ঢাকা ০৬:১৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ১২ জানুয়ারী ২০২৬, ২৯ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
চট্টগ্রামে পুলিশ সদস্য কাইয়ুম হত্যা মামলায়, ১০ জনের যাবজ্জীবন ট্রেনের ধাক্কায় দুমড়ে-মুচড়ে গেল পিকআপ, দুই ভাইসহ নিহত ৩ দেশ গড়ার ক্ষেত্রে শ্রমিকদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ : মঈন খান মোস্তাফিজকে বাদ দিয়ে বিশ্বকাপ দল গঠনের সুপারিশ আইসিসির আমরা মা-বোনদের নিরাপত্তার ব্যাপারে অত্যন্ত এটেন্টিভ : ডা. শফিকুর রহমান আন্তর্জাতিক আদালতে সাক্ষ্য দিতে যাচ্ছেন তিন রোহিঙ্গা নির্বাচনে ৫ লাখ ৫৫ হাজার আনসার-ভিডিপি দায়িত্ব পালন করবে: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা কুড়িগ্রামের রৌমারী সীমান্তে গুলি ছুড়ে যুবককে ধরে নিয়ে গেল বিএসএফ ইরানি কর্তৃপক্ষকে ‘সর্বোচ্চ সংযম’ প্রদর্শনের আহ্বান জাতিসংঘ মহাসচিবের দাঁড়িপাল্লার পক্ষে না থাকলে মাহফিল শোনার দরকার নেই :জামায়াতের আমির মো. মিজানুর রহমান

বিয়ের দুইদিনের মাথায় করোনার উপসর্গ নিয়ে পাত্রের মৃত্যু; সংক্রমিত শতাধিক

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:  

বাড়ির সদস্যের জোড়াজুড়িতে প্রবল জ্বর নিয়ে বিয়ের পিঁড়িতে বসেছিল পাত্র। বিয়ের অনুষ্ঠান ভালভাবে মিটলেও দুইদিন পর শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে থাকে পাত্রের। এই অবস্থায় ভারতের বিহারের রাজধানী পাটনার অল ইন্ডিয়া ইন্সিটিউট অব মেডিকেল সায়েন্সেস (এইমস) হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু তার আগেই পথেই মারা যান পাত্র। পরে জানা যায় করোনাভাইরাসের উপসর্গ ছিল বিহারের ওই বাসিন্দার শরীরে। যদিও জেলা প্রশাসনকে না জানিয়েই তার শেষকৃত্য সম্পন্ন করা হয়। বিয়ে বাড়ি থেকেই ছড়িয়ে পড়া করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে প্রায় শতাধিক মানুষ, যাদের শরীরে আবার কোন উপসর্গই ছিলনা।

স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, গুরুগ্রামের একটি সংস্থায় সফটওয়ার ইঞ্জিনিয়ার হিসাবে কাজ করতেন পাত্র। বিয়ের জন্য গত ১২ মে বিহারের ডিহাপালি গ্রামের বাড়িতে ফেরেন তিনি। এরপরই তার শরীরে করোনার উপসর্গ দেখা দেয়। যদিও পাটনা হাসপাতালে ডাইরিয়ার চিকিৎসা করা হয় তার। এমন অবস্থায় গত ১৫ জুন বিয়ের দিন তার প্রবল জ্বর আসে। সেই কারণে বিয়ের অনুষ্ঠান পিছিয়ে দিতে চাইলেও পরিবারের সদস্যরা জোড়াজুড়ি করেন। ফলে একপ্রকার বাধ্য হয়েই জ্বর কমানোর ওষুধ খেয়েই বিয়ে করতে যান পাত্র।

বিয়ের দুই দিন পর ১৭ জুন পাত্রের শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়। তখনই তাকে পাটনার এইমস হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় কিন্তু পথেই মারা যান তিনি। কিন্তু করোনার উপসর্গ থাকা সত্ত্বেও প্রশাসনকে না জানিয়েই পাত্রের বাড়ির সদস্যরা তড়িঘড়ি মরদেহটির শেষকৃত্য মিটিয়ে ফেলেন বলে অভিযোগ। যদিও এরই মধ্যে কোন একজন ব্যক্তি জেলা শাসক শ্রী কুমার রবি-কে ফোন করে ঘটনার কথা জানান।

জানা গেছে, পাটনা থেকে ৫০ কিলোমিটার দূরে জেলার পালিগঞ্জ এলাকায় বিয়ের অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন প্রায় ৩৫০ জন অতিথি। ওই ঘটনা সামনে আসার পরই বিয়েবাড়ির অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়া পাত্রের নিকট আত্মীয় ও পরিজনদের ১৯ জুন করোনার পরীক্ষা করা হয়। দেখা যায় তাদের মধ্যে ১৫ জনের রিপোর্টে করোনা পজিটিভ আসে। পরিস্থিতির কথা বিবেচনা করেই গত সপ্তাহেই তিনদিন সেই গ্রামটিতে বিশেষ স্বাস্থ্য শিবির খোলা হয়। পাত্র পক্ষের সংস্পর্শে আসা মোট ৩৬৪ জনের নমুনা সংগ্রহ করে তা পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়, দেখা যায় ৮৬ জনের শরীরে করোনা পজিটিভ রয়েছে। তাদের সকলকেই বিহতা এবং ফুলওয়াড়ি শরিফের আইসোলেশন কেন্দ্রে ভর্তি করানো হয়েছে। এই ঘটনায় গোটা গ্রাম জুড়ে রীতিমতো আতঙ্ক ছড়িয়েছে। যদিও পাত্রীর নমুনা পরীক্ষা করে দেখা যায় তার করোনা নেগেটিভ আসে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

পাকিস্তানে পৃথক বোমা বিস্ফোরণে ৮ পুলিশ নিহত

বিয়ের দুইদিনের মাথায় করোনার উপসর্গ নিয়ে পাত্রের মৃত্যু; সংক্রমিত শতাধিক

আপডেট সময় ০১:৩২:৪৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ১ জুলাই ২০২০

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:  

বাড়ির সদস্যের জোড়াজুড়িতে প্রবল জ্বর নিয়ে বিয়ের পিঁড়িতে বসেছিল পাত্র। বিয়ের অনুষ্ঠান ভালভাবে মিটলেও দুইদিন পর শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে থাকে পাত্রের। এই অবস্থায় ভারতের বিহারের রাজধানী পাটনার অল ইন্ডিয়া ইন্সিটিউট অব মেডিকেল সায়েন্সেস (এইমস) হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু তার আগেই পথেই মারা যান পাত্র। পরে জানা যায় করোনাভাইরাসের উপসর্গ ছিল বিহারের ওই বাসিন্দার শরীরে। যদিও জেলা প্রশাসনকে না জানিয়েই তার শেষকৃত্য সম্পন্ন করা হয়। বিয়ে বাড়ি থেকেই ছড়িয়ে পড়া করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে প্রায় শতাধিক মানুষ, যাদের শরীরে আবার কোন উপসর্গই ছিলনা।

স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, গুরুগ্রামের একটি সংস্থায় সফটওয়ার ইঞ্জিনিয়ার হিসাবে কাজ করতেন পাত্র। বিয়ের জন্য গত ১২ মে বিহারের ডিহাপালি গ্রামের বাড়িতে ফেরেন তিনি। এরপরই তার শরীরে করোনার উপসর্গ দেখা দেয়। যদিও পাটনা হাসপাতালে ডাইরিয়ার চিকিৎসা করা হয় তার। এমন অবস্থায় গত ১৫ জুন বিয়ের দিন তার প্রবল জ্বর আসে। সেই কারণে বিয়ের অনুষ্ঠান পিছিয়ে দিতে চাইলেও পরিবারের সদস্যরা জোড়াজুড়ি করেন। ফলে একপ্রকার বাধ্য হয়েই জ্বর কমানোর ওষুধ খেয়েই বিয়ে করতে যান পাত্র।

বিয়ের দুই দিন পর ১৭ জুন পাত্রের শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়। তখনই তাকে পাটনার এইমস হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় কিন্তু পথেই মারা যান তিনি। কিন্তু করোনার উপসর্গ থাকা সত্ত্বেও প্রশাসনকে না জানিয়েই পাত্রের বাড়ির সদস্যরা তড়িঘড়ি মরদেহটির শেষকৃত্য মিটিয়ে ফেলেন বলে অভিযোগ। যদিও এরই মধ্যে কোন একজন ব্যক্তি জেলা শাসক শ্রী কুমার রবি-কে ফোন করে ঘটনার কথা জানান।

জানা গেছে, পাটনা থেকে ৫০ কিলোমিটার দূরে জেলার পালিগঞ্জ এলাকায় বিয়ের অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন প্রায় ৩৫০ জন অতিথি। ওই ঘটনা সামনে আসার পরই বিয়েবাড়ির অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়া পাত্রের নিকট আত্মীয় ও পরিজনদের ১৯ জুন করোনার পরীক্ষা করা হয়। দেখা যায় তাদের মধ্যে ১৫ জনের রিপোর্টে করোনা পজিটিভ আসে। পরিস্থিতির কথা বিবেচনা করেই গত সপ্তাহেই তিনদিন সেই গ্রামটিতে বিশেষ স্বাস্থ্য শিবির খোলা হয়। পাত্র পক্ষের সংস্পর্শে আসা মোট ৩৬৪ জনের নমুনা সংগ্রহ করে তা পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়, দেখা যায় ৮৬ জনের শরীরে করোনা পজিটিভ রয়েছে। তাদের সকলকেই বিহতা এবং ফুলওয়াড়ি শরিফের আইসোলেশন কেন্দ্রে ভর্তি করানো হয়েছে। এই ঘটনায় গোটা গ্রাম জুড়ে রীতিমতো আতঙ্ক ছড়িয়েছে। যদিও পাত্রীর নমুনা পরীক্ষা করে দেখা যায় তার করোনা নেগেটিভ আসে।