ঢাকা ০৮:৫৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৫ অগাস্ট ২০২৬, ৩১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ নতুন দলের আত্মপ্রকাশ, নেতৃত্বে যারা ইরানের সামনে এখন কেবল দুই পথ—চুক্তি অথবা আত্মসমর্পণ: ট্রাম্প পাঁচ দফা দাবিতে সরকারি কর্মচারীদের অবস্থান কর্মসূচি সরকার দমনে ব্যস্ত, দ্রব্যমূল্য-গ্যাস নিয়ে মাথাব্যথা নেই: গোলাম পরওয়ার দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে আশা বাণিজ্যমন্ত্রীর সম্পত্তি দানের পরও আজীবন ভোগদখলের সুযোগ, মন্ত্রিসভায় খসড়া পাশ শেখ হাসিনা যেন রাজনৈতিক বক্তব্য দিতে না পারেন, ভারতীয় হাইকমিশনারকে হুমায়ুন কবির রাষ্ট্র পরিচালনায় ‘নতুন মাত্রা’ যোগ করেছেন তারেক রহমান: চীনা রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশে কারিগরি ও ক্রীড়া শিক্ষায় সহযোগিতার আগ্রহ অস্ট্রেলিয়ার

নারী ক্রীড়াবিদ সান্ত্বনাকে ১০ লাখ টাকা দিলেন প্রধানমন্ত্রী

আকাশ স্পোর্টস ডেস্ক:  

লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলার সংগ্রামী নারী ক্রীড়াবিদ সান্ত্বনা রানী রায়কে (৩৬) ১০ লাখ টাকা অনুদান দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) বিকেলে নিজ কার্যালয়ে প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে তার হাতে অনুদানের চেক তুলে দেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. জাহিদ আহসান রাসেল এমপি।

ক্রীড়াবিদ সান্ত্বনা রানী রায় উপজেলার সারপুকুর ইউনিয়নের হরিদাস গ্রামের সুবাশ চন্দ্র রায় ও যমুনা রানী রায় দম্পতির মেয়ে। তিনি তায়কোয়ান্দোর আন্তর্জাতিক আসরে বেশ কয়েকটি পুরস্কার অর্জন করে খ্যাতি অর্জন করেন।

জানা গেছে, গরিব কৃষকের ঘরে জন্ম নেয়া সান্ত্বনা রানী রায় কিশোর বয়স থেকে খেলাধুলার প্রতি বেশ আগ্রহী ছিলেন। অভাবের সঙ্গে নিত্য লড়াই করে স্থানীয় হরিদাস দ্বি-মুখী উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি এবং আদিতমারী কান্তেশ্বর বর্মণ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ থেকে এইচএসসি পাশ করেন তিনি। এরপর রংপুর সরকারি কলেজ থেকে ইতিহাস বিভাগে অনার্স পাশ করেন। রংপুর স্টেডিয়ামে মার্শাল আর্ট ট্রেনিংয়ে ভর্তি হয়ে কোর্সও সম্পন্ন করেন।

২০১১ সালে প্রথমবারের মতো জাতীয় আইটিএফ তায়কোয়ান্দো চ্যাম্পিয়নশিপে অংশ নিয়ে রৌপ্য পদক পান সান্ত্বনা। এরপর ২০১২ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত পাঁচটি আসরে স্বর্ণ জিতে নিজেকে দেশসেরা প্রমাণ করেন তিনি। এভাবে টানা সাফল্যের পর জায়গা করে নেন বিশ্বকাপ দলে। ২০১৭ সালে উত্তর কোরিয়ায় অনুষ্ঠিত ২০তম বিশ্ব তায়কোয়ান্দো প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে ব্রোঞ্জ পদক অর্জন করেন। এ ছাড়াও ৫টি ঘরোয়া প্রতিযোগিতা ও দুটি আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে ৫টি স্বর্ণ এবং একটি করে রৌপ্য ও ব্রোঞ্জ পদক পেয়েছেন সংগ্রামী এ নারী ক্রীড়াবিদ।

অভাবের সঙ্গে লড়াই করে নিজের লক্ষ্যে এগিয়ে চলা এ সংগ্রামী নারী দেশের জন্যও সুনাম বয়ে এনেছেন। দেশের গণমাধ্যমে তার সংগ্রামী ও গৌরবময় জীবন চিত্র তুলে ধরে খবর প্রকাশিত হলে বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার নজরে আসেন সান্ত্বনা রানী রায়। তাকে উৎসাহ দিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাকে ১০ লাখ টাকার একটি চেক প্রদান করেন। চেকটি প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে বৃহস্পতিবার বিকেলে সান্ত্বনা রানীর হাতে তুলে দেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী।

সান্ত্বনার প্রতিবেশী সাপ্টিবাড়ি ডিগ্রী কলেজের প্রভাষক কৃষিবিদ হযরত আলী বলেন, অবহেলিত এ গ্রামের মেয়ে সান্ত্বনা রানী রায় শুধু এ গ্রামের মুখ উজ্বল করেনি। বরং দেশের সুনাম বৃদ্ধি করেছেন। প্রধানমন্ত্রীর এ অনুদান তাকে আরো এগিয়ে যাওয়ার অনুপ্রেরণা দেবে।

প্রধানমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে সান্ত্বনা রানী রায় বলেন, আমার বিপদের সময় পাশে দাঁড়ানোর জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি আমি চিরকৃতজ্ঞ। আমার সকল অর্জন দেশবাসীর জন্য। আগামীতে দেশের হয়ে আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় শিরোপা অর্জনের জন্য দেশবাসীর কাছে দোয়া ও আশীর্বাদ কামনা করেন তিনি।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ

নারী ক্রীড়াবিদ সান্ত্বনাকে ১০ লাখ টাকা দিলেন প্রধানমন্ত্রী

আপডেট সময় ০৯:৫৮:১৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২০

আকাশ স্পোর্টস ডেস্ক:  

লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলার সংগ্রামী নারী ক্রীড়াবিদ সান্ত্বনা রানী রায়কে (৩৬) ১০ লাখ টাকা অনুদান দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) বিকেলে নিজ কার্যালয়ে প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে তার হাতে অনুদানের চেক তুলে দেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. জাহিদ আহসান রাসেল এমপি।

ক্রীড়াবিদ সান্ত্বনা রানী রায় উপজেলার সারপুকুর ইউনিয়নের হরিদাস গ্রামের সুবাশ চন্দ্র রায় ও যমুনা রানী রায় দম্পতির মেয়ে। তিনি তায়কোয়ান্দোর আন্তর্জাতিক আসরে বেশ কয়েকটি পুরস্কার অর্জন করে খ্যাতি অর্জন করেন।

জানা গেছে, গরিব কৃষকের ঘরে জন্ম নেয়া সান্ত্বনা রানী রায় কিশোর বয়স থেকে খেলাধুলার প্রতি বেশ আগ্রহী ছিলেন। অভাবের সঙ্গে নিত্য লড়াই করে স্থানীয় হরিদাস দ্বি-মুখী উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি এবং আদিতমারী কান্তেশ্বর বর্মণ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ থেকে এইচএসসি পাশ করেন তিনি। এরপর রংপুর সরকারি কলেজ থেকে ইতিহাস বিভাগে অনার্স পাশ করেন। রংপুর স্টেডিয়ামে মার্শাল আর্ট ট্রেনিংয়ে ভর্তি হয়ে কোর্সও সম্পন্ন করেন।

২০১১ সালে প্রথমবারের মতো জাতীয় আইটিএফ তায়কোয়ান্দো চ্যাম্পিয়নশিপে অংশ নিয়ে রৌপ্য পদক পান সান্ত্বনা। এরপর ২০১২ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত পাঁচটি আসরে স্বর্ণ জিতে নিজেকে দেশসেরা প্রমাণ করেন তিনি। এভাবে টানা সাফল্যের পর জায়গা করে নেন বিশ্বকাপ দলে। ২০১৭ সালে উত্তর কোরিয়ায় অনুষ্ঠিত ২০তম বিশ্ব তায়কোয়ান্দো প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে ব্রোঞ্জ পদক অর্জন করেন। এ ছাড়াও ৫টি ঘরোয়া প্রতিযোগিতা ও দুটি আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে ৫টি স্বর্ণ এবং একটি করে রৌপ্য ও ব্রোঞ্জ পদক পেয়েছেন সংগ্রামী এ নারী ক্রীড়াবিদ।

অভাবের সঙ্গে লড়াই করে নিজের লক্ষ্যে এগিয়ে চলা এ সংগ্রামী নারী দেশের জন্যও সুনাম বয়ে এনেছেন। দেশের গণমাধ্যমে তার সংগ্রামী ও গৌরবময় জীবন চিত্র তুলে ধরে খবর প্রকাশিত হলে বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার নজরে আসেন সান্ত্বনা রানী রায়। তাকে উৎসাহ দিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাকে ১০ লাখ টাকার একটি চেক প্রদান করেন। চেকটি প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে বৃহস্পতিবার বিকেলে সান্ত্বনা রানীর হাতে তুলে দেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী।

সান্ত্বনার প্রতিবেশী সাপ্টিবাড়ি ডিগ্রী কলেজের প্রভাষক কৃষিবিদ হযরত আলী বলেন, অবহেলিত এ গ্রামের মেয়ে সান্ত্বনা রানী রায় শুধু এ গ্রামের মুখ উজ্বল করেনি। বরং দেশের সুনাম বৃদ্ধি করেছেন। প্রধানমন্ত্রীর এ অনুদান তাকে আরো এগিয়ে যাওয়ার অনুপ্রেরণা দেবে।

প্রধানমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে সান্ত্বনা রানী রায় বলেন, আমার বিপদের সময় পাশে দাঁড়ানোর জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি আমি চিরকৃতজ্ঞ। আমার সকল অর্জন দেশবাসীর জন্য। আগামীতে দেশের হয়ে আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় শিরোপা অর্জনের জন্য দেশবাসীর কাছে দোয়া ও আশীর্বাদ কামনা করেন তিনি।