আকাশ জাতীয় ডেস্ক:
পঁচাত্তরের ১৫ আগষ্ট স্বপরিবারে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যার মধ্য দিয়ে হত্যা ও ষড়ষন্ত্রের রাজনীতির সূচনা হয়। সেই হত্যা ও ষড়যন্ত্রের রাজনীতি পূর্ণতা পায় তেসরা নভেম্বর জাতীয় চারনেতাকে কারা অন্ত্যরীণে হত্যার মধ্য দিয়ে।
জাতির পিতার হত্যাকান্ডে কুশীলবদের মধ্যে খন্দকার মোশতাক, তাহের উদ্দিন ঠাকুর. খুনী ফারুক,রশীদ, ডালিম পর্দার সামনে থাকলেও পেছন থেকে কলকাটি নেড়েছেন তৎকালীন উপ সেনা প্রধান জিয়াউর রহমান। ১৯৭৫ এর ১৫ আগষ্ট জাতির পিতাকে স্ব পরিবারে হত্যার পর এদেশে অনেকগুলো ক্যু পাল্টা ক্যু সংঘটিত হয়। সেই পাল্টা ক্যু’তে ক্ষমতা দখলে নেন সেক্টর কমান্ডার মেজর জেনারেল খালেদ মোশাররফ।
খালেদ মোশাররফ ক্ষমতা দখলে নেয়ার পর পরই খন্দকার মোশতাকসহ খুনী চক্ররা ভীত হয়ে পড়ে। তারা মনে করে খালেদ মোশাররফ ক্ষমতায় আসলে জাতির পিতার চার ঘনিষ্ঠ সহচর বাংলাদেশের প্রথম অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম, প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদ, মন্ত্রিসভার সদস্য ক্যাপ্টেন এম মনসুর আলী এবং এ এইচ এম কামারুজ্জামান পুনরায় নেতৃত্ব দেয়ার সুযোগ পাবেন।
তাই খন্দকার মোশতাক এবং জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর দুই খুনি কর্নেল (অব.) সৈয়দ ফারুক রহমান এবং লে. কর্নেল (অব.) খন্দকার আব্দুর রশীদ জেলখানায় জাতীয় চার নেতাকে হত্যার পরিকল্পনা করেন। এই সব ঘটনায় যিনি পেছন থেকে কলকাঠি নেড়েছেন তিনি হচ্ছেন জিয়াউর রহমান।
খন্দকার মোশতাক, কর্নেল (অব.) ফারুক এবং লে. কর্নেল (অব.) আব্দুর রশীদ সেদিন জিয়াউর রহমান এর মাষ্টারপ্লান বঙ্গভবন থেকে তদারকি করেছে। আর মাঠে সেই নির্দেশনা বাস্তবায়ন করেছে ক্যাপ্টেন মোসলেম উদ্দিনসহ অন্য সেনা কর্মকর্তারা।
খালেদ মোশাররফ ক্ষমতা দখলের পর জিয়াউর রহমানকে গৃহবন্দি করা হয়। যদিও কিছু ভুল বোঝাবুঝির কারণে খালেদ মোশাররফ এর ক্ষমতা গ্রহণের কাল বেশিদিন স্থায়ী হয়নি। গৃহবন্দী থাকার সময়ে জিয়াউর রহমান সেনাবাহিনীর চাকরি ছেড়ে দিতে চেয়েছিলেন।
এরপর কর্ণেল তাহেরের সহযোগীতায় কথিত ‘সিপাহী বিপ্লবের’ মাধ্যমে জিয়াউর রহমানকে বন্দীদশা থেকে মুক্ত করা হয়। বন্দীদশা থেকে মুক্ত হয়ে জিয়াউর রহমান কর্ণেল তাহেরের সঙ্গে বিশ্বাস ঘাতকতা করেন এবং জাতির পিতা ও জাতীয় চারনেতার খুনীদের নির্বিঘ্নে বিদেশে পালিয়ে যাওয়ার সুযোগ করে দেন।
জাতির পিতাকে হত্যার মধ্য দিয়ে জিয়াউর রহমান উৎখাত ও ষড়ষন্ত্রের মাধ্যমে ক্ষমতার যে ভিত্তি গড়েছিলেন তার দ্বিতীয় ধাপ হলো জেল হত্যা।
নিরাপত্তা হেফাজতে এ ধরনের হত্যাকান্ডের ঘটনা সারা বিশ্বে নজিরবিহীন। শুধু জেলা হত্যাই নয় অবৈধভাবে ক্ষমতায় থাকার পথ পাকাপোক্ত করতে জিয়াউর রহমান বহু মুক্তিযোদ্ধা সেনা অফিসারকে ফাঁসির দঁড়িতে ঝুলিয়েছেন। সে সময়ে সবাই বলতো ‘ ফাঁসির অর্ডারে সই করা ছাড়া জিয়াউর রহমান সকালের নাস্তা করতেন না।
আকাশ নিউজ ডেস্ক 






















