ঢাকা ০২:২৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১২ জানুয়ারী ২০২৬, ২৮ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ট্রাম্পের হুঁশিয়ারির পাল্টা জবাব দিলেন কিউবার প্রেসিডেন্ট বনশ্রীতে স্কুলছাত্রী খুন,পুলিশের সন্দেহের তালিকায় পলাতক রেস্তোরাঁ কর্মী স্বৈরাচারের লোকেরা নির্বাচন ভণ্ডুলের চেষ্টা করবে: ড. মুহাম্মদ ইউনূস গাজীপুরে নবজাতকের লাশ নিয়ে কুকুরের টানাহ্যাঁচড়া, উদ্ধার করল পুলিশ ধর্মকে পুঁজি করে মানুষকে বিভ্রান্ত করা হচ্ছে, ধোঁকা দেওয়া হচ্ছে : খায়রুল কবির খোকন দলে বড় নাম থাকলেও জেতার জন্য সবাইকে আরও দায়িত্ব নিতে হবে: সোহান ২৫ জন বাংলাদেশিকে ক্ষমা করল আমিরাত দেশের ভবিষ্যত গড়ার জন্য গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয় নিশ্চিত করতে হবে : চরমোনাই পীর ব্যালটবাক্স ভরে কোনো নির্দিষ্ট প্রতীকের জয়ের সুযোগ নেই: রুমিন ফারহানা এইচএসসি পাসে নিউরো মেডিসিন বিশেষজ্ঞ , রোগী দেখেন দুই জেলায়

একসঙ্গে ২৩০০ রোহিঙ্গাকে মিয়ানমারে ফেরত

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

কক্সবাজারের সেন্টমার্টিন ও শাহপরীর দ্বীপের বিভিন্ন পয়েন্ট দিয়ে একসঙ্গে দুই হাজার ৩০০ রোহিঙ্গা মুসলিমকে ফেরত পাঠিয়েছে বাংলাদেশের কোস্টগার্ড। আজ সোমবার সকালে কোস্টগার্ড টেকনাফ স্টেশন কমান্ডার জাফর ইমাম সজীব জানান, সেন্টমার্টিন দ্বীপ থেকে গতকাল রোববার রাতে দুই হাজার রোহিঙ্গা মুসলিমকে আটক করা হয়। পরে সেই পথেই তাদের মিয়ানমারে ফেরত পাঠানো হয়।

এ ছাড়া শাহপরীর দ্বীপ থেকে প্রায় কাছাকাছি সময়ে আরো ৩০০ রোহিঙ্গাকে আটক করে তাদের মিয়ানমারে ফেরত পাঠানো হয়। এ সময় শাহপরীর দ্বীপ থেকে রোহিঙ্গাদের পরিবহনে ব্যবহৃত নয়টি নৌকা জব্দ করে কোস্টগার্ড।

স্থানীয়রা জানিয়েছেন, কক্সবাজার টেকনাফ সীমান্তের নাফ নদী পেরিয়ে বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ করা শত শত রোহিঙ্গা উখিয়ার কুতুপালং পৌঁছেছে। ট্রাকে ট্রাকে রোহিঙ্গা গিয়ে নামছে কুতুপালং শরণার্থী ক্যাম্পের পাশে। এদের অনেকেই ঝুপড়ি ঘর বানিয়ে আশ্রয় নিচ্ছে পাহাড়ি এলাকায়।

জাতিসংঘের হিসাব অনুযায়ী, রাখাইন রাজ্যে নতুন করে সহিংসতা শুরুর পর প্রতিদিন শত শত রোহিঙ্গা মুসলিম মিয়ানমার ছেড়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করছে। গত এক সপ্তাহে প্রায় পৌনে এক লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে। বিপদসংকুল নদী ও সমুদ্রপথে পাড়ি দিতে গিয়ে এ পর্যন্ত প্রায় অর্ধশত মানুষের মৃত্যু হয়েছে।

জাতিগত দ্বন্দ্বের জেরে ২০১৬ সালের অক্টোবর থেকে দেশটির উত্তর-পূর্ব রাখাইন রাজ্যে বসবাসরত মুসলিম রোহিঙ্গা সম্প্রদায়ের ওপর সহিংসতা চালাচ্ছে দেশটির সেনাবাহিনী। জাতিগতভাবে নির্মূল করতে রোহিঙ্গা সম্প্রদায়ের গ্রামে আগুন দিয়ে বসতবাড়ি পুড়িয়ে দেওয়াসহ গণহত্যা ও গণধর্ষণ চালায় সেনাবাহিনীর সদস্যরা।

সহিংসতার শিকার হয়ে গত বছরের অক্টোবর থেকে এক পর্যন্ত ৮৭ হাজার রোহিঙ্গা পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে।

এর আগে ২০১২ সালের জুনেও মিয়ানমারে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গায় আক্রান্ত রোহিঙ্গারা দলে দলে বাংলাদেশে অনুপ্রবেশের চেষ্টা চালায়। ওই সময় সরকার অনুপ্রবেশ ঠেকাতে শক্ত অবস্থান নেয়। যার ফলে ওই সময়ে সাড়ে পাঁচ হাজার রোহিঙ্গা পুশব্যাক করা হয়।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ট্রাম্পের হুঁশিয়ারির পাল্টা জবাব দিলেন কিউবার প্রেসিডেন্ট

একসঙ্গে ২৩০০ রোহিঙ্গাকে মিয়ানমারে ফেরত

আপডেট সময় ১২:৩৮:৩৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ৪ সেপ্টেম্বর ২০১৭

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

কক্সবাজারের সেন্টমার্টিন ও শাহপরীর দ্বীপের বিভিন্ন পয়েন্ট দিয়ে একসঙ্গে দুই হাজার ৩০০ রোহিঙ্গা মুসলিমকে ফেরত পাঠিয়েছে বাংলাদেশের কোস্টগার্ড। আজ সোমবার সকালে কোস্টগার্ড টেকনাফ স্টেশন কমান্ডার জাফর ইমাম সজীব জানান, সেন্টমার্টিন দ্বীপ থেকে গতকাল রোববার রাতে দুই হাজার রোহিঙ্গা মুসলিমকে আটক করা হয়। পরে সেই পথেই তাদের মিয়ানমারে ফেরত পাঠানো হয়।

এ ছাড়া শাহপরীর দ্বীপ থেকে প্রায় কাছাকাছি সময়ে আরো ৩০০ রোহিঙ্গাকে আটক করে তাদের মিয়ানমারে ফেরত পাঠানো হয়। এ সময় শাহপরীর দ্বীপ থেকে রোহিঙ্গাদের পরিবহনে ব্যবহৃত নয়টি নৌকা জব্দ করে কোস্টগার্ড।

স্থানীয়রা জানিয়েছেন, কক্সবাজার টেকনাফ সীমান্তের নাফ নদী পেরিয়ে বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ করা শত শত রোহিঙ্গা উখিয়ার কুতুপালং পৌঁছেছে। ট্রাকে ট্রাকে রোহিঙ্গা গিয়ে নামছে কুতুপালং শরণার্থী ক্যাম্পের পাশে। এদের অনেকেই ঝুপড়ি ঘর বানিয়ে আশ্রয় নিচ্ছে পাহাড়ি এলাকায়।

জাতিসংঘের হিসাব অনুযায়ী, রাখাইন রাজ্যে নতুন করে সহিংসতা শুরুর পর প্রতিদিন শত শত রোহিঙ্গা মুসলিম মিয়ানমার ছেড়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করছে। গত এক সপ্তাহে প্রায় পৌনে এক লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে। বিপদসংকুল নদী ও সমুদ্রপথে পাড়ি দিতে গিয়ে এ পর্যন্ত প্রায় অর্ধশত মানুষের মৃত্যু হয়েছে।

জাতিগত দ্বন্দ্বের জেরে ২০১৬ সালের অক্টোবর থেকে দেশটির উত্তর-পূর্ব রাখাইন রাজ্যে বসবাসরত মুসলিম রোহিঙ্গা সম্প্রদায়ের ওপর সহিংসতা চালাচ্ছে দেশটির সেনাবাহিনী। জাতিগতভাবে নির্মূল করতে রোহিঙ্গা সম্প্রদায়ের গ্রামে আগুন দিয়ে বসতবাড়ি পুড়িয়ে দেওয়াসহ গণহত্যা ও গণধর্ষণ চালায় সেনাবাহিনীর সদস্যরা।

সহিংসতার শিকার হয়ে গত বছরের অক্টোবর থেকে এক পর্যন্ত ৮৭ হাজার রোহিঙ্গা পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে।

এর আগে ২০১২ সালের জুনেও মিয়ানমারে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গায় আক্রান্ত রোহিঙ্গারা দলে দলে বাংলাদেশে অনুপ্রবেশের চেষ্টা চালায়। ওই সময় সরকার অনুপ্রবেশ ঠেকাতে শক্ত অবস্থান নেয়। যার ফলে ওই সময়ে সাড়ে পাঁচ হাজার রোহিঙ্গা পুশব্যাক করা হয়।