ঢাকা ০৬:০৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৭ জুলাই ২০২৬, ২৩ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
যাচাই-বাছাই করে রাজনৈতিক মামলা প্রত্যাহার করা হচ্ছে : আইনমন্ত্রী জোর করে নয়, জনগণের ম্যান্ডেটে ক্ষমতায় এসেছে সরকার: রিজভী বিনিয়োগ সম্প্রসারণ নিয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী ও মার্কিন রাষ্ট্রদূতের আলোচনা প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করলেন জুলাই অভ্যুত্থানে শহীদের মা বাংলাদেশের জন্য মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার উন্মুক্ত হয়েছে: প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রী কক্সবাজারে পাহাড়ধসে নিহত বেড়ে ১১ জুতা চুরি নিয়ে সংঘর্ষ, জবিতে সাংবাদিকসহ আহত ১৩ বংশালে স্ত্রীর ধারালো অস্ত্রের আঘাতে স্বামীর মৃত্যু একটি মানবিক ও ন্যায়ভিত্তিক বাংলাদেশ গড়তে কাজ করছে সরকার স্বাস্থ্যসেবা কোনো বিশেষ সুবিধা নয়, এটি মৌলিক অধিকার: জুবাইদা রহমান

ছেলেকে ফিরে পেয়ে জীবন ফিরে পেয়েছি: রায়হান কবিরের মা

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:  

অবশেষে বাবা-মার কাছে ফিরে এসেছেন রায়হান কবির। ছেলেকে ফিরে পেয়ে আনন্দিত তার বাবা-মা। রায়হান মালয়েশিয়া থেকে দেশে ফেরার পর ছেলেকে বুকে জড়িয়ে ধরে কান্নায় ভেঙে পড়েন তারা।

শুক্রবার রাত দেড়টায় মালয়েশিয়ান এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে দেশে ফেরেন রায়হান। সেখান থেকে ভোরে নারায়ণগঞ্জ বন্দর উপজেলার শাহী মসজিদ এলাকার বাড়িতে ফেরেন রায়হান। বাড়িতে ফিরে এলে সেখানে এক আবেগঘন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। এ সময় রায়হানের মা-বাবা দুজনেই অশ্রুসিক্ত হয়ে পড়েন।

ছেলেকে ফিরে পেয়ে বাবা শাহ আলম বলেন, ছেলে এখন আমার কাছে। কোনো সমস্যা নেই এখন আর, সে সুস্থ ও ভালো আছে। আমার ছেলেকে ফিরে পেতে আপনারা সাংবাদিকরা সবচেয়ে বেশি সহায়তা করেছেন। তাই আপনাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা। তাকে ফিরে পেয়েছি এতেই খুশি, তার পাশে দাঁড়ানোর জন্য সবাইকে ধন্যবাদ।

মা রাশিদা বেগম বলেন, আমার ছেলে আমার কাছে ফিরে এসেছে, এটি মিডিয়া ও দেশের মানুষের জন্য সম্ভব হয়েছে। আমি আপনাদের কাছে ঋণী। ছেলেকে ফিরে পেয়ে আমি জীবন ফিরে পেয়েছি। এতদিন খুব দুশ্চিন্তায় ছিলাম। প্রতি মুহূর্তে অজানা শঙ্কা আমাদের তাড়া করতো, সেই শঙ্কাকে দূর করে আমি আমার ছেলেকে ফিরে পেয়েছি।

রায়হান কবির বলেন, বাংলাদেশের রেমিটেন্স যোদ্ধা প্রবাসীদের জন্য কাজ করার ইচ্ছা আমার আগে থেকেই। এই ইচ্ছেই আমাকে অনুপ্রাণিত করেছে। পরিবারের কাছে ফিরে আসার অনুভূতি ভাষায় প্রকাশ করতে পারব না। আমি আনন্দিত। মিডিয়া আমার বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে প্রকাশ করেছে। এ জন্য বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী, প্রেস মিডিয়া এবং দেশের জনগণের প্রতি আমি সবচেয়ে বেশি কৃতজ্ঞ।

রায়হান কবিরকে শুক্রবার রাত ৯টায় তাকে কুয়ালালামপুর ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্টে ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হয়। রাত ১১টায় ঢাকাগামী মালয়েশিয়ান এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে তুলে দেয়া হয়।

গত ২৪ জুলাই তাকে গ্রেফতার করা হয়। এর আগে রায়হান কবিরের ওয়ার্ক পারমিট বাতিল করে মালয়েশিয়া। মালয়েশিয়ার সংবাদমাধ্যম মালয়েশিয়া ইনসাইট ১২ জুলাই এক প্রতিবেদনে জানায়, পুলিশ মহাপরিদর্শক আব্দুল হামিদ বাবর বলেছেন, বাংলাদেশি নাগরিক রায়হান কবিরের ওয়ার্ক পারমিট বাতিল করা হয়েছে।

সম্প্রতি আল জাজিরা টিভির একটি প্রতিবেদনে সাক্ষাৎকার দেন রায়হান কবির। ওই প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, করোনা ভাইরাস মোকাবিলায় মালয়েশিয়া সরকারের নেয়া পদক্ষেপে সেখানের অভিবাসীরা বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন। এই প্রতিবেদন প্রকাশের পর অনেক খোঁজাখুঁজি করে ২৫ জুলাই রায়হান কবিরকে গ্রেফতার করা হয়।

রায়হান কবির ২০১৪ সালে নারায়ণগঞ্জের সরকারি তোলারাম কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পাস করেন। পরে মালয়েশিয়া গিয়ে পার্টটাইম চাকরির পাশাপাশি পড়াশোনা করছিলেন তিনি। সেখানে বিএ পাস করার পর গত ঈদুল ফিতরের আগে একটি কোম্পানিতে স্থায়ী চাকরি হয় তার। কিন্তু কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরায় সাক্ষাৎকার দেয়ার পর বিপত্তিতে পড়েন রায়হান কবির।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

জুলাইয়ের ৬ দিনে রেমিট্যান্স এলো ৭০ কোটি ডলার

ছেলেকে ফিরে পেয়ে জীবন ফিরে পেয়েছি: রায়হান কবিরের মা

আপডেট সময় ০৬:৪২:৫২ অপরাহ্ন, শনিবার, ২২ অগাস্ট ২০২০

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:  

অবশেষে বাবা-মার কাছে ফিরে এসেছেন রায়হান কবির। ছেলেকে ফিরে পেয়ে আনন্দিত তার বাবা-মা। রায়হান মালয়েশিয়া থেকে দেশে ফেরার পর ছেলেকে বুকে জড়িয়ে ধরে কান্নায় ভেঙে পড়েন তারা।

শুক্রবার রাত দেড়টায় মালয়েশিয়ান এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে দেশে ফেরেন রায়হান। সেখান থেকে ভোরে নারায়ণগঞ্জ বন্দর উপজেলার শাহী মসজিদ এলাকার বাড়িতে ফেরেন রায়হান। বাড়িতে ফিরে এলে সেখানে এক আবেগঘন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। এ সময় রায়হানের মা-বাবা দুজনেই অশ্রুসিক্ত হয়ে পড়েন।

ছেলেকে ফিরে পেয়ে বাবা শাহ আলম বলেন, ছেলে এখন আমার কাছে। কোনো সমস্যা নেই এখন আর, সে সুস্থ ও ভালো আছে। আমার ছেলেকে ফিরে পেতে আপনারা সাংবাদিকরা সবচেয়ে বেশি সহায়তা করেছেন। তাই আপনাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা। তাকে ফিরে পেয়েছি এতেই খুশি, তার পাশে দাঁড়ানোর জন্য সবাইকে ধন্যবাদ।

মা রাশিদা বেগম বলেন, আমার ছেলে আমার কাছে ফিরে এসেছে, এটি মিডিয়া ও দেশের মানুষের জন্য সম্ভব হয়েছে। আমি আপনাদের কাছে ঋণী। ছেলেকে ফিরে পেয়ে আমি জীবন ফিরে পেয়েছি। এতদিন খুব দুশ্চিন্তায় ছিলাম। প্রতি মুহূর্তে অজানা শঙ্কা আমাদের তাড়া করতো, সেই শঙ্কাকে দূর করে আমি আমার ছেলেকে ফিরে পেয়েছি।

রায়হান কবির বলেন, বাংলাদেশের রেমিটেন্স যোদ্ধা প্রবাসীদের জন্য কাজ করার ইচ্ছা আমার আগে থেকেই। এই ইচ্ছেই আমাকে অনুপ্রাণিত করেছে। পরিবারের কাছে ফিরে আসার অনুভূতি ভাষায় প্রকাশ করতে পারব না। আমি আনন্দিত। মিডিয়া আমার বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে প্রকাশ করেছে। এ জন্য বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী, প্রেস মিডিয়া এবং দেশের জনগণের প্রতি আমি সবচেয়ে বেশি কৃতজ্ঞ।

রায়হান কবিরকে শুক্রবার রাত ৯টায় তাকে কুয়ালালামপুর ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্টে ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হয়। রাত ১১টায় ঢাকাগামী মালয়েশিয়ান এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে তুলে দেয়া হয়।

গত ২৪ জুলাই তাকে গ্রেফতার করা হয়। এর আগে রায়হান কবিরের ওয়ার্ক পারমিট বাতিল করে মালয়েশিয়া। মালয়েশিয়ার সংবাদমাধ্যম মালয়েশিয়া ইনসাইট ১২ জুলাই এক প্রতিবেদনে জানায়, পুলিশ মহাপরিদর্শক আব্দুল হামিদ বাবর বলেছেন, বাংলাদেশি নাগরিক রায়হান কবিরের ওয়ার্ক পারমিট বাতিল করা হয়েছে।

সম্প্রতি আল জাজিরা টিভির একটি প্রতিবেদনে সাক্ষাৎকার দেন রায়হান কবির। ওই প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, করোনা ভাইরাস মোকাবিলায় মালয়েশিয়া সরকারের নেয়া পদক্ষেপে সেখানের অভিবাসীরা বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন। এই প্রতিবেদন প্রকাশের পর অনেক খোঁজাখুঁজি করে ২৫ জুলাই রায়হান কবিরকে গ্রেফতার করা হয়।

রায়হান কবির ২০১৪ সালে নারায়ণগঞ্জের সরকারি তোলারাম কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পাস করেন। পরে মালয়েশিয়া গিয়ে পার্টটাইম চাকরির পাশাপাশি পড়াশোনা করছিলেন তিনি। সেখানে বিএ পাস করার পর গত ঈদুল ফিতরের আগে একটি কোম্পানিতে স্থায়ী চাকরি হয় তার। কিন্তু কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরায় সাক্ষাৎকার দেয়ার পর বিপত্তিতে পড়েন রায়হান কবির।