ঢাকা ১১:৫৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ নতুন দলের আত্মপ্রকাশ, নেতৃত্বে যারা ইরানের সামনে এখন কেবল দুই পথ—চুক্তি অথবা আত্মসমর্পণ: ট্রাম্প পাঁচ দফা দাবিতে সরকারি কর্মচারীদের অবস্থান কর্মসূচি সরকার দমনে ব্যস্ত, দ্রব্যমূল্য-গ্যাস নিয়ে মাথাব্যথা নেই: গোলাম পরওয়ার দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে আশা বাণিজ্যমন্ত্রীর সম্পত্তি দানের পরও আজীবন ভোগদখলের সুযোগ, মন্ত্রিসভায় খসড়া পাশ শেখ হাসিনা যেন রাজনৈতিক বক্তব্য দিতে না পারেন, ভারতীয় হাইকমিশনারকে হুমায়ুন কবির রাষ্ট্র পরিচালনায় ‘নতুন মাত্রা’ যোগ করেছেন তারেক রহমান: চীনা রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশে কারিগরি ও ক্রীড়া শিক্ষায় সহযোগিতার আগ্রহ অস্ট্রেলিয়ার

করোনা উপেক্ষা করে মিরপুরের অলিগলিতে ভিড়

আকাশ জাতীয় ডেস্ক: 

করোনার সংক্রমণ রোধে দেশে সাধারণ ছুটির ৬৫ তম দিন চলছে। তারপরও দিন দিন বেড়েই চলেছে এ ভাইরাসের সংক্রমণ। কিন্তু এর মাঝেও নানান কাজে বাইরে বের হওয়া মানুষজন যথাযথ শারীরিক দূরত্ব মানতে চাইছেন না। উল্টো সাবধানতা উপেক্ষা করে দিনকে দিন বাইরে মানুষের সমাগম বেড়েই চলছে।

এচিত্র সবচেয়ে বেশি চোখে পড়ে রাজধানীর মিরপুরের অলিগলিতে।

কারণে-অকারণে হরেক অজুহাতে ঘর থেকে বেরিয়ে পড়ছেন অনেকে। এ ধরনের পরিস্থিতিতে দেশে দিন দিন করোনা ভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে বলে উদ্বেগ বিশেষজ্ঞরা।

শুক্রবার (২৯ মে) সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত রাজধানীর মিরপুরের ইসিবি চত্বর, বাউনিয়াবাধ, কালশী রোড, প্যারিস রোড, ঝুট পট্টি, বেনারসি পল্লী, মুসলিম বাজারসহ পুরো মিরপুর এলাকার অলিগলিতে ঘুরে এমন দৃশ্য দেখা যায়।মিরপুরের অলিগলিতে মানুষের ভিড়। মিরপুর ১১ নম্বরের মিল্লাত ক্যাম্পের রাস্তায় শারীরিক দূরত্ব না মেনে হাঁটা-চলা করতে দেখা যায় অনেক মানুষকে। এই ক্যাম্পের বাসিন্দা মো. জাবেদ বলেন, ‘অনেকক্ষণ বাসায় ছিলাম। ভালো লাগছে না। তাই হাঁটাচলা করার জন্য মহল্লায় ঘুরছি। আর ভাইরাসে আক্রান্ত হলে কী করার আছে। আল্লাহ যতটুকু হায়াত রেখেছেন, ততটুকুই বাঁচবো। ভাইরাস ছাড়া অন্যভাবেও তো মরতে পারি। কেউ কী বলতে পারবেন কে কীভাবে মরবেন?’

বাউনিয়াবাধ এলাকার চার দোকানে বসে আড্ডা দিতে দেখা যায় অনেক যুবকে। সেই এলাকার বাসিন্দা হাসান আহমেদের কাছে জানতে চাওয়া হয় এসময় কেন চায়ের দোকানে বসে আছেন। তিনি বলেন, ‘আমি এমনিতেই কম কম বাসা থেকে বের হই। কাজ ছাড়া ঘর থেকে বের হই না। অনেকদিন পরে চায়ের দোকানে ভাই বন্ধুদের সঙ্গে দেখা হল তাই একটু কথা বলছি এই আর কী।’

তিনি আরো বলেন, ‘৩১ মে তারিখ থেকে সবকিছু খুলে যাচ্ছে। রাস্তায় গণপরিবহন চলবে, সীমিত পরিসরে খুলে যাচ্ছে অফিস-আদালত। পরিবহন চলাচল শুরু হবে, অফিস-আদালত যদি খুলে যায় তাহলে ঘর থেকে বের হলে সমস্যা কিসে?’

মিরপুর-১ নম্বরের ছিন্নমূল মার্কেটে মো. মাসুম এসেছেন বাজার করতে। তিনি বলেন, ‘আমি অতি সাধারণ একজন মানুষ। দিন আনি দিন খাই। আমার বেশি বাজার করার সামর্থ্যও নাই। আমি না হয় ঘরে থাকলাম। আমার মতো প্রতিদিন বাজারে এসে ভাইরাস নিয়ে বাড়ি ফিরছেন, তাদের পরিবারের সদস্যদের মাঝে ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ছে। তাদের কি হবে? আবার এখন শুনছি এই ভাইরাসে কোন উপসর্গ বোঝা যায় না। টেস্ট করলে দেখা যায় উপসর্গ ছাড়াই করোনা পজিটিভ হচ্ছেন অনেকে।’

তিনি বলেন, ‘নিজের প্রয়োজনে ঘর থেকে বের হতে হয়। বেঁচে থাকতে হলে, আমাদের কাজ তো করতে হবে। এই পরিস্থিতিতে আমরা সাধারণ মানুষরা কী করব?’

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

জাতিসংঘে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি রোধে চার প্রস্তাব প্রধানমন্ত্রীর

করোনা উপেক্ষা করে মিরপুরের অলিগলিতে ভিড়

আপডেট সময় ০৭:০৪:৩৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৯ মে ২০২০

আকাশ জাতীয় ডেস্ক: 

করোনার সংক্রমণ রোধে দেশে সাধারণ ছুটির ৬৫ তম দিন চলছে। তারপরও দিন দিন বেড়েই চলেছে এ ভাইরাসের সংক্রমণ। কিন্তু এর মাঝেও নানান কাজে বাইরে বের হওয়া মানুষজন যথাযথ শারীরিক দূরত্ব মানতে চাইছেন না। উল্টো সাবধানতা উপেক্ষা করে দিনকে দিন বাইরে মানুষের সমাগম বেড়েই চলছে।

এচিত্র সবচেয়ে বেশি চোখে পড়ে রাজধানীর মিরপুরের অলিগলিতে।

কারণে-অকারণে হরেক অজুহাতে ঘর থেকে বেরিয়ে পড়ছেন অনেকে। এ ধরনের পরিস্থিতিতে দেশে দিন দিন করোনা ভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে বলে উদ্বেগ বিশেষজ্ঞরা।

শুক্রবার (২৯ মে) সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত রাজধানীর মিরপুরের ইসিবি চত্বর, বাউনিয়াবাধ, কালশী রোড, প্যারিস রোড, ঝুট পট্টি, বেনারসি পল্লী, মুসলিম বাজারসহ পুরো মিরপুর এলাকার অলিগলিতে ঘুরে এমন দৃশ্য দেখা যায়।মিরপুরের অলিগলিতে মানুষের ভিড়। মিরপুর ১১ নম্বরের মিল্লাত ক্যাম্পের রাস্তায় শারীরিক দূরত্ব না মেনে হাঁটা-চলা করতে দেখা যায় অনেক মানুষকে। এই ক্যাম্পের বাসিন্দা মো. জাবেদ বলেন, ‘অনেকক্ষণ বাসায় ছিলাম। ভালো লাগছে না। তাই হাঁটাচলা করার জন্য মহল্লায় ঘুরছি। আর ভাইরাসে আক্রান্ত হলে কী করার আছে। আল্লাহ যতটুকু হায়াত রেখেছেন, ততটুকুই বাঁচবো। ভাইরাস ছাড়া অন্যভাবেও তো মরতে পারি। কেউ কী বলতে পারবেন কে কীভাবে মরবেন?’

বাউনিয়াবাধ এলাকার চার দোকানে বসে আড্ডা দিতে দেখা যায় অনেক যুবকে। সেই এলাকার বাসিন্দা হাসান আহমেদের কাছে জানতে চাওয়া হয় এসময় কেন চায়ের দোকানে বসে আছেন। তিনি বলেন, ‘আমি এমনিতেই কম কম বাসা থেকে বের হই। কাজ ছাড়া ঘর থেকে বের হই না। অনেকদিন পরে চায়ের দোকানে ভাই বন্ধুদের সঙ্গে দেখা হল তাই একটু কথা বলছি এই আর কী।’

তিনি আরো বলেন, ‘৩১ মে তারিখ থেকে সবকিছু খুলে যাচ্ছে। রাস্তায় গণপরিবহন চলবে, সীমিত পরিসরে খুলে যাচ্ছে অফিস-আদালত। পরিবহন চলাচল শুরু হবে, অফিস-আদালত যদি খুলে যায় তাহলে ঘর থেকে বের হলে সমস্যা কিসে?’

মিরপুর-১ নম্বরের ছিন্নমূল মার্কেটে মো. মাসুম এসেছেন বাজার করতে। তিনি বলেন, ‘আমি অতি সাধারণ একজন মানুষ। দিন আনি দিন খাই। আমার বেশি বাজার করার সামর্থ্যও নাই। আমি না হয় ঘরে থাকলাম। আমার মতো প্রতিদিন বাজারে এসে ভাইরাস নিয়ে বাড়ি ফিরছেন, তাদের পরিবারের সদস্যদের মাঝে ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ছে। তাদের কি হবে? আবার এখন শুনছি এই ভাইরাসে কোন উপসর্গ বোঝা যায় না। টেস্ট করলে দেখা যায় উপসর্গ ছাড়াই করোনা পজিটিভ হচ্ছেন অনেকে।’

তিনি বলেন, ‘নিজের প্রয়োজনে ঘর থেকে বের হতে হয়। বেঁচে থাকতে হলে, আমাদের কাজ তো করতে হবে। এই পরিস্থিতিতে আমরা সাধারণ মানুষরা কী করব?’