ঢাকা ১০:১১ অপরাহ্ন, রবিবার, ০২ অগাস্ট ২০২৬, ১৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
বিরোধী দল দমনে সরকার বলপ্রয়োগের পথই বেছে নিয়েছে: হাসনাত আবদুল্লাহ এনসিপি নেতার বিরুদ্ধে অপহরণ, নির্যাতন ও ছিনতাইয়ের অভিযোগ কর্ণফুলী নদী থেকে তরুণীর বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধার নরসিংদীতে বাড়িতে ঢুকে যুবকের মাথায় ও পায়ে গুলি করে হত্যা অবদান নিয়ে বিতর্ক তুলে যারা অনৈক্য তৈরি করেছে ব্যর্থতার দায় তাদের: এবি পার্টি তরুণ উদ্ভাবকরাই দেশের ভবিষ্যৎ: প্রধানমন্ত্রী আমরা ফ্যাসিস্ট ব্যবস্থা থেকে বেরিয়ে আসতে সক্ষম হয়েছি : মির্জা ফখরুল জুলাইয়ে দেশে এলো ৩৫ হাজার ৪০০ কোটি টাকার রেমিট্যান্স মার্কিন চুক্তির মাঝেই গাজায় পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার ডাক ইসরাইলের স্বাক্ষরিত জুলাই সনদ বাস্তবায়ন ও গণহত্যার বিচার নিশ্চিত করবে সরকার

করোনা উপেক্ষা করে মিরপুরের অলিগলিতে ভিড়

আকাশ জাতীয় ডেস্ক: 

করোনার সংক্রমণ রোধে দেশে সাধারণ ছুটির ৬৫ তম দিন চলছে। তারপরও দিন দিন বেড়েই চলেছে এ ভাইরাসের সংক্রমণ। কিন্তু এর মাঝেও নানান কাজে বাইরে বের হওয়া মানুষজন যথাযথ শারীরিক দূরত্ব মানতে চাইছেন না। উল্টো সাবধানতা উপেক্ষা করে দিনকে দিন বাইরে মানুষের সমাগম বেড়েই চলছে।

এচিত্র সবচেয়ে বেশি চোখে পড়ে রাজধানীর মিরপুরের অলিগলিতে।

কারণে-অকারণে হরেক অজুহাতে ঘর থেকে বেরিয়ে পড়ছেন অনেকে। এ ধরনের পরিস্থিতিতে দেশে দিন দিন করোনা ভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে বলে উদ্বেগ বিশেষজ্ঞরা।

শুক্রবার (২৯ মে) সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত রাজধানীর মিরপুরের ইসিবি চত্বর, বাউনিয়াবাধ, কালশী রোড, প্যারিস রোড, ঝুট পট্টি, বেনারসি পল্লী, মুসলিম বাজারসহ পুরো মিরপুর এলাকার অলিগলিতে ঘুরে এমন দৃশ্য দেখা যায়।মিরপুরের অলিগলিতে মানুষের ভিড়। মিরপুর ১১ নম্বরের মিল্লাত ক্যাম্পের রাস্তায় শারীরিক দূরত্ব না মেনে হাঁটা-চলা করতে দেখা যায় অনেক মানুষকে। এই ক্যাম্পের বাসিন্দা মো. জাবেদ বলেন, ‘অনেকক্ষণ বাসায় ছিলাম। ভালো লাগছে না। তাই হাঁটাচলা করার জন্য মহল্লায় ঘুরছি। আর ভাইরাসে আক্রান্ত হলে কী করার আছে। আল্লাহ যতটুকু হায়াত রেখেছেন, ততটুকুই বাঁচবো। ভাইরাস ছাড়া অন্যভাবেও তো মরতে পারি। কেউ কী বলতে পারবেন কে কীভাবে মরবেন?’

বাউনিয়াবাধ এলাকার চার দোকানে বসে আড্ডা দিতে দেখা যায় অনেক যুবকে। সেই এলাকার বাসিন্দা হাসান আহমেদের কাছে জানতে চাওয়া হয় এসময় কেন চায়ের দোকানে বসে আছেন। তিনি বলেন, ‘আমি এমনিতেই কম কম বাসা থেকে বের হই। কাজ ছাড়া ঘর থেকে বের হই না। অনেকদিন পরে চায়ের দোকানে ভাই বন্ধুদের সঙ্গে দেখা হল তাই একটু কথা বলছি এই আর কী।’

তিনি আরো বলেন, ‘৩১ মে তারিখ থেকে সবকিছু খুলে যাচ্ছে। রাস্তায় গণপরিবহন চলবে, সীমিত পরিসরে খুলে যাচ্ছে অফিস-আদালত। পরিবহন চলাচল শুরু হবে, অফিস-আদালত যদি খুলে যায় তাহলে ঘর থেকে বের হলে সমস্যা কিসে?’

মিরপুর-১ নম্বরের ছিন্নমূল মার্কেটে মো. মাসুম এসেছেন বাজার করতে। তিনি বলেন, ‘আমি অতি সাধারণ একজন মানুষ। দিন আনি দিন খাই। আমার বেশি বাজার করার সামর্থ্যও নাই। আমি না হয় ঘরে থাকলাম। আমার মতো প্রতিদিন বাজারে এসে ভাইরাস নিয়ে বাড়ি ফিরছেন, তাদের পরিবারের সদস্যদের মাঝে ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ছে। তাদের কি হবে? আবার এখন শুনছি এই ভাইরাসে কোন উপসর্গ বোঝা যায় না। টেস্ট করলে দেখা যায় উপসর্গ ছাড়াই করোনা পজিটিভ হচ্ছেন অনেকে।’

তিনি বলেন, ‘নিজের প্রয়োজনে ঘর থেকে বের হতে হয়। বেঁচে থাকতে হলে, আমাদের কাজ তো করতে হবে। এই পরিস্থিতিতে আমরা সাধারণ মানুষরা কী করব?’

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

বিরোধী দল দমনে সরকার বলপ্রয়োগের পথই বেছে নিয়েছে: হাসনাত আবদুল্লাহ

করোনা উপেক্ষা করে মিরপুরের অলিগলিতে ভিড়

আপডেট সময় ০৭:০৪:৩৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৯ মে ২০২০

আকাশ জাতীয় ডেস্ক: 

করোনার সংক্রমণ রোধে দেশে সাধারণ ছুটির ৬৫ তম দিন চলছে। তারপরও দিন দিন বেড়েই চলেছে এ ভাইরাসের সংক্রমণ। কিন্তু এর মাঝেও নানান কাজে বাইরে বের হওয়া মানুষজন যথাযথ শারীরিক দূরত্ব মানতে চাইছেন না। উল্টো সাবধানতা উপেক্ষা করে দিনকে দিন বাইরে মানুষের সমাগম বেড়েই চলছে।

এচিত্র সবচেয়ে বেশি চোখে পড়ে রাজধানীর মিরপুরের অলিগলিতে।

কারণে-অকারণে হরেক অজুহাতে ঘর থেকে বেরিয়ে পড়ছেন অনেকে। এ ধরনের পরিস্থিতিতে দেশে দিন দিন করোনা ভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে বলে উদ্বেগ বিশেষজ্ঞরা।

শুক্রবার (২৯ মে) সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত রাজধানীর মিরপুরের ইসিবি চত্বর, বাউনিয়াবাধ, কালশী রোড, প্যারিস রোড, ঝুট পট্টি, বেনারসি পল্লী, মুসলিম বাজারসহ পুরো মিরপুর এলাকার অলিগলিতে ঘুরে এমন দৃশ্য দেখা যায়।মিরপুরের অলিগলিতে মানুষের ভিড়। মিরপুর ১১ নম্বরের মিল্লাত ক্যাম্পের রাস্তায় শারীরিক দূরত্ব না মেনে হাঁটা-চলা করতে দেখা যায় অনেক মানুষকে। এই ক্যাম্পের বাসিন্দা মো. জাবেদ বলেন, ‘অনেকক্ষণ বাসায় ছিলাম। ভালো লাগছে না। তাই হাঁটাচলা করার জন্য মহল্লায় ঘুরছি। আর ভাইরাসে আক্রান্ত হলে কী করার আছে। আল্লাহ যতটুকু হায়াত রেখেছেন, ততটুকুই বাঁচবো। ভাইরাস ছাড়া অন্যভাবেও তো মরতে পারি। কেউ কী বলতে পারবেন কে কীভাবে মরবেন?’

বাউনিয়াবাধ এলাকার চার দোকানে বসে আড্ডা দিতে দেখা যায় অনেক যুবকে। সেই এলাকার বাসিন্দা হাসান আহমেদের কাছে জানতে চাওয়া হয় এসময় কেন চায়ের দোকানে বসে আছেন। তিনি বলেন, ‘আমি এমনিতেই কম কম বাসা থেকে বের হই। কাজ ছাড়া ঘর থেকে বের হই না। অনেকদিন পরে চায়ের দোকানে ভাই বন্ধুদের সঙ্গে দেখা হল তাই একটু কথা বলছি এই আর কী।’

তিনি আরো বলেন, ‘৩১ মে তারিখ থেকে সবকিছু খুলে যাচ্ছে। রাস্তায় গণপরিবহন চলবে, সীমিত পরিসরে খুলে যাচ্ছে অফিস-আদালত। পরিবহন চলাচল শুরু হবে, অফিস-আদালত যদি খুলে যায় তাহলে ঘর থেকে বের হলে সমস্যা কিসে?’

মিরপুর-১ নম্বরের ছিন্নমূল মার্কেটে মো. মাসুম এসেছেন বাজার করতে। তিনি বলেন, ‘আমি অতি সাধারণ একজন মানুষ। দিন আনি দিন খাই। আমার বেশি বাজার করার সামর্থ্যও নাই। আমি না হয় ঘরে থাকলাম। আমার মতো প্রতিদিন বাজারে এসে ভাইরাস নিয়ে বাড়ি ফিরছেন, তাদের পরিবারের সদস্যদের মাঝে ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ছে। তাদের কি হবে? আবার এখন শুনছি এই ভাইরাসে কোন উপসর্গ বোঝা যায় না। টেস্ট করলে দেখা যায় উপসর্গ ছাড়াই করোনা পজিটিভ হচ্ছেন অনেকে।’

তিনি বলেন, ‘নিজের প্রয়োজনে ঘর থেকে বের হতে হয়। বেঁচে থাকতে হলে, আমাদের কাজ তো করতে হবে। এই পরিস্থিতিতে আমরা সাধারণ মানুষরা কী করব?’