ঢাকা ০৯:১৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৫ জানুয়ারী ২০২৬, ১২ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
‘ডাকসু ছিল মাদকের আড্ডা-বেশ্যাখানা’:জামায়াত নেতার পোস্টাল ব্যালট ডাকাতি হতে দেখা যাচ্ছে: তারেক রহমান ‘হ্যাঁ’ মানে আজাদি, ‘না’ মানে গোলামি : জামায়াত আমির বিএনপির সমাবেশে অসুস্থ হয়ে কিশোরের মৃত্যু, আহত আরও ২ চমেকে ভর্তি শেখ হাসিনাকে বক্তব্য দিতে দেওয়া বাংলাদেশের গণতন্ত্র ও নিরাপত্তার জন্য হুমকি: পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সিট দেওয়ার মালিক আল্লাহ ও জনগণ : মির্জা আব্বাস ‘নিরাপত্তা উদ্বেগ সমাধান না হওয়াটা দুঃখজনক’:মোহাম্মদ ইউসুফ ‘বাপ-দাদাদের জমি বিক্রি করে রাজনীতি করি,আপনাদের আমানতের খেয়ানত করবো না’:মির্জা ফখরুল আওয়ামী লীগ-ছাত্রলীগ নয়, সরকার অপরাধীদের জামিনের বিরুদ্ধে : স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা পোস্টাল ব্যালট ব্যবস্থার ত্রুটির বিষয়ে ইসির নীরবতা প্রশ্নবিদ্ধ: নজরুল ইসলাম

ডিএনসিসিতে সাড়ে চার হাজার কোটি টাকার বাজেট

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) ২০২০-২০২১ অর্থবছরে চার হাজার ৫০৬ কোটি ৭৫ লাখ টাকার বাজেট অনুমোদিত হয়েছে। একই সঙ্গে ২০১৯-২০২০ অর্থবছরের দুই হাজার ৬০৮ কোটি ৬০ লাখ টাকার সংশোধিত বাজেটও অনুমোদিত হয়।

সোমবার বেলা সাড়ে ১১টায় মেয়র আতিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে এবং কাউন্সিলরদের উপস্থিতিতে মিরপুরে ১০ নম্বর ওয়ার্ড কমিউনিটি সেন্টারে অনুষ্ঠিত ডিএনসিসির দ্বিতীয় করপোরেশন সভায় এই বাজেট অনুমোদিত হয়।

করপোরেশন সভার শুরুতে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম অনলাইনের মাধ্যমে শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন। তাজুল ইসলাম মেয়রকে বলেন, ‘আপনাকে সাথে নিয়ে আমরা একটি সুন্দর ঢাকা গড়ে তুলবো।’

সভায় সাবেক মন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম ও সাহারা খাতুন, মেয়রের জ্যেষ্ঠ ভাই প্রকৌশলী শফিকুল ইসলাম এবং কোভিড-১৯ এ আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণকারী সবাইকে স্মরণ করে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।

বাজেটের বিষয়ে মেয়র আতিকুল ইসলাম বলেন, ‘এই বাজেটে রাজস্ব ব্যয়কে সীমিত রেখে উন্নয়ন ব্যয়কে অগ্রাধিকার দেয়া হয়েছে। ২০২০-২১ অর্থবছরের বাজেটে মশক নিধন, নগরীর বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, সম্প্রসারিত নতুন ওয়ার্ডগুলোর উন্নয়নকে অধিক গুরুত্ব দেয়া হয়েছে।’

এদিকে ২০১৯-২০ অর্থবছরে রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল এক হাজার ১০৬ কোটি ৪০ লাখ টাকা। তবে সংশোধিত বাজেটে তা ৬৪২ কোটি ৪০ লাখ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

এবিষয়ে ডিএনসিসি মেয়র বলেন, ‘মূলত হোল্ডিং ট্যাক্স, বাজার সালামি, ট্রেড লাইসেন্স ফি, সম্পত্তি হস্তান্তর করা লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী আদায় না হওয়ায় মোট রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হয়নি।’

২০২০-২১ অর্থবছরে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ৯৬১ কোটি ৬৫ লক্ষ টাকা ধরা হয়েছে। ‘রাজস্ব আয়’ ছাড়া ‘অন্যান্য আয়’ ১২ কোটি টাকা এবং ‘সরকারি অনুদান’ ১৫০ কোটি টাকা এবং ‘সরকারি ও বিদেশি সাহায্যপুষ্ট প্রকল্প’ থেকে তিন হাজার ১০ কোটি ৮৫ লাখ টাকা আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে।

২০২০-২১ অর্থবছরে মোট রাজস্ব ব্যয় ধরা হয়েছে ৬১৯ কোটি ৮৫ লাখ টাকা। যার ৭০ কোটি টাকা ‘মশক নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম’ খাতে এবং একশো কোটি টাকা ‘নগরীর বর্জ্য ব্যবস্থাপনা’ খাতে ধরা হয়েছে।

মেয়র বলেন, ‘নতুন ১৮টি ওয়ার্ডে জরুরি নাগরিক সেবা যেমন মশক নিধন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বাবদ ব্যয় করতে হচ্ছে। আবার এ ১৮টি ওয়ার্ড থেকে ডিএনসিসির আয় একেবারে শূন্য। এই ১৮টি ওয়ার্ডে অবস্থিত বাণিজ্যিক ও শিল্প প্রতিষ্ঠান থেকে হোল্ডিং ট্যাক্স আদায় করার বিষয়ে আমরা ভাবছি।’

২০২০-২০২১ অর্থবছরে ‘অন্যান্য ব্যয়’ ১৩ কোটি টাকা এবং ‘মোট উন্নয়ন বাজেট’ বাবদ ব্যয় তিন হাজার ৬৬০ কোটি টাকা প্রস্তাব করা হয়েছে। এর মধ্যে ‘নিজস্ব উৎস ও সরকারি অনুদান’ থেকে ৫৯৯ কোটি ১৫ লাখ টাকা, ‘সরকারি বিশেষ অনুদান’ ৫০ কোটি টাকা, এবং ‘সরকারি ও বিদেশি সাহায্যপুষ্ট প্রকল্প’ বাস্তবায়ন বাবদ তিন হাজার ১০ কোটি ৮৫ লাখ টাকা ধরা হয়েছে।

এসময় হোল্ডিং ট্যাক্স আদায়ের ওপর জোর দিতে ওয়ার্ড কাউন্সিলরদের প্রতি আহ্বান জানান উত্তর সিটি মেয়র।

চলতি বর্ষা মৌসুমে ডিএনসিসির ৫৪টি ওয়ার্ডের প্রতিটিতে কমপক্ষে এক হাজার গাছ লাগানোর কথা জানিয়েছেন মেয়র আতিকুল ইসলাম।

সভায় অন্যান্যের মধ্যে ডিএনসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আবদুল হাই, সচিব রবীন্দ্রশ্রী বড়ুয়া, বিভাগীয় প্রধানরা উপস্থিত ছিলেন।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

‘ডাকসু ছিল মাদকের আড্ডা-বেশ্যাখানা’:জামায়াত নেতার

ডিএনসিসিতে সাড়ে চার হাজার কোটি টাকার বাজেট

আপডেট সময় ০৬:৪৭:৩২ অপরাহ্ন, সোমবার, ২০ জুলাই ২০২০

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) ২০২০-২০২১ অর্থবছরে চার হাজার ৫০৬ কোটি ৭৫ লাখ টাকার বাজেট অনুমোদিত হয়েছে। একই সঙ্গে ২০১৯-২০২০ অর্থবছরের দুই হাজার ৬০৮ কোটি ৬০ লাখ টাকার সংশোধিত বাজেটও অনুমোদিত হয়।

সোমবার বেলা সাড়ে ১১টায় মেয়র আতিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে এবং কাউন্সিলরদের উপস্থিতিতে মিরপুরে ১০ নম্বর ওয়ার্ড কমিউনিটি সেন্টারে অনুষ্ঠিত ডিএনসিসির দ্বিতীয় করপোরেশন সভায় এই বাজেট অনুমোদিত হয়।

করপোরেশন সভার শুরুতে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম অনলাইনের মাধ্যমে শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন। তাজুল ইসলাম মেয়রকে বলেন, ‘আপনাকে সাথে নিয়ে আমরা একটি সুন্দর ঢাকা গড়ে তুলবো।’

সভায় সাবেক মন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম ও সাহারা খাতুন, মেয়রের জ্যেষ্ঠ ভাই প্রকৌশলী শফিকুল ইসলাম এবং কোভিড-১৯ এ আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণকারী সবাইকে স্মরণ করে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।

বাজেটের বিষয়ে মেয়র আতিকুল ইসলাম বলেন, ‘এই বাজেটে রাজস্ব ব্যয়কে সীমিত রেখে উন্নয়ন ব্যয়কে অগ্রাধিকার দেয়া হয়েছে। ২০২০-২১ অর্থবছরের বাজেটে মশক নিধন, নগরীর বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, সম্প্রসারিত নতুন ওয়ার্ডগুলোর উন্নয়নকে অধিক গুরুত্ব দেয়া হয়েছে।’

এদিকে ২০১৯-২০ অর্থবছরে রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল এক হাজার ১০৬ কোটি ৪০ লাখ টাকা। তবে সংশোধিত বাজেটে তা ৬৪২ কোটি ৪০ লাখ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

এবিষয়ে ডিএনসিসি মেয়র বলেন, ‘মূলত হোল্ডিং ট্যাক্স, বাজার সালামি, ট্রেড লাইসেন্স ফি, সম্পত্তি হস্তান্তর করা লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী আদায় না হওয়ায় মোট রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হয়নি।’

২০২০-২১ অর্থবছরে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ৯৬১ কোটি ৬৫ লক্ষ টাকা ধরা হয়েছে। ‘রাজস্ব আয়’ ছাড়া ‘অন্যান্য আয়’ ১২ কোটি টাকা এবং ‘সরকারি অনুদান’ ১৫০ কোটি টাকা এবং ‘সরকারি ও বিদেশি সাহায্যপুষ্ট প্রকল্প’ থেকে তিন হাজার ১০ কোটি ৮৫ লাখ টাকা আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে।

২০২০-২১ অর্থবছরে মোট রাজস্ব ব্যয় ধরা হয়েছে ৬১৯ কোটি ৮৫ লাখ টাকা। যার ৭০ কোটি টাকা ‘মশক নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম’ খাতে এবং একশো কোটি টাকা ‘নগরীর বর্জ্য ব্যবস্থাপনা’ খাতে ধরা হয়েছে।

মেয়র বলেন, ‘নতুন ১৮টি ওয়ার্ডে জরুরি নাগরিক সেবা যেমন মশক নিধন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বাবদ ব্যয় করতে হচ্ছে। আবার এ ১৮টি ওয়ার্ড থেকে ডিএনসিসির আয় একেবারে শূন্য। এই ১৮টি ওয়ার্ডে অবস্থিত বাণিজ্যিক ও শিল্প প্রতিষ্ঠান থেকে হোল্ডিং ট্যাক্স আদায় করার বিষয়ে আমরা ভাবছি।’

২০২০-২০২১ অর্থবছরে ‘অন্যান্য ব্যয়’ ১৩ কোটি টাকা এবং ‘মোট উন্নয়ন বাজেট’ বাবদ ব্যয় তিন হাজার ৬৬০ কোটি টাকা প্রস্তাব করা হয়েছে। এর মধ্যে ‘নিজস্ব উৎস ও সরকারি অনুদান’ থেকে ৫৯৯ কোটি ১৫ লাখ টাকা, ‘সরকারি বিশেষ অনুদান’ ৫০ কোটি টাকা, এবং ‘সরকারি ও বিদেশি সাহায্যপুষ্ট প্রকল্প’ বাস্তবায়ন বাবদ তিন হাজার ১০ কোটি ৮৫ লাখ টাকা ধরা হয়েছে।

এসময় হোল্ডিং ট্যাক্স আদায়ের ওপর জোর দিতে ওয়ার্ড কাউন্সিলরদের প্রতি আহ্বান জানান উত্তর সিটি মেয়র।

চলতি বর্ষা মৌসুমে ডিএনসিসির ৫৪টি ওয়ার্ডের প্রতিটিতে কমপক্ষে এক হাজার গাছ লাগানোর কথা জানিয়েছেন মেয়র আতিকুল ইসলাম।

সভায় অন্যান্যের মধ্যে ডিএনসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আবদুল হাই, সচিব রবীন্দ্রশ্রী বড়ুয়া, বিভাগীয় প্রধানরা উপস্থিত ছিলেন।