন তহশিলদারকে। পরে অনেক ঘুরেও ঘর বরাদ্দ না পেয়ে প্রতারণার শিকার ওই দুই প্রতিবন্ধী সুবিচার চেয়ে মঙ্গলবার উপজেলা নির্বাহী অফিসারের দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলার ধরণিবাড়ী ইউনিয়নে মামার বাড়িতে বেড়াতে এসেছিলেন দুই শারীরিক প্রতিবন্ধী এছোব আলী ও মাহমুদা বেগম। এখানে এসে তারা জানতে পারেন সরকারিভাবে আশ্রয়ণ প্রকল্পের মাধ্যমে ভূমিহীনদের বিনামূল্যে ঘর বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে।

দুই প্রতিবন্ধী থাকেন রংপুরের তারাগঞ্জ উপজেলার ডাঙ্গীরহাট ইউনিয়নের কিশামত মেনা নগরে। একটি স্থায়ী ঠিকানার জন্য তারা যোগাযোগ করেন ধরণিবাড়ী ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তা মাসুদ রানার সঙ্গে। তার সঙ্গে আলাপ করে ঘরের কথা বললে প্রতিটি গৃহের জন্য ২০ হাজার টাকা করে দাবি করেন ওই কর্মকর্তা এবং টাকার কথা কাউকে বলতে নিষেধ করেন।

এরপর ওই দুই প্রতিবন্ধী নানাভাবে চেষ্টা করে তালিকায় নাম উঠাতে ব্যর্থ হন। পরে এছোব আলী তার ভিক্ষার জমানো সঞ্চয় ভেঙে ১০ হাজার টাকা তহশিলদার মাসুদ রানাকে প্রদান করেন।

অপরদিকে মাহমুদা বেগম ব্র্যাক থেকে পাওয়া একটি গরু (বাছুর) ১২ হাজার টাকায় বিক্রি করেন এবং তার ভিক্ষাবৃত্তির জমানো ৩ হাজার টাকাসহ ১৫ হাজার টাকা মাসুদ রানাকে দেন। দুইজন মিলে ২৫ হাজার টাকা দিলেও পরে বুঝতে পারেন তাদের সঙ্গে প্রতারণা করা হয়েছে।

পরে টাকা ফেরত চাইতে বারবার তহলিদার মাসুদ রানার সঙ্গে সাক্ষাতের চেষ্টা করলেও তাদের সঙ্গে দেখা করেননি ওই ভূমি কর্মকর্তা। ফলে বিচার চেয়ে ইউএনওর কাছে অভিযোগ দাখিল করেন তারা।

অভিযোগে তারা আরও উল্লেখ করেন, ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তা মাসুদ রানা টাকার বিনিময়ে কুড়িগ্রাম জেলার বাহিরে অন্য জেলা ও উপজেলার বাসিন্দাদের ঘর বরাদ্দ দিয়েছেন। এ সময় তিনি তাদের কাছ থেকে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন।

দুই প্রতিবন্ধী সাংবাদিকদের কাছে অভিযোগ করেন, ওই তহশিলদার টাকার বিনিময়ে দিনাজপুর জেলার আবু বক্করের ছেলে আমিনুল ইসলাম (গৃহ নং-৫) ও নাগেশ্বরী উপজেলার দুইজনকে (গৃহ নং-৩ ও ৬) ধরনীবাড়ী ইউনিয়নে আশ্রয়ণ প্রকল্পের গৃহ প্রদান করেছেন।

অভিযোগকারীর মামা সাহিদুল ইসলাম জানান, দুই শারীরিক প্রতিবন্ধী এছোব আলী ও মাহমুদা বেগম তার আপন ভাগ্নে ও ভাগ্নি। দুজনের পায়ে সমস্যা। হাঁটতে পারে না। বেশ কিছুদিন ধরে উলিপুরে বসবাস করে। ভিক্ষা করে চলে তাদের জীবন। ধরণিবাড়ী ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তা মাসুদ রানা সরকারি ঘর দেওয়ার কথা বলে দুজনের কাছ থেকে ২৫ হাজার টাকা ঘুষ নেয়।

এ ব্যাপারে ধরণিবাড়ী ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তা মাসুদ রানা তার বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ওই দুই প্রতিবন্ধীকে বুঝিয়েছি তারা পরের কিস্তিতে ঘর পাবে। কিন্তু ধৈর্য নেই তাদের। আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ করেছে।

ভিন্ন জেলার বাসিন্দা গৃহ নং ৫ এবং ভিন্ন উপজেলার বাসিন্দা গৃহ নং-৩ ও ৬ কিভাবে পেলেন জানতে চাইলে বলেন, বাছাই কমিটির আমি একজন মেম্বার মাত্র। এসিল্যান্ড, ইউপি চেয়ারম্যানসহ আরও অনেকে আছেন। চেয়ারম্যান নাগরিক সনদ প্রদান করেন স্থানীয় হিসাবে। সেভাবেই তারা ঘর পেয়েছে। উৎকোচ নেয়ার অভিযোগ মিথ্যা। তবে প্রতিবন্ধী ওই দুজন তার কাছে ঘরের জন্য আবেদন করেছেন বলে স্বীকার করেন। মূলত মন্দিরের জায়গা নিয়ে বিরোধ তৈরি হওয়ায় ২৪টি ঘর তৈরি করা যায়নি। এ জন্য তারা বাদ পড়েছে। তিনি অসুস্থ দাবি করে আর বিস্তারিত কথা বলতে রাজি হননি।

উলিপুর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা ও আশ্রয়ণ প্রকল্প কর্মসূচীর সদস্য সচিব সিরাজদৌল্লা বলেন, ইউএনওসহ আমরা প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি। আর উপকারভোগী নির্বাচন করেছেন এসিল্যান্ড অফিসের নেতৃত্বে ইউনিয়ন তহশিলদার। ভিন্ন জেলার অধিবাসীর এখানে ঘর পাওয়ার সুযোগ নেই। অনিয়মের অভিযোগ হয়েছে শুনেছি।

এ ব্যাপারে উলিপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও প্রকল্পের সভাপতি নূর-এ-জান্নাত রুমি অভিযোগ পাওয়ার কথা স্বীকার করে জানান, বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

এখন কি বলা যাবে উনি ঋণখেলাপি ছিলেন, আসলাম চৌধুরী প্রসঙ্গে জামায়াত এমপি

ঘুষ নিয়েও সরকারি ঘর দিল না ভূমি কর্মকর্তা

আপডেট সময় ১১:০৫:৩১ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩০ জুন ২০২১

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

দুই প্রতিবন্ধীর কাছ থেকে পর্যায়ক্রমে ২৫ হাজার টাকা ঘুষ নিয়েও তাদেরকে সরকারি আশ্রয়ণ প্রকল্পে ঘর বরাদ্দ না দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে এক ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তার (তহলিশদার) বিরুদ্ধে।

তারা ভিক্ষা করে, সাহায্যের বাছুর বিক্রি করে একটি স্থায়ী ঠিকানা পাওয়ার আশায় টাকা প্রদান করেছিলেন তহশিলদারকে। পরে অনেক ঘুরেও ঘর বরাদ্দ না পেয়ে প্রতারণার শিকার ওই দুই প্রতিবন্ধী সুবিচার চেয়ে মঙ্গলবার উপজেলা নির্বাহী অফিসারের দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলার ধরণিবাড়ী ইউনিয়নে মামার বাড়িতে বেড়াতে এসেছিলেন দুই শারীরিক প্রতিবন্ধী এছোব আলী ও মাহমুদা বেগম। এখানে এসে তারা জানতে পারেন সরকারিভাবে আশ্রয়ণ প্রকল্পের মাধ্যমে ভূমিহীনদের বিনামূল্যে ঘর বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে।

দুই প্রতিবন্ধী থাকেন রংপুরের তারাগঞ্জ উপজেলার ডাঙ্গীরহাট ইউনিয়নের কিশামত মেনা নগরে। একটি স্থায়ী ঠিকানার জন্য তারা যোগাযোগ করেন ধরণিবাড়ী ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তা মাসুদ রানার সঙ্গে। তার সঙ্গে আলাপ করে ঘরের কথা বললে প্রতিটি গৃহের জন্য ২০ হাজার টাকা করে দাবি করেন ওই কর্মকর্তা এবং টাকার কথা কাউকে বলতে নিষেধ করেন।

এরপর ওই দুই প্রতিবন্ধী নানাভাবে চেষ্টা করে তালিকায় নাম উঠাতে ব্যর্থ হন। পরে এছোব আলী তার ভিক্ষার জমানো সঞ্চয় ভেঙে ১০ হাজার টাকা তহশিলদার মাসুদ রানাকে প্রদান করেন।

অপরদিকে মাহমুদা বেগম ব্র্যাক থেকে পাওয়া একটি গরু (বাছুর) ১২ হাজার টাকায় বিক্রি করেন এবং তার ভিক্ষাবৃত্তির জমানো ৩ হাজার টাকাসহ ১৫ হাজার টাকা মাসুদ রানাকে দেন। দুইজন মিলে ২৫ হাজার টাকা দিলেও পরে বুঝতে পারেন তাদের সঙ্গে প্রতারণা করা হয়েছে।

পরে টাকা ফেরত চাইতে বারবার তহলিদার মাসুদ রানার সঙ্গে সাক্ষাতের চেষ্টা করলেও তাদের সঙ্গে দেখা করেননি ওই ভূমি কর্মকর্তা। ফলে বিচার চেয়ে ইউএনওর কাছে অভিযোগ দাখিল করেন তারা।

অভিযোগে তারা আরও উল্লেখ করেন, ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তা মাসুদ রানা টাকার বিনিময়ে কুড়িগ্রাম জেলার বাহিরে অন্য জেলা ও উপজেলার বাসিন্দাদের ঘর বরাদ্দ দিয়েছেন। এ সময় তিনি তাদের কাছ থেকে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন।

দুই প্রতিবন্ধী সাংবাদিকদের কাছে অভিযোগ করেন, ওই তহশিলদার টাকার বিনিময়ে দিনাজপুর জেলার আবু বক্করের ছেলে আমিনুল ইসলাম (গৃহ নং-৫) ও নাগেশ্বরী উপজেলার দুইজনকে (গৃহ নং-৩ ও ৬) ধরনীবাড়ী ইউনিয়নে আশ্রয়ণ প্রকল্পের গৃহ প্রদান করেছেন।

অভিযোগকারীর মামা সাহিদুল ইসলাম জানান, দুই শারীরিক প্রতিবন্ধী এছোব আলী ও মাহমুদা বেগম তার আপন ভাগ্নে ও ভাগ্নি। দুজনের পায়ে সমস্যা। হাঁটতে পারে না। বেশ কিছুদিন ধরে উলিপুরে বসবাস করে। ভিক্ষা করে চলে তাদের জীবন। ধরণিবাড়ী ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তা মাসুদ রানা সরকারি ঘর দেওয়ার কথা বলে দুজনের কাছ থেকে ২৫ হাজার টাকা ঘুষ নেয়।

এ ব্যাপারে ধরণিবাড়ী ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তা মাসুদ রানা তার বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ওই দুই প্রতিবন্ধীকে বুঝিয়েছি তারা পরের কিস্তিতে ঘর পাবে। কিন্তু ধৈর্য নেই তাদের। আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ করেছে।

ভিন্ন জেলার বাসিন্দা গৃহ নং ৫ এবং ভিন্ন উপজেলার বাসিন্দা গৃহ নং-৩ ও ৬ কিভাবে পেলেন জানতে চাইলে বলেন, বাছাই কমিটির আমি একজন মেম্বার মাত্র। এসিল্যান্ড, ইউপি চেয়ারম্যানসহ আরও অনেকে আছেন। চেয়ারম্যান নাগরিক সনদ প্রদান করেন স্থানীয় হিসাবে। সেভাবেই তারা ঘর পেয়েছে। উৎকোচ নেয়ার অভিযোগ মিথ্যা। তবে প্রতিবন্ধী ওই দুজন তার কাছে ঘরের জন্য আবেদন করেছেন বলে স্বীকার করেন। মূলত মন্দিরের জায়গা নিয়ে বিরোধ তৈরি হওয়ায় ২৪টি ঘর তৈরি করা যায়নি। এ জন্য তারা বাদ পড়েছে। তিনি অসুস্থ দাবি করে আর বিস্তারিত কথা বলতে রাজি হননি।

উলিপুর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা ও আশ্রয়ণ প্রকল্প কর্মসূচীর সদস্য সচিব সিরাজদৌল্লা বলেন, ইউএনওসহ আমরা প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি। আর উপকারভোগী নির্বাচন করেছেন এসিল্যান্ড অফিসের নেতৃত্বে ইউনিয়ন তহশিলদার। ভিন্ন জেলার অধিবাসীর এখানে ঘর পাওয়ার সুযোগ নেই। অনিয়মের অভিযোগ হয়েছে শুনেছি।

এ ব্যাপারে উলিপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও প্রকল্পের সভাপতি নূর-এ-জান্নাত রুমি অভিযোগ পাওয়ার কথা স্বীকার করে জানান, বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।