ঢাকা ০৪:৪৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ০২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২০ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :

অলিকে নিয়ে ক্ষোভ বাড়ছে বিএনপি জোটে!

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:  

ছিলেন একজন বিএনপির শীর্ষস্থানীয় নেতা। দায়িত্ব পালন করেছেন মন্ত্রী হিসেবেও। আলোচিত এক এগারোর সময় বিএনপি থেকে বের হয়ে নতুন দল লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি) গঠন করেন সাবেক সেনা কর্মকর্তা অলি আহমদ বীর বিক্রম। কালের পরিক্রমায় পরে আবার তিনি জোট করেন ছেড়ে যাওয়া বিএনপির সঙ্গে। তবে সম্প্রতি বিএনপি এবং জোটের অন্য শরিকদের নিয়ে তার একের পর এক মন্তব্য নিয়ে ক্ষোভ বাড়ছে জোটের মধ্যে।

ইতিমধ্যে বিষয়টি নিয়ে নিজেদের মধ্যে আলাপ আলোচনা করছেন জোটের অন্যান্য শরিকরা। বিশেষ করে ছোট দলগুলোর নেতারা জোটের প্রধান দল বিএনপির শীর্ষ নেতাদের কাছে বিষয়টি তুলে ধরার চিন্তা করছেন বলে জানা গেছে। আবার কেউ কেউ এমন পরিস্থিতির জন্য বিএনপির দায় দেখছেন।

সম্প্রতি বাংলাদেশি একজন আমেরিকা প্রবাসী সাংবাদিকের পরিচালিত ‘দ্য গ্রিন চ্যানেলকে’ দেওয়া সাক্ষাৎকারে অলি আহমদ বিএনপি, জোট এবং ঐক্যফ্রন্টকে নিয়ে বেশ কিছু তীর্যক মন্তব্য করেছেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। জোটের নেতারা এমন বক্তব্যকে ঐক্যে ফাটল ধরানোর চেষ্টা হিসেবে দেখছেন।

সাক্ষাৎকারে এলডিপি প্রধান ঐক্যফ্রন্ট নিয়ে নিজের মূল্যায়ন তুলে ধরে বলেছেন, ‘ড. কামালের নেতৃত্বে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট নামে যে জোট গঠন করা হয়েছিল, সেটা ছিল মূলত বিএনপিকে নির্বাচনে নেওয়ার জন্য। তাদের মিশন ছিল বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটকে চিরতরে ক্ষমতার বাইরে রাখা।’

এই প্রক্রিয়ায় থাকা বিএনপি নেতাদের কিছুটা ব্যঙ্গ করে বলেছেন, ‘কিছু মেও মেও করা বিএনপি নেতা এই জোট গঠনের সঙ্গে ছিলেন।’

তবে দলীয় সিদ্ধান্ত থেকেই বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আব্দুল মঈন খান ঐক্যফ্রন্টের গঠন থেকে অদ্যাবধি সম্পৃক্ত আছেন।

বিএনপি জোটের অন্যতম শরিক একটি দলের নেতা বলেন, ‘অলি আহমেদ নাম না বললেও মেও মেও করা নেতা হিসেবে বিএনপি মহাসচিবের নামই আসে। কারণ আগাগোড়া তিনিই কাজ করছেন ঐক্যফ্রন্টের সঙ্গে।’

সাক্ষাৎকারে এমন কিছু বক্তব্য দেয়া হয়েছে তা জোট নেতাদের জন্য বিব্রতকর বলে দাবি করছেন জোট নেতারা। বিশেষ করে ছোট দলগুলোর নেতাদের আহত করেছে।

অলি আহমেদ খালেদা জিয়া কারাগারে যাওয়ার পর থেকে সেইভাবে জোটের বৈঠকে অংশ নেন না। মাঝে মধ্যে তার দলের প্রতিনিধিও বৈঠকে পাঠান না।

এর কারণ উল্লেখ করে অলি আহমেদ বলেছেন, ‘তাকে জোটের সমন্বয়ক করার পর আবার সেই সিদ্ধান্ত বদল করা, জোটে তার সমকক্ষ কেউ না থাকায় তিনি অংশ নেন না।’

সিনিয়র এই রাজনীতিকের এমন বক্তব্যে চটেছেন জোট নেতারা। এনপিপির চেয়ারম্যান ফরিদুজ্জামান ফরহাদ বলেন, ‘জোটে কে ছোট কে বড় সেটার মূল্যায়ন করেই তো বিএনপি দলগুলোকে রেখেছে। এসব নেতার সঙ্গেই তো বেগম খালেদা জিয়া বৈঠক করেছেন। তাহলে কি আমরা তার থেকেও বড় নেতা হয়ে গেছি? ’

আর ডেমোক্রেটিক লীগের (ডিএল) সাইফুদ্দিন মনি বলেন, ‘আমরা ঢাকায় এসে এ নিয়ে কথা বলবো কি করা যায়। কারণ এটা তো জোটের সম্মানহানি করা হয়েছে।’ তবে অলির মন্তব্যকে ব্যক্তিগত দাবি করে সাইফুদ্দিন বলেন, সে তার মত যা ভালো মনে করেছেন তাই বলেছেন। তবে জোটের নেতাদের খাটো করে কথাবার্তা বিএনপি নেতারাও কম বলেনি।’

ওই সাক্ষাৎকারে জামায়াত প্রসঙ্গেও কথা বলেন অলি আহমদ। বলেছেন, বর্তমানে জামায়াতে ইসলামিতে কোনো যুদ্ধাপরাধী নেই। এখন যারা নেতৃত্বে আছেন, তারা স্বাধীনতা বিরোধী নন, তারা বাংলাদেশের স্বাধীনতায় বিশ্বাসী। সেখানে হঠাৎ বিএনপির জামায়াত ছাড়ার গুঞ্জন নিয়েও কথা বলেন তিনি।

অলি আহমদের এই বক্তব্যও নিয়ে শরিকদের মধ্যে সংশয় দেখা দিয়েছে। তার দীর্ঘদিনের একজন রাজনীতিক সহযোদ্ধা বলেন, ‘জামায়াতের ভেতরেও এক ধরণের দ্বন্দ্ব চলছে। সেটা কাজে লাগাতে চান অলি আহমদ। যাতে তার ব্যাপারে জামায়াতের তরুণ নেতারা তার প্রতি সবসময় পজিটিভ থাকেন সে কারণেই এত সাফাই গাইছেন।’

সাক্ষাৎকার ছাড়াও নানা সময়ে অলি আহমদ জোটে তার অবস্থান নিয়ে কিছুটা ক্ষুব্ধ ছিলেন। ওই সাক্ষাৎকারে তিনি তার পুনরাবৃত্তি করেছেন। বলেছেন, আমাকে একবার বলা হলো ২০ দলীয় জোটের প্রধান সমন্বয়ক, একবার বলা হলো সমন্বয়ক। তারপরে কী আর জানতে পারিনি।

যদিও জোটের শরিক লেবার পার্টির (একাংশের) চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান ইরান বলেন, অলি আহমদকে কখনো এমন দায়িত্ব দেয়ার বিষয়টি আমার জানা নেই। যদিও সব বৈঠকে বা কার্যক্রমে সবসময়ই আমি উপস্থিত থাকি।’

জোটের প্রধান সমন্বয়ক বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খানের কাছে সার্বিক বিষয় নিয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমি এমন কথাবার্তার কথা জেনেছি কিন্তু শুনিনি। না শুনে মন্তব্য করা সমীচীন হবে না। তবে জোটের সবার সঙ্গেই তো আমাদের যোগাযোগ আছে। কারো ক্ষোভ থাকলে সমাধান করা হবে।’

যোগাযোগ করা হলে অলি আহমদ বলেন, ‘যেসব বিষয় নিয়ে কথা বলছেন এসব কথা এর আগেও তো বলেছি। এখানে নতুন কিছু বলা হয়নি। অযৌক্তিকও কিছু বলা হয়েছে বলে মনে করি না।’

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

৩০ রাজনৈতিক বন্দিকে মুক্তি দিল ভেনেজুয়েলা

অলিকে নিয়ে ক্ষোভ বাড়ছে বিএনপি জোটে!

আপডেট সময় ০৯:২০:১১ অপরাহ্ন, রবিবার, ২ অগাস্ট ২০২০

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:  

ছিলেন একজন বিএনপির শীর্ষস্থানীয় নেতা। দায়িত্ব পালন করেছেন মন্ত্রী হিসেবেও। আলোচিত এক এগারোর সময় বিএনপি থেকে বের হয়ে নতুন দল লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি) গঠন করেন সাবেক সেনা কর্মকর্তা অলি আহমদ বীর বিক্রম। কালের পরিক্রমায় পরে আবার তিনি জোট করেন ছেড়ে যাওয়া বিএনপির সঙ্গে। তবে সম্প্রতি বিএনপি এবং জোটের অন্য শরিকদের নিয়ে তার একের পর এক মন্তব্য নিয়ে ক্ষোভ বাড়ছে জোটের মধ্যে।

ইতিমধ্যে বিষয়টি নিয়ে নিজেদের মধ্যে আলাপ আলোচনা করছেন জোটের অন্যান্য শরিকরা। বিশেষ করে ছোট দলগুলোর নেতারা জোটের প্রধান দল বিএনপির শীর্ষ নেতাদের কাছে বিষয়টি তুলে ধরার চিন্তা করছেন বলে জানা গেছে। আবার কেউ কেউ এমন পরিস্থিতির জন্য বিএনপির দায় দেখছেন।

সম্প্রতি বাংলাদেশি একজন আমেরিকা প্রবাসী সাংবাদিকের পরিচালিত ‘দ্য গ্রিন চ্যানেলকে’ দেওয়া সাক্ষাৎকারে অলি আহমদ বিএনপি, জোট এবং ঐক্যফ্রন্টকে নিয়ে বেশ কিছু তীর্যক মন্তব্য করেছেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। জোটের নেতারা এমন বক্তব্যকে ঐক্যে ফাটল ধরানোর চেষ্টা হিসেবে দেখছেন।

সাক্ষাৎকারে এলডিপি প্রধান ঐক্যফ্রন্ট নিয়ে নিজের মূল্যায়ন তুলে ধরে বলেছেন, ‘ড. কামালের নেতৃত্বে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট নামে যে জোট গঠন করা হয়েছিল, সেটা ছিল মূলত বিএনপিকে নির্বাচনে নেওয়ার জন্য। তাদের মিশন ছিল বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটকে চিরতরে ক্ষমতার বাইরে রাখা।’

এই প্রক্রিয়ায় থাকা বিএনপি নেতাদের কিছুটা ব্যঙ্গ করে বলেছেন, ‘কিছু মেও মেও করা বিএনপি নেতা এই জোট গঠনের সঙ্গে ছিলেন।’

তবে দলীয় সিদ্ধান্ত থেকেই বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আব্দুল মঈন খান ঐক্যফ্রন্টের গঠন থেকে অদ্যাবধি সম্পৃক্ত আছেন।

বিএনপি জোটের অন্যতম শরিক একটি দলের নেতা বলেন, ‘অলি আহমেদ নাম না বললেও মেও মেও করা নেতা হিসেবে বিএনপি মহাসচিবের নামই আসে। কারণ আগাগোড়া তিনিই কাজ করছেন ঐক্যফ্রন্টের সঙ্গে।’

সাক্ষাৎকারে এমন কিছু বক্তব্য দেয়া হয়েছে তা জোট নেতাদের জন্য বিব্রতকর বলে দাবি করছেন জোট নেতারা। বিশেষ করে ছোট দলগুলোর নেতাদের আহত করেছে।

অলি আহমেদ খালেদা জিয়া কারাগারে যাওয়ার পর থেকে সেইভাবে জোটের বৈঠকে অংশ নেন না। মাঝে মধ্যে তার দলের প্রতিনিধিও বৈঠকে পাঠান না।

এর কারণ উল্লেখ করে অলি আহমেদ বলেছেন, ‘তাকে জোটের সমন্বয়ক করার পর আবার সেই সিদ্ধান্ত বদল করা, জোটে তার সমকক্ষ কেউ না থাকায় তিনি অংশ নেন না।’

সিনিয়র এই রাজনীতিকের এমন বক্তব্যে চটেছেন জোট নেতারা। এনপিপির চেয়ারম্যান ফরিদুজ্জামান ফরহাদ বলেন, ‘জোটে কে ছোট কে বড় সেটার মূল্যায়ন করেই তো বিএনপি দলগুলোকে রেখেছে। এসব নেতার সঙ্গেই তো বেগম খালেদা জিয়া বৈঠক করেছেন। তাহলে কি আমরা তার থেকেও বড় নেতা হয়ে গেছি? ’

আর ডেমোক্রেটিক লীগের (ডিএল) সাইফুদ্দিন মনি বলেন, ‘আমরা ঢাকায় এসে এ নিয়ে কথা বলবো কি করা যায়। কারণ এটা তো জোটের সম্মানহানি করা হয়েছে।’ তবে অলির মন্তব্যকে ব্যক্তিগত দাবি করে সাইফুদ্দিন বলেন, সে তার মত যা ভালো মনে করেছেন তাই বলেছেন। তবে জোটের নেতাদের খাটো করে কথাবার্তা বিএনপি নেতারাও কম বলেনি।’

ওই সাক্ষাৎকারে জামায়াত প্রসঙ্গেও কথা বলেন অলি আহমদ। বলেছেন, বর্তমানে জামায়াতে ইসলামিতে কোনো যুদ্ধাপরাধী নেই। এখন যারা নেতৃত্বে আছেন, তারা স্বাধীনতা বিরোধী নন, তারা বাংলাদেশের স্বাধীনতায় বিশ্বাসী। সেখানে হঠাৎ বিএনপির জামায়াত ছাড়ার গুঞ্জন নিয়েও কথা বলেন তিনি।

অলি আহমদের এই বক্তব্যও নিয়ে শরিকদের মধ্যে সংশয় দেখা দিয়েছে। তার দীর্ঘদিনের একজন রাজনীতিক সহযোদ্ধা বলেন, ‘জামায়াতের ভেতরেও এক ধরণের দ্বন্দ্ব চলছে। সেটা কাজে লাগাতে চান অলি আহমদ। যাতে তার ব্যাপারে জামায়াতের তরুণ নেতারা তার প্রতি সবসময় পজিটিভ থাকেন সে কারণেই এত সাফাই গাইছেন।’

সাক্ষাৎকার ছাড়াও নানা সময়ে অলি আহমদ জোটে তার অবস্থান নিয়ে কিছুটা ক্ষুব্ধ ছিলেন। ওই সাক্ষাৎকারে তিনি তার পুনরাবৃত্তি করেছেন। বলেছেন, আমাকে একবার বলা হলো ২০ দলীয় জোটের প্রধান সমন্বয়ক, একবার বলা হলো সমন্বয়ক। তারপরে কী আর জানতে পারিনি।

যদিও জোটের শরিক লেবার পার্টির (একাংশের) চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান ইরান বলেন, অলি আহমদকে কখনো এমন দায়িত্ব দেয়ার বিষয়টি আমার জানা নেই। যদিও সব বৈঠকে বা কার্যক্রমে সবসময়ই আমি উপস্থিত থাকি।’

জোটের প্রধান সমন্বয়ক বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খানের কাছে সার্বিক বিষয় নিয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমি এমন কথাবার্তার কথা জেনেছি কিন্তু শুনিনি। না শুনে মন্তব্য করা সমীচীন হবে না। তবে জোটের সবার সঙ্গেই তো আমাদের যোগাযোগ আছে। কারো ক্ষোভ থাকলে সমাধান করা হবে।’

যোগাযোগ করা হলে অলি আহমদ বলেন, ‘যেসব বিষয় নিয়ে কথা বলছেন এসব কথা এর আগেও তো বলেছি। এখানে নতুন কিছু বলা হয়নি। অযৌক্তিকও কিছু বলা হয়েছে বলে মনে করি না।’