ঢাকা ০১:১৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৪ জানুয়ারী ২০২৬, ১ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
বাঞ্ছারামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার মৃত্যু নির্বাচনে ভুয়া তথ্য মোকাবিলায় জাতিসংঘের সহায়তা চাইলেন মুহাম্মদ ইউনূস থাইল্যান্ডে চলন্ত ট্রেনের ওপর ভেঙে পড়ল ক্রেন, নিহত ২২ জাস্টিস ফর হাদি, ইনশাআল্লাহ : মির্জা ফখরুল আলমগীর টাকা খেয়ে ভোট দিলে নেতা এসে রাস্তা খেয়ে ফেলবে: আখতার হোসেন সুষ্ঠু নির্বাচনে জার্মানির সহায়তা চাইলেন জামায়াত আমির জাতীয় পতাকা হাতে প্যারাস্যুট জাম্প, গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে বাংলাদেশ বরেণ্য লোকসংগীতশিল্পী ও মুক্তিযুদ্ধের কণ্ঠযোদ্ধা মলয় কুমার মারা গেছেন ভবিষ্যৎ অর্থনীতির শক্ত ভিত্তি গড়ার দায়িত্ব সরকারের : আশিক মাহমুদ গণভোটে ‘হ্যাঁ’র পক্ষে বিএনপি : নজরুল ইসলাম খান

লাব্বায়েক ধ্বনিতে আরাফাত ময়দান মুখরিত হওয়ার দিন আজ

অাকাশ আর্ন্তজাতিক ডেস্ক:

সৌদি আরবে শুরু হয়েছে হজের আনুষ্ঠানিকতা। ২৯ আগস্ট রাত থেকে মিনায় মুসল্লিদের উপস্থিতি শুরুর মধ্য দিয়ে হজের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। হজের অংশ হিসেবে মুসল্লিরা মিনা, আরাফাত ময়দান, মুজদালিফা, মক্কা ও মিনায় পাঁচদিন অবস্থান করবেন। বৃহস্পতিবার (৩১ আগস্ট) ফজরসহ পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায়ের পর তারা যাবেন মিনা থেকে ১০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে অবস্থিত আরাফাতের ময়দানের দিকে। আরাফাতে যাওয়ার দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে মুসল্লিরা পায়ে হেঁটে, হুইল চেয়ারে, বাসে- যে যেভাবে পারেন পৌঁছাবেন। সবার শরীর সাদা কাপড়ে ঢাকা থাকবে। তাদের ‘লাব্বায়েক আল্লাহুম্মা লাব্বায়েক’ ধ্বনিতে মুখরিত হবে আরাফাতের ময়দান।

সারা বিশ্বের ২০ লাখ মানুষ অংশ নিচ্ছেন হজে। বাংলাদেশ থেকে গিয়েছেন ১ লাখ ২৭ হাজার ২২৯ জন। ইসলামের মূল ৫টি স্তম্ভের মধ্যে হজ হচ্ছে পঞ্চম স্তম্ভ। হিজরি বর্ষপঞ্জীর জ্বিলহজ মাসের ৮ থেকে ১২ তারিখ হজ পালনের জন্য নির্ধারিত সময়। ইসলাম ধর্মমতে, শারীরিক ও আর্থিকভাবে সক্ষম প্রত্যেক মুসলমানের জন্য জীবনে একবার হজ পালন করা ফরজ।

হজের গুরুত্ব ও তাৎপর্য প্রসঙ্গে মুফতী আনসারুল হক ইমরান বলেন, ‘হজের তাৎপর্য ও গুরুত্ব অপরিসীম। কাবাঘরে সর্বপ্রথম হজ আদায় করেন আদম (আ.)। হজকে উত্তম ইবাদত বলা হয়। হজ পালনের প্রতিটি পদক্ষেপের মধ্য দিয়ে স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয় আল্লাহ হুকুম ও পাপ থেকে দূরে থাকার বিষয়গুলো। যখন কোনও মুসলমান হজের জন্য এহরামের কাপড় গায়ে জড়িয়ে আত্মীয়-স্বজন ছেড়ে হজের জন্য গৃহত্যাগ করেন তখন মনে করিয়ে দেওয়া হয় আখেরাতের পথে রওয়ানা হওয়াকে। এহরামের কাপড় পরে পবিত্র হয়ে আল্লাহর ঘরে ‘লাব্বাইক’ বলে হাজির হওয়ার মনে করিয়ে দেয়, মৃত্যুর পরেও আল্লাহর দরবারে হাজির হতে হবে। স্মরণ করিয়ে দেয় এহরামের কাপড়ের মতো সাদা, পরিচ্ছন্ন অন্তর নিয়ে আল্লাহর সামনে হাজির হতে হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘কোরআন শরিফ ও হাদিস শরিফের হজের গুরুত্ব তুলে ধরা হয়েছে। পবিত্র কোরআনে একটি সূরা আছে যার নাম “হজ”। সঠিক পদ্ধতিতে হজ পালন করেলে মানুষ শিশুদের মতো নিষ্পাপ হয়ে যায়। রাসূল (স.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে হজ করলো এবং হজ সম্পাদনকালে কোনও প্রকার অশ্লীল কথা ও কাজ কিংবা গোনাহের কাজে লিপ্ত হয়নি, সে সদ্যোজাত নিষ্পাপ শিশুর মতো প্রত্যাবর্তন করল।”

ইহরাম অবস্থায় বেশ কিছু কাজ নিষিদ্ধ উল্লেখ করে মুফতী আনসারুল হক ইমরান বলেন, ‘নিষেধ করা হয়েছে ঝগড়া করা, কথা ও কাজে কাউকে কষ্ট দেওয়া। অর্থাৎ সহনশীল জীবন যাপনে অভ্যস্ত হতে শিক্ষা দেয় হজ। শিক্ষা দেয়, মুসলানদের ঝগড়াটে না হয়ে, ক্ষমা ও ধৈর্যশীল জীবনের। হজের সময় কোনও ধরনের শিকার করা যাবে না। ক্ষতিকর নয়, এমন কোনও প্রাণী মারা যাবে না। ফল হজ আমাদের শুধু মানুষ নয়, প্রাণীদের প্রতি দয়াশীল হতেও শিক্ষা দেয়।’

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

লাব্বায়েক ধ্বনিতে আরাফাত ময়দান মুখরিত হওয়ার দিন আজ

আপডেট সময় ০১:৫৪:১৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩১ অগাস্ট ২০১৭

অাকাশ আর্ন্তজাতিক ডেস্ক:

সৌদি আরবে শুরু হয়েছে হজের আনুষ্ঠানিকতা। ২৯ আগস্ট রাত থেকে মিনায় মুসল্লিদের উপস্থিতি শুরুর মধ্য দিয়ে হজের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। হজের অংশ হিসেবে মুসল্লিরা মিনা, আরাফাত ময়দান, মুজদালিফা, মক্কা ও মিনায় পাঁচদিন অবস্থান করবেন। বৃহস্পতিবার (৩১ আগস্ট) ফজরসহ পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায়ের পর তারা যাবেন মিনা থেকে ১০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে অবস্থিত আরাফাতের ময়দানের দিকে। আরাফাতে যাওয়ার দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে মুসল্লিরা পায়ে হেঁটে, হুইল চেয়ারে, বাসে- যে যেভাবে পারেন পৌঁছাবেন। সবার শরীর সাদা কাপড়ে ঢাকা থাকবে। তাদের ‘লাব্বায়েক আল্লাহুম্মা লাব্বায়েক’ ধ্বনিতে মুখরিত হবে আরাফাতের ময়দান।

সারা বিশ্বের ২০ লাখ মানুষ অংশ নিচ্ছেন হজে। বাংলাদেশ থেকে গিয়েছেন ১ লাখ ২৭ হাজার ২২৯ জন। ইসলামের মূল ৫টি স্তম্ভের মধ্যে হজ হচ্ছে পঞ্চম স্তম্ভ। হিজরি বর্ষপঞ্জীর জ্বিলহজ মাসের ৮ থেকে ১২ তারিখ হজ পালনের জন্য নির্ধারিত সময়। ইসলাম ধর্মমতে, শারীরিক ও আর্থিকভাবে সক্ষম প্রত্যেক মুসলমানের জন্য জীবনে একবার হজ পালন করা ফরজ।

হজের গুরুত্ব ও তাৎপর্য প্রসঙ্গে মুফতী আনসারুল হক ইমরান বলেন, ‘হজের তাৎপর্য ও গুরুত্ব অপরিসীম। কাবাঘরে সর্বপ্রথম হজ আদায় করেন আদম (আ.)। হজকে উত্তম ইবাদত বলা হয়। হজ পালনের প্রতিটি পদক্ষেপের মধ্য দিয়ে স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয় আল্লাহ হুকুম ও পাপ থেকে দূরে থাকার বিষয়গুলো। যখন কোনও মুসলমান হজের জন্য এহরামের কাপড় গায়ে জড়িয়ে আত্মীয়-স্বজন ছেড়ে হজের জন্য গৃহত্যাগ করেন তখন মনে করিয়ে দেওয়া হয় আখেরাতের পথে রওয়ানা হওয়াকে। এহরামের কাপড় পরে পবিত্র হয়ে আল্লাহর ঘরে ‘লাব্বাইক’ বলে হাজির হওয়ার মনে করিয়ে দেয়, মৃত্যুর পরেও আল্লাহর দরবারে হাজির হতে হবে। স্মরণ করিয়ে দেয় এহরামের কাপড়ের মতো সাদা, পরিচ্ছন্ন অন্তর নিয়ে আল্লাহর সামনে হাজির হতে হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘কোরআন শরিফ ও হাদিস শরিফের হজের গুরুত্ব তুলে ধরা হয়েছে। পবিত্র কোরআনে একটি সূরা আছে যার নাম “হজ”। সঠিক পদ্ধতিতে হজ পালন করেলে মানুষ শিশুদের মতো নিষ্পাপ হয়ে যায়। রাসূল (স.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে হজ করলো এবং হজ সম্পাদনকালে কোনও প্রকার অশ্লীল কথা ও কাজ কিংবা গোনাহের কাজে লিপ্ত হয়নি, সে সদ্যোজাত নিষ্পাপ শিশুর মতো প্রত্যাবর্তন করল।”

ইহরাম অবস্থায় বেশ কিছু কাজ নিষিদ্ধ উল্লেখ করে মুফতী আনসারুল হক ইমরান বলেন, ‘নিষেধ করা হয়েছে ঝগড়া করা, কথা ও কাজে কাউকে কষ্ট দেওয়া। অর্থাৎ সহনশীল জীবন যাপনে অভ্যস্ত হতে শিক্ষা দেয় হজ। শিক্ষা দেয়, মুসলানদের ঝগড়াটে না হয়ে, ক্ষমা ও ধৈর্যশীল জীবনের। হজের সময় কোনও ধরনের শিকার করা যাবে না। ক্ষতিকর নয়, এমন কোনও প্রাণী মারা যাবে না। ফল হজ আমাদের শুধু মানুষ নয়, প্রাণীদের প্রতি দয়াশীল হতেও শিক্ষা দেয়।’