ঢাকা ১১:৩৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬, ১২ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
জামায়াত-এনসিপির বক্তব্যে দেশপ্রেম নিয়ে আশাবাদী হওয়া যাচ্ছে না:পানিসম্পদ মন্ত্রী জঙ্গল সলিমপুরে পানিতে বিষ মিশিয়ে যৌথবাহিনী সদস্যদের হত্যাচেষ্টা! দেশে ১ কোটি লোকের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা হবে: পরিবেশমন্ত্রী তুরাবদের রক্তের বিনিময়েই দেশ ফ্যাসিবাদ মুক্ত হয়েছে: ডা. শফিকুর রহমান জনগণের স্বার্থের বিপরীতে কিছু করলে দায়ভার সরকারের ওপরই পড়বে: মান্না অস্ত্র প্রস্তুত, তবে ইরানকে ‘কিছুটা সময়’ দিচ্ছেন ট্রাম্প : মার্কিন রাষ্ট্রদূত বিএনপি মো. সাহাবুদ্দিনকে ‘সেফ এক্সিট’ দিতে চায়: আখতার প্রতিমন্ত্রী ইশরাককে ঘিরে উত্তেজনা-ধস্তাধস্তি, বিভ্রান্তি না ছড়ানোর আহ্বান গণতন্ত্র যতবারই হোঁচট খেয়েছে, ততবারই মানুষ বিএনপির ওপর আস্থা রেখেছে: ডা. জাহিদ বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ঢুকে পড়লো কুর্মিটোলা হাসপাতাল প্রাঙ্গণে, নিহত ১

যান্ত্রিক ত্রুটিতে সঞ্চয়পত্র বিক্রি বন্ধ

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

প্রযুক্তিগত সমস্যার কারণে সরকারের সঞ্চয়পত্র কিনতে পারছেন না আগ্রহী সাধারণ ক্রেতা। বিপুল সংখ্যক ক্রেতা অভিযোগ করেছেন বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো চেষ্টা করার পরেও তারা সঞ্চয়পত্র কিনতে পারছেন না।

বেসরকারি খাতের কয়েকটি বাণিজ্যিক ব্যাংকও জানিয়েছে, গত কয়েক দিন ধরে জাতীয় সঞ্চয় অধিদপ্তরের ওয়েবসাইটে গিয়ে ইনপুট দেওয়ার উদ্যোগ নিলেও কাজ হচ্ছে না।

তারা বলছে, জাতীয় অধিদপ্তরের সিস্টেম আমাদের আবেদন গ্রহণ করছে না।

জাতীয় সঞ্চয় অধিদপ্তর, অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ ও বাংলাদেশ ব্যাংক যান্ত্রিক ত্রুটির বিভিন্ন কারণ উল্লেখ করে জানিয়েছেন খুব শিগগিরই সমস্যার সমাধান করা হবে।

অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের যুগ্ম সচিব (সঞ্চয় ও স্ট্যাম্প) সুরাইয়া পারভীন শেলী বলেন, ‘কেন্দ্রীয় সার্ভারের সমস্যা হয়েছে। খুব দ্রুতই সমাধান হবে। ’

তবে বেসরকারি খাতের বাণিজ্যিক ব্যাংকের একজন কর্মকর্তা বলেছেন, ‘আমরা সিস্টেমের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার চেষ্টা করছি কিন্তু হচ্ছে না। গত কয়েকদিন ধরেই এ সমস্যা হচ্ছে। ’

বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বেশ কয়েকটি ব্যাংকে সঞ্চয়পত্র ক্রেতারা অপেক্ষা করছেন।

অর্থমন্ত্রণালয়ের আইবিএএস+++ সার্ভারের সঙ্গে যুক্ত জাতীয় সঞ্চয় অধিদপ্তর। আইবিএএস+++ সার্ভারে সমস্যা হয়েছে।

জাতীয় অধিদেপ্তরের উপপরিচালক মো. মিজানুর রহমান বলেন, ‘আইবিএএস+++ অফিস স্থানান্তরের কারণে সমস্যা হয়েছে, যা উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ অবগত। ’

জাতীয় সঞ্চয় অধিদপ্তরের মহাপরিচালক সামসুন্নাহার বেগম বলেন, ‘কোনো ব্যাংক এখনো আমাদের কাছে অভিযোগ করেনি। তাই বিষয়টি আমার জানা ছিল না। ’

তিনি আরও বলেন, ‘চলতি বছরের ২০ ফেব্রুয়ারি আইবিএএস+++ সার্ভার নয়া পল্টনের গাজী ভবন থেকে সেগুনবাগিচায় স্থানান্তর করা হয়েছে। তবে সার্ভার সমস্যার কোনো অভিযোগ আমি পাইনি। ’

কর্মকর্তারা বলছেন, ‘কিছু বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংক সঞ্চয়পত্র বিক্রি করতে আগ্রহী নয়, কারণ সঞ্চয়পত্রের সুদহার বেসরকারি ব্যাংকের চেয়ে বেশি। তবে বিনিয়োগকারীরা সরকারের পারিবারিক সঞ্চয়পত্র কিনতেই বেশি আগ্রহী। ’

গত সপ্তাহে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের এক কর্মী একটি বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংকে সঞ্চয়পত্র কেনার আবেদন জমা দেন। তবে ব্যাংক থেকে জানানো হয় কয়েকবার উদ্যোগ নেওয়ার পরেও সার্ভারে যুক্ত হওয়া যাচ্ছে না।

চলতি অর্থবছরের প্রথম ছয়মাসে (জুলাই-ডিসেম্বর) ২০ হাজার ৪৮৭ কোটি টাকার সঞ্চয়পত্র বিক্রি হয়েছে। তবে পুরো অর্থবছরে সরকার সঞ্চয়পত্র বিক্রির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে ২০ হাজার কোটি টাকা।

গত অর্থবছর শেষে সঞ্চয়পত্র বিক্রি হয়েছিল ৫ হাজার ৪৩৩ কোটি টাকা। বর্তমানে পরিবার সঞ্চয়পত্রের সুদহার ১১ দশমিক ৫২ শতাংশ হলেও ব্যাংকগুলো দিচ্ছে মাত্র ৩-৪ শতাংশ সুদ।

চলতি অর্থবছরের প্রথম ছয়মাসে সঞ্চয়পত্রের নিট বিক্রির পরিমাণ বেড়েছে ২০ হাজার ১৪৯ কোটি টাকা, যা গেলো অর্থবছরের একই সময়ে ছিল ৭ হাজার ৫৮১ কোটি টাকা।

চলতি অর্থবছরের জুলাই-ডিসেম্বর মাসে তিনমাস পর পর মুনাফার সঞ্চয়পত্র বিক্রি হয়েছে ১৫ হাজার ৫৯ কোটি টাকা এবং পাঁচ বছর মেয়াদী পরিবার সঞ্চয়পত্র বিক্রি হয়েছে ৪ হাজার ৯৭৭ কোটি টাকার।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

জামায়াত-এনসিপির বক্তব্যে দেশপ্রেম নিয়ে আশাবাদী হওয়া যাচ্ছে না:পানিসম্পদ মন্ত্রী

যান্ত্রিক ত্রুটিতে সঞ্চয়পত্র বিক্রি বন্ধ

আপডেট সময় ০৪:২২:৩৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৪ ফেব্রুয়ারী ২০২১

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

প্রযুক্তিগত সমস্যার কারণে সরকারের সঞ্চয়পত্র কিনতে পারছেন না আগ্রহী সাধারণ ক্রেতা। বিপুল সংখ্যক ক্রেতা অভিযোগ করেছেন বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো চেষ্টা করার পরেও তারা সঞ্চয়পত্র কিনতে পারছেন না।

বেসরকারি খাতের কয়েকটি বাণিজ্যিক ব্যাংকও জানিয়েছে, গত কয়েক দিন ধরে জাতীয় সঞ্চয় অধিদপ্তরের ওয়েবসাইটে গিয়ে ইনপুট দেওয়ার উদ্যোগ নিলেও কাজ হচ্ছে না।

তারা বলছে, জাতীয় অধিদপ্তরের সিস্টেম আমাদের আবেদন গ্রহণ করছে না।

জাতীয় সঞ্চয় অধিদপ্তর, অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ ও বাংলাদেশ ব্যাংক যান্ত্রিক ত্রুটির বিভিন্ন কারণ উল্লেখ করে জানিয়েছেন খুব শিগগিরই সমস্যার সমাধান করা হবে।

অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের যুগ্ম সচিব (সঞ্চয় ও স্ট্যাম্প) সুরাইয়া পারভীন শেলী বলেন, ‘কেন্দ্রীয় সার্ভারের সমস্যা হয়েছে। খুব দ্রুতই সমাধান হবে। ’

তবে বেসরকারি খাতের বাণিজ্যিক ব্যাংকের একজন কর্মকর্তা বলেছেন, ‘আমরা সিস্টেমের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার চেষ্টা করছি কিন্তু হচ্ছে না। গত কয়েকদিন ধরেই এ সমস্যা হচ্ছে। ’

বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বেশ কয়েকটি ব্যাংকে সঞ্চয়পত্র ক্রেতারা অপেক্ষা করছেন।

অর্থমন্ত্রণালয়ের আইবিএএস+++ সার্ভারের সঙ্গে যুক্ত জাতীয় সঞ্চয় অধিদপ্তর। আইবিএএস+++ সার্ভারে সমস্যা হয়েছে।

জাতীয় অধিদেপ্তরের উপপরিচালক মো. মিজানুর রহমান বলেন, ‘আইবিএএস+++ অফিস স্থানান্তরের কারণে সমস্যা হয়েছে, যা উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ অবগত। ’

জাতীয় সঞ্চয় অধিদপ্তরের মহাপরিচালক সামসুন্নাহার বেগম বলেন, ‘কোনো ব্যাংক এখনো আমাদের কাছে অভিযোগ করেনি। তাই বিষয়টি আমার জানা ছিল না। ’

তিনি আরও বলেন, ‘চলতি বছরের ২০ ফেব্রুয়ারি আইবিএএস+++ সার্ভার নয়া পল্টনের গাজী ভবন থেকে সেগুনবাগিচায় স্থানান্তর করা হয়েছে। তবে সার্ভার সমস্যার কোনো অভিযোগ আমি পাইনি। ’

কর্মকর্তারা বলছেন, ‘কিছু বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংক সঞ্চয়পত্র বিক্রি করতে আগ্রহী নয়, কারণ সঞ্চয়পত্রের সুদহার বেসরকারি ব্যাংকের চেয়ে বেশি। তবে বিনিয়োগকারীরা সরকারের পারিবারিক সঞ্চয়পত্র কিনতেই বেশি আগ্রহী। ’

গত সপ্তাহে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের এক কর্মী একটি বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংকে সঞ্চয়পত্র কেনার আবেদন জমা দেন। তবে ব্যাংক থেকে জানানো হয় কয়েকবার উদ্যোগ নেওয়ার পরেও সার্ভারে যুক্ত হওয়া যাচ্ছে না।

চলতি অর্থবছরের প্রথম ছয়মাসে (জুলাই-ডিসেম্বর) ২০ হাজার ৪৮৭ কোটি টাকার সঞ্চয়পত্র বিক্রি হয়েছে। তবে পুরো অর্থবছরে সরকার সঞ্চয়পত্র বিক্রির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে ২০ হাজার কোটি টাকা।

গত অর্থবছর শেষে সঞ্চয়পত্র বিক্রি হয়েছিল ৫ হাজার ৪৩৩ কোটি টাকা। বর্তমানে পরিবার সঞ্চয়পত্রের সুদহার ১১ দশমিক ৫২ শতাংশ হলেও ব্যাংকগুলো দিচ্ছে মাত্র ৩-৪ শতাংশ সুদ।

চলতি অর্থবছরের প্রথম ছয়মাসে সঞ্চয়পত্রের নিট বিক্রির পরিমাণ বেড়েছে ২০ হাজার ১৪৯ কোটি টাকা, যা গেলো অর্থবছরের একই সময়ে ছিল ৭ হাজার ৫৮১ কোটি টাকা।

চলতি অর্থবছরের জুলাই-ডিসেম্বর মাসে তিনমাস পর পর মুনাফার সঞ্চয়পত্র বিক্রি হয়েছে ১৫ হাজার ৫৯ কোটি টাকা এবং পাঁচ বছর মেয়াদী পরিবার সঞ্চয়পত্র বিক্রি হয়েছে ৪ হাজার ৯৭৭ কোটি টাকার।