ঢাকা ০৬:০৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ জানুয়ারী ২০২৬, ৩০ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
১২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত দেশে সব ধরনের সংগঠনের নির্বাচন বন্ধের নির্দেশ দিয়েছে ইসি এমপি যদি সৎ হন, ঠিকাদারের বাপের সাধ্য নেই চুরি করার: রুমিন ফারহানা ‘ধর্মের নামে ব্যবসা করে যারা নির্বাচনে জিততে চায়, তারা এ দেশে আর কখনো গ্রহণযোগ্যতা পাবে না’:ফারুক পার্থকে ছেড়ে দিলেন বিএনপির প্রার্থী গোলাম নবী গণহত্যার বিচারে ধরনের কম্প্রোমাইজ নয়: প্রসিকিউটর তামিম স্ত্রীর কোনো স্বর্ণ নেই, তাহেরির আছে ৩১ ভরি স্বর্ণ নির্বাচনে ভোট ডাকাতি যেন আর কখনো না ঘটে, সে ব্যবস্থা করতে হবে : প্রধান উপদেষ্টা ইরানে অর্ধশতাধিক মসজিদ-১৮০ অ্যাম্বুলেন্সে আগুন দিয়েছে বিক্ষোভকারীরা নির্বাচনে ৩০ আসনে লড়বে এনসিপি: আসিফ মাহমুদ নির্বাচন বানচালে দেশবিরোধী শক্তি অপচেষ্টা ও সহিংসতা চালাচ্ছে : মির্জা আব্বাস

৩০,০০০ রোহিঙ্গা ঢুকেছে, ৪১২ জন হিন্দু সম্প্রদায়ের

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

রাখাইনে চলমান সহিংসতা থেকে প্রাণে বাঁচতে ৩০ হাজারের বেশি মিয়ানমার নাগরিক বাংলাদেশে ঢুকেছেন বলে ধারণা দিয়েছে জাতিসংঘের উদ্বাস্তু বিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআর। এদিকে স্থানীয় সূত্রগুলোর বরাতে বিভিন্ন গণমাধ্যম জানিয়েছে, এবারে কেবল রোহিঙ্গা মুসলমান নয়, রাখাইনে আক্রান্ত হচ্ছেন হিন্দুরাও।

রাখাইন রাজ্য ছেড়ে পালিয়ে আসা ৪১২ জন হিন্দু নারী-পুরুষ-শিশু কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার কুতুপালং রোহিঙ্গা শিবির থেকে দুই কিলোমিটার দূরে পশ্চিম হিন্দুপাড়ার একটি মুরগির খামারে আশ্রয় নিয়েছেন। তাঁরা সবাই রাখাইনের মংডুর ফকিরাবাজার গ্রামের বাসিন্দা। নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্তের জিরো পয়েন্টে অবস্থান করছেন আরও দুই শতাধিক হিন্দু। তাঁরাও বাংলাদেশে অনুপ্রবেশের অপেক্ষায় আছেন।

রাখাইন রাজ্যের মংডু শহরের কোয়াছং হিন্দুপাড়া থেকে স্ত্রী ও চার ছেলেমেয়ে নিয়ে পালিয়ে আসা স্বর্ণকার দীজেন্দ্র শর্মা বলেন, গত ছয়-সাত দিনে ফকিরাবাজারসহ বিভিন্ন এলাকায় গুলি ও আগুনে পুড়ে ৮৬ জন হিন্দুর মৃত্যু হয়েছে।

ফকিরা বাজার থেকে পালিয়ে আসা মিলন মল্লিক বলেন, রোহিঙ্গা মুসলমানদের সঙ্গে তাঁদের (হিন্দুদের) কোনো বিরোধ নেই। অতীতে রোহিঙ্গাদের সঙ্গে কোনো দাঙ্গাহাঙ্গামাও হয়নি। গত বছরের ৯ অক্টোবর রাখাইন রাজ্যে তিনটি সীমান্তচৌকিতে হামলার পর টানা তিন মাস রাখাইন রাজ্যে সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান চালায় সেনা ও পুলিশ। এ সময় কয়েক শ রোহিঙ্গার মৃত্যু হয়। ধর্ষণের শিকার হন বহু রোহিঙ্গা নারী। এ সময় ৯০ হাজারের মতো রোহিঙ্গা রাখাইন রাজ্য ত্যাগ করে বাংলাদেশ আশ্রয় নিলেও তখন কোনো হিন্দু পরিবার দেশ ত্যাগ করেনি। কিন্তু এবার একযোগে সীমান্তচৌকিতে হামলার জন্য হিন্দুদেরও সন্দেহ করছে মিয়ানমার। তাই এত অত্যাচার-নির্যাতন। উদ্দেশ্য রাখাইন রাজ্য ত্যাগ করা।

এ পর্যন্ত ৭০ টি পরিবারের ৪১২জন হিন্দু রাখাইন থেকে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছেন । কুতুপালং এর হিন্দুপাড়ায় তারা আশ্রয় নিয়েছেন। এর মধ্যে ৮টি হিন্দু পরিবার তাদের ৬২ জন স্বজন নিহত হওয়ার কথা জানা গেছে। ওই হিন্দু পরিবারের বেঁচে ফেরা ১৬ জন নারী শিশুর কক্সবাজার এলাকায় তাদের নিকট আত্মীয়ের বাসায় আশ্রয় নিয়েছেন। তাদের দাবি শতাধিক হিন্দু পরিবার এখনও সীমান্তের ‘নো ম্যান্স ল্যান্ডে’ অবস্থান করছে। তাদের বাড়ি ঘরে অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে বলেও দাবি ওই সব পরিবারের।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

১২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত দেশে সব ধরনের সংগঠনের নির্বাচন বন্ধের নির্দেশ দিয়েছে ইসি

৩০,০০০ রোহিঙ্গা ঢুকেছে, ৪১২ জন হিন্দু সম্প্রদায়ের

আপডেট সময় ১০:২৭:২৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩১ অগাস্ট ২০১৭

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

রাখাইনে চলমান সহিংসতা থেকে প্রাণে বাঁচতে ৩০ হাজারের বেশি মিয়ানমার নাগরিক বাংলাদেশে ঢুকেছেন বলে ধারণা দিয়েছে জাতিসংঘের উদ্বাস্তু বিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআর। এদিকে স্থানীয় সূত্রগুলোর বরাতে বিভিন্ন গণমাধ্যম জানিয়েছে, এবারে কেবল রোহিঙ্গা মুসলমান নয়, রাখাইনে আক্রান্ত হচ্ছেন হিন্দুরাও।

রাখাইন রাজ্য ছেড়ে পালিয়ে আসা ৪১২ জন হিন্দু নারী-পুরুষ-শিশু কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার কুতুপালং রোহিঙ্গা শিবির থেকে দুই কিলোমিটার দূরে পশ্চিম হিন্দুপাড়ার একটি মুরগির খামারে আশ্রয় নিয়েছেন। তাঁরা সবাই রাখাইনের মংডুর ফকিরাবাজার গ্রামের বাসিন্দা। নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্তের জিরো পয়েন্টে অবস্থান করছেন আরও দুই শতাধিক হিন্দু। তাঁরাও বাংলাদেশে অনুপ্রবেশের অপেক্ষায় আছেন।

রাখাইন রাজ্যের মংডু শহরের কোয়াছং হিন্দুপাড়া থেকে স্ত্রী ও চার ছেলেমেয়ে নিয়ে পালিয়ে আসা স্বর্ণকার দীজেন্দ্র শর্মা বলেন, গত ছয়-সাত দিনে ফকিরাবাজারসহ বিভিন্ন এলাকায় গুলি ও আগুনে পুড়ে ৮৬ জন হিন্দুর মৃত্যু হয়েছে।

ফকিরা বাজার থেকে পালিয়ে আসা মিলন মল্লিক বলেন, রোহিঙ্গা মুসলমানদের সঙ্গে তাঁদের (হিন্দুদের) কোনো বিরোধ নেই। অতীতে রোহিঙ্গাদের সঙ্গে কোনো দাঙ্গাহাঙ্গামাও হয়নি। গত বছরের ৯ অক্টোবর রাখাইন রাজ্যে তিনটি সীমান্তচৌকিতে হামলার পর টানা তিন মাস রাখাইন রাজ্যে সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান চালায় সেনা ও পুলিশ। এ সময় কয়েক শ রোহিঙ্গার মৃত্যু হয়। ধর্ষণের শিকার হন বহু রোহিঙ্গা নারী। এ সময় ৯০ হাজারের মতো রোহিঙ্গা রাখাইন রাজ্য ত্যাগ করে বাংলাদেশ আশ্রয় নিলেও তখন কোনো হিন্দু পরিবার দেশ ত্যাগ করেনি। কিন্তু এবার একযোগে সীমান্তচৌকিতে হামলার জন্য হিন্দুদেরও সন্দেহ করছে মিয়ানমার। তাই এত অত্যাচার-নির্যাতন। উদ্দেশ্য রাখাইন রাজ্য ত্যাগ করা।

এ পর্যন্ত ৭০ টি পরিবারের ৪১২জন হিন্দু রাখাইন থেকে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছেন । কুতুপালং এর হিন্দুপাড়ায় তারা আশ্রয় নিয়েছেন। এর মধ্যে ৮টি হিন্দু পরিবার তাদের ৬২ জন স্বজন নিহত হওয়ার কথা জানা গেছে। ওই হিন্দু পরিবারের বেঁচে ফেরা ১৬ জন নারী শিশুর কক্সবাজার এলাকায় তাদের নিকট আত্মীয়ের বাসায় আশ্রয় নিয়েছেন। তাদের দাবি শতাধিক হিন্দু পরিবার এখনও সীমান্তের ‘নো ম্যান্স ল্যান্ডে’ অবস্থান করছে। তাদের বাড়ি ঘরে অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে বলেও দাবি ওই সব পরিবারের।