ঢাকা ০৪:২০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬, ১৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
স্বাস্থ্যসেবায় প্রযুক্তির বিকাশে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার: প্রধানমন্ত্রী সরকারের ১৮০ দিনের কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নের নির্ভুল অগ্রগতি প্রতিবেদন তৈরির নির্দেশনা ফ্যামিলি কার্ডে অনিয়মের অভিযোগ প্রমাণিত হলে কঠোর ব্যবস্থা: তথ্যমন্ত্রী আম্মারসহ শিবির নেতাদের হামলায় আহত ২ শিক্ষার্থী কারাগারে বাংলাদেশের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নতুন শুল্ক যুক্ত হচ্ছে না: ডা. জাহেদ দক্ষিণ আফ্রিকায় আগুনে পুড়ে ৬ বাংলাদেশির মৃত্যু নির্দোষ হয়েও আমি অপরাধী: আইভী বিনিয়োগ সেবা সহজ করতে ৬৬১.৫ কোটি টাকার ‘বাংলাবিজ’ প্রকল্প সরকারের শুধু আইন করে মাদক নির্মূল সম্ভব নয়: মির্জা ফখরুল মিরসরাই শিল্পাঞ্চলে ৩০০ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগে আগ্রহী তুরস্কের সানকো

হিংসুকের হিংসাই নিজের ধ্বংসের জন্য যথেষ্ট

আকাশ নিউজ ডেস্ক:

অন্যের ভালো দেখে সহ্য করতে না পারা, অন্যের ভালো দেখে নিজের মধ্যে কষ্ট অনুভব করা, অন্যের ভালো বিষয়টি ধ্বংসের জন্য প্রচেষ্টা শুরু করে দেওয়াকে হিংসা বলে। ইবনে তাইমিয়া (রহ.) তাঁর ফতোয়ার মধ্যে উল্লেখ করেছেন, হিংসা হচ্ছে অন্তরের এমন এক কষ্ট বা ব্যথা যা বিত্তশালীদের স্বাচ্ছন্দ্য দেখার কারণে সৃষ্টি করে। কারও কারও মতে হিংসা হচ্ছে ‘অন্যের কাছ থেকে আল্লাহর নিয়ামত বিলুুপ্ত হওয়ার আকাক্সক্ষা পোষণ।’

হিংসার প্রকারভেদ :

আল্লামা নববী (রহ.) মুসলিমের ব্যাখ্যা গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন, হিংসা দুই প্রকার।

১. প্রকৃত হিংসা। অর্থাৎ যার সঙ্গে হিংসা করা হচ্ছে তার থেকে নিয়ামতটি দূর হয়ে যাওয়ার প্রত্যাশা করা। ২. রূপকার্থক হিংসা। এটি প্রকৃত হিংসা নয়। অর্থাৎ যে নিয়ামতটি অন্যের কাছে আছে তা নিজের প্রাপ্তির প্রত্যাশা করা, অন্যেরটি বলবৎ থাকা অবস্থায়। এ প্রকার হিংসার আরেক নাম হলো ‘গিবতা’। এ গিবতা ইসলামে জায়েজ বা বৈধ।

মানুষ কেন হিংসা করে?

আল্লামা গাজ্জালি (রহ.) হিংসার সাতটি কারণ উল্লেখ করেছেন : ১. শত্রুতা ২. নিজের ওপর অন্য কেউ সম্মানিত হয়ে যাওয়া ৩. অহংকার ৪. অস্বাভাবিকভাবে কেউ এগিয়ে যাওয়া ৫. নিজের পদ বা মর্যাদা হারিয়ে যাওয়ার ভয় করা ৬. নেতৃত্ব ও সম্মানের লোভ ৭. নিচু বা খারাপ মানসিকতা। (ফিকহি বিশ্বকোষ, কুয়েত)।

হিংসুকের আলামত :

১. অন্যের ভালো অবস্থার কারণে তাকে শত্রু ভাবা

২. তার প্রতি অসন্তুষ্ট হওয়া

৩. অন্যের কল্যাণের কারণে সব সময় অন্তরে এক ধরনের কষ্ট ও ব্যথা অনুুভব করা

৪. যার প্রতি হিংসা করে তার কাছ থেকে নিয়ামত চলে গেলে আনন্দিত হওয়া। যদিও এতে তার কোনো লাভ কিংবা ক্ষতি থাকে না

৫. সব সময় এ ব্যাপারে সতর্ক ও দুশ্চিন্তাগ্রস্ত থাকে যেন কোনোভাবেই চলে যাওয়া সে নিয়ামত আর ফেরত না আসে

হিংসুককে চেনার জন্য লোকমান হাকিম (রহ.) স্বীয় পুত্রদের বলেন, হে আমার সন্তানেরা! হিংসুকের লক্ষণ তিনটি।

১. এরা পেছনে গিবত করে ২. সামনাসামনি তোষামোদ করে ৩. বিপদে পড়লে তিরস্কার করে। (আত তাওবিখ, শায়েখ ইসবাহানি)।

হিংসুকের পরিণতি : রসুল (সা.) ইরশাদ করেন, তোমরা হিংসা থেকে বেঁচে থাক। কেননা হিংসা ভালো অর্জনগুলো এমনভাবে নিঃশেষ করে দেয় যেভাবে আগুন কাঠ ধ্বংস করে দেয়। (ফয়জুল কাদির, আল্লামা মানায়ি।

ইসলামে হিংসা হারাম বা অবৈধ। হাদিসে ইরশাদ হয়েছে, তোমরা পরস্পর হিংসা করবে না, শত্রুতা করবে না, অন্যের দোষ তালাশ করবে না এবং একজনের কেনাবেচা করার সময় অন্যজন দাম বাড়িয়ে দেবে না। বরং তোমরা আল্লাহর বান্দা হিসেবে পরস্পর ভাই হয়ে যাও। (মুসলিম)। আল্লাহ হিংসুকের হিংসা থেকে মুক্ত থাকার জন্য কোরআনের মধ্যে দোয়া শিক্ষা দিয়েছেন এভাবে, হে আল্লাহ! আমি পানা চাই হিংসুকের হিংসা থেকে যখন সে হিংসা করে। (সুরা ফালাক, আয়াত ৫)।

তবে হাদিসে রসুল (সা.) দুটি বিষয়ে হিংসা করাকে জায়েজ বলেছেন।

১. আল্লাহ কাউকে কোরআনের ইলম দান করেছেন, সে দিনরাত তা তিলাওয়াত ও এর ওপর আমল করে।

২. আল্লাহ কাউকে সম্পদ দান করেছেন, সে দিবানিশি সেখান থেকে আল্লাহর পথে দান করতে থাকে। (বুখারি)।

অর্থাৎ এ পুণ্যময় কাজ দুটি অন্যের মধ্যে দেখলে নিজে করতে না পেরে নিজের মধ্যে আফসোস সৃষ্টি এবং নিজেও এ দুটি গুণ অর্জনের চেষ্টা করা।

লেখক : মুহাদ্দিস, খতিব ও গবেষক।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

স্বাস্থ্যসেবায় প্রযুক্তির বিকাশে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার: প্রধানমন্ত্রী

হিংসুকের হিংসাই নিজের ধ্বংসের জন্য যথেষ্ট

আপডেট সময় ০৬:০৬:০৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ৬ ডিসেম্বর ২০২০

আকাশ নিউজ ডেস্ক:

অন্যের ভালো দেখে সহ্য করতে না পারা, অন্যের ভালো দেখে নিজের মধ্যে কষ্ট অনুভব করা, অন্যের ভালো বিষয়টি ধ্বংসের জন্য প্রচেষ্টা শুরু করে দেওয়াকে হিংসা বলে। ইবনে তাইমিয়া (রহ.) তাঁর ফতোয়ার মধ্যে উল্লেখ করেছেন, হিংসা হচ্ছে অন্তরের এমন এক কষ্ট বা ব্যথা যা বিত্তশালীদের স্বাচ্ছন্দ্য দেখার কারণে সৃষ্টি করে। কারও কারও মতে হিংসা হচ্ছে ‘অন্যের কাছ থেকে আল্লাহর নিয়ামত বিলুুপ্ত হওয়ার আকাক্সক্ষা পোষণ।’

হিংসার প্রকারভেদ :

আল্লামা নববী (রহ.) মুসলিমের ব্যাখ্যা গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন, হিংসা দুই প্রকার।

১. প্রকৃত হিংসা। অর্থাৎ যার সঙ্গে হিংসা করা হচ্ছে তার থেকে নিয়ামতটি দূর হয়ে যাওয়ার প্রত্যাশা করা। ২. রূপকার্থক হিংসা। এটি প্রকৃত হিংসা নয়। অর্থাৎ যে নিয়ামতটি অন্যের কাছে আছে তা নিজের প্রাপ্তির প্রত্যাশা করা, অন্যেরটি বলবৎ থাকা অবস্থায়। এ প্রকার হিংসার আরেক নাম হলো ‘গিবতা’। এ গিবতা ইসলামে জায়েজ বা বৈধ।

মানুষ কেন হিংসা করে?

আল্লামা গাজ্জালি (রহ.) হিংসার সাতটি কারণ উল্লেখ করেছেন : ১. শত্রুতা ২. নিজের ওপর অন্য কেউ সম্মানিত হয়ে যাওয়া ৩. অহংকার ৪. অস্বাভাবিকভাবে কেউ এগিয়ে যাওয়া ৫. নিজের পদ বা মর্যাদা হারিয়ে যাওয়ার ভয় করা ৬. নেতৃত্ব ও সম্মানের লোভ ৭. নিচু বা খারাপ মানসিকতা। (ফিকহি বিশ্বকোষ, কুয়েত)।

হিংসুকের আলামত :

১. অন্যের ভালো অবস্থার কারণে তাকে শত্রু ভাবা

২. তার প্রতি অসন্তুষ্ট হওয়া

৩. অন্যের কল্যাণের কারণে সব সময় অন্তরে এক ধরনের কষ্ট ও ব্যথা অনুুভব করা

৪. যার প্রতি হিংসা করে তার কাছ থেকে নিয়ামত চলে গেলে আনন্দিত হওয়া। যদিও এতে তার কোনো লাভ কিংবা ক্ষতি থাকে না

৫. সব সময় এ ব্যাপারে সতর্ক ও দুশ্চিন্তাগ্রস্ত থাকে যেন কোনোভাবেই চলে যাওয়া সে নিয়ামত আর ফেরত না আসে

হিংসুককে চেনার জন্য লোকমান হাকিম (রহ.) স্বীয় পুত্রদের বলেন, হে আমার সন্তানেরা! হিংসুকের লক্ষণ তিনটি।

১. এরা পেছনে গিবত করে ২. সামনাসামনি তোষামোদ করে ৩. বিপদে পড়লে তিরস্কার করে। (আত তাওবিখ, শায়েখ ইসবাহানি)।

হিংসুকের পরিণতি : রসুল (সা.) ইরশাদ করেন, তোমরা হিংসা থেকে বেঁচে থাক। কেননা হিংসা ভালো অর্জনগুলো এমনভাবে নিঃশেষ করে দেয় যেভাবে আগুন কাঠ ধ্বংস করে দেয়। (ফয়জুল কাদির, আল্লামা মানায়ি।

ইসলামে হিংসা হারাম বা অবৈধ। হাদিসে ইরশাদ হয়েছে, তোমরা পরস্পর হিংসা করবে না, শত্রুতা করবে না, অন্যের দোষ তালাশ করবে না এবং একজনের কেনাবেচা করার সময় অন্যজন দাম বাড়িয়ে দেবে না। বরং তোমরা আল্লাহর বান্দা হিসেবে পরস্পর ভাই হয়ে যাও। (মুসলিম)। আল্লাহ হিংসুকের হিংসা থেকে মুক্ত থাকার জন্য কোরআনের মধ্যে দোয়া শিক্ষা দিয়েছেন এভাবে, হে আল্লাহ! আমি পানা চাই হিংসুকের হিংসা থেকে যখন সে হিংসা করে। (সুরা ফালাক, আয়াত ৫)।

তবে হাদিসে রসুল (সা.) দুটি বিষয়ে হিংসা করাকে জায়েজ বলেছেন।

১. আল্লাহ কাউকে কোরআনের ইলম দান করেছেন, সে দিনরাত তা তিলাওয়াত ও এর ওপর আমল করে।

২. আল্লাহ কাউকে সম্পদ দান করেছেন, সে দিবানিশি সেখান থেকে আল্লাহর পথে দান করতে থাকে। (বুখারি)।

অর্থাৎ এ পুণ্যময় কাজ দুটি অন্যের মধ্যে দেখলে নিজে করতে না পেরে নিজের মধ্যে আফসোস সৃষ্টি এবং নিজেও এ দুটি গুণ অর্জনের চেষ্টা করা।

লেখক : মুহাদ্দিস, খতিব ও গবেষক।