ঢাকা ১০:২২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ নতুন দলের আত্মপ্রকাশ, নেতৃত্বে যারা ইরানের সামনে এখন কেবল দুই পথ—চুক্তি অথবা আত্মসমর্পণ: ট্রাম্প পাঁচ দফা দাবিতে সরকারি কর্মচারীদের অবস্থান কর্মসূচি সরকার দমনে ব্যস্ত, দ্রব্যমূল্য-গ্যাস নিয়ে মাথাব্যথা নেই: গোলাম পরওয়ার দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে আশা বাণিজ্যমন্ত্রীর সম্পত্তি দানের পরও আজীবন ভোগদখলের সুযোগ, মন্ত্রিসভায় খসড়া পাশ শেখ হাসিনা যেন রাজনৈতিক বক্তব্য দিতে না পারেন, ভারতীয় হাইকমিশনারকে হুমায়ুন কবির রাষ্ট্র পরিচালনায় ‘নতুন মাত্রা’ যোগ করেছেন তারেক রহমান: চীনা রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশে কারিগরি ও ক্রীড়া শিক্ষায় সহযোগিতার আগ্রহ অস্ট্রেলিয়ার

হেফাজত নেতা ফয়েজীর বিরুদ্ধে ধর্ষণের মামলা

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:  

বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে বিভিন্ন সময়ে ধর্ষণের অভিযোগে এনে হেফাজত নেতা মাওলানা জাকারিয়া নোমান ফয়েজীর বিরুদ্ধে ধর্ষণ মামলা করেছেন এক নারী।

বৃহস্পতিবার দিনগত রাত ২টার দিকে চট্টগ্রামের হাটহাজারী মডেল থানায় মামলাটি করা হয়।

মাওলানা ফয়েজী হেফাজতে ইসলামের বিলুপ্ত কেন্দ্রীয় কমিটির প্রচার সম্পাদক ও চট্টগ্রামের হাটহাজারী উপজেলার আল জামিয়াতুল ইসলামিয়া হামিয়ুচ্ছুন্নাহ মেখল মাদ্রাসার সিনিয়র শিক্ষক।

চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার এসএম রশিদুল হক মামলার সত্যতা গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন।

মামলার বিবরণে জানা গেছে, ২০১৯ সালের সেপ্টেম্বরে ফেসবুকের মাধ্যমে ওই নারীর সঙ্গে হেফাজত নেতা ফয়েজীর পরিচয় হয়। মেসেঞ্জার ও হোয়াটসঅ্যাপ চ‍্যাটিংয়ের মাধ্যমে তাকে ফুসলাতে থাকেন।

পরে বিয়ের প্রলোভন দিয়ে ওই নারীকে হাটহাজারীতে আসতে বলেন। সে অনুযায়ী ওই নারী হাটহাজারী এলে ওই বছরের নভেম্বরে পৌরসভার ফটিকা গ্রামে কনক বিল্ডিংয়ের নিচ তলায় বাসা ভাড়া করে দেন হেফাজত নেতা ফয়েজী।

প্রায় এক বছর ধরে ভাড়া বাসায় অবস্থানকালে বিভিন্ন সময় তিনি ওই নারীকে ধর্ষণ করেন। পরবর্তীতে ওই নারী হাটহাজারী থেকে চট্টগ্রাম শহরে তার খালার বাসায় চলে আসেন।

এরপরও বিয়ের প্রলোভন দিয়ে সুকৌশলে বিভিন্ন বাসা ও হোটেলে নিয়ে গিয়ে ফয়েজী তাকে ধর্ষণ করেন। অবশেষে তার প্রতারণা বুঝতে পেরে ওই নারী নিজে বাদী হয়ে হাটহাজারী মডেল থানায় তার বিরুদ্ধে ধর্ষণ মামলা করেন।

এ বিষয়ে হাটহাজারী থানার ওসি রফিকুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, ভিকটিম নিজে বাদী হয়ে থানায় লিখিত এজাহার দাখিল করেন। পরে সেটি নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০ (সংশোধনী ২০০৩) এর ৯(১) ধারায় রুজু হয়। হাটহাজারী থানার মামলা নং ৯ (তারিখ ০৭/৫/২০২১)। মামলাটির তদন্তভার দেওয়া হয়েছে এসআই মুকিব হাসানকে।

প্রসঙ্গত হেফাজত নেতা ফয়েজী হাটহাজারীতে সহিংসতার মামলার এজহারভুক্ত আসামি। বুধবার বিকালে কক্সবাজারের চকরিয়া থেকে তাকে গ্রেফতার করে চট্টগ্রাম জেলা গোয়েন্দা পুলিশের একটি টিম। সেখানকার একটি গ্রামে হেফাজতের এই নেতা আত্মগোপনে ছিলেন।

পরে ফয়েজীকে আদালতে সোর্পদ করে রিমান্ডের আবেদন জানায় পুলিশ। আদালত বৃহস্পতিবার তার পাঁচদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। বর্তমানে তিনি হাটহাজারী মডেল থানায় রিমান্ডে আছেন।

জাকারিয়া নোমান ফয়েজীর বাবা মরহুম আল্লামা নোমান ফয়েজীও ছিলেন হেফাজতের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য। ছিলেন আল-জামিয়াতুল আহলিয়া দারুল উলুম মঈনুল ইসলাম হাটহাজারী মাদরাসার শূরা সদস্য ও হাটহাজারী উপজেলার আল জামিয়াতুল ইসলামিয়া হামিয়ুচ্ছুন্নাহ মেখল মাদ্রাসার পরিচালক।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

প্রেক্ষাপট: দুই দিনের সফরে আগামীকাল ঠাকুরগাঁও যাচ্ছেন রাষ্ট্রপতি

হেফাজত নেতা ফয়েজীর বিরুদ্ধে ধর্ষণের মামলা

আপডেট সময় ০৪:৫০:৫৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৭ মে ২০২১

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:  

বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে বিভিন্ন সময়ে ধর্ষণের অভিযোগে এনে হেফাজত নেতা মাওলানা জাকারিয়া নোমান ফয়েজীর বিরুদ্ধে ধর্ষণ মামলা করেছেন এক নারী।

বৃহস্পতিবার দিনগত রাত ২টার দিকে চট্টগ্রামের হাটহাজারী মডেল থানায় মামলাটি করা হয়।

মাওলানা ফয়েজী হেফাজতে ইসলামের বিলুপ্ত কেন্দ্রীয় কমিটির প্রচার সম্পাদক ও চট্টগ্রামের হাটহাজারী উপজেলার আল জামিয়াতুল ইসলামিয়া হামিয়ুচ্ছুন্নাহ মেখল মাদ্রাসার সিনিয়র শিক্ষক।

চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার এসএম রশিদুল হক মামলার সত্যতা গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন।

মামলার বিবরণে জানা গেছে, ২০১৯ সালের সেপ্টেম্বরে ফেসবুকের মাধ্যমে ওই নারীর সঙ্গে হেফাজত নেতা ফয়েজীর পরিচয় হয়। মেসেঞ্জার ও হোয়াটসঅ্যাপ চ‍্যাটিংয়ের মাধ্যমে তাকে ফুসলাতে থাকেন।

পরে বিয়ের প্রলোভন দিয়ে ওই নারীকে হাটহাজারীতে আসতে বলেন। সে অনুযায়ী ওই নারী হাটহাজারী এলে ওই বছরের নভেম্বরে পৌরসভার ফটিকা গ্রামে কনক বিল্ডিংয়ের নিচ তলায় বাসা ভাড়া করে দেন হেফাজত নেতা ফয়েজী।

প্রায় এক বছর ধরে ভাড়া বাসায় অবস্থানকালে বিভিন্ন সময় তিনি ওই নারীকে ধর্ষণ করেন। পরবর্তীতে ওই নারী হাটহাজারী থেকে চট্টগ্রাম শহরে তার খালার বাসায় চলে আসেন।

এরপরও বিয়ের প্রলোভন দিয়ে সুকৌশলে বিভিন্ন বাসা ও হোটেলে নিয়ে গিয়ে ফয়েজী তাকে ধর্ষণ করেন। অবশেষে তার প্রতারণা বুঝতে পেরে ওই নারী নিজে বাদী হয়ে হাটহাজারী মডেল থানায় তার বিরুদ্ধে ধর্ষণ মামলা করেন।

এ বিষয়ে হাটহাজারী থানার ওসি রফিকুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, ভিকটিম নিজে বাদী হয়ে থানায় লিখিত এজাহার দাখিল করেন। পরে সেটি নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০ (সংশোধনী ২০০৩) এর ৯(১) ধারায় রুজু হয়। হাটহাজারী থানার মামলা নং ৯ (তারিখ ০৭/৫/২০২১)। মামলাটির তদন্তভার দেওয়া হয়েছে এসআই মুকিব হাসানকে।

প্রসঙ্গত হেফাজত নেতা ফয়েজী হাটহাজারীতে সহিংসতার মামলার এজহারভুক্ত আসামি। বুধবার বিকালে কক্সবাজারের চকরিয়া থেকে তাকে গ্রেফতার করে চট্টগ্রাম জেলা গোয়েন্দা পুলিশের একটি টিম। সেখানকার একটি গ্রামে হেফাজতের এই নেতা আত্মগোপনে ছিলেন।

পরে ফয়েজীকে আদালতে সোর্পদ করে রিমান্ডের আবেদন জানায় পুলিশ। আদালত বৃহস্পতিবার তার পাঁচদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। বর্তমানে তিনি হাটহাজারী মডেল থানায় রিমান্ডে আছেন।

জাকারিয়া নোমান ফয়েজীর বাবা মরহুম আল্লামা নোমান ফয়েজীও ছিলেন হেফাজতের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য। ছিলেন আল-জামিয়াতুল আহলিয়া দারুল উলুম মঈনুল ইসলাম হাটহাজারী মাদরাসার শূরা সদস্য ও হাটহাজারী উপজেলার আল জামিয়াতুল ইসলামিয়া হামিয়ুচ্ছুন্নাহ মেখল মাদ্রাসার পরিচালক।