আকাশ জাতীয় ডেস্ক:
৬৬ দিন বন্ধ থাকার পর আজ বাংলাদেশে সবকিছু খুলে দেওয়া হয়েছে। মানুষ কাজে ফিরেছে, কিন্তু এই কাজে ফেরার পরিণাম কি হবে তা নিয়ে বিশেষজ্ঞরা আতঙ্কে রয়েছেন। বাংলাদেশে এমন এক সময়ে লকডাউন তুলে নিল, যখন আক্রান্তের সংখ্যা আতঙ্কজনকভাবে বাড়ছে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন যে, বাংলাদেশ এখন করোনার সর্বোচ্চ সীমায় প্রবেশ করতে যাচ্ছে। এই সময়ে প্রতিদিন জ্যামিতিক হারে করোনা সংক্রমণ বাড়বে, বাড়বে মৃত্যুর হার এবং সবকিছু খুলে দেওয়ার ফলে সংক্রমণের ঝুঁকি আরো বেশি হবে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন। এর পরিণাম হিসেবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন যে, এর ফলে হাসপাতাল ব্যবস্থার উপর চাপ বাড়বে, করোনা রোগীদের চিকিৎসা দেওয়া কঠিন হয়ে পড়বে।
কিন্তু এই খুলে দেওয়ার ফলাফল কি হবে, কতদিনে হবে- এটা নিয়েও বিশেষজ্ঞরা অবশ্য পরস্পরবিরোধী মতামত দিচ্ছেন। কোন কোন বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন যে, এখন খুলে দেওয়ার পর থেকেই সংক্রমণের হার বাড়তে থাকবে। কারণ বাংলাদেশে ২৬শে এপ্রিল থেকেই গার্মেন্টস-কারখানা খুলে দেয়া হয়েছে। যার ফলে এখন সংক্রমণ বাড়ছে। ঈদের ছুটিতে মানুষ ঢাকা ছেড়েছে, আবার ঢাকায় ফিরে আসছে। এবং সবশেষ এখন সবকিছু খুলে দেওয়ার ফলে সামাজিক সংক্রমণ আরো বাড়বে। অর্থাৎ যখন সামাজিক সংক্রমণ বাড়তে থাকে, তখন সবকিছু বন্ধ করে সংক্রমণ ঠেকানোর যে কৌশল, সেই কৌশল বাংলাদেশের জন্য প্রযোজ্য হবে না। তাই অনেক বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন যে, বাংলাদেশে চূড়ান্ত সীমা বলতে কিছু নেই। বাংলাদেশে সংক্রমণ বাড়তেই থাকবে। যতক্ষণ পর্যন্ত আমরা সামাজিক দুরত্ব এবং স্বাস্থ্যবিধি মেনে না চলি। এই বিবেচনা থেকে মনে করা হচ্ছে যে, সবকিছু খুলে দেওয়ার মাধ্যমে বাংলাদেশে করোনা সংক্রমণের গতি বাড়বে এবং প্রতিদিনই নতুন করে সংক্রমণ বাড়বে।
কিন্তু এই বিশ্লেষণের সঙ্গে একমত নয় অনেক বিশেষজ্ঞরা। তাঁরা মনে করছেন যে, সবকিছু খুলে দেওয়ার সিদ্ধান্তের প্রতিক্রিয়া বুঝতে অন্তত এক সপ্তাহ সময় লাগবে। এর পেছনে তাঁদের যুক্তি হলো, কেবল খুলে দেওয়ার ফলে যে সামাজিক সংক্রমণ হবে, তাঁর প্রতিক্রিয়া বুঝতেও অন্তত সপ্তাহখানেক সময় লাগবে। অর্থাৎ আগামী ৬/৭ জুনের আগে বাংলাদেশে সবকিছু খুলে দেওয়ার সিদ্ধান্তের প্রভাব ইতিবাচক হলো না নেতিবাচক হলো তা বোঝা কঠিন হয়ে দাঁড়াবে।
বিশেষজ্ঞরা আরো মনে করছেন যে, সবকিছু খুলে দেওয়ার ফলে একদিকে যেমন ঝুঁকি সৃষ্টি হয়েছে, অন্যদিকে তেমনি কিছু ইতিবাচক দিকও রয়েছে। ইতিবাচক দিকগুলো ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তাঁরা মনে করছেন, এর ফলে মানুষ অনেক সচেতন হবে। যখন ছুটি ছিল, তখন মানুষ সচেতন ছিলনা। মানুষ অবাধে চলাফেরা করতো, অনেকে মাস্ক ব্যবহার করতো না, অনেকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতো না। কিন্তু এখন সবকিছু খুলে দেওয়ার ফলে মানুষের মাঝে দায়িত্ববোধ অনেক বেড়ে গেল, মানুষ এখন নিজেরা নিজেদের সুরক্ষিত রাখার জন্য চেষ্টা করবে। কারণ মানুষ জানবে যে, তাঁর করোনা সংক্রমিত হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। শেষ বিচারে মানুষ নিজেকে ভালোবাসে। তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন যে, এই খুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে সরকার যে ঝুঁকি বা এক্সপেরিমেন্ট করলো তাঁর ফলাফল কি তা বোঝার জন্য আমাদের কিছুদিন অপেক্ষা করতে হবে। আজ খুলে দেওয়া হয়েছে আগামীকালই করোনা রোগীর সংখ্যা যে হু হু করে বাড়বে- বিষয়টা এমন নয়। সামাজিক সংক্রমণেরও একটি সময়সীমা রয়েছে, একটি নির্দিষ্ট গতিপথ রয়েছে। কাজেই আমাদের করোনাকে চ্যালেঞ্জ করে বা করোনার সঙ্গে বসবাসের কৌশল নিয়ে বাংলাদেশ যখন সবকিছু খুলে দিল, সেই খুলে দেওয়ার ফলাফল বা পরিণাম কি হবে আমাদের তা জানার জন্য কিছুদিন অপেক্ষা করতে হবে।
তবে বাংলাদেশে যে এখন সংক্রমণ বাড়ছে এটার কারণ হিসেবে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন শিথিল ছুটি, স্বাস্থ্যবিধি না মেনে চলা, এক স্থান থেকে অন্য স্থানে চলাচলের প্রবণতা ইত্যাদি কারণগুলোর ফলে বাংলাদেশে এখন সামাজিক সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়েছে। এটা কোন মাত্রায় পৌঁছাবে তা বুঝতে আমাদের আরো কিছুদিন অপেক্ষা করতে হবে।
আকাশ নিউজ ডেস্ক 





















