ঢাকা ০৭:৪২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৬ অগাস্ট ২০২৬, ১১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ নতুন দলের আত্মপ্রকাশ, নেতৃত্বে যারা ইরানের সামনে এখন কেবল দুই পথ—চুক্তি অথবা আত্মসমর্পণ: ট্রাম্প পাঁচ দফা দাবিতে সরকারি কর্মচারীদের অবস্থান কর্মসূচি সরকার দমনে ব্যস্ত, দ্রব্যমূল্য-গ্যাস নিয়ে মাথাব্যথা নেই: গোলাম পরওয়ার দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে আশা বাণিজ্যমন্ত্রীর সম্পত্তি দানের পরও আজীবন ভোগদখলের সুযোগ, মন্ত্রিসভায় খসড়া পাশ শেখ হাসিনা যেন রাজনৈতিক বক্তব্য দিতে না পারেন, ভারতীয় হাইকমিশনারকে হুমায়ুন কবির রাষ্ট্র পরিচালনায় ‘নতুন মাত্রা’ যোগ করেছেন তারেক রহমান: চীনা রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশে কারিগরি ও ক্রীড়া শিক্ষায় সহযোগিতার আগ্রহ অস্ট্রেলিয়ার

লাশ উদ্ধারের ৫৮ দিন পর মিলল অজ্ঞাত নারীর পরিচয়

আকাশ জাতীয় ডেস্ক: 

মেহেরপুর ভৈরব নদ থেকে মৃত অজ্ঞাত নারীর মরদহে উদ্ধারের ৫৮ দিন পর পরিচয় উদঘাটন করেছে পুলিশ। মৃত ববিতা ইয়াসমিন মেহেরপুর সদর উপজেলার নিশ্চিন্তপুর গ্রামের বজলুর রহমান মেয়ে। এসময় পুলিশ ববিতার বাবা বজলুর রহমানক আটক করে। পরে বজলুর রহমান আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিলে তাকে জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়।

মামলার তদন্তকারি কর্মকর্তা মেহেরপুর সদর থানার ইন্সপেক্টর রাসুল সামদানী জানান, এ হত্যার তদন্তকারি কর্মকর্তা হিসাবে দায়িত্ব পাবার পর এক পর্যায়ে সোর্সের মাধ্যমে মৃত ববিতার ছবি সংগ্রহ করি। ছবির কামিজের সাথে মৃত ব্যক্তির গায়ের কামিজ মিলে যাওয়ার পর ববিতার পিতা বজলুর রহমান কে থানায় এনে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করি। পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদের এক পর্যায়ে তিনি স্বীকার করেন, তার কন্যা ববিতা কে কিভাবে খুন করে ভৈরব নদী ফেলে দেওয়া হয়।

এদিকে শনিবার বিকেলের দিকে বজলুর রহমান কে মেহেরপুর জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে তোলা হলে বিচারক বেগম রাফিয়া সুলতানার কাছে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। পরে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।

বজলুর রহমান জানান, তিন বছর পূর্বে সদর উপজেলার বেলতলা পাড়া গ্রামে জনৈক রাসেলের সঙ্গে ববিতার বিয়ে হয়। বিয়ের পরে তার স্বামীর সঙ্গে ছাড়াছাড়ি হয়ে যায়। বজলুর রহমান জানান, স্বামীর সঙ্গে আমার মেয়ের ছাড়াছাড়ি হয়ে যাওয়ার পর পরিবারের কথা অমান্য করে ইচ্ছা মতো চলাফেরা শুরু করে। মাঝে মাঝেই ববিতা নিরুদ্দেশ হয়ে যায়। তিনি বলেন, মার্চ মাসের ২০-২১ তারিখে সন্ধ্যার দিকে কাথুলী গ্রামে তার এক আত্মীয় বাড়ি থেকে ববিতাকে নিয়ে আসেন। সন্ধ্যার পর কুলবাড়িয় আশ্রয়ণ প্রকল্পের কাছাকাছি পৌঁছে হঠাৎ করেই বজলুর রহমান তার মেয়ে ববিতা ইয়াসমিনকে গলা টিপে ধরেন। ওই সময়ে সে মৃত্যুবরণ করলে মরদেহটি মাঠের মধ্যে কলাবাগানে নিয়ে রাখেন। পরে বাড়ি গিয়ে প্রায় দুই ঘণ্টা পর ভৈরব নদে মাছ ধরার নাম করে একটি বস্তা এনে মরদেহটি বস্তার মধ্যে নিয়ে ভৈরব নদে ফেলে দেয়।

উল্লেখ্য, গত ২৫ মার্চ রাতে ভৈরব নদ থেকে অর্ধগলিত ববিতার লাশ উদ্ধার করা হয়। ওই সময় মৃতব্যক্তির কোন পরিচয় না পাওয়ায় অজ্ঞাত হিসাবে লাশ দাফন করা হয়। ওই ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে মেহেরপুর সদর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। যার মামলা নং ২৯। তারিখ ২৬ মার্চ ২০২১। মামলার তদন্তভার দেয়া হয় মেহেরপুর সদর থানার ইন্সপেক্টর রাসুল সামদানিকে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ

লাশ উদ্ধারের ৫৮ দিন পর মিলল অজ্ঞাত নারীর পরিচয়

আপডেট সময় ০৬:৩০:৩৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৩ মে ২০২১

আকাশ জাতীয় ডেস্ক: 

মেহেরপুর ভৈরব নদ থেকে মৃত অজ্ঞাত নারীর মরদহে উদ্ধারের ৫৮ দিন পর পরিচয় উদঘাটন করেছে পুলিশ। মৃত ববিতা ইয়াসমিন মেহেরপুর সদর উপজেলার নিশ্চিন্তপুর গ্রামের বজলুর রহমান মেয়ে। এসময় পুলিশ ববিতার বাবা বজলুর রহমানক আটক করে। পরে বজলুর রহমান আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিলে তাকে জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়।

মামলার তদন্তকারি কর্মকর্তা মেহেরপুর সদর থানার ইন্সপেক্টর রাসুল সামদানী জানান, এ হত্যার তদন্তকারি কর্মকর্তা হিসাবে দায়িত্ব পাবার পর এক পর্যায়ে সোর্সের মাধ্যমে মৃত ববিতার ছবি সংগ্রহ করি। ছবির কামিজের সাথে মৃত ব্যক্তির গায়ের কামিজ মিলে যাওয়ার পর ববিতার পিতা বজলুর রহমান কে থানায় এনে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করি। পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদের এক পর্যায়ে তিনি স্বীকার করেন, তার কন্যা ববিতা কে কিভাবে খুন করে ভৈরব নদী ফেলে দেওয়া হয়।

এদিকে শনিবার বিকেলের দিকে বজলুর রহমান কে মেহেরপুর জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে তোলা হলে বিচারক বেগম রাফিয়া সুলতানার কাছে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। পরে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।

বজলুর রহমান জানান, তিন বছর পূর্বে সদর উপজেলার বেলতলা পাড়া গ্রামে জনৈক রাসেলের সঙ্গে ববিতার বিয়ে হয়। বিয়ের পরে তার স্বামীর সঙ্গে ছাড়াছাড়ি হয়ে যায়। বজলুর রহমান জানান, স্বামীর সঙ্গে আমার মেয়ের ছাড়াছাড়ি হয়ে যাওয়ার পর পরিবারের কথা অমান্য করে ইচ্ছা মতো চলাফেরা শুরু করে। মাঝে মাঝেই ববিতা নিরুদ্দেশ হয়ে যায়। তিনি বলেন, মার্চ মাসের ২০-২১ তারিখে সন্ধ্যার দিকে কাথুলী গ্রামে তার এক আত্মীয় বাড়ি থেকে ববিতাকে নিয়ে আসেন। সন্ধ্যার পর কুলবাড়িয় আশ্রয়ণ প্রকল্পের কাছাকাছি পৌঁছে হঠাৎ করেই বজলুর রহমান তার মেয়ে ববিতা ইয়াসমিনকে গলা টিপে ধরেন। ওই সময়ে সে মৃত্যুবরণ করলে মরদেহটি মাঠের মধ্যে কলাবাগানে নিয়ে রাখেন। পরে বাড়ি গিয়ে প্রায় দুই ঘণ্টা পর ভৈরব নদে মাছ ধরার নাম করে একটি বস্তা এনে মরদেহটি বস্তার মধ্যে নিয়ে ভৈরব নদে ফেলে দেয়।

উল্লেখ্য, গত ২৫ মার্চ রাতে ভৈরব নদ থেকে অর্ধগলিত ববিতার লাশ উদ্ধার করা হয়। ওই সময় মৃতব্যক্তির কোন পরিচয় না পাওয়ায় অজ্ঞাত হিসাবে লাশ দাফন করা হয়। ওই ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে মেহেরপুর সদর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। যার মামলা নং ২৯। তারিখ ২৬ মার্চ ২০২১। মামলার তদন্তভার দেয়া হয় মেহেরপুর সদর থানার ইন্সপেক্টর রাসুল সামদানিকে।