আকাশ আর্ন্তজাতিক ডেস্ক:
ভারতে পশ্চিমবঙ্গের ‘পিছিয়ে পড়া’ নিয়ে অমিত শাহ একের পর এক অভিযোগ করে যাওয়ার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই পাল্টা জবাবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বললেন— মিথ্যা বলেছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। যদিও রাজ্য বিজেপির দাবি, সব তথ্যই সরকারের কাছে নথিবদ্ধ।
সোমবার প্রথমে নবান্নে এবং পরে পার্ক স্ট্রিটের অ্যালেন পার্কের বড়দিন উৎসবের সূচনা অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী অভিযোগ করেন, রাজ্যে এসে সম্পূর্ণ অসত্য তথ্য পরিবেশন করেছেন শাহ। পাল্টা তথ্য দিয়ে শাহের প্রতিটি অভিযোগ তিনি খণ্ডন করবেন বলে দাবি করেন মমতা। বিজেপি-ও পাল্টা জানিয়েছে, বিতর্কে প্রস্তুত দল।
‘পিছিয়ে পড়া’ রাজ্য পাল্টে ‘সোনার বাংলা’ গড়ার ডাক দিয়ে রবিবার অমিত শাহ অভিযোগ করেছিলেন, জিডিপি, শিল্পক্ষেত্র, বিদেশি বিনিয়োগ, সড়ক পরিকাঠামো, নগরোন্নয়ন— সব ক্ষেত্রে বাংলা ক্রমশ পিছিয়ে গেছে। এ দিন নবান্নে মমতা বলেন, ‘(শাহ) কিছু কিছু কথা পুরো মিথ্যা বলে গেছেন। গার্বেজ অব লাইজ। উনি বলেছেন শিল্পে আমরা শূন্য। এমএসএমই-তে আমরা এক নম্বরে। গ্রামীণ রাস্তা তৈরিতেও পয়লা নম্বরে। এটা আমার নয়, কেন্দ্রের তথ্য। আমি অমিতজিকে বলব, আপনি তো স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। এটা আপনাকে শোভা দেয় না। আপনার দল কোনও খারাপ বা মিথ্যা কথা শিখিয়ে দিচ্ছে, সেটা আপনি যাচাই না করে বলছেন! বলার আগে কষ্ট করে যাচাই করুন। যে কথাগুলো কাল বলে গেছেন, সব তথ্য আছে, আমার কাছে। কাল মন্ত্রিসভার বৈঠকের পরে বলব।’
সন্ধ্যায় নবান্ন থেকে অ্যালেন পার্কে গিয়েও কেন্দ্রের শাসক দলকে বিঁধতে ছাড়েননি মুখ্যমন্ত্রী। সেখানে তিনি বলেন, ‘রাজ্য অনেক কিছুতেই এক নম্বরে রয়েছে। কেন এত মিথ্যা বলছেন মানুষকে? সত্যি কথা বলুন। কিছু মানুষ হিংসা করে। তারা দেশে একতা রাখতে পারে না। তারা শুধু দেশ-আইন ভাগ করতে জানে,।’ তা শুনে রাজ্য বিজেপির মুখপাত্র শমীক ভট্টাচার্যের প্রতিক্রিয়া, “এসব সরকারি তথ্য। পাল্টা তথ্য দিন। সেগুলো নিয়ে বিতর্ক হবে ভবিষ্যতে। সেটা সুস্থ গণতন্ত্রের লক্ষণ।” একই সঙ্গে তার মন্তব্য, “মুখ্যমন্ত্রী যে শব্দবন্ধ দিয়ে, যে ভাষায় আক্রমণ করছেন, তা সমাজ তার থেকে আশা করে না।”
অনেকের ধারণা, অনুন্নয়ন এবং কেন্দ্রের সঙ্গে ইচ্ছাকৃতভাবে দূরত্ব রেখে রাজ্যের মানুষকে বঞ্চিত করার অভিযোগ তুলে বিধানসভা ভোটের আগে মমতা-সরকারকে কোণঠাসা করার কৌশল নিয়েছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। আপাতত প্রশাসনিকভাবে তাকে ‘ভুল’ প্রমাণিত করতে চান মুখ্যমন্ত্রী। পরবর্তীকালে এই বিষয়টিই বিজেপি-তৃণমূল দ্বন্দ্বের কেন্দ্রবিন্দুতে চলে আসবে।
গত লোকসভা ভোটের সময় থেকেই কেন্দ্রীয় প্রকল্পগুলো চালু না করা নিয়ে মমতার সরকারকে কাঠগড়ায় তুলে আসছে বিজেপি। রবিবারও কেন্দ্রের ‘কৃষকবন্ধু’ প্রকল্পের প্রতি রাজ্যের উদাসীনতার অভিযোগ তুলেন অমিত শাহ।
আকাশ নিউজ ডেস্ক 



















